Latest News

ইটের ঘায়ে রক্তাক্ত নাক-ঠোঁট, তবু সেদিন পিছু হটেননি ইন্দিরাজি! সামনে এসে বললেন…

সুখেন্দু শেখর রায়
(রাজ্য সভার সাংসদ, তৃণমূল)

১৯৬৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। আমি তখন কলেজে পড়ি। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে ভুবনেশ্বরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। মঞ্চে বসে আছেন সামনের সারিতে। হঠাৎ একদল হামলাকারী তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। আচমকা এমন ঘটে যাওয়ায় চমকে যান সকলে! বিদ্যুৎগতিতে ইন্দিরা গান্ধীকে আড়াল করতে থাকেন নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তারা।

তাতেও সামল দেওয়া না গেলে ইন্দিরাজিকে পিছনের দিকে চলে যেতে অনুরোধ করলেন মঞ্চে উপস্থিত বাকিরা। কিন্তু অনড় ইন্দিরাজি ঠায় বসে রইলেন সামনের আসনেই। কানেই নিলেন না কারও কথা। তখন ‘গো ব্যাক’ স্লোগান উঠতে শুরু করেছে। তার মাঝে আবারও ইটবৃষ্টি!

এবার আঘাত পেলেন ইন্দিরা গান্ধী। নাক ও ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে তাঁর। বরফ চাইলেন উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে। তার পর সে বরফ আসতে আসতে নিজেই হ্যান্ডব্যাগ থেকে রুমাল বের করে রক্তাক্ত নাকে চেপে ধরলেন। দ্রুতগতিতে ফার্স্ট এইড বক্স এল, তড়িঘড়ি ব্যান্ডেজ করা হল তাঁর ক্ষতয়।

ইন্দিরা গান্ধী একটু ধাতস্থ হলে নেতা ও অফিসাররা তাঁকে ফের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বললেন। উনি সরে তো গেলেনই না, উল্টে সটান মঞ্চের সামনে চলে এলেন! জোর গলায় মাইকে বলতে শুরু করলেন, ‘আপনারা এই কাপুরুষদের ভোট দেবেন? এটা শুধু আমার নয়, সারা দেশের অপমান।’ ভুবনেশ্বরের সভা সেদিন স্তব্ধ হয়ে গেছিল প্রিয়দর্শিনীর দৃঢ়বচনে।

ঘটনাচক্রে, ইন্দিরাজির শেষ জনসভা ছিল সেই ভুবনেশ্বরেই। ১৯৮৪ সালের ৩০ অক্টোবর। সেই সভায় অন্তিম বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার প্রতিটি রক্তবিন্দু দেশকে সমৃদ্ধ করবে।’

আজ সংবাদপত্রে পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা বাতিল হওয়ার খবর পড়ে এই বহু পুরোনো ঘটনা মনে পড়ে গেল।

You might also like