বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

জয় গোস্বামীর রাজনৈতিক কবিতা- ‘কী মধুর আক্রমণ’

বেবী সাউ

“দুখানি জানুর মতো খোলা/ হাড়িকাঠ, মুখ রাখো তাতে/ চোখের পলক ফেলতে মাথা ছিটকে চলে যাবে/ সামনের মাঠে”- সূর্য পোড়া ছাই কাব্যগ্রন্থের এই প্রতীকী যৌনতার ভাষ্যের কথা কেই বা ভুলতে পারে? আসলে জয় গোস্বামী মানেই যিনি ক্রমাগত নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে এমন একটা জায়গায় নিয়ে চলে যান, যেখানে দাঁড়িয়ে ভাষাটাকেই নতুন ভাবে চিনতে ইচ্ছে করে। ভাষার কথা বলতেই মনে পড়ে গেল, ভাষা অনেকটা প্রকৃতির মতো। কখনও তা গ্রীষ্মের দাবদাহে ক্লান্ত আবার কখনও তা বৃষ্টির তরঙ্গে উচ্ছল। জয় গোস্বামীর কাব্যভাষাও সেরকম। কাব্যভাষার কোনও নির্দিষ্ট ভাষ্যে যে কবিকে চিরকাল ধরে লিখে যেতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই সম্ভবত। কিন্তু অনেকেই তেমন ভাবেন। ভাবেন, একটা নির্দিষ্ট কাব্যভাষাকে ক্রমাগত প্রতিষ্ঠা করতে করতে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যে সেখানে একটা মন্দির তৈরি হয়, বেদী তৈরি হয়। লোকজন সেখানে এসে যাতে প্রণাম করে, ফুল দেয়। তাকে ঘিরে তৈরি হয় একটা নির্দিষ্ট ভাষার বলয়। কাব্যভাষার এই নিজস্ব ধ্বজা তৈরির বিষয়টি যেমন কবিতার ইতিহাসের একটি বৈশিষ্ট্য, তেমন কাব্যভাষার সেই ধ্বজাকে বারবার চূর্ণ করে দেওয়াটাও কবিতার ইতিহাসের একটা বৈশিষ্ট্য। আর সে কাজ জয় গোস্বামী বারবার তাঁর কাব্য- অভিযাত্রার মধ্যে দিয়ে করেছেন। “কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, তুমি আমার সামনে দাড়ালেই আমি/ তোমার ভিতরে একটা বুনো ঝোপ দেখতে পাই। /ওই ঝোপে একটা মৃতদেহ ঢাকা দেওয়া আছে। /অনেকদিন ধ’রে আছে। কিন্তু আশ্চর্য যে/ এই মৃতদেহ জল, বাতাস, রৌদ্র ও সকলপ্রকার/ কীট-বীজাণুকে প্রতিরোধ করতে পারে। এর পচন নেই।/ বন্য প্রাণীরাও এর কাছে ঘেঁষে না।/ রাতে আলো বেরোয় এর গা থেকে।/ আমি জানি, মৃতদেহটা আমার।/ কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, এই জারিজুরি এবার ফাঁস হওয়া প্রয়োজন।/ আর তা হবেও, যেদিন চার পায়ে গুঁড়ি মেরে গিয়ে/ পা কামড়ে ধ’রে, ওটাকে, ঝোপ থেকে টেনে বার করব আমি। ( বিবাহিতাকে)। এই কবিতাটিতে যেমন জয় একধরনের অ্যান্টিরোমান্টিক ফর্মে প্রবল রোমান্টিকতার কবিতা লিখেছেন। এই অন্য ভাবে বলার ধরনটি জয় গোস্বামীর প্রত্নজীব থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল। “ বললেন সজ্জনে/ কেউ ফেরাল ঘৃণার মুখ, কেউ ফেরাল ক্রোধে–/ ‘বয়সটা খুব খারাপ’ তোমায়/ বলেছিলেন যাঁরা/ তাঁরা কি যান বকুলবাগান রোডে!” (বকুলবাগান)। কিন্তু এই কবির আশ্চর্যতম প্রেমের কবিতাটি সম্ভবত ঘুমিয়েছ ঝাউপাতা-র বিভাব কবিতা যেখানে তিনি লেখেন- “অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে/ হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে/ করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো/ লিপি চিত্রিত লিপি আঁকাবাঁকা পাহাড়ের সানুতলে/ যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো/ করেছো, অতল; করেছিলে; পড়ে হাত থেকে লিপিখানি/ ভেসে যাচ্ছিল–ভেসে তো যেতই, মনে না করিয়ে দিলে;/–‘পড়ে রইল যে!’ পড়েই থাকত–সে-লেখা তুলবে বলে/ কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায়  অলকানন্দা জলে”। যে কবি লেখে  দুঃখের কথাটি আমি দুঃখকে বলিনি, তাঁর কবিতায় তো এই বিস্ময়কর জায়গাটি পাওয়া যাবেই। ধারাবাহিক ভাবে পড়লে বোঝা যায় জয়ের কবিতায় মহাকাশ, মহাকাল, সময়, মৃত্যুচেতনা এবং যৌনতা একসঙ্গে মিশে আছে। আছে এক চোরা ভায়োলেন্স।

এখানেই জয় গোস্বামী বাকি সকলের চেয়ে আলাদা হয়ে যান। কারণ জয়ের কবিতার এই ভায়োলেন্স আমাদের নিয়ে যায় আঁতোয়া আর্তোর কাছে। প্রবল শারীরিক কবিতার মধ্যে যে আধ্যাত্মিকতা থাকে, তা যেন জয়ের করায়ত্ত। সময়চেতনা এবং রাজনীতি যেন আর্ত কণ্ঠে জয়ের কবিতার মধ্যে উচ্চারিত হয়। কিন্তু তা শঙ্খ ঘোষের প্রাজ্ঞ উচ্চারণে নীরবতায় নয়, অনেক বেশি উচ্চকিত কিন্তু সূক্ষ্ম এক প্রেক্ষিতে। কারণ এই কবি দুঃখকে, যন্ত্রণাকে জীবন দিয়ে সহ্য করেছেন। যে দুঃখ এবং যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে, সম্ভবত আমরা সেই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে বোবা হয়ে যেতাম। কিন্তু জীবনযুদ্ধের এক অপরাজিত সৈনিকের মতো জীবনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সঙ্গে কথাবার্তা বলে যান। “ দেখতে দেখতে আমি স্বয়ং ভগবান হয়ে যাচ্ছি মাকে ডাকছি বাপকে ডাকছি/ চোদ্দগুষ্টিকে ডাকছি আয় আয় আয়/ বাপকে মেয়ের সামনে ছেলেকে মায়ের সামনে মেরে শুইয়ে দিচ্ছি কেটে/ ভাসিয়ে দিচ্ছি সব গ্রামগঞ্জ নদীনর্দমায়…” ( দশচক্র)। অন্তত আমার কাছে ভুতুমভগবান বাংলা কবিতায় একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক কবিতার বই। “ নাঙ্গা হওয়াই প্রবেশপত্র- নাঙ্গা করে/ তাই তোমাকে ঢুকিয়ে দিলাম এই শহরে”। আজকের সারা ভারতে যখন সাম্প্রদায়িক শক্তির রক্তচোখ দেখতে পাচ্ছি, যখন ফ্যাসিবাদ তার সর্বস্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তখন তো জয়ের ভুতুম ভগবানের এই পংক্তিগুলি অনেক বেশি কাছের এবং অনেক বেশি রাজনৈতিক বলে মনে হয়- “ বাড়ি ফিরছি খেতে বসছি আরও একটি নরহত্যা করে/ না করে উপায় নেই, আমি মারি তাই সে খাওয়ায়/ পথে পথে বালবাচ্চা বড় করছে এই খাদ্যগুণ/ সে-ও নিজে খাদ্য পায় আমাকে আদেশ দিচ্ছে বলে/ যে তাকে আদেশ দেয়, তার হাত শক্ত করুন”।

জয় গোস্বামীর কবিতা নিয়ে আসলে অসংখ্য আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে সূর্য পোড়া ছাই-এর পর থেকে মৌতাত মহেশ্বর হয়ে জয় যখন বাচ্যার্থকে অতিক্রম করার চূড়ান্ত এক সাধনায় নিয়ে যান তাঁর কবিতাকে। সমস্ত শব্দের প্রয়োগ এবং তার অর্থই পালটে যায়। বলতে বাধা নেই, জয় গোস্বামীর এই দুটি কাব্যগ্রন্থ পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন বাংলা ভাষাকে নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন, জয় গোস্বামীও বাংলা ভাষাকে নতুন নতুন কক্ষপথ দিয়ে চলেছেন। বাংলা ভাষার প্রতি জয় গোস্বামীর ভূমিকা নিয়েও পরে নিশ্চয় অনেক আলোচনা হবে। তবে, তার জন্য আমাদের সকলের থেকেই জয় গোস্বামীর কবিতার একটু দূরত্ব প্রয়োজন।

কিন্তু জয়ের রাজনৈতিক সত্তা সেই সত্তর থেকেই কীভাবে বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে, বুঝতেই পারছেন এই ছোট্ট নিবন্ধে আমার আলোচনার বিষয় সেটিই। সমস্ত অগ্নিভুখ অথচ আলোকবর্তিকা হাতে অভিযাত্রা করা শিল্পীর মতো জয় গোস্বামীর কবিতাতেও অনেক রকম অর্থই কাজ করে। আবার লোরকার মতো জয়ের কবিতায় প্রত্যক্ষ রক্তপাত দেখেছি আমরা—“ …বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়েছে/ রক্ত/ গড়িয়ে পড়েছে/ রক্ত/ গড়িয়ে পড়েছে…/ পিছনে কুকুর ছুটছে/ ধর্, ধর্…/ পিছনে শেয়াল/ তার পিছু পিছু আসছে ভাণ্ড হাতে/ রাজ অনুচর/ এই রক্ত ধরে রাখতে হবে/ এই রক্ত মাখা হবে সিমেন্টে বালিতে/ গড়ে উঠবে সারি সারি/ কারখানা ঘর/ তারপর/ চারবেলা ভোঁ লাগিয়ে সাইরেন বাজবে/ এ কাজ না যদি পার, রাজা/ তাহলে/ বণিক এসে তোমার গা থেকে/ শেষ লজ্জাবস্ত্রটুকু খুলে নিয়ে যাবে”। মনে কি হয় না এই চিত্র আজ সারা  ভারতেরই? তিনি যে সেই কবে লিখেছিলেন- “ একাকী মশাল হাতে কবর পাহারা দিই আমি”, সেই কাজ তিনি যেন করে চলেছেন একজন রক্তাক্ত বিবেক অথবা একজন আরুণির মতো। যদি অ্যান্টিপোয়েট্রির কথাও ভাবি, ভাবি নিকানর পাররার, মিরোশ্লাভ হলুব, তাদেউস রুজেউইচের কবিতার কথা, তাহলেও মনে হয়, জয় গোস্বামীই লিখে গেছেন বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে সার্থক অ্যান্টিপোয়েট্রি। অথচ এই অ্যান্টিপোয়েট্রির স্তরে স্তরে নীরবতা। আর সেই নীরবতা নিকানোর পাররার কবিতার মতোই আমাদের আরও ভয়ংকর বাস্তবতার কাছে নিয়ে যায়। “ সামনে ছিটকোয় রক্ত/ পিছনে কাঁচাখেকো দেবতা/ সামনে শত কুচো বাচ্চা/ আমরা বাপ মাকে জানি না/ কিন্তু দুর্গতিনাশিনী/ এবার শেষ কথা শুনে নাও/ আমরা এই ছাগজন্মে/ নিজেকে বলি দিতে আসিনি” (রক্তবীজ)। কী আশ্চর্য ভাষ্য! কী ভয়ংকর রাজনৈতিক! অস্থির করে তোলে, ভয়ানক অস্থির করে তোলে। যেমন জয়ের মৃত্যুচেতনার কবিতাগুলি রক্তের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় বিপন্নতার বীজ, তেমন জয়ের রাজনৈতিক কবিতাগুলি ( অনেকেই সেগুলিকে হয়ত রাজনৈতিক বলবেন না) আমাদের রক্তের মধ্যে বিপন্নতার নেশা ধরিয়ে দেয়। নেশাই তো বলব। নেশা না হলে কীভাবে বা আমরা পাগলের মতো দৌড়ে যাব আগুনের দিকে অভিশপ্ত পতঙ্গের মতো? কীভাবে আমরা বলব – মৃত্যু জন্মাও হলাহল/ বলির পাঁঠা বলে- কত জল! ”

হয়ত জয় গোস্বামীর কবিতায় যে ভয়ানক নরক আছে, আছে অন্ধকারের নিখুঁত দরজা, আছে ইনফের্নো, তার মধ্যে অনেক পাঠক ঢুকতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। তা করুন, কিন্তু সেই ভাষ্যটিকে পড়াও জরুরি। কারণ আমি শুধু মিষ্টিটুকু গ্রহণ করব, অথচ আগুনটুকু নেব না, তা তো চলে না। যে সাত-এর দশক থেকে জয় আজ অব্দি এই ২০১৯ পর্যন্ত আগুন খেয়ে বড় হচ্ছেন, বিষের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বিষক্ষয়ী হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে করতে হয়ে উঠছেন নীলকণ্ঠ, যে ইনফের্নোর মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে, অন্ধকারের কথা বলতে বলতে জয় নিজে আলোর কবিতার দিকে ছুটে চলেছেন, তার সম্পূর্ণ অভিযাত্রাকেই তো পাঠক হিসেবে আমাদের ধারণ করা উচিত। কারণ ধারণ না করলে আমরা জয়ের কবিতার উপযুক্ত বাহক হয়েও উঠতে পারব না। একজন অগ্রজ কবির কবিতার বাহক হয়ে ওঠাও খুব জরুরি। কিছু কবিতা যে কখনওই তার সাম্প্রতিকতা হারায় না, তাও জয়ের কবিতাগুলির মধ্যে স্পষ্ট – “ চিনতে পেরে গেছে বলে যার জিভকেটে নিল ধর্ষণের পরে/ দু’হাতে দু’টো পা ধরে/ ছিঁড়ে ফেললো যার শিশুটিকে/ ঘাড়ে দু’টো কোপ মেরে যার স্বামীকে/ ফেলে রাখলো উঠোনের পাশে/ মরা অবধি মুখে জল দিতে দিল না/ সেই সব মেয়েদের ভেতরে/  যে-শোকাগ্নি জ্বলছে/ সেই আগুনের পাশে/ এনে রাখো গুলির অর্ডার দেওয়া/ শাসকের দু’ঘন্টা বিষাদ/ তারপর মেপে দ্যাখো/ কে বেশি কে কম/ তারপর ভেবে দেখ/ কারা বলেছিল/ জীবন নরক করব, প্রয়োজনে/ প্রাণে মারব, প্রাণে!/ এই ব’লে ময়ূর আজ/ মুখে রক্ত তুলে/ নেচে যায় শ্মশানে শ্মশানে/ আর সেই নৃত্য থেকে দিকে দিকে/ ছিটকে পড়ে জ্বলন্ত পেখম” ।

আমরা যে ভয়ংকর সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছি, সেখানে কবি জয় গোস্বামীর কবিতা সব দিক থেকেই এখন নতুন করে পড়ার সময় এসে গেছে বলে মনে হয়। কারণ তাঁর কবিতার মধ্যে যেমন রয়েছে সমকালীনতাকে অতিক্রম করে শাশ্বতকালীন সময়ের দিকে চলে যাওয়ার অভিযাত্রা, তেমন-ই রয়েছে সময়ের ঝুঁটিকে ধরে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। সময়ের এই ঝুঁটিটা এইবেলা শক্ত হাতে ধরার সময় যখন এসে গেছে আমাদের তখন জয় গোস্বামীর কবিতা আমাদের কাছে শুধু বন্ধু নয়, শুধু সহবাসী নয়, অস্ত্র হয়েও উঠতে পারে। তাঁর কবিতা ‘এসেছি সূর্যাস্ত থেকে’-এর থেকে বলি- “ আজ সে ঘুমের খাদে নেমে যাব  যে-দেশে সূর্যাস্তরাঙা পথ/ ঘুরে উঠে গিয়েছে পাহাড়ঘেরা গাঁয়ে, যে-দেশে সর্পিণী এসে/ আবার দংশন করবে, আমার শরীরে জ্বালবে পাতা–/ আমি আজ সেই দেশ আবিষ্কার করে নেব/ ঘুরব সমস্ত রাত ঘোর অন্ধকার গিরিখাতে/ আমারই চিতার কাঠ আজ রাত্রে মশাল আমার”।

জয় গোস্বামী তাঁর এই কবিতাগুলিতে আমাদের দেখিয়েছেন এই সময়ের রাজনৈতিক কবিতার ভাষ্যের এমন এক রূপ, যা সরাসরি আমাদের হৃদয়ে ঢুকে যায়। কিন্তু তা কখনওই কোনও বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক ভাষ্যের সাক্ষ্য হয়ে থাকে না। বাংলার রাজনৈতিক কবিতার ভাববিশ্বে এই বিশেষ জঁর-টিকে নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হোক, সেটাই কাম্য। কারণ সৃজন সেন, মণিভূষণ ভট্টাচার্য, দিনেশ দাশ, সুকান্ত ভট্টাচার্য যেমন রাজনৈতিক কবিতার ভাষ্য লিখেছেন, ঠিক তেমন লিখেছেন বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায়। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কলমে রাজনৈতিক কবিতা, রাজনৈতিক ও কবিতা হয়ে উঠেছে। আবার জয় গোস্বামীর কলমে তা হয়ে উঠেছে কবিতা ও রাজনৈতিক। এখানেই মনে হয় এলিয়ট কথিত ট্র্যাডিশন ও ইন্ডিভিজুয়াল ট্যালেন্ট হাত ধরাধরি করে আছে।

মতামত নিজস্ব

বেবি সাউ কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক।

Comments are closed.