কর্মসংস্থানের ভয়াবহ চিত্র হওয়া উচিত নির্বাচনের সবথেকে আলোচিত বিষয়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    অভিষেক বাগচী

    ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ভারতবর্ষের আর্থিক অবস্থা অর্জন করল একটি বিরল ‘গৌরবের’ মর্যাদা। জানুয়ারি মাসের শেষদিকে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা প্রকাশ করে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন  একটি স্বশাসিত সংস্থা, ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভের কর্মসংস্থানের তথ্য এবং পরিসংখ্যান সংক্রান্ত সমীক্ষার অপ্রকাশিত ‘গোপন’ রিপোর্ট নাগরিকদের সামনে আসে। সেই রিপোর্ট অনুসারে ২০১৭-১৮ সালে দেশে বেকারত্বের হার ৬.১ শতাংশ, যা গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

     প্রথমত, তথ্য থেকেই সুস্পষ্ট সবথেকে শোচনীয় অবস্থা দেশের ভবিষ্যৎ– যুবসমাজের। দ্বিতীয় কথা, শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে বেকারত্বের হার অনেক বেশি অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিতদের তুলনায়। এই প্রতিবেদনটি লেখার মুহূর্ত পর্যন্ত রিপোর্ট নিয়ে কোনও মন্তব্য সরকারের তরফ থেকে করা হয়নি। বরং উল্টে কী ভাবে তা ফাঁস হল, সেটি খুঁজে বার করতে এনএসএসও-র অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল এ কে সাধুর নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করেছে পরিসংখ্যান ও প্রকল্প রূপায়ণ মন্ত্রক।

    চলতি মাসের গোড়ার দিকে (মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএমআইই-র  প্রকাশিত সমীক্ষায় কাজের বাজারের আরও বিবর্ণ ছবি সামনে আসে। সিএমআইই-র সমীক্ষা দেখাচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে দেশে বেকারত্বের হার পৌঁছেছে ৭.২ শতাংশে। ২০১৬ সালের নভেম্বরের (বিমুদ্রাকরণের মাস ) পরে সর্বাধিক। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত মাসে (ফেব্রুয়ারি ২০১৯) কর্মরত মানুষের সংখ্যা কমেছে ৬০ লক্ষ।

    সরকার নীরব, বিরোধীদের আক্রমণেও সেই ধার নেই। রফতানি গত পাঁচ বছর ধরে একই জায়গায় স্থিতিশীল। ১৯৯১ সালে অর্থনীতির উদারীকরণের পরে এরকম অচলাবস্থা শেষ কবে হয়েছে কেউ জানে না। এই গগনচুম্বী বেকারত্ব ইঙ্গিত করে, দেশ একটা বারুদের স্তূপের উপর বসে আছে; অপেক্ষা শুধু একটা স্ফুলিঙ্গের। কর্মনিবিড় কিছু প্রকল্পের কথা বলে সরকার প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছিল। উদাহরণ : ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’। এইসব  প্রকল্পগুলো যে অশ্বডিম্ব প্রসব করা ছাড়া আর কিছু করেনি, ফাঁস হওয়া ‘গোপন’ রিপোর্টই তার প্রমাণ। তীব্র জ্বালাতে মলম লাগাতে গ্রামীণ জনগণের জন্য ১০০ দিনের কাজ জাতীয় কিছু প্রকল্প আছে কিন্তু একটি স্নাতক যুবক বা ইঞ্জিনিয়ার যুবতি ডিগ্রী শেষ করে চাকরি না পেলে কী করবে? সে তো সরকারের ভর্তুকিতে বাঁচতে চায় না ; সসম্মানে রোজগার করে, আয়কর দিয়ে দেশের গর্বিত নাগরিক হতে চায়।

    সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে উদগ্রীব বিরোধী দলগুলোকে এই ২৭ শতাংশ কর্মহীন যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে হবে। চাকরি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বুকে এসে পড়ে না।  তার জন্য চাই সুচিন্তিত পরিকল্পনা। উৎপাদন শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাঙ্কিং, জৈব প্রযুক্তি –প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা।

    বিরোধী দলগুলো কি সেটা দেখাচ্ছে? তার থেকেও বড় প্রশ্ন হচ্ছে শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ কি আজ সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে হাতের নাগালে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে তাঁদের চাহিদাগুলো জানাচ্ছে?

    লেখকের tweeter ID @abhishekbagchi

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More