বুধবার, অক্টোবর ১৬

ধীরে বিজেপি ধীরে

জিষ্ণু বসু

এরাজ্যে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সারা দেশ আরও একবার আস্থা প্রদর্শন করেছে নরেন্দ্র দামোদর ভাই মোদী সরকারের উপর। সারা দেশে সব রাজনৈতিক দল তাদের কয়েক দশকের ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়েছিল একটি মাত্র দলকে হারাবার জন্য। কি ডান, কি বাম সবাই একমঞ্চে। সিপিএম আসন ভাগ করেছিল কংগ্রেসের সঙ্গে, সমাজবাদী পার্টি মিলেছিল বহুজন সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে। যেন এত বছরের শ্রেণীচেতনা, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখানো সব প্রহসন। উত্তরপ্রদেশের বুয়া–বাবুয়ার এত বিবাদ ভুলে মহাগাঠবন্ধন হল। যাদব–মুসলিম–দলিত ভোটের সমীকরণকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিলেন উত্তরপ্রদেশের মানুষ। দেখালেন এইসব জাতপাত ধর্মসম্প্রদায়ের কথা বাতাসে মিলিয়ে যায় যখন সামনে আসে শক্তিশালী দেশের স্বপ্ন; যোগ্য, ভরসা করার মতো নেতৃত্ব। যে নেতৃত্ব দেশের সুরক্ষার জন্য পৃথিবীর কোনও শক্তির কাছে মাথা নোয়াবে না। গ্রামের দরিদ্রতম বাড়ির মহিলা যেন এলপিজি গ্যাসের সুবিধা পান, কৃষক যেন শষ্যের ন্যূনতম দাম পান তার জন্য এক সহৃদয় ভূমিকা নেবে। সেইসঙ্গে মৌলবাদী আর রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা অসন্তুষ্ট হবে সেই ভযে তিন তালাকের মতো অমানবিক প্রথাকে বিলুপ্ত করতে বা অসহায় বাংলাদেশী অত্যাচারিত হিন্দুর জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদে পাশ করাতে দু’বার ভাববে না। একটি পরিবারতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোতে বের হয়ে আসতে চেয়েছে ভারতবর্ষ। গত পাঁচ বছরে স্বচ্ছ ভারতের মতো প্রকল্প ভারতের আত্মাকে ছুঁয়ে গেছে। কুম্ভমেলার মতো বিশাল জমায়েতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিদেশিদেরও অবাক করে দিয়েছে। ভারতবর্ষের হাজার হাজার বছরের সাধনার ধন যোগ। আন্তর্জাতিক যোগদিবস, যোগের প্রসারে শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর, বাবা রামদেবের মতো সমাজ পরিবর্তনকামী মানুষকে সামনে রেখে সারা পৃথিবীর সামনে মডেল স্থাপন করেছে বিগত এনডিএ সরকার। কাতারের মতো মুসলমান দেশও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ডাক টিকিট বের করেছে।

তাই গরীব প্রান্তিক মানুষের জনধনযোজনা থেকে শুরু করে মহাকাশে অ্যান্টি স্যাটেলাইট কমব্যাট সিস্টেম পর্যন্ত সফল একটি সরকার। ২০১৪ সালে প্রথমবার নরেন্দ্র মোদী জেতার পর ‘সানডে গার্ডিয়ান’ পত্রিকা লিখেছিল যে, এতদিন পর সত্যি সত্যি ইংরেজ ভারতবর্ষ থেকে চলে গেল। স্বাধীনতার পরও এতকাল যারা ভারতবর্ষকে শাসন করেছেন তারা চলেনে বলনে ইংরেজ শাসকদেরই উত্তরসূরী ছিলেন। এই প্রথম ভারতবর্ষের একজন সাধারণ মানুষ দেশের প্রধান হয়ে এলেন (দ্য গার্ডিয়ান, সম্পাদকীয় ১৮ মে, ২০১৪)।

এই সাধারণ মানুষটি সত্যিই একজন চৌকিদারের মতো দেশকে আভ্যন্তরীণ বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন, বাইরের আঘাত আসতে দেননি। ”ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে” বলে অতিবামপন্থীরা জেহাদিদের সঙ্গে এক হয়েছে। কিন্তু জনমানসে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে ‘মাওবাদ’। বন্ধ হয়ে গেছে শ্রীনগরে লাগাতার পাথর ছোড়া। তথাকথিত এগিয়ে থাকা প্রচারমাধ্যম, ”লেফ্ট লিবারাল” বুদ্ধিজীবীরা যত অপপ্রচার করেছে, সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তত বেশি করে তাদের অবিশ্বাস করা শুরু করেছে। তাই দেশ জুড়ে ৩০৩টি পদ্মফুল।

বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশা আরও গভীর। এরাজ্যের মানুষ বহুদিন সুশাসন দেখেনি। দলতন্ত্র, পঙ্গু হয়ে যাওয়া প্রশাসন আর দুর্নীতি– বাংলা এসবের থেকে পরিত্রাণ চায়। স্বামী বিবেকানন্দের বাংলা, শ্রীঅরবিন্দের জন্মভূমি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কর্মভূমি, নেতাজি সুভাষের কলকাতা আবার নিজের হারানো গরিমা ফিরে পেতে চায়। রামমোহন, বিদ্যাসাগরের মতো সমাজ সংস্কারক জগদীশ চন্দ্র বসুর মতো বিজ্ঞানীর বাংলার এ কী অবস্থা! শিল্প নেই, শিক্ষা নেই, প্রশাসনিক সচ্ছতা নেই। গ্রামের মানুষের একমাত্র উপজীবিকা হয়ে উঠেছে রাজনীতি থেকে আসা পয়সা। তাই ক্ষমতা ধরে রাখতে এত মারামারি। এখানে গতবছর পঞ্চায়েত ভোটে এতগুলো মানুষ প্রাণ হারালেন অথচ তিন তিনটে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়ে বিজেপি থেকে কংগ্রেস শাসনে এসে গেল, একজন রাজনৈতিক কর্মীও মারা যাননি। তবে কি আমরাই দেশের সবচেয়ে হিংস্র আর বর্বর? পশ্চিমবঙ্গ এই লজ্জাকর পরিচয় থেকে মুক্তি চায়। এবারও শাসকদল অকথ্য অত্যাচার করেছে, ডায়মন্ড হারবারের মতো কেন্দ্রে গ্রামের পর গ্রাম মানুষকে অত্যাচার করে তাড়িয়ে দিয়েছে, তবু মানুষ বিজেপিকে জিতিয়েছে।

খবরের কাগজের পণ্ডিত স্তম্ভ লেখকরা বলেছেন ধর্মীয় মেরুকরণের কথা। কিন্তু একজনও বলতে পারছেন না মেরুকরণের সূচনাটা কবে হয়েছিল। ২০০৭ সালে কলকাতায় তিনদিন ধরে ভয়াবহ দাঙ্গার পরে যখন বামফ্রন্ট বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে অন্যায় ভাবে  তাড়িয়ে দিয়েছিল নাকি ২০১০ সালে দেগঙ্গার দাঙ্গার মূল নায়ককে তৃণমূল পুরস্কৃত করেছিল? আসলে এইসব বুদ্ধিজীবীরা জানেন যে, বাংলাদেশে দশকের পর দশক নিদারুণ অত্যাচারের সময়ও তারা প্রতিবাদের একটি শব্দ উচ্চারণ করেননি।

আজ যখন ভারতীয় জনতা পার্টি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলছে, যখন সংসদে সেই বিল পাশ করিয়ে তাদের সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তখন পূর্ববঙ্গ থেকে সব হারিয়ে আসা একজন হিন্দুর সমর্থন মোদী পাবেনই। এতকাল ধর্ষিতা মেয়ের মুখ চেপে ধরে ভারতে যারা পালিয়ে এসেছেন, পার্টির নেতাদের পায়ে ধরেছেন রেশন কার্ডের জন্য, পুলিশ জুলুমে নাজেহাল হয়েছেন সর্বস্বান্ত হয়ে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা ওই হতভাগ্য মানুষেরা, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই অন্তজ সম্প্রদায়ের। তাই সেই বিপুল পরিমাণ মানুষের আর্জি সম্মানজনক নাগরিকত্বের। তাদের নেতারা হয়তো এখনও কোনও বিদেশি মতবাদের পচাগলা মমি আঁকড়ে বসে আছেন কিন্তু সমর্থকেরা একযোগে ভারতবর্ষের কথা বলতে শুরু করেছেন। বাংলায় তাই সর্বত্র ভারতমায়ের জয়ধ্বনি।

এই ভারতমায়ের জয়ধ্বনি দিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম জেলে গিয়েছিলেন। তাঁর ”আনন্দময়ীর আগমনে”–র জন্যই ইংরেজ সরকার বিদ্রোহী কবির ধূমকেতু পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছিল। কবি খিলাফৎ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ”কামালপাশা” কবিতা লিখেছিলেন। তাই নজরুলের মতো, সৈয়দ মুজতবা আলি’র মতো দেশপ্রেমিক জাতীয়বাদী মানুষের বাংলা আজ আবার নিজের স্থান নিতে চলেছে। তিন তালাকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মোদী সরকারের সবচেয়ে বড় সহযোগী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষিত প্রগতিশীল মুসলমানেরা। ৩৪ বছরের বাম শাসনের পর এসেছিল সাচার কমিটির রিপোর্ট। ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান সমাজই পিছিয়ে ছিল। আর বিগত ৭ বছরে খাগড়াগড়, সিমুলিয়া মাদ্রাসা, কালিয়াচকের ঘটনা এরাজ্যের মুসলমান সমাজকে মধ্যযুগের ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছে। আজ প্রয়োজন এক আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু মুসলমান সব শিশুর জন্য সমান আধুনিক শিক্ষার পরিকল্পনা করুক বিজেপি, বাংলার লক্ষ লক্ষ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলমান নারী পুরুষ সেটাই চায়।

এরাজ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার আজ করুণ অবস্থা। শিক্ষকও এরাজ্যে আজ বিক্রয়যোগ্য পণ্য। এসএসসি–র মত পরীক্ষাগুলো আজ প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এখানে পুলিশ থানাতে টেবিলের তলায় লুকিয়ে প্রাণ বাঁচায়। একদিকে প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজনৈতিক লোভী অসুরদের সম্পত্তি আর অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ লাগু হয়ে গেছে আর এই রাজ্যে প্রতিমুহূর্তে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অপমান চলছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কখনও কুকুরের সঙ্গে তুলনাও করা হয়েছে। এখানে কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজেদের সম্মান কত কষ্টে রক্ষা করছেন। দলের কথা শোনার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হচ্ছে এমন ব্যক্তিদের যাদের স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ানোর অভিজ্ঞতা নেই। এই অসামান্য অরাজকতা থেকে মুক্তি চায় রাজ্যের শিক্ষিত সমাজ। রাজ্যবাসী কেবল আর একটা রাজনৈতিক দল চায় না, চায় সহানুভূতিশীল ব্যবস্থা যেখানে যোগ্যের সম্মান হবে, বিদ্বান পূজিত হবেন।

চিটফান্ডের প্রতারণাতে সর্বস্বান্ত হওয়া গরীব মানুষগুলো কি বিচার পাবে? যেসব এজেন্ট আত্মহত্যা করলেন, বারুইপুরের সেই সবজি বিক্রেতা ভদ্রমহিলা যিনি জীবনের সবটুকু সম্বল দিয়ে নিঃস্ব হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মা যাতে শান্তি পায় তার ব্যবস্থা কি হবে? যদি কোনও পুলিশ আধিকারিক ওই গরীব মানুষের রক্তচোষাদের প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করে থাকেন, তবে তার এমন শাস্তি হোক যাতে বিভাগের ইতিহাসে তার দাগ থেকে যায়। সেই নেতা নেত্রী, সেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের বাংলার মানুষ কারাগারের অন্তরালে দেখতে চায়। বিজেপি কি পারবে এত মানুষের দীর্ঘশ্বাসের প্রশমন করতে?

এরাজ্যে প্রতিবছর কোনও না কোনও আলুচাষি আত্মহত্যা করছে। এখানে আলু সহ অন্য সবজির হিমঘরে সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। পশ্চিম ভারতে তেজস্ক্রিয় রশ্মির মাধ্যমে (ইরেডিয়েশন বেসড প্রিজারভেশন সিস্টেম) বহুল পরিমাণে সবজি, ফল ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হচ্ছে, বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে আম ‘গ্যামা ইরেডিয়েশন’–এর ব্যবস্থা নেই তাই, আমের আঁটিতে ম্যাগট মারা সম্ভব নয়। কেবলমাত্র এই কারণে প্রথম বিশ্বের দেশে এই রাজ্যের আম পাঠানো যায় না। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় চারুশিল্পের ‘গুচ্ছশিল্প’ (ইনডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার) আছে। হাওড়া হুগলি দুই ২৪ পরগনার মতো বহু জেলায় ক্ষুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের ক্লাস্টার প্রযুক্তির অভাবে ধুঁকছে। দুর্গাপুর, আসানসোল, হাওড়ায় ভারী শিল্পের পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও আছে। সিঙ্গুর থেকে টাটা কোম্পানিকে তাড়ানোর ইতিহাস তো পশ্চিমবঙ্গের শিশুপাঠ্য হয়েছে। কিন্তু সমস্ত পশ্চিমবঙ্গের ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করে, জমির উর্বরতা হিসেবে যোগ্য দাম ঠিক করে উন্নততর প্রযুক্তির শিল্প এনে প্রতি হাতে কাজ দেওয়ার ইতিহাস রচনা করতে পারবে কি বিজেপি? মানুষ কিন্তু সেই স্বপ্নই দেখছে।

সেই ২০০৬ সাল থেকে ”নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া” মেদিনীপুরে কাঁথির কাছে হরিপুরে ৬টি ১০০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ চুল্লির প্রস্তাব দিয়ে আসছে। কিন্তু রাজনৈতিক টালবাহানা, এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কায়েমী স্বার্থ আর তথাকথিত প্রগতিবাদীদের পরমাণু চুল্লির বিষয়ে কুসংস্কার এই প্রকল্পকে আটকে রেখেছে। বিগত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে লাগাতার কুসংস্কার প্রসার করা হয়েছে। বিজেপি কি পারবে বাংলার মানুষের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানের সঠিক ধারণার প্রচার প্রসার ঘটিয়ে রাজ্যের প্রগতির পথকে সুগম করতে?

বিজেপি কি পারবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ” বর্ণপরিচয় ” আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “সহজ পাঠ” প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গনে আবার ফিরিয়ে আনতে? ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই বলিদানের কথা স্মরণ করে ইতিহাস বইএর উপর দুফোঁটা চোখের জল পড়বে মাধ্যমিকের কোন বাঙালি ছাত্রীর!

বহুদিন ধরে এরাজ্যে মুক্ত সাংবাদিকতার মৃত্যু হয়েছে। ক্ষমতাবানের পায়ে পায়ে ঘোরাই বাংলা সংবাদমাধ্যমের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন বিজেপি নেতাদের দক্ষতায়, প্রশংসায় ঘণ্টাখানেক টিভি’র পর্দা ফাটিয়ে দেবেন তারকা সাংবাদিকরা। এনারাই বসিরহাটে বিজেপি কর্মী কার্তিক ঘোষকে দিনের আলোতে যখন হত্যা করা হল, যখন তার মৃতদেহ আরজিকর–এর সামনে বিজেপি কর্মীদের মেরে মাথা  ফাটিয়ে লুঠে নিয়ে গেলেন শাসক দলের মন্ত্রী, এক লাইন খবরও দেখানোর সাহস করেনি এখানকার সংবাদমাধ্যম। বিমানবন্দরে সোনাকাণ্ডে এত বড় ঘটনা কলকাতার কোনও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হল না। বিজেপি কি পারবে সংবাদমাধ্যমের সেই সাহস ফেরাতে? দলের জন্য নয়, অর্থের প্রলোভনে নয়, ক্ষমতার জন্যও নয় সত্যের জন্য বিশুদ্ধ সাহসী সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি হবে? নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকতার জগতে আসা যুব প্রজন্মকে দেখে প্রাণে আশা জাগে। ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকায় নীলকর চাষিদের অত্যাচারিত হওয়ার কথা লাগাতার প্রচার করতেন হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। ইংরেজ কোম্পানি প্রতিশোধ নিয়েছে। তাদের নিদারুণ অত্যাচারে মাত্র ৩৭ বছর বয়েসে মারা গেলেন হরিশচন্দ্র। তাঁর একরত্তি বিধবা স্ত্রী হরিশের মৃত্যুর পরও প্রবল পরাক্রমী কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়েছিলেন প্রেসটার অধিকার ফিরে পেতে। বাংলার মানুষের শরীরে তো এই দেশভক্ত বীর বীরাঙ্গনাদের রক্ত বইছে!  বিজেপি কি পারবে তার পুনর্জাগরণের সূচনা করতে?

মতামত লেখকের সম্পূর্ণত নিজস্ব

লেখক সাহা ইনস্টিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এ কর্মরত। বাংলায় প্রবন্ধগল্প ও উপন্যাস লেখেন।

Comments are closed.