Latest News

Food Blog: পোলাও মাংসের বিকল্প হতে পারে এই দুটো সহজ রেসিপি

সাবিনা ইয়াসমিন রিংকু

Image - Food Blog: পোলাও মাংসের বিকল্প হতে পারে এই দুটো সহজ রেসিপি

নারকেল কোরা থেকে দুধ বের করার পর নারকেলের ছিবড়েগুলো ফেলে দিয়েছিলাম বলে গ্রাম থেকে আসা এক আত্মীয়া রে রে করে উঠেছিলেন। ….”এমন আক্রার যুগে কোনও জিনিস ফেলবা না। ওই নারকেলের ছিবড়েগুলো পাটায় পিষে নিয়ে চিনি, এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে আগুনের তাপে দিয়ে ঝুরঝুরে করে নেড়ে নিলে বৈকালে মুড়ি দিয়ে খেতে পারবা।” তিনি সবসময় বিকেল’কে বৈকাল বলতেন। তখন কিন্তু মুরগির দাম তিনশ ছুঁই ছুঁই ছিল না। একটা নারকেলের দাম এখনকার মতো পঁয়তাল্লিশ টাকাও ছিল না। যেটা ছিল, সেটা হল একটা জিনিসের একেবারে নিক্তি নিক্তি ব্যবহার।

সাদা রঙের নরম সুতির শাড়ি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে গেলে শাড়ির একদিকটা চারকোনা করে কেটে চা ছাঁকার ছাঁকনি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য তুলে রাখা হতো। আরেকটি খণ্ড রাখা হতো ডাল সেদ্ধ করার জন্য। ওই কাপড় থেকে বড় বড় করে কাটা দুটো টুকরো তুলে রাখা হত বসিরহাটের রমাদির মেয়ের জন্য। প্রথমবার পোয়াতি হয়েছে। ভরা শ্রাবণে বাচ্চা হবে। এন্তার নরম কাপড় লাগবে তখন! বর্ষায় ভিজে কাপড় শুকানোর অনেক হ্যাপা। তখন এই সব পাতলা সুতির কাপড়গুলো খুব কাজে লাগবে।
কোনও কোনও শাড়ির পাড়ে রঙিন সুতোর কারুকার্য থাকত। অবকাশে ধৈর্য্য ধরে সেই সুতো শাড়ির পাড় থেকে তুলে যত্ন করে গুটিয়ে রাখা হত। পরে কাঁথা তৈরি করার সময় ওই পুরোনো সুতো কাজে লাগানো হত।
সব কাপড়ই যে ফেঁসে বা ছিঁড়ে যাওয়ার পর এইভাবে ব্যবহৃত হত… তা কিন্তু নয়! ভালো থাকতে থাকতে দু একটা কাপড় বাদের তালিকায় পড়ত পাড়ার দরিদ্র বউ-ঝিদের দেওয়ার জন্য।
সবজির খোসা বা বীজ না ফেলে তা দিয়ে সুস্বাদু রান্না ক’রে তাক লাগানোর মধ্যে আনন্দ যেমন ছিল, ছিল সংসারের অর্থ বাঁচানোর চেষ্টাও। টালির ঘর পাকা ছাদ হয়ে উঠতে পেরেছিল এই সব ছোট ছোট আন্তরিক চেষ্টার দ্বারাই। পোড়া গুল থেকে ছাইগুলোকে বেছে সেই গুল ধুয়ে শুকিয়ে আবার ব্যবহার করা হত।
হাজার ঘরোয়া কাজের ফাঁকে মনে করে সবজির পাকা বীজ শুকিয়ে রেখে সেগুলো উঠোনে পুঁতে দেওয়ার কারণে বাড়িতে লাউ, কুমড়ো, পুঁই শাকের কমতি ছিল না। রোজ পাতে দু তিন রকম সবজির দেখা মিলত। বাড়ির লোক যেমন খেত, পাড়া প্রতিবেশীরাও ভাগ পেতেন।

এখন তো জিনিসপত্রের আগুন দাম! যা রান্না করবেন সেটা যেমন দামি, আর যে জ্বালানী দিয়ে রান্না করবেন সেটাও মহার্ঘ্য। বুঝে শুনে না চললে লক্ষ্মীর ভাঁড়ে টাকা জমা পড়া মুশকিল। কিপটেমি না দেখিয়ে একটু বুদ্ধি প্রয়োগ করে খরচা করলে মাসের শেষে বাড়তি কিছু অর্থ হাতে রয়েই যায়। সেগুলো হাত টানাটানির দিনে খুব কাজে দেয়।
নারকেল দিয়ে শুরু করেছিলাম, সেই নারকেলেই ফিরে আসি। নিরামিষ রান্নায় একটু নারকেল কোরা ছড়িয়ে দিলে রান্নার স্বাদ বেড়ে যায়। সে চালকুমড়োই হোক বা সয়াবিন। নারকেলের দুধ দিয়ে শুধু চিংড়ি বা হাঁসের মাংস নয়, লাউ কিম্বা ঝিঙেও অসাধারণ খেতে হয়। খেয়ে দেখবেন একবার।
নারকেল কোরানো হয়ে গেলে নারকেলের মালাটা টান মেরে ফেলে দেন? ফেলবেন না। যে মালাটাতে ছিদ্র থাকে না সেটা ধুয়ে শুকিয়ে রেখে দিন। আম, কুল, চালতা মেখে খাওয়ার আদর্শ পাত্র এটা। কেমন একটা বাগানে বসে থাকার ভাব মনে এনে দেয়। গ্রামের দিকে ওই শুকনো নারকেল মালাটাকে একটা সরু কাঠের ডান্ডির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে জল বা ডাল তোলার পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ‘অড়ং’ বলে তাকে। ফেলে দেওয়া জিনিসের চমৎকার ব্যবহার। প্রকৃতির দানকে আমরা ঠিকঠাকভাবে যত ব্যবহার করব, তত আমাদের মঙ্গল হবে।

Image - Food Blog: পোলাও মাংসের বিকল্প হতে পারে এই দুটো সহজ রেসিপি

এছাড়া, নারকেলের মালায় মাটি ভরে ওতে মানিপ্ল্যান্ট লাগিয়ে ঘরে রেখে দিলে ঘরের শোভা বেড়ে যাবে।
কী বলছেন? ফুটোওয়ালা নারকেলের মালাটা নিয়ে কি করবেন? ওটার সাহায্যে জিলিপি বানাবেন।
কীভাবে? অন্য দিন বলে দেব।

সস্তার সয়াবিন মাংসের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যায়। প্রচুর পুষ্টিগুণ এতে। ঠিকঠাক রান্না করতে পারলে দুপুরে ভাতের সঙ্গে এবং রাত্তিরে রুটি বা পরোটার সঙ্গে ভালোই সঙ্গত করে।
আজ সয়াবিনের দুটো সহজ রেসিপি থাকলো আপনাদের জন্য।

সয়া এগ চিকেন

উপকরণ: সয়াবিন ১০০ গ্রাম, ছোট ছোট টুকরো করা অল্প চিকেন, সেদ্ধ ডিম চারটে (মুরগি বা হাঁসের … আপনার যা ইচ্ছে), কয়েক পিস ডুমো ডুমো করে কাটা আলু, ঝিরি ঝিরি করে কাটা পেঁয়াজ অনেকটা- প্রায় তিন কাপ, আদা রসুন বাটা, কাঁচা লংকা বাটা, শুকনো লংকা বাটা, টমেটো বাটা, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, নুন, তেজপাতা, ছোট এলাচ, বড় এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, জায়ফল, জয়িত্রী গুঁড়ো সব মিলিয়ে দেড় চা চামচ সর্ষের তেল।

Image - Food Blog: পোলাও মাংসের বিকল্প হতে পারে এই দুটো সহজ রেসিপি

প্রণালী: প্রথমে সয়াবিন গরম জলে দিয়ে ধুয়ে নিংড়ে অল্প তেলে ভেজে নিন। আর একটু তেল দিয়ে আলু আর সেদ্ধ ডিম, নুন, হলুদ আর লংকার গুঁড়ো দিয়ে ভেজে নিন। তুলে রাখুন। কড়াইতে অল্প তেল গরম করে এক কাপ পেঁয়াজের বেরেস্তা করে নিন। বেরেস্তা বানানোর নিয়ম হল ঢিমে আঁচে পেঁয়াজ অনেকক্ষণ ধরে ভাজা। তবে মুচমুচে হবে অথচ পুড়ে লাল হয়ে যাবে না।
বেরেস্তা বানিয়ে তুলে রাখুন। এবার ওই তেলে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে বাকি দু কাপ পেঁয়াজ ঢেলে দিন। পেঁয়াজ ব্রাউন হলে আদা রসুন বাটা, লংকা বাটা, টমেটো বাটা দিয়ে কষুন, মশলার কাঁচা গন্ধ চলে গেলে গুঁড়ো মশলাগুলো দিয়ে দিন। চিকেন দিয়ে আবার কষুন, অল্প জল দিন । ঢেকে দিন । একটু পরে ঢাকনা খুলে আলু ,সয়াবিন দিয়ে দিন । নুন দিন। আবার নেড়েচেড়ে ঢেকে দিন । দু কাপ গরম জল দিন । ফুটে উঠলে ডিমগুলো দিয়ে আর পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিন। নামানোর আগে গরম মশলার গুঁড়ো আর পেঁয়াজের বেরেস্তা ছড়িয়ে দিন।

গন্ধরাজ সয়া রাইস

উপকরণ: বড় একবাটি বাসমতি চালের ঝরঝরে ভাত, ফোড়নের জন্য তেজপাতা,গরম মশলা (ছোট এলাচ লবঙ্গ দারচিনি এবং এক কুচি জয়িত্রী), ছোট কাপের এক কাপ পেঁয়াজ কুচি, আদা রসুন বাটা, টক দই, হলুদ গুঁড়ো, লংকার গুঁড়ো, নুন, চিনি, টমেটো কুচি, ক্যাপসিকাম, লাল হলুদ বেলপেপার- সব মিলিয়ে এক কাপ, এক কাপ সয়াবিন বড়ি গরম জলে ভিজিয়ে রেখে জল ঝরিয়ে নেওয়া, গন্ধরাজ লেবুর রস, সাদা তেল।

প্রণালী: কড়াইতে তেল গরম করে জিরে তেজপাতা এবং গরম মশলা ফোড়ন দিন। পেঁয়াজকুচি ভাজুন। আদা রসুন বাটা দিন, টক দই ফেটিয়ে দিন। হলুদ, লংকার গুঁড়ো দিয়ে মশলা কষিয়ে সয়াবিন বড়িগুলো দিয়ে আর একটু কষুন। এরপর টমেটো, ক্যাপসিকাম, বেলপেপার দিয়ে দিন। নুন মিষ্টি দিয়ে আঁচ কমিয়ে দু মিনিটের জন্য ঢেকে দিন। ঢাকা খুলে গন্ধরাজ লেবুর রস মিশিয়ে সেদ্ধ ভাতগুলো দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন।
এটা পেঁয়াজ রসুন বাদ দিয়েও করা যায়।

You might also like