শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

হিন্দু চিন্তা এবং গণতন্ত্র ও সহিষ্ণুতা সমার্থক

সুব্রত ভৌমিক

গত কয়েক বছর ধরেই কেউ কেউ চিৎকার করছেন যে ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের প্রভাব বৃদ্ধিতে দেশের বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র বিপন্ন। কেউ কেউ আবার পালটা বলছেন, এই কথা শুধুই মেকলেপন্থী বুদ্ধিজীবী, নেহেরুপন্থী সেকুলার, কমিউনিস্ট (শহুরে নকশাল সমেত), ব্যক্তি-পরিবার কেন্দ্রিক এবং জাত পাত ভিত্তিক আঞ্চলিক দলগুলোর হল্লা। বিপদ বুঝেই এখন মতভেদ ভুলে একত্রিত হয়েছে এরা।

হিন্দুত্ববাদীর প্রভাব বাড়লে দেশের বহুত্ববাদ বা গণতন্ত্র বিপন্ন হচ্ছে – এ কথা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। যাঁরা এই সব বলছেন, তাঁরা হয় হিন্দু চিন্তা সম্পর্কে সঠিক ভাবে অবগত নন,  অথবা তাঁরা জেনে বুঝে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করার জন্য ইচ্ছাকৃত অল্পজ্ঞানী। সহজ সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

প্রকৃত গণতন্ত্র হল সব মত ও পথের সহাবস্থান। সে দিক থেকে দেখলে হিন্দু চিন্তা ও গণতন্ত্র আসলে সমার্থক।

হিন্দুত্ব মানুষের ভাবনা শক্তিকে সমাজ ও শাসনব্যবস্থারও ঊর্দ্ধে ভাবে। সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সমাজ ও শাসন ব্যক্তির জন্য। উড়ান যোগ ও ভক্তি যোগ সমাজকে এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ ব্যক্তি মঠ মন্দিরে যেতেও পারেন। আবার এইগুলোকে বাদ দিয়েও নিজের উপাসনা, পুজোর মাধ্যমে ভক্তি মার্গে চলতে পারেন। আবার একজন ব্যক্তি আশ্রমে থেকে বা না থেকেও চিন্তন ও ধ্যানের মাধ্যমে জ্ঞানযোগের অনুশীলন করতে পারেন। অর্থাৎ হিন্দুত্ব ভাবনা কোনও বদ্ধমূল ধারণায় আটকে নেই। তাই হিন্দুত্বের পথে বিচরণের কোনও একজন নির্দিষ্ট প্রবর্তক, নির্দিষ্ট উপাসনা পদ্ধতি, একটি নির্দিষ্ট কর্তৃত্বব্যাঞ্জক গ্রন্থ অনুসরণের কোনও পরম্পরা নেই। তাই এখানে বলা হয়েছে ‘একম্‌ সদ্‌ বিপ্রা বহুধা বদন্তি’ – অর্থাৎ ‘সত্য এক, জ্ঞানীরা তা বিভিন্ন ভাবে ব্যক্ত করেন।’ শ্রীরামকৃষ্ণ অতি সহজ ভাষায় বলেছেন, ‘যত মত তত পথ।’

ধারণাগত ভাবে একজন সাধারণ হিন্দুর মধ্যে তাঁর নিজের সমাজকে বা অন্য অন্য কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার খুব কম বা সীমিত ইচ্ছা বা প্রকাশ থাকে। তাই হিন্দু সমাজে খ্রিষ্টান ও ইসলামি সমাজের মতো পোপতন্ত্র, যাজকতন্ত্র এবং খলিফাতন্ত্র বা মোল্লাতন্ত্রের দাপট দেখা যায় না। পুরোহিত বা পাণ্ডারা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মন্দিরের গণ্ডিতেই আবদ্ধ। অবশ্য এর ব্যাতিক্রমও আছে। হিন্দু সমাজের সুদীর্ঘ ইতিহাসে অল্প কিছুকালের জন্য পুরোহিত তন্ত্রও দেখা গিয়েছিল।

এ ছাড়াও, হিন্দু জীবন দর্শন অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয় না। তাই হিন্দুত্ব ভিত্তিক কোনও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মত বা পথ প্রকৃতিগত ভাবেই কখনও স্বৈরাচারী, একনায়কতন্ত্রী বা অগণতান্ত্রিক বা চূড়ান্ত পর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদী হতে পারে না। এজন্যই কোনও একটি বিশেষ হিন্দু মত বা পথের অনুগামীদের দ্বারা ভারতের শাসনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কোনও দৃষ্টান্ত অতীতে দেখা যায়নি। কিছু অকিঞ্চিৎকর ব্যতিক্রম থাকতেই পারে। অতীতে রাজা তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস প্রজাদের ওপর গায়ের জোরে চাপিয়ে দিতেন না। এমনকী সামরিক ভাবে বেশি ক্ষমতাবান হওয়ার পরও অন্য দেশ বা অন্যের ভূমি অধিকার করে সেখানকার অধিবাসীদের ওপর নিজের ধর্মবিশ্বাস, ভাষা, সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার বা সাম্রাজ্যবাদী উপনিবেশ গড়ে তোলার কোনও অপচেষ্টা হিন্দু সমাজ বা শাসকদের মধ্যে দেখা যায়নি। যে সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অন্যান্য সব ধর্মের ক্ষেত্রে সর্বাংশে সত্য নয়। ইতিহাস তাই অনেক অসংযমী দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ ও রক্তপাতের সাক্ষী।

পরবর্তী কালে ডারউইন তার বিবর্তনবাদ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন – যা সংগ্রাম বা সংঘর্ষকেই মানবজীবনের উদবর্তনের ও অস্তিত্বরক্ষার একমাত্র সাধন মনে করে। সেই তত্ত্বের অনুগামীরা নিজেদের আধুনিকপন্থী বলে দাবি করে এবং বাইবেলের অনুগামীদের ফান্ডামেন্টালিস্ট বা মৌলবাদী বলে। এই আধুনিকপন্থীরা ডারউইনের অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম ও যোগ্যতমের উদবর্তন তত্ত্বকে বিবেকহীন মানুষ্যেতর প্রাণীদের মতো মানব সমাজের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নিয়েছে। এর জন্যই শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপের আধুনিকপন্থী দেশগুলো যখন শক্তিশালী হয় তখন তারা নিজেদের আক্রমণাত্মক বিকৃতি রোধ করতে পারে না।

স্পেন শক্তিশালী হয়ে দক্ষিণ আমেরিকা জয় করে সেখানকার মূল সভ্যতাকে তছনছ করে দেয়। তাদের উপাসনার জায়গা ধ্বংস করে দেয়। পর্তুগাল তার ক্ষমতার দিনে নিজের ধ্বংসলীলা গোয়া পর্যন্ত বিস্তার করে। শক্তিশালী ফ্রান্স ইউরোপের ছোট দেশগুলোকে পদদলিত করেছে। ইংল্যান্ড তো বিশ্বের প্রত্যেক কোণায় তার সাম্রাজ্যবাদী থাবা বসিয়েছিল। জার্মানীও সাম্রাজ্যবাদের জন্যই সারা পৃথিবীকে দু’দুটো বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইতালিও আবিসিনিয়া দখল করে।

এর মধ্যেই পুঁজিবাদের প্রতিক্রিয়ায় হেগেলের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের ভিত্তিতে মার্কসবাদ ও কমিউনিজমের উদ্ভব হয়। যা তত্ত্বগতভাগে সর্বহারার একনায়কতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে গণতন্ত্র হত্যাকারী একদলীয় শাসনতন্ত্রে পর্যবসিত হয়। তার ফলস্বরূপ ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড, চেকোশ্লোভাকিয়া, বলকান রাজ্য ও অর্ধেক জার্মানিকে গিলে নেয়। রাষ্ট্র সঙ্ঘের নাকের ডগায় তারা হাজার হাজার হাঙ্গেরিয়ান ও চেক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গণহত্যা করে। কমিউনিস্ট চিনও তিব্বত দখল করেছে, অরুণাচল নিজের বলে দাবি করে। ডোকালাম থেকে দক্ষিণ চিন সাগরে তার ক্ষমতা প্রদর্শনের সাম্রাজ্যবাদী অভিলিপ্সার ঈঙ্গিত। আর কমিউনিস্ট দেশগুলো তো নিজের দেশের মানুষেরও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে – পূর্বতন সোভিয়েত রাশিয়া, চিন, রোমানিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি।

আবার অখণ্ড ভারতের যে অংশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশে পরিণত – সেখানেও সুস্থ ও শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রের বড়ই অভাব। একের পর এক রাষ্ট্র নায়কের হত্যা প্রকৃত গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।

এদের তুলনায় ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’; ‘সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ’ এই ভাবনায় সমৃদ্ধ হিন্দু চিন্তায় সম্পৃক্ত ভারতবর্ষ হাজার হাজার বছর ধরে অজেয় শক্তি ও সমৃদ্ধির জীবন যাপন করা সত্ত্বেও শুধু নিজের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনাদর্শের তত্ত্বকেই সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে। সুদূর অতীত ও মধ্যযুগে ভারত থেকে যাওয়া সন্তগণ ও বিদ্বানরা যে জ্ঞানের আলো প্রচার করেছেন তার প্রমাণ জাপান, চিন, মঙ্গোলিয়া, সাইবেরিয়া, মালয়, সুমাত্রা, জাভা ইত্যাদি দেশে আজও পাওয়া যায়। তত্ত্বগতভাবে হিন্দু জীবন-দর্শনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক মতাদর্শে স্বৈরাচার, শোষণ, নিপীড়ণ ও চূড়ান্ত পর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদ—- এ সবের কোনও স্থান নেই। আবার ব্যবহারিক দিক থেকেও হিন্দু সমাজ মজ্জাগত ভাবে উদার ও সহিষ্ণু। অন্য দিকে কিছু সেমেটিক সম্প্রদায় ও কমিউনিস্টরা তত্ত্বগতভাবে সংগ্রাম, সংঘর্ষের কথা বলে। এদের মধ্যে কোনও কোনও মতাবলম্বী নিজের দেশের মানুষেরও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এবং তার সঙ্গে এরা চূড়ান্ত সাম্রাজ্যবাদী। আবার কোনও মতাবলম্বীরা নিজের দেশে গণতন্ত্র বজায় রাখলেও সাম্রাজ্যবাদী। অর্থাৎ বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এরা কেউই গণতান্ত্রিক নয়।

হিন্দু সমাজ যদি সার্বিক ভাবে একটা মাত্র মত ও পথের অনুগামী হওয়া পছন্দ করত তাহলে হয়ত আজ ভারতের বেশিরভাগ মানুষই বৌদ্ধ হয়ে যেত। আদি শঙ্করাচার্যের উদ্যোগে বৈদান্তিক হিন্দু জীবন দর্শনের পুনরুত্থান হয়। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, একই সঙ্গে শ্রদ্ধায় মাথা নত করবার মতো বিষয়ও বটে, শঙ্করাচার্য নিজে অদ্বৈতবাদী হওয়া স্বত্ত্বেও তাঁর প্রতিষ্ঠিত চারটি মঠে বিভিন্ন দেবদেবীর বিগ্রহ স্থাপনা করেন – যথা দ্বারকা – সিদ্ধেশ্বর, জ্যোতির্মঠ – নারায়ণ, গোবর্ধন মঠ – জগন্নাথ, শৃঙ্গেরি – সরস্বতী ও শিব। কত সুন্দর গণতান্ত্রিক পরম্পরা। এর সঙ্গে ভারতে এখনও বৌদ্ধ, জৈন ধর্মালম্বীরা সহাবস্থান করছেন, কোনও রকমের অভ্যন্তরীণ কলহ ছাড়াই।

হিন্দু জীবন দর্শন মানুষকে তার ভাব জগতে একাকী বিচরণ করতে দেওয়ার পক্ষপাতী। হস্তক্ষেপ না করার এই প্রবণতা হিন্দুকে যে কোনও ধরণের স্বৈরাচারী বা একনায়ক হতে নিরুৎসাহ করে। সেই দিক থেকে একজন সাধারণ হিন্দু গণতন্ত্রের প্রতি অনুগত বা আস্থাশীল। এ জন্য কোনও ধরণের এক কেন্দ্রিকতা হিন্দু জীবনে খাপ খায় না। একই বৃহত্তর হিন্দু সংস্কৃতি, ধর্ম, দর্শনের অংশ হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় লোকাচার, ভাষা, সংস্কৃতি, জীবন-যাপন ইত্যাদিকে মর্যাদা দিয়ে ভারতে অসংখ্য করদ রাজ্য ছিল। মাঝে মধ্যে অবশ্য স্থানীয় শাসকদের স্বৈরাচার, বিশৃঙ্খলা, অপশাসন বা অরাজকতা দূর করে সুশাসন প্রণয়নের জন্য ‘রাজচক্রবর্তী’ রাজা উত্থান হতো। এটাই সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ।

হিন্দু চিন্তন অনুসারে একজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত উপাসনার ক্ষেত্রে স্বাধীন। প্রতিটি মঠ বা মন্দির সাধারণত স্বাধীন ভাবে পরিচালিত। এক কেন্দ্রিক পুরোহিত তন্ত্র ভারতে দেখা গিয়েছে খুবই কম। তাই হিন্দুত্বের মূল ভাবনা ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার পক্ষে। ছোট রাজ্য ও ছোট জেলার পক্ষপাতী।

সব দিক বিচার করলে হিন্দুত্ব হচ্ছে সর্ব সমাবেশক, বহুত্ববাদী একটি ভাবনা যা প্রকৃতপক্ষে দেশ-কাল ভেদে সকলের জন্য সমান উপযোগী। তাই তা শাশ্বত ও সনাতন। বিদেশিরাই আমাদের হিন্দু বলে সম্বোধন করেছে।

দীর্ঘ পরাধীনতার সময় হিন্দু সমাজ সাময়িক ভাবে তার চলার গতি হারানোয় কিছু কুসংস্কার, কুরীতির শ্যাওলা তাকে বেঁধে ফেলেছিল। এখন সেই কুসংস্কার, কুরীতি বা বিকৃতিকেই যদি হিন্দুত্ব বলে দেশে বিদেশে বদনাম করা হয় যে ভারতে হিন্দুত্বের উত্থানে ‘গণতন্ত্র’, ‘সহিষ্ণুতা’ রসাতলে, তবে তা হয় তাদের চিন্তার দৈন্য অথবা পেট্রো ডলারের খেলা। সেটা বিচক্ষণ মাত্রই বুঝে নিতে পারবে। আর একটা কারণ আছে।

স্বাধীনতার পর বিগত ৬০ বছর ধরে মেকলে পন্থী মডারেটদের সেকুলার শাসন আসলে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনেরই প্রলম্বিত রূপ মাত্র। বাস্তবে সেকুলারিজম নিজেই একটা সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে। পিটার ড্রাকারের ভাষায় –“and however much it pretends to be ‘antireligious’ it is a religious belief।” দার্শনিক লিবনিৎজ এই মারাত্মক ধর্মহীন নব্য সম্প্রদায় সম্পর্কে সাবধান বাণী উচ্চারণ করেছিলেন – “a secular religion… would almost by definition have to be a tyranny and suppress the freedom of the individual.” এই ধর্মহীন ‘সেকুলার’ সম্প্রদায় স্বাধীনতোত্তর ভারতে এতদিন ধরে নিজেদের মতকেই একমাত্র সত্য মনে করে। হিন্দু চিন্তন ও জীবন দর্শন, যা প্রকৃত পক্ষে ‘ভারতের আত্মা’, তাকে দমিত, অবহেলা, অস্বীকার ও চূড়ান্ত ভাবে সমূলে উৎপাটিত করতে চেয়েছে। বলতে গেলে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে আসছে। পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনে মহমহিম রাষ্ট্রপতিকে নেহেরুজির যেতে বারণ করা কিংবা সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির শ্রীরাম মন্দিরের মামলাকে গুরুত্ব দিতে না চাওয়া এসবেরই নমুনা। সৌভাগ্যক্রমে হিন্দু সমাজ দেরিতে হলেও ধীরে ধীরে তা বুঝতে শুরু করায় হিন্দু চিন্তা বা জীবন দর্শনের পুনরুত্থান শুরু হয়েছে। ‘গণতন্ত্র’, ‘সহিষ্ণুতা’ ও হিন্দু চিন্তা সমার্থক হওয়ায় এতে গণতন্ত্রের সামান্যতম বিপদ না থাকলেও মডারেট, সেকুলার, কমিউনিস্টরা এতদিনের সাধের মৌরসিপাট্টা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত ও বিপন্ন। তাই এত অসহিষ্ণু হল্লা বোল।

এখন যাঁরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে দেশে বিদেশে হিন্দুত্বের এই নব উত্থানের নিন্দা করছেন, তাঁরা বরং অগণতান্ত্রিকতা, অসহিষ্ণুতা, সংঘর্ষ, স্বৈরাচার ও সাম্রাজ্যবাদী ভাবনা দূর করার চেষ্টা করুন। তাহলে তাদেরও মঙ্গল। ‘গণতন্ত্রেরও’ মঙ্গল। ও সর্বোপরি দেশের মঙ্গল।

মতামত লেখকের ব্যক্তিগত

(লেখক পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট)

Shares

Comments are closed.