সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

মেয়েদের পাশে

অনিতা অগ্নিহোত্রী

প্রশাসনের অন্তরমহলের ভাষ্য নয়, মানুষের আঙিনায় বসে দেখা রাষ্ট্রের রূপ। প্রান্তিক জীবনের নিত্যকার লড়াই, জীবনে লিপ্ত হয়ে থাকার আখ্যান। ১৯৯৬-২০১৬ এই দু’দশক ব্যাপী সততসঞ্চরমান, সৃজনশীল শিল্পীর লেখা— চলন বিল। 

পূর্বপ্রকাশিত পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

চলনবিল

আবেগের বশে মুম্বাই ছেড়ে দিল্লিতে এসে যে খুব বুদ্ধির কাজ করিনি তা অচিরেই বুঝলাম। নতুন নতুন জায়গায় বসত করেই জীবন কেটেছে, কিন্তু অচেনা শহরের সঙ্গে ভাব জমানোর ব্যাপারটা বয়স যত বাড়ে, ততই যেন কঠিন হয়ে ওঠে। কাজে যোগ দিয়েই বাড়ির জন্য দরখাস্ত করে দিয়েছি। কিন্তু সফটওয়ারের কোনও এক গোলযোগে তা বাতিল হয়ে গেল। ফলে আরও এক মাস অপেক্ষা। চাণক্যপুরী–তে রাজ্যের সদনে রাস্তা ঘেঁষা বড় একটি ডবল কামরায় বাসা পাতলাম দু’মাসের জন্য। প্রাণ অস্থির হয়ে ওঠে, মুম্বাইয়ের সমুদ্র উপকূল ঘেঁষা আমার ফেলে আসা সংসারের জন্য। সেখানে থাকেন আমার বৃদ্ধা শাশুড়ি, জীবনসঙ্গী মশাই। মেয়ে মাসে মাসেই পুণে থেকে বাসে চেপে এসে হাজির হয়। মা–ও কিছুদিন কাটিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তখন মায়ের শরীর গুরুতর অসুস্থ। কলকাতায় পৌঁছে দিয়ে আসাই শ্রেয় মনে হয়েছিল।

অফিসে সারাদিন কাজ করে সন্ধেবেলা অতিথিশালার বিজন ঘরে ফিরে এসে ভালো লাগত না। তবে একাকীত্বের সকাল ও সন্ধেগুলিতেই বুঝতে পারলাম, দিল্লির এক নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। এটা সত্যি যে দিল্লির জাঁকজমক, ঠাটবাট বজায় রাখার জন্য অজস্র পয়সা খরচ হয়। দিল্লি সরকার, কেন্দ্র সরকার দুই তরফ থেকেই –– যা আমাদের কলকাতার অদৃষ্টে কখনও জোটেনি। তবু দিল্লি অনেক শহরের তুলনায় বেশি সবুজ এবং নানা পুরনো গাছের সংসর্গে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

দিল্লিই সম্ভবত একমাত্র শহর যেখানে প্রতিটি ঋতুর আসা ও যাওয়া আলাদা করে চোখ ভরে দেখা যায়। শীতের গোড়ায় পিঙ্গল হলুদ পাতাদের শান বাঁধানো ফুটপাথে খস্ খস্ হেঁটে বেড়ানো, আবার বসন্তের আগমনে নতুন পাতার জমকালো সবুজ।  নানা মরশুমি ফুলে ভরা পথের দু’পাশের বাগানগুলির রং বদলায়, পথের পাশের গাছেও ঋতুর রং বদল দেখা যায়। ‘শান্তিপথ’–– দীর্ঘ যে রাজপথের দু’ধারে দূতাবাসগুলি, তার দৈর্ঘ্য বরাবর আছে অজস্র গুলমোহর ও কৃষ্ণচূড়া। গ্রীষ্মের দীপ্র দুপুরে ওই পথ ধরে যেতে যেতে সবুজ হলুদ ও কমলা রঙের ফুটন্ত বৈভবে চোখে নেশা ধরে যায়। এছাড়া গ্রীষ্মে চতুর্দিক আলো করে ফোটে বিচিত্র রঙের বোগেনভিলিয়া। বসন্তের শেষে আম্রমুকুল আসে প্রাচীন আমগাছগুলিতে। সুনহরি বাগ রোডের এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো জামের গাছে ফলে উৎকৃষ্ট রসালো জাম। না, শরতের কাশফুল এখানে দেখিনি বটে, তবে শীতের আরম্ভে দেখেছি গোলাপের বর্ণসম্ভার। শুনেছি রাষ্ট্রপতি ভবনেও আছে অতি দুষ্প্রাপ্য গোলাপের বাগিচা, পথের পাশে বাগানে যা দেখেছি তাতেই মন ভরে গেছে।

ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার, লোদী গার্ডেন, হুমায়ুনের সমাধি এমন সব গন্তব্যের স্থাপত্যের সঙ্গে জুড়ে থাকে নয়ন মনোহর ঘাসের গালিচা, তার সীমান্ত ঘিরে নানা মরশুমি ফুলের মেলা। দিল্লির ভিতরেই ছড়িয়ে আছে নানা পুরাতাত্ত্বিক স্থাপত্য–– পুরানা কেল্লা, লোদীর সমাধি, খুনি দরওয়াজা, হুমায়ুনের সমাধিসৌধ। এছাড়া আরও নানা ছোট বড় প্রাচীন গম্বুজ, মিনার–– গাছপালা ও ফুলের বর্ণময় ঘেরাটোপের মাঝে মাঝে তাদের উপস্থিতি মনকে নিয়ে যায় অতীতের রহস্যময়, হতমান, বিলুপ্ত সাম্রাজ্যগুলির স্মৃতির কাছাকাছি। এখানে এসে আমার মনে পড়ে গেল, তেরো বছর বয়সে দিল্লি এসে মুগ্ধ হয়ে আমি একটা ছোট গদ্য লিখেছিলাম, যা ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় তৎক্ষণাৎ ছেপে রায় মশাই এক কিশোরীর কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছিলেন। ‘রাজধানীতে আমার শেষ রাত্রি’ শীর্ষক লেখাটি, হায়, বিলুপ্ত সাম্রাজ্যসকলের মতো কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্রমে ক্রমে দিল্লির মানুষজনকেও ভালো লাগতে আরম্ভ করল। দেখলাম, এদের বলার ভঙ্গিটা যতটা বাজখাঁই আর কর্কশ, মনের ভিতরটা ততটাই খোলামেলা। ঘোরপ্যাঁচ বেশি বোঝে না। আমি অবশ্য ‘আম আদমি’দের কথাই বলছি, রাজনীতিক বর্ণের কথা নয়। যথেষ্ট পরিশ্রমী–– জীবিকা উপার্জনের জন্য শারীরিক পরিশ্রমে পিছু হটে না। ধীরে ধীরে ‘ম্যাডামজি’ ডাকটাও কালে অভ্যাস হয়ে গেল।

দিল্লির স্টাইল হলো, কারও পরোয়া না করে আপন মনে সামনের দিকে তাকিয়ে নিজের কাজটি করে যাও। এদের ড্রাইভিং–এর ভঙ্গিও অনেকটা সেইরকমই –– নিজে আর স্টিয়ারিং –– পিছনে, চারপাশে কে আছে তা ম্যাটারই করে না। গত কুড়ি–পঁচিশ বছরে অবশ্য নতুন এক শ্রেণীর আগ্রাসী মানুষের উদ্ভব হয়েছে, তারা প্রতিবেশী রাজ্যের এবং দিল্লির নিজেরও ‘নব্যধনী’। এদের সঙ্গে থাকে বিদেশি গাড়ি, তাতে বিদেশি মদ, পকেটে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, এবং তুচ্ছ কারণে প্রাণ নিতে অথবা ফুটপাথে ‘অবৈধ’ ভাবে শয়ান জনতার উপর গাড়ি চালিয়ে দিতে পিছপা হয় না।

তেরো বছর বয়সে যখন প্রথম দিল্লি আসি, কিছু কিছু ব্যাপার আমার ঘোর অপছন্দ হয়েছিল। মেয়েদের প্রতি অশালীন আচরণের উন্মুক্ত প্রবণতা, নিষ্ঠুর নিস্পৃহ অকারণে। পথে দুর্ঘটনায় আহতকে দেখলে মুখ ফিরিয়ে নিজের কাজে চলে যাওয়া, এবং অবশ্যই খর রোদ প্রখর শীতের তীব্র আতিশয্য। এর মধ্যে একমাত্র আবহাওয়া বাদ দিলে আজকের কলকাতা সর্বগুণে দিল্লির সমান হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে ‘নব্যধনী’দের ‘রোড রেজ’ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কলকাতাকে নিয়ে গর্ব করার মতন বিষয় ক্রমশই উবে যাচ্ছে। আরও পরে, ভারতীয় প্রশাসনিক সেবার ইন্টারভিউ দিতে এসে মেহনতী মানুষদের দেখেছিলাম–– ধূ ধূ রৌদ্রে, বিজন রাজপথে, মাথায় একখানি টাইপরাইটার চাপিয়ে কোন রাজকার্যের খোঁজে চলেছে কে জানে! এক নয়, অনেক মানুষ। তখনও দিল্লির জনপরিবহণ ব্যবস্থা বেশ খারাপ। অনেক পরে, এশিয়ান গেমস্–এর প্রাচুর্যে দিল্লির পরিবহণ ও অন্য পরিকাঠামোর যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

জাতীয় মহিলা কমিশনে আমি ছিলাম গুনে গুনে ছ’টি মাস। কিন্তু ওই অল্প সময়ের মধ্যে যে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছিলাম, তা নারী অধিকার বিষয়ে হাজারখানা প্রবন্ধ পড়লেও হয় না। সংবিধানের ধারাগুলির মধ্যে জাতীয় মহিলা কমিশন প্রোথিত নয়, এর ক্ষমতা কেবলই পরামর্শ দানে, তবু প্রতিদিন সারা দেশে শত শত মহিলা রাজ্য ও কেন্দ্রের মহিলা কমিশনের কাছে অভিযোগ, সমস্যা নিয়ে আসছেন কেবল এই আশায়, যে, তাঁরা সুবিচার পাবেন। এই সব অভিযোগের মধ্যে যেমন নতুন সমস্যা আছে, তেমনই আছে পুলিশের কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অজস্র ঘটনা, কোর্টের বিচারাধীন ব্যাপার এবং আরও বহু জটিল কেস যা মিটে গেছে বলে ধরে নিয়েছে পুলিশ বা প্রশাসন কিন্তু অভিযোগকারিণী সন্তুষ্ট নন। অথচ কংগ্রেস পরিচালিত ইউপিএ ও পরে বিজেপি’র এনডিএ দুই সরকারেই দেখেছি, জাতীয় মহিলা কমিশন শক্তিশালী হোক কেউ চান না। যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অধীনে কমিশনের একটা স্বাধীন অস্তিত্ব আছে, সেই মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকেরও মন্ত্রী, সচিব সকলেই চান জাতীয় কমিশনকে দুর্বল ও পরাধীন করে রাখতে।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলি প্রায় সকলেই ব্যতিক্রমবহির্ভুত ভাবে পুরুষতান্ত্রিক। কিন্তু তাদের দু–একজন নেত্রী যদি কোনও ভাবে ক্ষমতা অধিকারের যথেষ্ট কাছাকাছি এসে ‘মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক’–এর মতন বৃহৎ বাজেট বিশিষ্ট, নরম অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব পান, তাঁর প্রথম আবদার হবে, পার্টি যেন মহিলা কমিশনের মাথায় কোনও প্রকৃত বুদ্ধিমতী বিচক্ষণ রাজনৈতিক বোধসম্পন্ন নেত্রীকে না বসায়–– এমন যোগ্যতা সম্পন্ন মহিলার সংখ্যা আমাদের দেশে কম নয়–– কিন্তু জাতীয় কমিশনের চূড়ায় তাঁদেরই বসানো হবে, যাঁরা কোনও ভাবেই দলের অন্য কোনও মহিলা মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেষ্টা করবেন না। কমিশনের সদস্য নির্বাচনও ওই একই ভাবে সরকারি দাক্ষিণ্য বন্টনের নীতিতে নির্ধারিত হয়। যাঁরা আসেন, তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে যথেষ্ট পারদর্শী হলেও এই ছোট খাপটির মাপে অভ্যস্ত হয়ে যান এবং তাঁদের মনোযোগ গিয়ে পড়ে নানাবিধ সরকারি ‘পাওনা’র প্রতি– যথা ভালো গাড়ি, নতুন সোফা সেট, ঘরের পর্দা বদল ইত্যাদি।

কমিশনের নিজস্ব অফিস নেই। দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের একটি ভাড়া বাড়িতে খুব ঠেসাঠেসি করে অফিস চালানো। তারই মধ্যে মহিলারা আসেন তাঁদের পরিবারবর্গ, ছোট শিশুদের নিয়ে। করিডরে মাঝে মাঝে চলাই দায় হয়ে পড়ে। এক একজন সদস্যের হিয়ারিং–এর দিনে কয়েকটি করে কেস পড়ে। পুলিশ অফিসারদের ডাকলে তাঁরাও এসে হাজিরা দেন। এই সব অবশ্য কাজের ক্ষেত্রে কোনও অন্তরায় নয়।

কমিশনের নিজস্ব কর্মী বলতে খুব অল্প জনই। উচ্চপদস্থ অফিসাররা প্রায় সকলেই আসেন ডেপুটেশনে এবং তাঁদের স্থায়ী মনোযোগ কমিশনের সমস্যাগুলির প্রতি থাকে না তবু অল্পসময়ে বেশ কিছু জটিল সমস্যার সমাধান করতে পেরেছিলাম। অফিসের ভিতরে ‘ডেটা ম্যানেজমেন্ট’ এবং পরিকাঠামোর উন্নতিও। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বহু চেষ্টা করে আংশিক সাফল্য লাভ, মন্ত্রকের বরিষ্ঠ অফিসারদের অসহযোগ সত্ত্বেও। এবং কমিশনের নিজের বাড়ি বানানোর জন্য যে জমিটি পূর্ব দিল্লির এক অঞ্চলে দেওয়া হয়েছিল, সেটি খুঁজে বার করা। জাতীয় কমিশন এখন ওই নতুন বাড়িটিতেই কাজ করে।

প্রকৃত সমস্যা ছিল রাজনৈতিক কারণে নিযুক্ত অন্য সদস্যদের মনোভাব নিয়ে। এঁদের বুদ্ধি ও চিন্তার সংকীর্ণতা, যুক্তিহীন ক্ষমতার আস্ফালন মনকে বিরূপ করে তুলত। সদস্য সচিব বলে প্রশাসনিক ছাড়া অন্য কোনও কাজে আমি যেন মাথা না গলাই, তা নিয়ে এঁদের প্রখর দৃষ্টি সর্বদা সজাগ থাকত। তা সত্ত্বেও তিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ তদন্তে আমি গিয়েছিলাম বিহারের দুমকা, ওড়িশার উপকূল অঞ্চলে পুরী জেলার এক গ্রামে এবং কলকাতায় পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে। বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন এখানে নেই কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায়, নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য পুলিশের উচ্চ মধ্য ও তৃণমূলস্তরে না আছে কোনও বিশেষ উত্তরদায়িত্ব, না এই সব কেস সমীক্ষা করার মতো সময়।

ভিআইপি দায়িত্ব এবং ক্রাউড ম্যানেজমেন্টে ব্যস্ত পুলিশের সময় ও মনোযোগের অভাবে নারীর বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনাগুলিতে অভিযোগ প্রমাণের হার অতি নগন্য এবং কেসের ফয়সালার হার অতি ধীর। একমাত্র পুণে ডিভিশনের মহিলা কমিশনার মীরা বোরবনকর ছাড়া এ বিষয়ে উত্তরদায়িত্ব নির্দিষ্ট করা দরকার কারও মুখে শুনিনি। মারাঠওয়াড়ার বীড় জেলার কন্যাভ্রূণ হত্যার দুষ্টচক্রের সঙ্গেও আমার পরিচয় এই পর্বে।

মাত্র ছ মাসের মধ্যে জাতীয় কমিশনের সদস্য জীবন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে ছিল, নারী’র বিরুদ্ধে হিংসার বিষয়ে সংবেদনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছিল অনেক গুণ।

অলঙ্করণ – সৌজন্য চক্রবর্তী

(ক্রমশ)

অনিতা অগ্নিহোত্রীর জন্ম কলকাতায়। প্রেসিডেন্সী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পডেছেন। সাহিত্যের সব ধারাতেই আনা গোনা। অতল স্পর্শ, মহুলডিহার দিন, আয়নায় মানুষ নাই, কবিতা সমগ্র, মহানদী ইত্যাদি চল্লিশটিরও বেশি বইয়ের লেখক। কর্মসূত্রে ছিলেন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা বা ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে। কাজে ও না কাজে ঘুরেছেন পূর্ব ও মধ্য ভারত।  

Comments are closed.