শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

গান্ধী ও আরএসএস‌, কেমন ছিল সম্পর্ক

মনমোহন বৈদ্য

ভোটের দামামা তখন বেজে গিয়েছে। সব দলই নিজের নিজের সংস্কৃতি আর পরম্পরা মেনে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। সেই সময়েই একটি দলের নেতা বলেন, এবার এই নির্বাচনে গান্ধী না গডসে বেছে নিতে হবে। একটা বিষয় আমি দেখেছি যে, যারা গান্ধীজির প্রকৃত অনুগামী তারা তাদের কাজকর্মে মন দেয়, তাঁরা গডসের নাম কখনও মুখেও আনে না। সঙ্ঘেও গান্ধীজির চর্চা অনেক হয় কিন্তু গডসের নাম নিয়ে আলোচনা হতে আমি তো কখনও শুনিনি। অন্য দিকে, রাজনৈতিক স্বার্থে গান্ধীজির নাম যারা ব্যবহার করে তারা গডসের নাম বারবার বলে কিন্তু তাঁদের কাজকর্মে গান্ধীজির আদর্শের ছায়াটুকুও নেই। এরা সাধারণত অসত্য আর হিংসার পথে চলে এবং নিজেদের স্বার্থে গান্ধীজির নাম ব্যবহার করে।

একটি দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদক, তিনি আবার সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকও বটে, তিনি বলেছিলেন, একবার এক গান্ধীবাদীর একটি লেখা আমাদের কাগজে প্রকাশিত হওয়ার কথা হয়েছিল। সেই গান্ধীবাদীর সঙ্গে যখন লেখাটা নিয়ে কথা হচ্ছিল তখন তিনি বললেন, সঙ্ঘ ও গান্ধীজির সম্পর্ক কেমন ছিল তা আমি জানি। তবে আমি আপনাদের অজানা কয়েকটি প্রসঙ্গ নিয়ে লিখব। এটা শুনে আমি প্রশ্ন করি, গান্ধীজি আর সঙ্ঘের মধ্যে কেমন সম্পর্ক ছিল সেটা কি ওই গান্ধী বিশেষজ্ঞ সত্যিই জানেন? আসলে লোকে না জেনে, না পড়াশোনা করে নিজের মতো ধারণা তৈরি করে নেয়। সঙ্ঘ সম্পর্কে তো অনেক বিদ্বান, তথাকথিত পণ্ডিতও ঠিকঠাক পড়াশোনার পরিশ্রম না করে সিলেক্টিভ পড়াশোনার উপরে ভিত্তি করে, একটা বিশেষ দৃষ্টিকোণের সাহিত্য পড়ে নিজের ‘পাণ্ডিত্যপূর্ণ’ (?) বক্তব্য তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবটা হলে এই ধারণার সঙ্গে ‘সত্য’-এর কোনও সম্পর্কই নেই।

মহাত্মা গান্ধীর কিছু নীতি সম্পর্কে তীব্র বিরোধিতা থাকলেও সঙ্ঘের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল তা জানার জন্য যে তথ্য পাওয়া যায় সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপুল জনসমর্থন তৈরির যে শুদ্ধ উদ্দেশ্য ছিল তার মধ্যে কট্টর মুসলমান ও জেহাদিদের সামনে গান্ধীজি যেভাবে আত্মসমর্পণ করেছিলেন সে বিষয়ে সহমত না হলেও একথা বলা যায় যে, সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতার লড়াইয়ে সামিল করার জন্য তিনি চরকা ও সত্যাগ্রহের মতো সহজ ও অমোঘ পন্থাকে সকলের সামনে এনেছিলেন। এটা গান্ধীজির মহত্ব। গ্রাম স্বরাজ, স্বদেশি, গোরক্ষা, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের মতো যেসব বিষয় ভারতের সনাতন হিন্দু ধর্মের মূল সে সমস্ত বিষয়ে তাঁর আগ্রহকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তাঁর নিজের জীবনের যে মূল্যবোধ তা অনেক যুবক যুবতীকে আজীবন সমাজ সেবার ব্রত পালনের প্রেরণা দিয়েছে।

১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে ডাক্তার হেডগেওয়ার অংশ নিয়েছিলেন। এর জন্য ১৯২১ সালের ১৯ অগস্ট থেকে ১৯২২ সালের ১২ জুলাই এবং ১৯৩০ সালের ২১ জুলাই থেকে ১৯৩১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি কারাবাস করেন।

মহাত্মা গান্ধীর ১৯২২ সালের ১৮ মার্চ থেকে ছ’বছরের জন্য মহাত্মা গান্ধীর কারাদণ্ড হয়। তখন থেকে ওঁর মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ১৮ তারিখ ‘গান্ধী দিবস’ পালন করা হত। ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে ‘গান্ধী দিবস’ উপলক্ষে ভাষণে ডাক্তার হেডগেওয়ার বলেন, “আজকের দিন অত্যন্ত পবিত্র। মহাত্মাজির মতো পুণ্যবান পুরুষের জীবনে ব্যাপ্ত সদগুণের শ্রবণ এবং চিন্তনের দিন এটা। ওঁর অনুগামী হিসেবে যাঁরা নিজেদের পরিচয় দেন তাঁদের উপরে তাঁর গুণের অনুকরণের দায়িত্বও বর্তায়।”

১৯৩৪ সালে ওয়ার্ধায় শ্রীজমানলাল বাজাজের বাড়িতে যখন গান্ধীজি ছিলেন তখন কাছেই সঙ্ঘের শীতকালীন শিবির চলছিল। কৌতূহল থেকেই গান্ধীজি সেখানে যান। অধিকারীরা তাঁকে স্বাগত জানান এবং স্বয়ংসেবকদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তাও হয়। কথাবার্তার সময়েই উনি জানতে পারেন শিবিরে তফশিলি সম্প্রদায়ের স্বয়ংসেবকরাও রয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে কোনও কিছুতেই বিভেদ নেই বরং সব কিছুতেই একাত্ম ভাব রয়েছে। একসঙ্গে থাকা, একসঙ্গে কার্যক্রম এসব দেখে তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হন।

স্বাধীনতার পরে যখন দিল্লিতে ভঙ্গি কলোনিতে গান্ধীজি থাকতেন তখন তাঁর নিবাসের সামনের মাঠেই সঙ্ঘের প্রভাত শাখা চলত। সেপ্টেম্বরে গান্ধীজি প্রমুখ স্বয়ংসেবকদের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গান্ধীজি বলেন, “কয়েক বছর আগে ওয়ার্ধায় আমি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের একটি শিবিরে গিয়েছিলাম। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ার জীবিত ছিলেন। প্রয়াত জমনালাল বাজাজ আমাকে শিবিরে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে আমি কড়া অনুশাসন, অস্পৃশ্যতার পূর্ণ সমাপ্তি দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। তখনকার থেকে সঙ্ঘ অনেক বড় হয়েছে। আমি তো সব সময়ে মনে করি যে, যেসব সংস্থা সেবা ও আত্মত্যাগের আদর্শে পরিচালিত তাদের শক্তি বাড়তে থাকুক। কিন্তু সত্যিকারের কাজ করতে হলে ত্যাগের পাশাপাশি পবিত্র লক্ষ্য এবং সঠিক জ্ঞানের প্রয়োজন।” সম্পূর্ণ বক্তৃতাটি ‘গান্ধী সমগ্র বাঙ্ময়’ গ্রন্থের ৮৯ তম খণ্ডের ২১৫-২১৭ পাতায় রয়েছে।

১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি সরসঙ্ঘচালক শ্রী গুরুজি মাদ্রাজে একটি অনুষ্ঠানে থাকার সময়ে গান্ধীজির মৃত্যুর খবর পান। সঙ্গে সঙ্গেই উনি প্রধামন্ত্রী পণ্ডিত নেহরু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল এবং গান্ধীজির ছেলে দেবদাস গান্ধীকে টেলিগ্রাম করে শোকবার্তা পাঠান। সেখানে গুরুজি লিখেছিলেন, “প্রাণঘাতক ক্রুর হামলায় মহান পুরুষের দুঃখজনক হত্যা শুনে আমি খুব আঘাত পেয়েছি। এখনকার এই কঠিন পরিস্থিতিতে এর ফলে দেশের অত্যন্ত ক্ষতি হল। অতুলনীয় সংগঠকের মৃত্যুতে যে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল তা পূর্ণ করতে এবং কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার জন্য ভগবান আমাদের শক্তি দিন।”

গান্ধীর প্রতি শোক প্রকাশের জন্য উনি সঙ্ঘের দৈনিক কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেন গোটা দেশের স্বয়ংসেবকদের। পরের দিন অর্থাৎ ১৯৪৮ সালের ৩১ জানুয়ারি উনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠান। তিনি লেখেন, “কাল চেন্নাইতে থাকার সময়ে ওই ভয়ঙ্কর খবর পেয়েছি যে কোনও অবিচারী ভ্রষ্ট হৃদয় ব্যক্তি পুজনীয় মহাত্মাজির উপরে গুলি চালিয়েছে। ওই মহাপুরুষকে অকালে ও আচমকা নৃশংস হত্যা করেছে। এই নৃশংস ঘটনা বিশ্বের সামনে আমাদের সমাজের কপালে কলঙ্ক লাগিয়েছে।”

এই সমস্ত তথ্য Justice on Trial বইতে এবং শ্রীগুরুজি সমগ্রে রয়েছে।

১৯৬৯ সালের ৬ অক্টোবর মহাত্মার জন্মশতবর্ষের সময়ে মহারাষ্ট্রের সঙ্গালিতে গান্ধীজির মূর্তি উন্মোচন করেন শ্রীগুরুজি। সেই সময়ে শ্রীগুরুজি ‌বলেন, “আজ এক মহত্বপূর্ণ ও পবিত্র সময়ে আমরা একত্রিত হয়েছি। একশো বছর আগে এই দিনে সৌরাষ্ট্রে এক বালকের জন্ম হয়েছিল। সেই দিনে আরও অনেক বালকের জন্ম হয়ে থাকতে পারে কিন্তু আমরা তাদের জন্ম-শতবর্ষ পালন করি না। মহাত্মা গান্ধীর জন্ম সাধারণ ব্যক্তির মতোই হয়েছিল, কিন্তু উনি নিজের কর্তব্য এবং অন্তরের প্রেম দিয়ে পর‌মশ্রেষ্ঠ পুরুষ হয়েছেন। ওনার জীবনকে সামনে রেখে আমাদের জীবন গঠন করতে হবে। ওনার জীবনের যতটা অনুসরণ করা যায় আমাদের করতে হবে।

… লোকমান্য তিলকের পরে মহাত্মা গান্ধী নিজের হাতে স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে অনেক চেষ্টা করে গিয়েছেন। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী‌-পুরুষের মধ্যে এই প্রেরণা তৈরি করেন যে, ব্রিটিশ রাজ শেষ হ‌ওয়া দরকার, দেশকে স্বাধীন করতে হবে আর নিজেদের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে মূল্য দিতে হয় তা আমরা দেব। মহাত্মা গান্ধী মাটিকে সোনা বানিয়েছেন। সাধারণের মধ্যে অসাধারণত্ব তৈরি করেছেন। এই যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তার জন্যই ইংরেজকে ভারত ছাড়তে হয়েছে।

… উনি বলতেন, “আমি কট্টর হিন্দু, তাই শুধু মানব জাতিকে নয়, যে কোনও জীবকেই ভালোবাসি।” ওঁর জীবন ও রাজনীতিতে সত্য এবং অহিংসার যে প্রাধান্য ছিল সেটা হিন্দুত্বের কারণেই ছিল।

… যে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে আমরা এত বলি, সেই ধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ফিউচার অব হিন্দুইজম বইয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। উনি লিখেছেন, “হিন্দু ধর্ম মানে যাকে আটকে রাখা যায় না, যে শুধু এগিয়ে চলে, সত্যের খোঁজ নেওয়ার পথে। আজ এই ধর্ম যেন ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে, মনে হয় যেন এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিতে পারবে না। এর কারণ আমরা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি, ধর্ম ক্লান্ত হয়নি। যেই মুহূর্তে আমাদের এই ক্লান্তি দূর হবে, হিন্দু ধর্মের এক বিস্ফোরণ হবে যা অতীতে কখনও হয়নি, হিন্দু ধর্মের এমন প্রভাব ও প্রসার হবে যে বিশ্ব চমকে উঠবে।” মহাত্মাজির এই স্বপ্ন পূর্ণ করার দায়িত্ব আমাদের উপরে।

… দেশের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা চাই, আর্থিক স্বাধীনতা চাই। সেই সঙ্গে এমন ধর্মীয় স্বাধীনতা চাই যাতে কেউ কারও অপমান করতে না পারে, আলাদা আলাদা পন্থ, ধর্মের মানুষ যাতে একসঙ্গে থাকতে পারে। বিদেশি ভাবনার দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে হবে। এটাই গান্ধীজির শিক্ষা। আমি গান্ধীজির সঙ্গে অনেকবার সাক্ষাৎ করেছি। ওঁর সঙ্গে অনেক আলোচনাও হয়েছে। উনি যে ভাবনার কথা বলেছেন, তা অধ্যয়ন করেই আমি এই কথা বলছি। এই কারণে অন্তঃকরণের অনুভূতি থেকেই গান্ধীজির প্রতি আমার অপার শ্রদ্ধা।”

গুরুজি বলতেন, ”মহাত্মাজির সঙ্গে আমার শেষবার দেখা হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। তখন দেশের স্বাধীনতার জন্য শাসন-সূত্র তৈরি হচ্ছে আর তা নিয়ে নেতারা খুব খুশি। এমনই সময়ে দিল্লিতে দাঙ্গা লেগে যায়। আমি সেই সময়ে শান্তি স্থাপনের কাজ করছিলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেলও চেষ্টা করছিলেন এব‌ং সাফল্যও মিলছিল। এমনই পরিবেশের মধ্যে গান্ধীজির সঙ্গে আমার দেখা হয়। মহাত্মা আমায় বলেছিলেন—দেখো কী কাণ্ড হচ্ছে।

”আমি বলি—এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। ইংরেজরা বলত, আমরা চলে গেলে তোমরা একে অপরের গলা কাটবে। আজ ঠিক সেটাই হচ্ছে। বিশ্বের কাছে আমরা খাটো হয়ে যাচ্ছি। এটা বন্ধ করা দরকার।

”গান্ধীজি ওই দিন তাঁর প্রার্থনা সভায় আমার নাম করে আমার ভাবনা সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বলেন এবং দেশের সুনাম নষ্ট বন্ধ করার প্রার্থনা করেন। মহাত্মার মুখে আমার নামোচ্চারণ আমার বড় সৌভাগ্য ছিল। এই সব প্রসঙ্গ থেকেই আমি বলতে চাই যে, আমাদের উচিত ওনাকে অনুকরণ করা।”

আমি যখন বডোদরায় প্রচারক ছিলাম তখন (১৯৮৭-৯০) তৎকালীন সরকার্যবাহ শ্রী যাদবরাও জোশি সেখানে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। যেই ভাষণে তিনি মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে কিছু কথা বলেছিলেন। ভাষণের পরে কার্যালয়ে এক কার্যকর্তা ওঁকে প্রশ্ন করেন, ”আপনি যে মহাত্মা গান্ধীকে এত সম্মান দিলেন সেটা কি মন থেকে?” এর জবাবে যাদবরাও বলেন, ”মনের থেকে নয় এমন কথা বলার মতো রাজনৈতিক নেতা ‌আমি নই। যেটা বলি সেটা মন থেকেই বলি।” পরে তিনি বুঝিয়ে বলেন যে, যখন আমরা কোনও ব্যক্তির সম্মান করি তখন মনে রাখতে হবে যে এর মানে তাঁর সব ভাবনার সঙ্গে আমরা সহমত। ওনার গুণের জন্য আমরা ‌ওনাকে শ্রদ্ধা করি, অনুসরণ করি। কঠোর প্রতিজ্ঞায় নিশ্চল থাকার জন্য যেমন আমরা পিতামহ ভীষ্মকে স্মরণ করি কিন্তু রাজসভায় দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময়ে তাঁর মৌন থাকাটা সমর্থন করা যায় না। সেই ভাবেই কট্টর ও জেহাদি মুসলমানদের প্রতি গান্ধীজির ব্যবহার নিয়ে কঠোর অসহমত সত্বেও স্বাধীনতা অন্দোলনে ওঁর ভূমিকা, সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতার লড়ইয়ে সামিল করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান, ভারতীয় দর্শন নির্ভর ‌ওঁর কাজ, সত্যাগ্রহের মাধ্যমে জনরোষ আটকে দেওয়া ইত্যাদি অনেক কিছুই প্রেরণার কাজ করে।

এই সব তথ্য না জেনে সঙ্ঘ ও গান্ধীজি সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করা অসত্য ও অনুচিত কাজ। গ্রাম বিকাশ, কৃষিকে গুরুত্ব, গোসংরক্ষণ, সামজিক সাম্য, মাতৃভাষায় শিক্ষা ও স্বদেশি অর্থনীতি এবং জীবনশৈলীর মতো যে সমস্ত বিষয় গান্ধীজির প্রিয় ছিল সে ব্যাপারে সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকরা সম্পূর্ণ মনোযোগ নিয়েই সক্রিয়।এই বছর গান্ধীজির সার্ধশতবর্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি আমরা বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি।

লেখক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সহ-সরকার্যবাহ

‘দ্য ওয়াল’–এ প্রকাশিত এই পর্বের সব লেখা পড়ার জন্য ক্লিক করুন নীচের লাইনে

সার্ধশত বছরে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী

Comments are closed.