Latest News

অসুখের গভীরে

মহিলাদের প্রতি কটূক্তি (Abusive Words to Women) আমাদের সমাজে নতুন নয়। কিন্তু খোদ রাষ্ট্রপতি যখন নারী হিসাবে কটূক্তির শিকার হন, তখন অনেকেই চমকে ওঠেন। গত সপ্তাহে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে কটু মন্তব্য করেছিলেন। তার প্রতিবাদে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। অনেকে মামলাও হয়েছে। বিজেপি অখিল গিরিকে মন্ত্রিসভা থেকে ‘কান ধরে বের করে দেওয়ার’ দাবি তুলেছে। বিরোধীদের নিশানা থেকে বাদ যাচ্ছেন না মমতাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তাতে বিরোধীরা কতদূর শান্ত হবেন বলা শক্ত।

রাজনীতিকরা আগেও মহিলাদের সম্পর্কে কুমন্তব্য করতেন। কিন্তু তখন এত টিভি চ্যানেল ছিল না। তাই কেউ কিছু বললে সহজে জানাজানি হত না। অনেক সময় রাজনীতিকরা কটু কথা বলেও পরে অস্বীকার করতেন। বলতেন, খবরের কাগজে মিথ্যা কথা লিখেছে, আমি অমন বলিনি।

Image - অসুখের গভীরে

কিন্তু এখন টিভি ক্যামেরার সামনে কিছু বললে পরে অস্বীকার করা কঠিন। তাই রাজনীতিকরা মন্তব্য করার ব্যাপারে আগের চেয়ে সতর্ক হয়েছেন। তাও অখিল গিরির মতো কেউ কেউ উল্টোপাল্টা বলে ফেলেন। পরে ক্ষমা চেয়েও ব্যাপারটা সামাল দেওয়া যায় না।

অখিল গিরির বক্তব্য, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন তাঁর উদ্দেশে নানা মন্তব্য করে চলেছেন। তাতেই তিনি মেজাজ হারিয়ে কটু মন্তব্য করে বসেন। প্রশ্ন হল, একজন মহিলা সম্পর্কেই বা তিনি ওই ধরনের মন্তব্য করলেন কেন? তাঁর মুখে ‘তোমাদের রাষ্ট্রপতি’ কথাটিও অনভিপ্রেত ও অমার্জনীয়। রাষ্ট্রপতি কোনও দলের নন, দেশের।

আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মানুষের মনের মধ্যে বাসা বেঁধে আছে একটা গভীর রোগ। সেই রোগ নারীকে পণ্য ভাবতে শেখায়। নারীদের শিক্ষাদীক্ষা বা অন্যান্য গুণের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায় তাঁদের গায়ের রং।

আমরা ধরেই নিই, প্রত্যেক নারীকে সুন্দরী হতে হবে। না হলে তাঁর জীবন বৃথা। সেই মনোভাব থেকেই ‘বডি শেমিং’ করা হয়। অর্থাৎ চেহারার নানা ‘ত্রুটির’ কথা বলে মহিলাদের খাটো করা হয়।

শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, সব দলের নেতারাই মহিলাদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। কিছুদিন আগে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী রাষ্ট্রপতিকে ‘রাষ্ট্রপত্নী’ বলেছিলেন। তিনি অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওটা স্লিপ অব টাং। কিন্তু স্লিপ অব টাং-এর মধ্যে দিয়ে অনেক সময় আসল মনোভাব প্রকাশিত হয়।

মমতাও বহুবার বিরোধীদের কুমন্তব্যের শিকার হয়েছেন। একদা বামফ্রন্টের মন্ত্রী আনিসুর রহমান তাঁর সম্পর্কে কটু কথা বলেছিলেন। বামফ্রন্ট রাজত্বের শেষের দিকে মমতার সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলেছিলেন আরামবাগের সিপিএম নেতা অনিল বসু।

মহিলা রাজনীতিকদেরও অনেকে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব থেকে মুক্ত নন। অতীতে সোনালি গুহ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে অসভ্যের মতো নিশানা করেছিলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমাদের দলে সবচেয়ে বেশি মহিলাকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। তার পরেই তিনি বলেন, আমি অবশ্য নিজেকে মহিলা বলে মনে করি না।

কেন তিনি একথা বলেছিলেন? আসলে আমাদের সমাজে ধরে নেওয়া হয়, মহিলা মাত্রেই দুর্বল। মমতা তাই বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি অন্য মহিলাদের মতো দুর্বল নন।

আসলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রাজনীতিকদের মানসিকতার বদল প্রয়োজন। তাঁরা যদি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে চলেন নারীর ক্ষমতায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

কুমারীত্ব পরীক্ষা বন্ধেও কড়া হোক সুপ্রিম কোর্ট

You might also like