রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

নগরায়ন

অনিতা অগ্নিহোত্রী

প্রশাসনের অন্তরমহলের ভাষ্য নয়, মানুষের আঙিনায় বসে দেখা রাষ্ট্রের রূপ। প্রান্তিক জীবনের নিত্যকার লড়াই, জীবনে লিপ্ত হয়ে থাকার আখ্যান। ১৯৯৬-২০১৬ এই দু’দশক ব্যাপী সততসঞ্চরমান, সৃজনশীল শিল্পীর লেখা— চলন বিল। 

পূর্বপ্রকাশিত পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

চলনবিল

‘রূপকলা কেন্দ্র’ পর্বের গোড়ার দিকে, আমার মেয়ে, বয়স এগারো, একদিন আবিষ্কার করলাম, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে, ঘোমটার মতো করে তোয়ালে মাথায় পরে কী যেন বলছে, বলছে ওর নিজস্ব উচ্চারণে–– ‘নোমোস্কার। আমি অনিতা অগ্নিহোত্রী বলছি… এবার আমি আপনাদের প্রান্তিক মানুষদের কথা বলতে চাই…

ধরা পড়ে সে যথেষ্ট লজ্জিত। আমিও খুব হাসলাম। কিন্তু এখন ভেবে দেখছি, প্রান্তিক মানুষদের সঙ্গে কাজ ও লেখার মধ্যে দিয়ে আমার সংযোগ, নিছক হাসির কথা নয়। তাদের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি নীতি প্রণয়নের ব্যবহারিক দিকগুলি নিয়ে প্রচুর শিখেছি। উন্নয়ন নিয়ে আমার নিজস্ব চিন্তা ও লেখা এই শেখা ও জানার প্রক্রিয়ায় বাঁক বদল করেছে। সচিব হয়ে ‘পিরামিড’–এর চূড়ায় পৌঁছে, আমি এলাম ‘আবাসন ও নাগরিক দারিদ্র্য উন্মূলন’ নামক এক মন্ত্রকে। একদা বিভাগটি ছিল নগর উন্নয়নের মধ্যেই নিহিত, পরে নাগরিক দারিদ্র্যের গুরুত্ব দেখে তাকে আলাদা মন্ত্রক হিসেবে সূচিত করা হয়।

সচিব হিসেবে আমি যখন যোগ দিলাম তখন কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের বিদায় আসন্ন। দশ বছর মেয়াদের শেষ তিন–চার বছর কেটেছে নিন্দনীয় রকমের শ্লথতা ও দুর্নীতির সঙ্গে সহাবস্থানে। এটাও সত্যি যে, দলিত, আদিবাসী ও বনবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের একটা সদর্থক মানসিকতা ছিল। এই সময়ের নানা আইন প্রণয়নে ও নীতির রূপায়নে তার প্রতিফলন ঘটেছিল। সামনে নির্বাচন। পরাজয় অবশ্যম্ভাবী একথা আগেই বুঝে নেওয়ার ফলে মন্ত্রীদের মধ্যে শেষ প্রহরের গাঁঠরি বাঁধার তৎপরতা আরম্ভ হয়ে গেছে।

আবাসন মন্ত্রী মহোদয়া তুলনামূলক ভাবে একজন লঘুভার রাজনীতিক। এক সময় জাতীয় মহিলা কমিশনের অধ্যক্ষা হিসেবে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। বেলাশেষে তিনি কিছুটা ম্রিয়মান। এমনিতেই নগর উন্নয়ন মন্ত্রীর প্রভাব প্রতিপত্তি বেশি। তাঁর ছায়ায় প্রায় বিজনেই তাঁর বসবাস। দেখলাম, কাজের বদলে নিজের ঘনিষ্টবর্গের পুনর্বাসন চিন্তায় তিনি বেশি কাতর। নগরউন্নয়ন মন্ত্রী কংগ্রেসের বিত্তশালী নেতা। আগে বাণিজ্য মন্ত্রকের শীর্ষে ছিলেন। আমার মুম্বাই আগমনের প্রাক্কালে একবার এঁর মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

এমন ‘শক্তিশালী’ রাজনৈতিক ব্যক্তিসমূহের শরীরের ভাষায় আত্মবিশ্বাসের অভাব ও কাঠের এক একখানি চেয়ার হারাবার ভয় প্রত্যক্ষ করে আমার আকৈশোর লালিত ধারণাই দৃঢ়তর হলো–– মেধা ও মননের শক্তিই সারবস্তু। বাকি ক্ষমতার না আছে তাৎপর্য, না স্থায়িত্ব। এদিকে, যাঁদের ‘পারমানেন্ট এক্সিকিউটিভ’ অভিহিত করা হয়, সেই প্রশাসকবর্গের মধ্যেও চলেছে অনিশ্চয়তার তরঙ্গভঙ্গ। কোন কাজটা করে ফেলা সত্যিই দরকার আর কোনটা করলে অদূর ভবিষ্যতে সন্দিগ্ধের তালিকায় নাম উঠে যাবে, তার হিসেব করতে হচ্ছে প্রতিপদে।

রাজ্য সরকারে কাজ করার সময় নগর উন্নয়ন বা আবাসন দফতরে কাজ করার সুযোগ হয়নি। নাগরিক দারিদ্র্যের বিস্তৃতি এবং তার উন্মূলনের পথে ফেলে রাখা পাথরগুলির অস্তিত্ব এই প্রথম মনেপ্রাণে অনুভব করলাম।

ভারতের যে কোনও শহরে, তা মেট্রোই হোক বা দশ লক্ষের বেশি জনসংখ্যার শহর– ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমা ও তার নীচে বসবাস করেন। এই সংখ্যাটা বিপুল ও উদ্বেগজনকও। তার অন্যতম কারণ, আমরা দারিদ্র্যের সঙ্গে সাধারণত গ্রামাঞ্চলকেই যুক্ত করে থাকি। এবং দরিদ্র বললে নগরাঞ্চলে আমাদের মনে ভেসে ওঠে ভিক্ষুক, ভবঘুরে, নিরাশ্রয়দের ছবি। এঁরা দরিদ্র তো বটেনই, কিন্তু এঁদের বাইরেও আছেন এক বিরাট সংখ্যার মানুষ। এঁদের জীবন কিন্তু কায়িক শ্রমেই কাটে এবং এঁদের দেওয়া পরিষেবাতেই সচল থাকে মহানগর বা শহরের কর্মজীবনের চাকা, ঘরের ব্যবস্থাপনাও। গৃহ পরিচারক–পরিচারিকা, রিক্সা কিংবা অটোচালক, পথে পসরা নিয়ে বসা মানুষ, বন্ধ কারখানার শ্রমিক, অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদল। এঁদের মধ্যে অনেকেরই আছে ক্ষয়রোগ, রক্তাল্পতা, অপুষ্টির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।

নাগরিক দারিদ্র্য উন্মূলনের চেষ্টাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল অল্পবিত্ত ও দরিদ্রের জন্য বাসস্থান ও আশ্রয়, এদের কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে উপার্জনের সুযোগ করে দেওয়া, দক্ষতার ভিত্তিতে এদের সংগঠিত করাও একটা উদ্দেশ্য ছিল।

এই সময়েই দিল্লি ও তার আশেপাশে নিরাশ্রয় মানুষদের মৃত্যুর খবর কোর্টের নজরে আসে, সরকাররেও। দেখা গেছিল, শীতে পথে পড়ে যত মানুষ মারা যান, গরমে মৃত্যুর সংখ্যা তার চেয়ে কিছু কম নয়।

নাগরিক আশ্রয় বা আরবান শেলটার–এর ব্যাপারটি সুপ্রিম কোর্ট নিজেই দেখাশোনো করছিলেন এবং আমাদের মন্ত্রকের উপর দায়িত্ব ছিল রাজ্যগুলির কাজের বিবরণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। দিল্লিতে বস্তি উন্নয়ন দফতরে একজন দক্ষ অফিসার খুব ভালো কাজ করছিলেন। পরে আম আদমি পার্টি দিল্লির সরকারে এলে এ কাজ আরও গতি পেয়েছিল। আম আদমি পার্টির রাজনীতি ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু দিল্লির নাগরিক দারিদ্র্যের উপর মনোযোগ দিয়ে তারা যে ভাবে আশ্রয়হীনতা, মহল্লা ক্লিনিক ও সরকারি প্রাথমিক স্কুলের হাল ফিরিয়েছে, তা পূর্ববর্তী কোনও সরকার করার কথা চিন্তাই করেনি।

এইসব ‘আশ্রয় গৃহ’ দেখতে গিয়ে জানলাম, বহু মানুষ শহরে আসেন জীবিকা ও রোজগারের জন্য, তাঁদের এখানে মাথা গোঁজার কোনও স্থান নেই। বাজারের ছোট সবজিওয়ালা, হকার, যারা কাছাকাছি কোনও গ্রাম থেকে এসে পসরা সাজিয়ে বসেন, কিন্তু এঁদের না আছে রাতে থাকার জায়গা, না স্নান বা শৌচের সুবিধা। ‘আরবান শেলটার’ গুলিতে এঁরাও থাকতে অসেন।

এই দেখাগুলির উপর ভিত্তি করে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা–– শহুরে দরিদ্রের জন্য আবাসন, আরম্ভ করি।

শহরের জায়গা। আরবান স্পেস। এটা একটা ক্ষমতার আখড়া। রাস্তা–ঘাট, দোকান–বাজার, মেট্রো চলাচলের পথ বাদ দিলে শহরে যা জায়গা বাকি থাকে তার বৃহত্তম অংশই ধনীদের কবলে। লচেনস (Lutyens) দিল্লি বলে যে অভিজাত ভাগটি আছে, তাতে বড় বড় লনে ঘেরা সরকারি বাংলো, বেসরকারি প্রাসাদোপম বাড়ি, গোলাপ বাগান, ঘাসের লন, দূতাবাস, অন্য সরকারি ভবন–– সবকিছু সাজানো। শহরের উপান্তে ফার্ম হাউস বা বাগানবাড়ির সংখ্যাও বড় কম নয়। এছাড়াও অসংখ্য বহুতল দেখা যাবে যমুনা পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত পর্যন্ত গেলে। নিম্ন মধ্যবিত্তদের গা ঘেঁষাঘেঁষি কলোনি অগোছালো ভাবে গড়ে উঠেছে শহরের মধ্যে লুকিয়ে বসে থাকা নানা গ্রামের জমিতে। এদের বলে ‘লাল ডোরা’ এরিয়া। এখানে জমির মালিকানা সরকারি নথিতে নেই, হস্তান্তরও বেআইনি। তবে এগুলিও মোটামুটি পাকা ও মাথার উপর ছাদ বিশিষ্ট বাড়ি। অন্যদিকে দিল্লির ৮০০–র বেশি বস্তিতে থাকেন কয়েক লক্ষ ‘নাগরিক’ দরিদ্র মানুষ। অথচ শহরের ১ শতাংশেরও কম জায়গা এঁদের জন্য বরাদ্দ। মনে রাখতে হবে, এ কেবল বসবাসের জন্য জায়গাটুকুই। বস্তিতে যারা বেড়ে ওঠে সেই ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য খেলার মাঠ, পার্ক, জিম–– কিছুই রাখেনি শহর। সমস্ত ‘স্পেস’ই এখন পণ্য, সর্বত্র গেট, ‘প্রবেশ নিষেধ’ বিজ্ঞপ্তি। শৌচাগারে যেতে গেলেও নগদ পয়সা লাগে।

বসবাসের জায়গাটুকুই বা কেমন? দশ বাই দশ ঘরে প্রায়শই দুটি পরিবার থাকে, বয়স্ক দম্পতিদের সঙ্গে কিশোর ছেলেমেয়েরা। বয়ঃসন্ধির দিনগুলিতে তারা দেখে উন্মুক্ত সঙ্গম, মদ্যপান করে বউ পেটানো। কিশোরীদের নিজেদের অস্তিত্বই এমন পরিবেশে অরক্ষিত । প্রলম্বিত যৌন অত্যাচারের ঘটনা ও নিপীড়িত শিশু কিশোর কিশোরীদের মুখ অন্ধকারে বুদ্বুদের মতন ভেসে ওঠে, সংবাদপত্রে ছাপা হয়, তারপর মিলিয়ে যায়। সম্পন্ন নাগরিকদের অধিকাংশেরই একের বেশি ফ্ল্যাট বা বাড়ি আছে শহরে। যেগুলি অনেকসময়েই তালাবন্ধই পড়ে থাকে। কিন্তু সেগুলি দরিদ্রের নাগালের মধ্যে আনার কোনও সম্ভাবনা নেই।

‘জাতীয় আবাসন নীতি’র প্রণয়ন একটি নিয়ামক ঘটনা। কয়েক বছরের ব্যবধানেই তার জন্য বিশেষজ্ঞরা বসেন। গৃহহীন, আশ্রয়হীনদের সংখ্যার হিসেব হয়। জানা যায় ফেলে রাখা খালি ঘরবাড়ির সংখ্যার। সাম্প্রতিক সময়ে, আবাসন নীতির বই থেকে তুলে আনা সংখ্যাতত্ত্ব আবাসন প্রকল্প নির্মাণের তোড়জোড় জায়গা পেয়েছে। গৃহনির্মাণ– নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য বেড়েছে সারা দেশেই। নতুন সরকার এসে গৃহনির্মাণের জন্য সস্তায় ঋণ ও সাবসিডির যে ব্যবস্থা করেছেন, তাতে উপকৃত হয়েছেন ডেভেলপারদের একটা বড় অংশ এবং উপর্যুক্ত দুই শ্রেণী। যা বিশেষ বদলায়নি তা হলো, দরিদ্রের জন্য আবাসন। এখানে মনে রাখতে হবে, দরিদ্র মানুষের কিন্তু সর্বদা ঘরের মালিক হওয়ার ইচ্ছে, সংগতি বা প্রয়োজন কোনওটাই থাকে না। গ্রামগঞ্জ বা দেশের অন্য জায়গা থেকে বড় শহরে যাঁরা আসেন কাজ করতে, তাঁদের দরকার সস্তায় ভাড়া বাড়ি, জল ও সুলভ বিদ্যুৎ। এর পরের পর্যায়ে বড় ডরমিটরিতে তাঁরা থাকতে পারেন, যাঁরা পরিবার সঙ্গে আনেননি। শেষ পর্যায়ে, যখন কাজের শহরে টিঁকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন অল্প সুদের ঋণে ছোটখাটো একটি বাড়ি, অথবা নিজের হাতে তৈরি বাড়ির কিছু সংস্কার।

ভাড়া বাড়ির বাজারটি এখন প্রায় পুরোটাই কালোবাজার। অসংখ্য বস্তি, ঝুপড়ি ও অস্থায়ী বাসস্থানের ভাড়া যাঁরা আদায় করেন, তাঁরা স্থানীয় তোলাবাজ। সে টাকা কোথাও জমা পড়ে না। কলকাতার মতো পুরনো শহর আর ভুবনেশ্বরের মতন নতুন শহরের মধ্যে এ ছবির কোনও পার্থক্য নেই। এ টাকা সরকারের কাছে জমা পড়লে দেশের আয় বাড়ত। আরও ভাড়া বাড়ি তৈরি হত, যা পরিচালনা করতে পারত পুরসভাগুলি।

‘স্মার্ট সিটি’র প্ল্যানিং–এর আইডিয়া দিতে নগর উন্নয়ন বিভাগের করিডর, ভিজিটার’স রুমের সোফাসকল যখন ভরে যাচ্ছে দেশি–বিদেশি ‘কনসালট্যান্ট’ বা পরামর্শদাতাতে, তখন আমাদের মন্ত্রক স্পষ্ট করেই বুঝিয়েছিল, যদি নগরের দরিদ্র জনসংখ্যার জন্য আবাসন, পরিবহণ, জল ও বিদ্যুতের মতো পরিকাঠামোর হিসেব মাথায় রাখা না হয়, তবে ‘স্মার্ট সিটি’র মধ্যে ভারসাম্য রাখা সম্ভব হবে না। ২৪X৭ ওয়াইফাই, ২৪X৭ বিদ্যুৎ– এগুলি কেবল পটিগণিতের সংখ্যায় পর্যবাসিত হবে। ‘স্মার্ট সিটি’র অন্যতম পরিপূরক প্রকল্প ছিল ‘সবার জন্য ঘর’। এই ঘর নির্মাণের লাভ ডেভলপারদের হাতে পুরোপুরি সন্নিবিষ্ট না করে সামান্য ভাড়ায় ঘরের নীতির খসড়া করা হয়েছিল। অনুমোদনের প্রাক্ অন্তিম পর্যায়ে তা বাদ পড়ে যায়।

গত ২/৩ বছর ধরে নির্মাণযজ্ঞ চলেছে ‘স্মার্ট সিটি’ গুলিতে। রীতিমত প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে বহু শহরের মধ্যে বাছা বাছা কিছু শহর ‘স্মার্ট সিটি’র তকমা পেয়েছে। অধিকাংশই তাদের মধ্যে জনবহুল, পুরনো শহর। সেইসব শহরের পথঘাট খুঁড়ে, তুলে, কোথাও সাইকেল ট্র্যাক, কোথাও বাস বে বানিয়ে তাকে ভদ্রসভ্য করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে আর নাগরিকদের প্রাণান্ত হচ্ছে। পরিকাঠামো নির্মাণের চেয়ে নগরে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে তোলার গুরুত্ব বেশি। সে কথা অবশ্য উন্নয়নের অর্থনীতি মানে না। মাঝখান থেকে চোখের আড়ালে চলে গেছেন সেই সব মানুষ, যাঁদের শ্রম ঘাম রক্তে শহরের চাকা চলে।

দু’বছর আগে নাগরিক বর্গের সঙ্গে কোনও পরামর্শ না করেই মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি মন্ত্রক। এখন সংযুক্ত মন্ত্রকটির নাম– আবাসন ও নগর বিষয়ক। দারিদ্র উন্মূলনের ব্যাপারটা কাঁচি দিয়ে নিঃশব্দে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ফলে ‘নাগরিক দারিদ্র্য’র অস্তিত্বও অবলুপ্ত। পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের দিকে ক্রম অগ্রসরমান ভারতবর্ষের বিত্তবান নগরবাসীরা ভগ্নদূতের কণ্ঠে দারিদ্র্যের সমাচার কেন শুনতে চাইবেন?

অলঙ্করণ – সৌজন্য চক্রবর্তী

(ক্রমশ)

অনিতা অগ্নিহোত্রীর জন্ম কলকাতায়। প্রেসিডেন্সী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পডেছেন। সাহিত্যের সব ধারাতেই আনা গোনা। অতল স্পর্শ, মহুলডিহার দিন, আয়নায় মানুষ নাই, কবিতা সমগ্র, মহানদী ইত্যাদি চল্লিশটিরও বেশি বইয়ের লেখক। কর্মসূত্রে ছিলেন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা বা ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে। কাজে ও না কাজে ঘুরেছেন পূর্ব ও মধ্য ভারত।  

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প  

মায়ের সঙ্গে কথাবার্তা

 

Comments are closed.