বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

ঝড়ের পরে রোগ যেন না ছড়ায়

একটা প্রবাদ আছে, বিপদ কখনও একা আসে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও কথাটি প্রযোজ্য। সাধারণত ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা ভূমিকম্পের পরে আসে মহামারী। পৃথিবীর সব দেশেই এমন দেখা যায়।

গত শনিবার আমাদের রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। দুই ২৪ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিপুল। মঙ্গলবার অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী বুলবুলের দাপটে সাত জন মারা গিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষ। দুর্গত এলাকা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার মানুষকে। অন্তত ৬০ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে ৪৭১ টি।

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় ঝড়ের দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। সেখানে কতদূর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনও এসে পৌঁছায়নি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার কাকদ্বীপের বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ত্রাণের জন্য তিনি দু’টি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসছে কেন্দ্রীয় দল।

টাস্ক ফোর্স এখন দুর্গত এলাকায় পুনর্গঠনের কাজ করবে। তাতে সময় লাগবে বহু দিন। হয়তো এক দশকেরও বেশি। সুন্দরবন অঞ্চলে ২০০৯ সালে বয়ে গিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় আয়লা। তার ক্ষয়ক্ষতিই এখনও পূরণ করা যায়নি। তার মধ্যে এসে পড়ল বুলবুল।

পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি গ্রহণ করার পাশাপাশি এখনই যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সতর্ক হওয়া দরকার, তা হল, বিপর্যয়ের সুযোগে রোগ না ছড়িয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় পেটের রোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানীয় জল দূষিত হয় সবার আগে। তার ফলে ডায়েরিয়া, ডিসেন্ট্রি ও কলেরার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ত্রাণ শিবিরে বহু মানুষকে, বিশেষত শিশুদের ওই সব রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

ঘূর্ণিঝড়ের ফলে তিন-চারদিন ধরে যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। ঝড় চলে গিয়েছে ঠিকই কিন্তু অনেক খানাখন্দে এখনও জমে আছে বৃষ্টির জল। ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই এবং ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশার ডিম পাড়ার মতো উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এখন আবহাওয়া শুষ্ক হয়েছে ঠিকই কিন্তু তাতে মশার বংশবৃদ্ধির সমস্যা হবে না।

ঝড়ের আগে ও পরে তাপমাত্রার হেরফের হয়েছে যথেষ্ট। এই ঠান্ডা-গরমে সাধারণ জ্বর-সর্দিকাশি ছড়িয়ে পড়ারও সম্ভাবনা আছে। নোংরা জল থেকে নানারকম চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই রোগগুলিকে ঠেকানোর প্রধান উপায় হল চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। শুধু দুর্গত এলাকাতেই নয়, কলকাতা শহরেও অবিলম্বে বৃষ্টির জমা জল দূর করা প্রয়োজন। প্রশাসন এই কাজটি যত তৎপরতার সঙ্গে করবে, নাগরিকদের ততই মঙ্গল।

Comments are closed.