Latest News

Food Blog: ঈদের আগে সুস্থ থাকতে গরমকালের দুই রেসিপি

সাবিনা ইয়াসমিন রিংকু

এখন ঈদে সেই আনন্দ কই? ছোটবেলার আনন্দ। একমাস সকলপ্রকারের সংযম পালনের পর একফালি চাঁদ এসে ঘোষণা করতো ঈদ এসেছে। আরবদেশ আগের দিন ঘোষণা করতো চাঁদ দেখা গিয়েছে। সেই খবর রেডিওতে সম্প্রচার করা হত। বাংলাদেশের চ্যানেলে বেজে উঠত …”ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ।” আরব দেশে একদিন আগে ঈদের উৎসব পালিত হত। এখনও তাই ই হয়। আমাদের এখানে ঠিক পরেরদিন। শেষ রোজার দিনে মুসলিম মহল্লাগুলোতে চাঁদ দেখার ধুম পড়ে যেত। ঈদের পাতলা সরু চাঁদ দেখার সৌভাগ্য কোনওদিন হয়নি। তবে কেউ ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে “ওই যে চাঁদ” বলে চেঁচিয়ে উঠলে আমরা সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও যখন চাঁদ দেখতে পেতাম না, হার মানতাম না। বলতাম…”হ্যাঁ! হ্যাঁ! ওই তো! দেখতে পেয়েছি।”
এসব মিছে কথার ভিড়ে চাঁদ সত্যিই আলগা মেঘের আড়ালে মুখ লুকোতো। ঈদ আসত এভাবেই।

মেহেন্দিপাতা, আতপ চালের আটা, সেমাই, পরোটা আর মাংসের গন্ধে মাত এবং কাত হত শেষ রোজার সন্ধেটা। সন্ধে থেকে রান্নার ধুম পড়ে যেত। মধ্যরাত অব্দি চলত রান্না। তখন শুধু ঈদেই এত মাংস খাওয়া হত। বাংলা ভাষায় কথা বলা মুসলিমরা সারাবছর মাছে ভাতে ডালে ডিমে অভ্যস্ত ছিল। বাড়িতে ‘বড়’ কুটুম এলে তবেই মুরগি রান্না হত। সেই দেশি মুরগি আবার সংগ্রহ করতে হত পল্লীর কোনও বাড়ি থেকে, যে বাড়ির মহিলারা কেবল বিক্রির জন্যই মুরগি পুষতেন। অঞ্চলে একটাই খাসির মাংসের দোকান ছিল। মাসে এক আধবার শালপাতায় মুড়ে আড়াইশো গ্রাম মাংস কিনে এনে নৈনিতাল আলু দিয়ে রাঁধলে দুবেলা হয়ে যেত। এখন সেই আড়াইশো মাংস দু’বেলা তো দূর- একবেলাই ভালো করে হবে না। তার কারণ এখনকার বাটখারা বা ওজনযন্ত্রের কারসাজি ব’লে মনে হলেও আসলে তা নয়। আসল কথা, বহুদিন হল আমরা আর অল্পে সন্তুষ্ট থাকতে পারি না।
এখন আমাদের প্রায় রোজই ঈদ। মাসে দুদিন চিকেন বিরিয়ানি, একদিন চম্পারণ মাটন, তিনদিন ভুনা, দুদিন কাবাব, আর একদিন শুখা মাটন, একদিন রুমালি রুটি আর চিকেন ভর্তা। প্রায় প্রতি সন্ধেয় চিকেন রোল, চিকেন বার্গার, চিকেন মোমো। তখন ঈদের দিনে আলুবিহীন কষা মাংসই ছিল ঈদ স্পেশাল। বিরিয়ানি নয় ,তুলতুলে চালের আটার রুটি আর মাখোমাখো কিমা ঈদের মেহফিলকে খুশবুদার করে তুলত। আর থাকতো রুলময়দার পরোটা। চারকোণা অথবা তিনকোণা। (Food Blog)

ময়দা মাখা হতো নুন, অল্প চিনি আর দুধ দিয়ে। বড়লোক গিন্নিরা ময়দায় মিশিয়ে দিতেন এক চুটকি অরিজিনাল জাফরান। কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়ে কিনে আনা সবচেয়ে দামি মশলা। দরিদ্র গিন্নিরাও হাল ছাড়বার পাত্রী নন। ঘরে জাফরান নেই। কিন্তু ঈদ বলে কথা! ‘কামধেনু’ নামের ফুড কালার জাফরানের জায়গা নিত। তারপর ঠেসে ঠেসে ময়দা মাখা চলত। পরোটার পরতে পরতে ডালডা, তার ওপরে ময়দার গুঁড়ো পরাগরেণুর মত ছড়িয়ে দিয়ে সেই পরোটা বেলা হত। সেঁকা ফেকা নয়, বেশি করে ডালডা দিয়ে ভাজা হত সেই পরোটা। খাস্তা অথচ মোলায়েম ওই পরোটার কথা আমার বয়সী অনেক মানুষেরই মনে থাকার কথা! নানান কায়দায় সেমাই রান্না হত। দুধ সেমাই। শুধু চিনি আর ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে শুকনো সেমাই। দম দিয়ে বানানো সেমাই। নারকেলের দুধ দিয়ে সুগন্ধী চালের ক্ষীর বানাতেন অনেকে। সেই ক্ষীরে চৌকো চৌকো নারকেল থাকত। আর থাকত চিনি বা গুড় তেজপাতা এবং ছোট এলাচ।
এখন গলিতে গলিতে রেস্তোরাঁ। বাড়িতে বাড়িতে হোম ডেলিভারির ব্যবসা। যখন যা আবদার করবেন, ওস্তাদ রাঁধুনিরা তৈরি করে দেবেন এক বেলার মধ্যেই। পকেটে পয়সা থাকা চাই এবং শুধু একবার মনে হওয়া চাই “ওই” খাবারটা খেতে ইচ্ছে করছে। ব্যাস। চলে আসবে মুখের কাছে।
এখন বছরের যেকোনো সময়, যেকোনো দিন আপনি ঈদের আনন্দ পেতে পারেন । যা যা বলবেন সব হাজির হয়ে যাবে আপনার বাড়িতেই…

অর্থ থাকলে ঈদের চাঁদের জন্য কেই বা অপেক্ষা করে! রোজই আমাদের ঈদ। গ্যাসের দাম ১০০০ ছুঁই ছুঁই। হোকগে। মাটন পসিন্দা কোন রেস্টুরেন্টে ভালো বানায় গো? মোরগ পোলাওতে পেস্তাবাদাম বাটা পড়ে?
কিন্তু যা গরম পড়েছে ,তাতে হালকা খাওয়া দাওয়া করলে তবেই শরীর ভালো থাকবে। আর শরীর ভালো থাকলে ওয়েদার একটু নরম হলেই আপনি খেতে পারবেন মুর্গ মুসল্লম। কাচ্চি বিরিয়ানি। তখন শিখিয়ে দেব মিট বল পোলাও। বাসমতির ঝরঝরে পোলাওয়ের মধ্যে তবকে মোড়ানো খাসির কিমার ছোট্ট ছোট্ট বলগুলো মুক্তোর মতো সাজানো থাকবে। ভালো কিছু পাওয়া বা খাওয়ার জন্য অপেক্ষা… সেটা অন্যরকম একটা ভালো লাগা। পছন্দের কারোও সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার আগের দিনগুলোও ঠিক তেমনই রোমাঞ্চকর।
চলুন এই গরমে যেটা খাওয়া উচিত, সেটাই খাই। (Food Blog)
পটল… নামটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই নিশ্চয় বাকিটুকু আর পড়বেন না! পটল যখন বাজারে ৩০ টাকা শ হিসেবে বিক্রি হয়, পটলের দাম ,মান, মর্যাদা একমাত্র তখনই। পটলের দর ৫০ এ নামতে না নামতেই অশ্রদ্ধা, অভক্তি, বিরক্তি, ওয়াক… সবই পটলকে মাথা পেতে নিতে হয়। বাচ্চারা তো দুচোখে দেখতেই পারে না, এখন বুড়োদেরও অন্যতম প্রধান শত্রু পটল।
পাকা পটল খেয়েছেন কখনও? লালচে হয়ে যাওয়া কতগুলো পটল কাল আপনি রাগে গরগর করতে করতে ফেলে দিলেন না! সেই লাল লাল পাকা পটলের কথাই বলছি। সবজি বিক্রেতা মাসিদের কাছে গিয়ে আবদার করলে তাঁরা আপনাকে এনে দেবেন গাছপাকা লাল টুসটুসে পাকা পটল। বিশাল কিছু দাম নয়। দেখতে খাসা। খেতেও। পাকা পটলগুলো ধুয়ে জল ঝরিয়ে মুখটা একটু কেটে চামচের সাহায্যে ভেতরের শাঁস এবং বীজ বের করে নিন। পটলের বীজ অনেকের কাছে দু চোখের বিষ। তবে আমার কথা মেনে পাকা পটলের বীজ একবার খেয়ে দেখুন। দাঁতের মাঝে পটলের বীজগুলোকে পুটুং পুটুং করে পিষে ফেলার একটা আলাদা পৈশাচিক আনন্দ আছে। সে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চাইলে বীজগুলো বাদ দিয়ে শুধু শাঁস নিন। এবার কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করুন। কালোজিরে এবং শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে একটু ভাজুন। পটলের শাঁস ঢেলে দিন। নুন দিন। চিনি দেবেন না। পাকা পটল এমনিতেই একটু মিষ্টি হয়। ভালো করে নাড়ুন। আঠালো হয়ে এলে কাঁচা লঙ্কা কুচি দিয়ে গ্যাস অফ করে দিন।

পাকা পটল ভর্তা:
উপকরণ: পাকা পটল, নুন, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা কুচি, এক চা চামচ সর্ষের তেল।

প্রণালী: গ্যাসে তাওয়া বসান। এক চা চামচ সর্ষের তেল গরম করুন । তারপর ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখা পাকা পটলগুলো পরপর সাজিয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে এপাশ ওপাশ করে পটলগুলোকে নরম এবং একটু পোড়া পোড়া করে নিন। হয়ে গেলে গ্যাস অফ করে পটলগুলোকে ঠাণ্ডা হতে দিন । এবার পেঁয়াজকুচি,নুন,লঙ্কাকুচি সব দিয়ে হাতের সাহায্যে মোলায়েম করে মেখে নিন।

ডুমুর সস্তার সবজি হলেও উপাদেয় এবং উপকারী। অযত্নে যেখানে সেখানে আপনিই বেড়ে ওঠে। তারপর একদিন ডুমুরে ডুমুরে ছয়লাপ হয়ে যায় গাছটা। পাখিরাই প্রধানত ডুমুর গাছের জনক। এই হাঁসফাঁস করা গরমে ডুমুরের আমিষ অথবা নিরামিষ তরকারি, ডুমুর ভাজা, ডুমুরের কোপ্তা, ডুমুরের ছেঁচকি খান।

ডুমুর চিংড়ি:

উপকরণ: ডুমুর, অল্প কুচো চিংড়ি, পেঁয়াজ কুচি,আদা রসুন বাটা, শুকনো লঙ্কা বাটা, জিরে বাটা, ধনে বাটা, নুন,হলুদ,একটু চিনি,তেজপাতা,গরম মশলা বাটা।

প্রণালী: ডুমুর আধখানা করে কাটুন। চামচের পেছনের ধারালো অংশটা দিয়ে ভেতরের বীজগুলো চেঁছে বের করে ফেলে দিন। তারপর ভালো করে দু তিনবার ধুয়ে নুন হলুদ দিয়ে ভাপিয়ে নিন। এবারে কড়াইতে সর্ষের তেল দিয়ে তেজপাতা ও পেঁয়াজ কুচি দিন। ভাজা ভাজা হলে বাটা মশলা এবং গুঁড়ো মশলা দিয়ে কষুন। কুচো চিংড়িগুলো দিয়ে দিন । চিংড়িতে রং ধরলে ভাপানো ডুমুর দিন। ভালো করে নেড়েচেড়ে একটু জল দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ পর ঢাকা খুলে অল্প নুন আর একটু চিনি দিন। সবচেয়ে শেষে গরম মশলা বাটা এবং কাঁচা লঙ্কা ছড়িয়ে দিয়ে গ্যাস অফ করে দিন।
দুদিন পরেই ঈদ। ঈদের খুশি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। যিনি যেভাবেই আয়োজন করুন না কেন আন্তরিকতার মধ্যে যেন কোন ফাঁকি না থাকে।

You might also like