প্রচারের মোহ ছেড়ে দায়িত্ব পালন করার সময় এখন, নিষেধাজ্ঞা মানুন, সংযম রাখুন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রন্তিদেব সেনগুপ্ত

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার দাস মোদী গতকাল, রবিবার দিন দেশবাসীকে জনতা কার্ফু পালনের আবেদন করেছিলেন। প্রাথমিক পর্বে কোনও কোনও মহল থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনের প্রতি কটাক্ষ করা হলেও শেষপর্যন্ত দেখা গেল, গতকাল সমগ্র দেশবাসী প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে মর্যাদা দিয়েছেন। সকাল সাতটা থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত জনতা কার্ফু পালন করেছেন। এবং এটা মানতেই হবে, কোনও দলগত বা সাংগঠনিক উদ্যোগ ছাড়াই এই জনতা কার্ফু এক স্বতঃস্ফূর্ত ঐক্যবদ্ধতা দেখিয়েছে। শুধু তাই নয়, জীবন তুচ্ছ করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লড়াই করছেন যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের যে ভাবে গতকাল বিকেল পাঁচটার সময় সমগ্র দেশ ঘন্টাধ্বনি, হাততালির মাধ্যমে অভিবাদন জানিয়েছেন, তাতে এটাও প্রমাণ হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সদর্থক দিকটাই দেখেছেন দেশবাসী। এবং এটাও বলা যায়, একটি ‘নেশন’ হিসাবে গড়ে ওঠার যে প্রক্রিয়া সেটি কাল ভারতবাসী সার্থক করেছে। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে আইনের মাধ্যমে কাল সমগ্র দেশে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করতেই পারতেন। কিন্তু সে পথে প্রধানমন্ত্রী যাননি। দেশের মানুষকে সচেতন না করেই আইন প্রয়োগ করলে অনেক সময়েই তা অমান্য করার প্রবণতা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে আগেই লকডাউনের ঘোষণা করলে এরকম একটি আশঙ্কা থেকে যেত। সে পথে প্রথমে না গিয়ে আবেদনের মাধ্যমে দেশবাসীর সচেতনতা ও সদিচ্ছা যাচাই করে নিলেন। এবার বলতেই হবে, সম্পূর্ণ সফল হলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর আবেদন মতো সমগ্র দেশই কাল সংযম দেখিয়েছে। তবু দু-একটি অবিবেচনাপ্রসূত ঘটনা ঘটে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জনতা কার্ফুর ডাক দিয়েছিলেন অন্তত ওই সময়টা সামাজিক মিলন ও সমাবেশ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যে। এই সামাজিক মিলন ও সমাবেশ বন্ধ রাখলে সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। নিজে সুস্থ থাকা যায়, অন্যকেও সুস্থ রাখা যায়।

    প্রধানমন্ত্রী বারংবার বলেছিলেন, এই সময়টুকু ঘরের ভিতরে থাকুন, ঘরের বাইরে বেরোবেন না। এমনকি বিকেল পাঁচটার সময়ে শঙ্খধ্বনি বা ঘন্টাধ্বনি নিজ নিজ বাড়ির বারান্দায় এবং ছাদে দাঁড়িয়ে দিতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রাস্তায় নেমে হইহট্টগোল করে, সমাবেশ করে তা করতে বলেননি নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করলাম, কিছু কিছু এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি বিকেল পাঁচটা বাজতে না বাজতেই দলবেঁধে রাস্তায় নেমে কাঁসর-ঘণ্টা সহযোগে মিছিল করেন। কেন এরা এই কর্মটি করলেন তা বলতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি, এরা হয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পুরোপুরি অনুধাবন করেনি অথবা রাস্তায় নেমে শক্তি প্রদর্শন এবং নিছক প্রচারের মোহ কাটাতে পারেনি। যে কারণেই করে থাকুক না কেন, বলতেই হচ্ছে, নিতান্তই অবিবেচকের মতো কাজ করেছে এরা। যে উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী জনতা কার্ফুর ডাক দিয়েছিলেন সেই উদ্দেশ্যটি জেনে অথবা না জেনে এরা নষ্ট করেছে।

    আজ বিকেল পাঁচটা থেকে আবার পাঁচ দিনের জন্য লক ডাউন হতে চলেছে এই রাজ্যে। সকলের কাছেই অনুরোধ, এই সময়টা অবিবেচকের মতো কাজ করার সময় নয়। নিজের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন বা নিছক প্রচার আদায় করার সময়ও নয়। প্রধানমন্ত্রী আজকেও তাঁর আবেদনে সতর্ক, সংযমী থাকার কথা বলেছেন। সামাজিক মিলন ও সমাবেশ বন্ধ রেখে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কথা বলেছেন। দয়া করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন। লকডাউনের সময় জরুরি পরিষেবা ব্যতীত অন্য কোনও কাজে জড়িতরা রাস্তায় বেরোবেন না। ঘরে থাকুন। কোনও রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করবেন না। অবিবেচনাপ্রসূত আচরণও করবেন না। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সমাজকে রক্ষা করবে।

    মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব

    লেখক সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More