বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

গান্ধীজির শেষ কয়েকটি দিন

সুখেন্দুশেখর রায়

“ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বিশ্বাসই করবে না যে এমন একজন রক্তমাংসে গড়া মানুষ কখনও পৃথিবীর বুকে পদচারণা করেছিলেন।”আলবার্ট আইনস্টাইন

৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭। কলকাতা থেকে গান্ধীজি ফিরে এলেন দিল্লিতে। আপাতত শান্ত, দাঙ্গাবিধ্বস্ত কলকাতা। কিন্তু দিল্লি ও পাঞ্জাবের পরিস্থিতি তখনও অগ্নিগর্ভ। দোসরা অক্টোবর- গান্ধীজির জন্মদিনে অনেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। কিন্তু চারপাশে দাঙ্গার লেলিহান শিখা আর উদ্বাস্তুর স্রোত দেখে বিহ্বল গান্ধীজি বললেন, ‘এসব কিছু দেখার চেয়ে আমার বরং মরে যাওয়া ভাল’।
২৩ অক্টোবর- পাকিস্তানি হানাদাররা কাশ্মীর আক্রমণ করে। অন্যান্য ৫৩৫টি দেশীয় রাজ্যের মতো কাশ্মীরেরও ভারতভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন মহারাজা হরি সিং। জনসাধারণের পক্ষে তা সমর্থন করেছেন শেখ আবদুল্লা। হানাদারদের হটিয়ে দিতে পাল্টা ব্যবস্থা নিল ভারত সরকার। এমনকি দেশভাগের জন্য ভারতের রাজস্ব ভাণ্ডার থেকে ৫০ কোটি টাকা পাকিস্তানকে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তাও বাতিল করল সরকার। গান্ধীজি বিরোধিতা করলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সীমান্ত সংঘর্ষ দেশের প্রতিরক্ষার সঙ্গে জড়িত বিষয়। সেখানে অবশ্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিশ্রুত টাকা ফেরত না দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিহিংসার মনোভাব ফুটে উঠছে। এর ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে|’ সরকার মানতে নারাজ। অগত্যা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারে ১৩ জানুয়ারি থেকে গান্ধীজি আমরণ অনশন শুরু করলেন। বয়সজনিত কারণে আগের মত অনশনের ধকল সইবার ক্ষমতা কমে এসেছে ঠিকই। কিন্তু উদ্যমে, সত্যের সন্ধানে এখনও নিবেদিতপ্রাণ এই একক সত্যাগ্রহী। তাই নিজের জীবনকে আবার বাজি ধরেছেন। ক্ষীণ আশা, যদি শান্তি ফেরে। তাঁর স্বাস্হ্যের অবনতির খবরে উদ্বেলিত হল ভারত-পাক জনচিত্ত। হিন্দু, মুসলমান, শিখ সকলে সাড়া দিলেন। ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫০ কোটি টাকা দিতে আর আপত্তি করল না। গান্ধীজিও অনশন ভঙ্গ করলেন। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করল।
গান্ধীজি এবার ঠিক করলেন, সেবাগ্রামে ক’দিন কাটিয়ে তিনি পাকিস্তানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করবেন। মহ. আলি জিন্নাহ গান্ধীজির এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়ে স্বাগত বার্তা পাঠালেন। শান্তির বাতাবরণ তৈরির এই অভিনব প্রয়াসে দুই দেশের মানুষের মনে সেদিন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি ও রাজনীতির সৌভাগ্যসন্ধানীরা গান্ধীজির বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যেতে থাকে। এক পাঞ্জাবি উদ্বাস্তু, মদনলাল ২০ জানুয়ারি তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। গান্ধীজি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবু তাঁর নির্দেশ, মদনলালকে যেন কোনও শাস্তি না দেওয়া হয়। এমনকি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সরকারি প্রস্তাবও খারিজ করে দেন। বললেন, ‘যার কাছে অবাধে চলাফেরার চেয়ে সুরক্ষা বলয়ে থাকা বেশি পছন্দের, তার মরে যাওয়াই ভাল।’
২৯ জানুয়ারি গান্ধীজি কংগ্রেস দলের জন্য এক পথনির্দেশিকা তৈরি করলেন। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের অন্তিম ইচ্ছাপত্র, উইল অথবা টেস্টামেন্ট। ওই ইচ্ছাপত্রে তিনি লিখলেন, ‘কংগ্রেস দলকে ভেঙে দেওয়া হোক। ক্ষমতার রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়ে কংগ্রেস গড়ে তুলুক লোকসেবক সংঘ। যা ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, শুধু জনগণের উদ্দেশ্যে নিবেদিত সেবামূলক সংগঠন হিসেবে কাজ করবে।’ গান্ধীজি লক্ষ্য করেছিলেন, ক্ষমতার সংঘাত শীর্ষস্থান থেকে বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ক্ষমতার অলিন্দ থেকে জনগণের মাঝখানে ফিরে আসার তাঁর এই আহ্বান। জীবিতকালেই প্রথম সারির নেতাদের বুঝিয়ে তাঁকে এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে| নইলে আর কখনও হবে কিনা সন্দেহ। কারণ, ইতিপূর্বে হরিজন পত্রিকাতে তিনি এমন মত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু তেমন কোনও সাড়াশব্দ পাননি। প্রথমে জওহরলাল আর বল্লভভাইকে বোঝাতে হবে। তারপর অন্যান্য নেতাদের।
৩০ জানুয়ারি। দিল্লির আলবাকার্ক রোড। এখন নাম ৩০ জানুয়ারি মার্গ। বিড়লা ভবনে একতলার বিশাল হলঘরের ঘেরা বারান্দায় শুয়ে রয়েছেন মোহনদাস। আরাবল্লীর পাহাড় গড়িয়ে আসা কনকনে শীতে কাবু দিল্লি। রাতের শেষ প্রহর। অখণ্ড নিস্তব্ধতা ভেঙে দূরে কোথাও একটা পেঁচা ডাকল। ঘুম থেকে উঠে পড়লেন গান্ধীজি। একে একে বাকি সবাই। কিছুক্ষণ পরে শুরু হল প্রভাতী প্রার্থনা। নাতনি মনু শ্রীমদ্ভাগবত গীতার প্ৰথম ও দ্বিতীয় শ্লোক আবৃত্তি করলেন। মোহনদাস ও তাঁর অনুগামীরা তা সমবেত কণ্ঠে পুনরুচ্চারণ করলেন। প্রার্থনা শেষে তাঁর দুই চলমান যষ্ঠি মনু ও আভার কাঁধে হাত রেখে গান্ধীজি ভিতরের ঘরে গেলেন। এইভাবে তাঁর শুরু হল প্রাত্যহিকী। দিঙমণ্ডলে তখনও ঘন আঁধার। আকাশে শুকতারা একাকী জ্বলজ্বল করছে।
আবার মন দিয়ে পড়লেন কাল দুপুরে লেখা কংগ্রেসের নববিধান। কিছুক্ষণ ধরে চলল সংযোজন, সংশোধন। এক গ্লাস গরম জলে মেশানো মধু, লেবুর রস পান করলেন। তারপর আবারও শুয়ে পড়লেন। মনে দোলাচল। কংগ্রেস নেতারা কি আমার শেষ ইচ্ছা পূরণ করবেন? মানবেন তাঁর এই নির্দেশিকা? খানিক পরে উঠে আধঘণ্টা পায়চারি করলেন। তারপর চিঠিপত্রের ফাইল খুলে লেখালেখিতে মন দিলেন। মনু এসে জানতে চাইলেন দোসরা ফেব্রুয়ারি সেবাগ্রাম যাওয়া হবে  কিনা। গান্ধীজির সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘ভবিষ্যৎ কে বলতে পারে?’

সকাল সাতটা। দিনের প্রথম দর্শনার্থী শ্রীমতি আর. কে. নেহরু এসেছেন। আজই ফিরে যাবেন আমেরিকায়। সামান্য কথাবার্তার পর তাঁর খাতায় গান্ধীজি শুভেচ্ছাবাণী লিখে দিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পরে সচিব প্যারেলালকে ডেকে তাঁর হাতে কংগ্রেসের পথনির্দেশিকা তুলে দিয়ে বললেন, ‘যদি কোনও ভুলত্রুটি থাকে তা ভালোভাবে দেখে নিয়ে শুধরে দিও। আজ সন্ধেয় জওহর আসবে। ওর হাতেই তুলে দেব আমার এই অন্তিম ইচ্ছাপত্র।’ দর্শনার্থীর ভিড় বেড়ে চলেছে। পাকিস্তানে ভারতের উপ-রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক মালকানি, বিবিসি-র বব স্টিমিসিম, কাথিয়াওয়ারের রসিকলাল, লেখক ভিনসেন্ট সিয়ান, এমন অনেকেই দেখা করছেন। বিকেল চারটায় আসবেন উপ প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, সন্ধেয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। প্যাটেল-নেহরুর মতবিরোধের খবর রোজ কাগজে বেরোচ্ছে। ইতিমধ্যে বিড়লা ভবনের আবাসিকেরা শুরু করেছেন সান্ধ্য প্রার্থনার আয়োজন।

ততক্ষণে দিল্লি রেল স্টেশনে যাত্রী বিশ্রামাগারের ৬ নং ঘরে সম্পূর্ণ হয়েছে আর এক প্রস্তুতি। নাথুরাম গডসে, নারায়ণ আপ্তে, বিষ্ণু কারকারে ও তাদের পাঁচ সঙ্গী চূড়ান্ত করে ফেলেছে পরিকল্পনা। বার কয়েক বিড়লা ভবন তারা ঘুরে দেখেছে। কারা ভেতরে যাবে, কারা বাইরে থাকবে- সব ঠিক হয়ে গেছে। প্রার্থনা মঞ্চের ৩৫ ফুটের মধ্যে থাকবে নাথুরাম। বিকেল হতেই বিশ্রামাগার থেকে বেরিয়ে পড়ল ওরা। মন্দির মার্গের বিড়লা মন্দিরে বাকি সবাই পুজো দিল, গডসে দাঁড়িয়ে দেখল। বিকেল সাড়ে চারটা। প্রথম টাঙ্গায় রওনা দিল নাথুরাম। পরনে খাকি পোশাক। পেছনের টাঙায় নারায়ণ আর বিষ্ণু, পরে অন্যান্যরা। গন্তব্য, বিড়লা ভবন। লক্ষ্য, মোহনদাস।
নির্ধারিত সময়ে বিড়লা ভবনে পৌঁছেছেন সর্দার প্যাটেল, সঙ্গী কন্যা মীরাবেন। আলোচনায় গান্ধীজি প্যাটেলকে বললেন, ‘একথা ঠিক যে সব বিতর্কের অবসান ঘটাতে আমি চেয়েছিলাম, হয় তুমি নয় নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দাও। কিন্তু মাউন্টব্যাটেন তোমাদের দুজনেরই অপরিহার্যতার কথা বলেছেন। ভেবে দেখলাম, মাউন্টব্যাটেনের কথাই ঠিক। তোমরা দুজনে বিবাদ-বিতর্ক এড়িয়ে চলো। সান্ধ্য প্রার্থনার পরে জওহর যখন আসবে আমি তখন তাঁকেও একথা বলব। যদি প্রয়োজন হয়, আমি আগামীকাল ওয়ার্ধা যাওয়া বাতিল করব।
প্রতিদিন সন্ধে পাঁচটায় প্রার্থনা। প্যাটেলের সঙ্গে আলোচনা তখনও শেষ হয়নি। আভা ইশারায় গান্ধীজিকে তাঁর ঘড়ি দেখতে বললেন। তিনি খেয়াল করলেন না। মনু তাই বাধ্য হয়ে বললেন, ‘প্রার্থনার সময় যে পেরিয়ে যাচ্ছে। আর তো দেরি করা যায় না। ’ সকন্যা ফিরে গেলেন প্যাটেল। পায়ে চপ্পল, গায়ে শাল চড়িয়ে আভা ও মনুর কাঁধে হাত দিয়ে গান্ধীজি এবার ২০০ গজ দূরে প্রার্থনাসভার পথে এগিয়ে চললেন। সারাজীবন ধরে কত পথ হেঁটেছেন। পোরবন্দর থেকে রাজকোট, লন্ডন থেকে ডারবান, পিটারমরিসবার্গ থেকে জোহান্সবার্গ, প্রিটোরিয়া, নাতাল; টলস্টয় ফার্ম থেকে শান্তিনিকেতন, চম্পারণ, সবরমতি, ইয়েরাভদা; আগা খাঁ প্যালেস থেকে বেলেঘাটার হায়দারি মঞ্জিল…। জীবনের প্রান্তরেখায় পৌঁছে গেছেন এই মহাপথিক।

পাঁচটা নাগাদ সদর দরজা দিয়ে বিড়লা ভবনে ঢুকে পড়ে নাথুরাম ও তার দুই সঙ্গী, আপ্তে আর কারকারে। প্রতিদিনের মতো কয়েকশো মানুষ প্রার্থনাসভায় ভিড় জমিয়েছে। মঞ্চে ওঠার সিঁড়িতে ছয়টি ধাপ। প্রথম ধাপের দিকে এগিয়ে আসছেন গান্ধীজি। কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎ যমদূত নাথুরাম। হাতজোড় করে সে বলল, ‘গান্ধীজি নমস্তে’। প্রতিনমস্কার জানালেন তিনি । এরপর গডসে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে মাথা নোয়াতেই মনু চেঁচিয়ে উঠল- না,না। এখন আর প্রণাম নয়। বড্ড দেরি হয়ে গেছে…এক ঝটকায় গডসে সরিয়ে দিল মনুকে। তার হাতের জিনিস মাটিতে ছড়িয়ে পড়ায় কুড়োতে শুরু করে মনু। থমকে দাঁড়িয়েছেন গান্ধীজি। মুহূর্তে গডসের মুষ্টিবদ্ধ হাতে লুকোনো কালো ইতালিয়ান ‘বেরেটা’ পিস্তল গর্জে উঠল। পরপর তিনবার আলোর ঝলকানি, কানফাটানো আওয়াজ। গুলিবিদ্ধ হল গান্ধীজির তলপেট, বুক। শূন্য দূরত্বে দাঁড়িয়ে যখন গডসে তৃতীয়বার ট্রিগারে চাপ দেয়, গান্ধীজি তখনও হাতজোড় করে প্রার্থনারত ভঙ্গিতে নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছেন| অস্ফুট কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন, হে রাম…। তারপর ধপাস করে তাঁর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। হিংসার কাছে পরাভূত হলেন অহিংসার পূজারি? যিশুর মতো তিনিও বলতে চেয়েছিলেন- ‘ক্ষমা করো’। তাই রামনাম উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু…। পাঁচটা সতেরো মিনিটে তাঁর ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে। আভা, মনুর কোলে শুয়ে আছেন নিষ্প্রাণ গান্ধী। তাঁর সাদা অস্ট্রেলীয় শাল ভেসে যাচ্ছে লাল রক্তে। চারদিকে ছোটাছুটি, কান্নার রোল। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল এই মর্মান্তিক খবর। আকাশবাণীর বিশেষ সম্প্রচারে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু কম্পিত কণ্ঠে বললেন, ‘আমাদের জীবন থেকে আলো নিভে গেল| বাপু আর নেই।’
এখন অ্যাটেনবোরোর ‘গান্ধী’ দেখে ইউরোপ কাঁদে। মার্টিন লুথার কিং-এর আত্মবলিদানের পেছনে কাজ করে গান্ধী দর্শন। যে দর্শনকে মূলধন করে নেলসন ম্যান্ডেলা, ওবামা-রা জীবনশৃঙ্গে আরোহণ করেন। সারা বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের কাছে তিনিই একমাত্র আলোকস্তম্ভ, সত্যের ধ্রুবতারা। কিন্তু তাঁর শেষ ইচ্ছাপত্র তাঁর দল গ্রহণ করেনি। মহাসাড়ম্বরে তাঁর সাৰ্ধ জন্মশতবর্ষ পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা, দেশবাসীরাই বা তাঁর আদর্শের কণামাত্র গ্রহণ করতে পেরেছি কি?

লেখক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ

‘দ্য ওয়াল’–এ প্রকাশিত এই পর্বের সব লেখা পড়ার জন্য ক্লিক করুন নীচের লাইনে

সার্ধশত বছরে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী

Comments are closed.