শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

”তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে”

অনিতা অগ্নিহোত্রী

প্রশাসনের অন্তরমহলের ভাষ্য নয়, মানুষের আঙিনায় বসে দেখা রাষ্ট্রের রূপ। প্রান্তিক জীবনের নিত্যকার লড়াই, জীবনে লিপ্ত হয়ে থাকার আখ্যান। ১৯৯৬-২০১৬ এই দু’দশক ব্যাপী সততসঞ্চরমান, সৃজনশীল শিল্পীর লেখা— চলন বিল। 

পূর্বপ্রকাশিত পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

চলনবিল

দিল্লি থেকে রাঁচি। রাঁচি থেকে সড়কপথে দুমকা। সড়কের যা অবস্থা। তাতে নরকের পথে যাত্রাও এর চেয়ে কুসুমাস্তীর্ণ মনে হলো। শুনলাম, ভিআইপি–রা যতদূর সম্ভব হেলিকপটর যোগেই যাতায়াত করেন, চাঁদের পিঠের মতো খানাখন্দ এড়াতে। সেইজন্য রাস্তার মেরামতিও সম্ভবত কাগজে কলমে বহাল থাকে। আমার সঙ্গে একজন প্রাক্তন বিচারপতি, একজন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার, আমিই একমাত্র পদাসীন। কাজেই ঘণ্টা দশেকের যাত্রা। ঝাঁকুনি খেতে খেতে এবং প্রতিটি সীমাতে এসকর্ট পুলিশ টিমের বদলের মোকাবিলা করতে করতে কীভাবে দুমকা পোঁছলাম, সেটাই একটা আলাদা কাহিনীর বিষয়বস্তু হতে পারে।

আমরা জাতীয় মহিলা কমিশনের টিম, চলেছি সিসটার মেরি জোসেফ–এর হত্যার তদন্তে। দলের সদস্যরা কমিশনের চেয়ার পার্সেনের মনোনীত। বিচারপতি মানুষটি প্রাজ্ঞ এবং শান্ত। কিন্তু পুলিশ অফিসারটি নির্বোধ ও যে ক্ষমতা তাঁর নেই, সেই মদে মত্ত। মাঝেমাঝেই তাঁর প্রবহমান বাক্যপ্রবাহে আপত্তির আঘাত করতে হচ্ছিল। সিসটার জোসেফের হত্যা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। দুমকার সদর ছাড়িয়ে আরও ত্রিশ কিলোমিটার দূরে একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ঘটা সত্ত্বেও রাজধানীতে তার ঢেউ এসে পড়েছিল। ঘটনাটির জটিলতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা দুই কারণেই এর উল্লেখ দরকার।

ছোট্ট একটি শান্ত গ্রামে দক্ষিণ ভারত থেকে এসে পৌঁছন সিস্টার। তাঁর ধর্মীয় ও সেবামূলক কাজ নিয়েই সময় কাটাচ্ছিলেন। একসময় স্থানীয় কয়লাখনির জমি অধিগ্রহণের পর যখন আদিবাসীদের মধ্যে খনিতে কয়লা চালানোর ব্যবসায় ভাগিদারির জন্য আন্দোলন আরম্ভ হলো, সিস্টার তাতে জড়িয়ে পড়লেন। তিনি নিজে কোনও ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশী ছিলেন না, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে স্থানীয় ছেলেদের ব্যবসাপত্র বাড়ল। কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট সিস্টারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন, তার ফলে তাঁর প্রভাব বাড়ছিল।

এর মধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে লাভের ভাগ নিয়ে দুটি দল হয়ে যায়। একটি দল মনে করে সিস্টারের প্রতিপত্তির জন্যই তারা বিশেষ সুবিধে করতে পারছে না। এলাকায় আরম্ভ হয়ে যায় সিস্টারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার। এই পর্বে একদিন সিস্টারের কাছে সহায়িকা হিসেবে কাজ করতে থাকা এক স্থানীয় আদিবাসী তরুণী ধর্ষিতা হয় একদল যুবকের হাতে। সে যাচ্ছিল হাটে। যুবকদের এক–দুজন তাকে চিনত। ঘটনার পর উদ্বিগ্ন সিস্টার মেয়েটি ও তার পরিবারের লোকেদের নিয়ে স্থানীয় থানায় যান এফআইআর দর্জ করাতে। থানা এফআইআর নিলই না, মেডিক্যাল পরীক্ষা তো দূরের কথা। সিস্টার গেলেন ডিএসপি’র কাছে। সঙ্গে মেয়েটি। ডিএসপি–ও এফআইআর নিলেন না বরং দুই দিকের পরিবারবর্গকে ডেকে বললেন থানায় টাকা দিয়ে ব্যাপারটা মিটমাট করে নিতে। এক সপ্তাহ কেটে গেছে। তিনি ফোন করলেন এসপি কে। এসপি, ডিএম দুজনেই সিস্টারকে তাঁর কাজের জন্য চিনতেন। এসপি কিছুটা নিরুত্তাপ দেখে অতঃপর ডিএম কে। ডিএম দু–তিনদিন পরে একটি তারিখ দিয়ে বললেন, আপনি আমার অফিসে আসুন, আমি ডিএসপি কে ডাকিয়ে নিজের সামনে এফআইআর নেওয়াবো। ইতিমধ্যে কেটে গেছে ঘটনার পর দশদিন। সাক্ষ্যপ্রমাণ সবই অবলুপ্তপ্রায় আক্রান্ত মেয়েটির অস্তিত্ব ছাড়া। ডিএম ডেকেছেন এ খবর ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি। যেদিন জেলা সদরে যাওয়ার ছিল, তার আগের মধ্যরাতের পর তিন–চারশো লোকের এক উন্মত্ত জনতা সড়কি বল্লম টাঙ্গি নিয়ে চড়াও হয় সিস্টারের বাড়িতে। ঘেরাও করে রাখে বাইরে যাবার সমস্ত পথ। বিপন্ন সিস্টার থানায় ফোন করেন বার বার। পুলিশ ফোন প্রথমে ধরেনি, পরে জানায় অনেক রাত, নকশাল উপদ্রুত এলাকা, থানায় ফোর্স কম, তাই তারা ঝুঁকি নিতে পারছে না। তখন উন্মত্ত দুস্কৃতীরা সশস্ত্র ঢুকে পড়েছে বাড়ির ভিতরে। সিস্টার ফোন করেছিলেন, একেবারেই চরম সঙ্কটের মধ্যে, কয়লাখনির এক বাঙালি অফিসারকে, বরাকরে। এঁর নাম্বার সিস্টারের কাছে ছিল। ভদ্রলোক স্থানীয় কোলিয়ারি অফিসে বারবার ফোন করায় কিছু সিকিউরিটি কর্মী যখন এসে পৌঁছয়, সিস্টার ততক্ষণে নিহত, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।

ঘটনার খবর পরের দিন মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে পৌঁছলে তাঁর কাছ থেকে নির্দেশ আসে হত্যা ও পূর্ববর্তী ধর্ষণের ঘটনা, দুটিরই অভিযোগ নিতে। অপরাধীরা গ্রেফতারও হয়। অর্থাৎ একটি ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগের পনের দিন এবং আর একটি গুরুতর অপরাধ, হত্যার পর দর্জ হলো এফআইআর।

ঘটনার তদন্ত চলাকালীন বিচারপতি মশাই বলেছিলেন, কোর্টরুমের ভিতরে থাকি, দেশের কোণায় গ্রামেগঞ্জে কী ঘটছে, এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না। রেঞ্জের ডিআইজি সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন কমিশনের সামনে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আক্রান্ত মেয়েটির অভিযোগের এফআইআর করা হয়নি কেন? ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় লোকটি বলেছিল, এফআইআর তো সাহাব দেশ মে কহি নহি লিয়া যাতা– হমনে ভি নহি লিয়া। আরও বলেছিল, আসলে কী জানেন, এই আদিবাসী মেয়েগুলির ‘মর‍্যাল’ ভারী লুজ, এরা ছেলেদের সঙ্গে ভাবসাব করে, তারপর বনিবনা না হলে ধর্ষণের অভিযোগ আনে!

আমি ও বিচারপতি ক্রুদ্ধ এবং হতভম্ব এই ভেবে যে এ কথা কেউ নিশ্চিন্তে বসে উর্দি পরে কমিশনের সামনে বলতে পারে! এই ঘটনাটির উল্লেখ বিস্তৃত ভাবে করলাম ভারতীয় সংবিধান, পেনাল কোড– এসবের নিশ্চিত কাঠামো সত্ত্বেও দরিদ্র ও ক্ষমতাহীনের জন্য ন্যায়বিচার কত দূরে। কী অসম্ভব দুস্তর পথ পেরিয়েও, এমনকী জীবন দিয়েও তার কাছে পৌঁছনো যায় না।

ফেরার পথে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যখন আবার প্রাক্তন পুলিশ অফিসারটির পরাক্রম শুনছিলাম, কোনও আদিবাসী অঞ্চলে এবং তাও আবার পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসনকালে, জনতার ঘেরাও থেকে বাঁচতে তিনি নিপুণ লক্ষ্যে গুলি চালিয়েছিলেন যে মায়ের বুক ফুঁড়ে গুলি তার পেছনে লুকনো সন্তানেরও শরীর ফুঁড়ে চলে যায়। এবার লোকটিকে তিরস্কার ও ধমক দিয়ে চুপ করানো ছাড়া উপায় ছিল না। ক্ষমতার অপব্যবহার, তথাকথিত ‘আত্মরক্ষার্থে’ এবং ‘জনস্বার্থে’ গুলি চালানো দেখে দেখে আমরা এত অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে নিজেদের কাজে এবং কথায়ও তার রক্তের ছিটে লেগে থাকে।

দিল্লি ফিরে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট কমিশনে দাখিল করেছিলাম। জাতীয় সংবাদপত্রে সেটির অনুমোদনগুলি বেরিয়েছিল মনে পড়ে। উক্ত ডিআইজি’র ব্যক্তিগত মূল্যায়নে কমিশনের ভর্ৎসনা এবং পরবর্তী প্রমোশন থেকে তাকে বঞ্চিত করার অনুমোদন দিয়েছিল কমিশন। এই বিষয়টির তদারকির দায়িত্ব যাঁর উপরে ছিল সেই সৎ ও দক্ষ ইনস্পেকটর জেনারেল কিছুদিন পরেই ‘রুটিন’ পদ্ধতিতে বদলি হয়ে যান। আক্রান্ত মেয়েটি বিচার পেয়েছিল কিনা, তা জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ যে উন্নততর তা ভাবার কোনও কারণ নেই। এই দশকের গোড়ায় তিন–চার বছর কোনও ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে আক্রান্ত নারীর দিকে আঙুল তোলাই রাজনীতিকদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সম্ভবত নিজেদের ভুল বুঝে এইসব দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য থেকে অনেকে বিরত হয়েছেন। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে গিয়ে দেখলাম, আক্রান্ত মহিলার মেডিক্যাল পরীক্ষা ঘটনার চতুর্থদিন পর্যন্ত হয়নি, কারণ মধ্যে কোনও ছুটিছাটা ছিল এবং পুলিশ কোর্টের নির্দেশ পাচ্ছিল না। কলকাতা কমিশনারেটে ওই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও ডিজি পুলিশের তত্ত্বাবধানে যে সব থানা, সেখানে এই পদ্ধতি মানা হয় না। ডিজি নিজেই জানিয়েছিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের তদন্তকারী দলকে। বস্তুত এই পদ্ধতির কোনও আইনি সমর্থন নেই এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিলুপ্ত করে দেওয়ার পথে এটি একটি অতি সুন্দর পুলিশি পদক্ষেপ।

মিটিঙে গিয়ে এও জানলাম, ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড অনুযায়ী আক্রান্ত মহিলার যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা তাও পশ্চিমবঙ্গে দেওয়া হচ্ছিল না সেই সময়। কেন জানতে চাওয়ায় উত্তর পাওয়া গেল, যেদিন ভারতের সব রাজ্য ক্ষতিপূরণ দেবে, সেদিন আমরাও দেব। পার্কস্ট্রিট ঘটনার আক্রান্ত মহিলা সুজেট সম্ভবত প্রথম যিনি নিজেই নিজের নাম প্রকাশ করে গণমাধ্যমে পরিচয় উন্মোচন করেন। কিন্তু তাঁর জীবন, কল্পিত ‘স্বভাব–চরিত্র’র উপর রাজনীতিকদের যে কুৎসিৎ মন্তব্য সেই সময় বর্ষিত হয়েছিল, তা ভাবলে বাঙালি হিসেবে মাথা হেঁট হয়ে যায়। দুটি ছোট মেয়ে ছিল তাঁর, একা মহিলা তাদের আগলে কী ভাবে নিজের ব্যক্তিগত যন্ত্রণার মুখোমুখি হচ্ছিলেন প্রত্যহ, তা ভাবলে আজও বেদনার্ত হই। নিজের তদন্ত রিপোর্টে রাজ্য সরকারের জন্য নানাবিধ করণীয় পদক্ষেপ লিখে গুরুত্বপূর্ণদের বিরাগভাজন হয়েছিলাম সন্দেহ নেই। তবে ‘সত্য’ হওয়া যে ‘প্রিয়’ হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি প্রার্থিত, রবীন্দ্রনাথের এই বচনে আমি চিরকাল বিশ্বাসী।

অন্য এক কারণেও আমার মাথা নীচু হয়েছিল। রাজ্য প্রশাসনের মৌখিক অনুরোধে আমরা অর্থাৎ কমিশনের টিম সুজেট–এর সঙ্গে দেখা করিনি। ব্যাপারটি নিয়ে গণমাধ্যমের উত্তেজনা ছিল এবং সরকারেরও কিছু অস্বস্তি। রাজ্যের শীর্ষব্যক্তি আমাদের কথা দিয়েছিলেন, তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ এবং যথার্থ ভাবে হয়, তার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিলেন। কলকাতা শহর ছাড়ার আগেই যখন তদন্তের তদারকিতে থাকা ডিসিপি–কে বদলি করে দেওয়া হলো, আমরা বুঝলাম, রাজনীতির কৌশলে ভুলে নিজেদের কর্তব্য করতে ব্যর্থ হয়েছি। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় কমিশনের দুই মহিলা সদস্য; একজন মহারাষ্ট্রের, অন্যজন উত্তর–পূর্ব ভারতের। তাঁদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না।

সেই সময় আর একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা কলকাতার সংবাদপত্রে অতটা দৃষ্টিগোচর হয়নি। এক জেলা হাসপাতালের মূক বধির একটি কিশোরীর শ্লীলতাহানি করেছিল একজন অচিকিৎসক কর্মী। অথচ হাসপাতালের সুপার কোনও অনুবাদকের সহায়তা না নিয়ে মেয়েটির সাক্ষ্য নেন, ফলে অভিযুক্ত নির্দোষ সাব্যস্ত হয়। এক তরুণ ডাক্তার উপযুক্ত সাহায্যকারী দিয়ে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেন। অভিযুক্ত চিহ্নিত হয়, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। কিন্তু কয়েকদিন পরেই বদলি করে দেওয়া হয় তরুণ ডাক্তারকে।

দুমকার মেয়েটির মতো মূক বধির কিশোরী ন্যায় বিচার পেয়েছিল কিনা জানা নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে বিচারের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য সাহস বা সমর্থন তাকে কে জুগিয়ে ছিল? সুজেট পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার আগেই।

বাঙালির সংস্কৃতি মনষ্কতা আর নিহিত স্বার্থরক্ষায় তার মেরুদণ্ডহীনতার মধ্যে কোনও স্ববিরোধ নেই। একই মুদ্রার দুই পিঠের মতনই এই দুই প্রবণতার সহাবস্থান।

অলঙ্করণ – সৌজন্য চক্রবর্তী

(ক্রমশ)

অনিতা অগ্নিহোত্রীর জন্ম কলকাতায়। প্রেসিডেন্সী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পডেছেন। সাহিত্যের সব ধারাতেই আনা গোনা। অতল স্পর্শ, মহুলডিহার দিন, আয়নায় মানুষ নাই, কবিতা সমগ্র, মহানদী ইত্যাদি চল্লিশটিরও বেশি বইয়ের লেখক। কর্মসূত্রে ছিলেন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা বা ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে। কাজে ও না কাজে ঘুরেছেন পূর্ব ও মধ্য ভারত।  

Comments are closed.