মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

চলো দিল্লি

অনিতা অগ্নিহোত্রী

প্রশাসনের অন্তরমহলের ভাষ্য নয়, মানুষের আঙিনায় বসে দেখা রাষ্ট্রের রূপ। প্রান্তিক জীবনের নিত্যকার লড়াই, জীবনে লিপ্ত হয়ে থাকার আখ্যান। ১৯৯৬-২০১৬ এই দু’দশক ব্যাপী সততসঞ্চরমান, সৃজনশীল শিল্পীর লেখা— চলন বিল। 

পূর্বপ্রকাশিত পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

চলনবিল

শহর হিসেব, বসবাসের যোগ্য শহর হিসেবে, দিল্লি আমাকে কোনওদিন টানেনি। কিন্তু সর্বভারতীয় সার্ভিসের সদস্যদের জন্য দিল্লি এক অনিবার্য গন্তব্য। বিশেষ করে আইএএস অফিসারদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সারা ভারতের জন্য নীতির প্রণয়ন এবং তাকে কার্যকরী করার কাজে প্রয়োগ না করা গেলে, প্রাদেশিক সিভিল সার্ভিস এবং ভারতীয় প্রশাসনিক সেবার বিশেষ চরিত্রগত তফাৎ থাকে না। এটা হলো বহুজনমান্য মত। এর ব্যতিক্রমও আছে। পশ্চিমবঙ্গের ও মহারাষ্ট্রের অধিকাংশ অফিসার দিল্লি যেতে পছন্দ করতেন না। এই অপছন্দের ব্যাপারটা গত কয়েক বছরে বেশ গাঢ় হয়ে উঠেছে, তার কারণ আলাদা। তবে একবিংশ শতকের গোড়ার দিকেও আমার জন্মের প্রদেশ ও বিবাহসূত্র অন্বিত আর এক প্রদেশের সহকর্মী বন্ধুরা মনে করতেন– দূর! দিল্লি গিয়ে কি হবে? এখানে তো দিব্যি আছি। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহর নানা খাদ্যবস্তুর সম্ভারে সর্বদা প্রসন্ন, তার ওপর সংগীত নাটক চিত্রকলা সাহিত্য রুচিশীলদের জন্য এর চেয়ে ভালো শহর ভারতে কোথাও নেই।

বামফ্রন্টের তিন দশকেরও বেশি সময়কাল পশ্চিমবঙ্গের অফিসারদের পক্ষে সুবর্ণ সময় ছিল। কাজের চাপ তেমন নয়। কলকাতায় কাজ করার সময় কানাঘুষোয় শুনতাম, তরুণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শীতের দুপুরে ক্রিকেট খেলছেন সহকর্মীদের সঙ্গে। এমন সম্ভাবনা বহু প্রদেশেই বিরল। বাম–মন্ত্রীরা অফিসারদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন (এখনকার শাসকদলের মতে, অকারণ সমীহ করতেন)। নাম ধরে ‘তুমি’ বলে ডাকা, অথবা জনসভায় হাতে মাইক ধরিয়ে দিয়ে বিভাগীয় সাফল্যের বিবরণ দিতে বলার চল ছিল না। কাজকর্মের প্রয়োগ এবং পরীক্ষানিরীক্ষার ভালো সুযোগ ছিল একাধিক দফতরে। পঞ্চায়েত বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এদের অগ্রগণ্য ছিল। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিক এবং প্রশাসকদের অধিকাংশই দিল্লির মন্ত্রী ও সহকর্মীদের আচরণে বিরক্ত বোধ করতেন। একে তো মুম্বাই বিশালাকায় একটি শহর, তার মহানগরপালিকা এত বড় যে, বরাদ্দের আকারে যে কোনও ছোট রাজ্যকেও ছাড়িয়ে যায়। খুব ভিড় ঠাসাঠাসি রাস্তাঘাট ও বিপুল ট্র্যাফিক জ্যাম সত্ত্বেও মুম্বাইয়ের মধ্যে একটা দিলদরিয়া ব্যাপার আছে। সাধারণ ভাবে, অফিসাররা কে কোন প্রদেশ থেকে এসেছে, তা নিয়ে মুম্বাইয়ের মন্ত্রীকুল মাথা ঘামান না, বরং অনেক সময়ই মারাঠি অফিসারের চেয়ে বহিরাগত আইএসএ অফিসার তাঁদের বেশি পছন্দ। ব্যবসা বাণিজ্য, খেলাধুলোর সুবিধে, ফিল্ম, নাটক সব নিয়ে বোম্বে শহর, যা এখন মুম্বাই, অতি জমজমাট। এবং যিনি এখানে বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন, দিল্লি তাঁর একেবারেই পছন্দ হবে না। এতদসত্ত্বেও প্রশাসনিক জীবনের শেষ কয়েকটা বছর ভারতের রাজধানীতেই কাটাব ঠিক করেছিলাম।

দিল্লি শহর সম্বন্ধে মনের মধ্যে যে বিরূপতা আছে তাকে প্রাণপনে কাটাতে চেষ্টাও করেছিলাম। কাজের জন্য কলকাতা, ভুবনেশ্বর ও মুম্বাই থেকে বহুবার দিল্লি গেছি। প্রতিবারই মনে হয়েছে কখন ফিরব। এ শহরে থাকা যায় না। কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা। বড় বড় মসৃণ রাজপথ, সুন্দর বাগান, অভিজাত বাড়িঘর, কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের নানা ভবন সবই দিল্লিতে। এছাড়া আছে বেশ কয়েকটি জাতীয় সংগ্রহালয়, খেলার স্টেডিয়াম। এশিয়ান গেমস–এর অজস্র অর্থব্যয়ে দিল্লির পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষেরই কাজে লেগেছে। দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। জনসাধারণের জন্য যানবাহনের যথেষ্ট বিস্তার হয়েছে। দিল্লির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেট্রো পরিবহণ তো একটি আরামদায়ক ব্যবস্থা। কলকাতা মেট্রো এর কাছেই লাগে না। এ সমস্ত কিছু সত্ত্বেও, আমার চিরকাল মনে হয়েছে, দিল্লিতে কিছুদিন এসে বেড়িয়ে যাওয়া যায়, থাকা যায় না।

এশহরের নিজের কোনও মানুষ নেই। ইতিহাসের নানা পালাবদলের সাক্ষী এই শহর, এবং উত্তর–পশ্চিমের গিরিপথ দিয়ে অভিযান ও আক্রমণের দ্বারপথ দিল্লির নিজের রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র বদলেছে বহুবার। এখন এ শহরে যাঁরা থাকেন তাঁদের অধিকাংশই রাজস্থান, হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। কেউ কেউ অবশ্য বুক চিতিয়ে বলেন, আমরা হলাম মূল দিল্লির বাসিন্দা। সেটা যে কোন্ সময়ের, স্পষ্ট করে বলেন না। মহম্মদ বিন তুঘলকের সময়ের না বাহাদুর শাহ জাফরের কালের। দিল্লিতে এর ফলে এসে মিশেছে নানা ভাষা ও সংস্কৃতির স্রোত।

পরবর্তীকালে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত হলে কর্মসূত্রে এসেছেন দক্ষিণ ভারতীয়রা, উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসেন। জীবিকার সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের এক বড় জনসমাজ দিল্লিতে চলে এসেছেন।

নানা জনস্রোতের সমাগমের ফলে দিল্লির নিজস্ব সংস্কৃতির স্বরূপ যে কি তা বোঝা সম্ভব নয়। আবার  দিল্লির গড় মানসিকতার মধ্যে সহনশীলতা, ভদ্রতা এবং ধৈর্যের অভাব রয়েছে বলে, নানা সংস্কৃতির একটি সুসমঞ্জস্য নকশাও গড়ে ওঠেনি। দিল্লির আবহাওয়াও তেমন। তা সর্বদাই প্রতিবেশী রাজ্য ও অন্য দেশের মরসুমের উপর নির্ভরশীল। কখনও পঞ্জাবের চাষিরা ধানের আ–কাটা গোড়া পুড়িয়ে দিলে দিল্লিতে ধোঁয়ার কারণে দূষণ হচ্ছে, কখনও রাজস্থান থেকে বালুঝড় এসে দিল্লির বাতাসে চিকচিক করছে ধুলো। মনসুন আসবে সারা ভারতের মাসখানেক পর– জুলাইয়ের শেষে টিপ টিপ বৃষ্টি শুরু হবে দিল্লিতে। পশ্চিম ও পূর্ব ভারতে তখন থই থই বন্যা। মে–জুন মাস তীব্র দাবদাহ, অসহনীয় কষ্ট দিল্লিতে। ডিসেম্বর জানুয়ারিতে ভীষণ শীত এবং বাতাসের গুণমান এত খারাপ যে নিশ্বাস নেওয়া কষ্টকর। তার ওপর লাদাখ, মানালি বা হিমাচলের লাহুল–স্পিতিতে বরফ পড়লে্ দিল্লির তাপমান নেমে যাবে।

এহেন শহরে কর্মজীবনের কয়েকবছর কাটাব, এটা গোড়ার দিকে ভাবতেই পারতাম না। আমাকে সাহস দিয়েছিলেন কল্যাণীদি। কল্যাণী চৌধুরী, তিনি যখন বাংলার পূর্তবিভাগের প্রধান সচিব সেই সময় আমাদের রূপকলা কেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। কল্যাণীদি যেমন স্পষ্টবাক্ ও দক্ষ অফিসার ছিলেন, তেমনই স্নেহশীল ছিলেন অনুজদের প্রতি। তাঁর অফিসে গিয়ে অতি উত্তম কফি কত কাপ যে খেয়েছি তার লেখাজোখা নেই। বলেছিলেন, কফি খেতে খেতেই, ও্ই অভিজ্ঞতাটাও বাকি রেখো না। কথাটা আমার মনে ছিল।

মুম্বাইয়ে দু’বছর শেষের মাথায় পদোন্নতি ও দিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতি–– এমন একটা হিসেব মাথায় ছিল মনের মধ্যে নানারকম দ্বিধা–দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার এই স্তরে উচ্চতর পদে যাওয়ার ব্যাপারটা আর স্বয়ংক্রিয় থাকে না। কমিটি গড়ে, অফিসারের গত একদশকের কাজের গুণমান যাচাই করে, তাঁদের মতামত নিয়ে তবেই পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়। এই পদ্ধতির ব্যবহারিক নাম ‘এমপ্যানেলমেন্ট’। আমার এমপ্যানেলমেন্ট যে অনিবার্য সে বিষয়ে আমার নিজের এবং দিল্লিতে মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতনদের কোনও সন্দেহ ছিল না। বাণিজ্য মন্ত্রকের সচিব ড. রাহুল খুল্লার একদিন ফোন করে জানালেন, আমি যেন তৈরি থাকি, বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিবের পদ খালি। ‘আগে তো এমপ্যানেলডদের তালিকার নাম বেরোক’– আমি একটু বিনয় করে বলেছিলাম। আরে, এ তো জানা কথাই। তাড়াতাড়ি দিল্লি চলে আসবে। সচিবের গলায় প্রখর বিশ্বাস।

যথাসময়ে তালিকা বার হলো আমার নাম ছাড়াই। আমি আশ্চর্য, হতভম্ব। গত দশ বছরের গোপনীয় মূল্যায়নের বিবরণের জন্য আবেদন করে আরও আশ্চর্য হলাম। ওড়িশা রাজ্য, যেখানে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে প্রচুর নীতিগত ঝামেলা লেগে থাকত, সেখানে সব ঠিকঠাক। প্রত্যাশিতের নীচে মূল্যায়ন ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের চার বছরে, যখন আমি রূপকলা কেন্দ্রের নির্মাণ ও বিস্তারে ব্যস্ত। তিনিই একটানা ‘বিলো বেঞ্চমার্ক’ মন্তব্য দিয়েছেন, যিনি বলেছিলেন, আমার মতো অফিসারদের ক্লোন করা উচিত কারণ এত গুণাবলী একজনের মধ্যে পাওয়া যায় না। শুভেচ্ছু কোনও ঊর্ধ্বতন জানতে চাইলেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকাকালীন কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল? বাংলার কোনও কোনও বন্ধু বললেন, ও সব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে লিখিয়ে নিতে হয়, কারণ লেখার সময় বিভাগীয় মন্ত্রী, যিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর কাছে কে উপস্থিত থাকছেন, তার নিশ্চয়তা কী?

আমার মনে হল, এ আমার নিজের জন্মভূমির দেওয়া চরম বেদনা। জীবনের ওই চার বছর আমার সমস্ত ধ্যান জ্ঞান নিয়োজিত ছিল রূপকলা কেন্দ্র’র মতন একটি সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজে, তারপরেও নিজে উপস্থিত থেকে নিজের মূল্যায়নকে প্রভাবিত করব, এমন দীনতার কথা ভাবতেই পারি না। প্রথম প্রতিক্রিয়া হলো, অকালে অবসর নেওয়ার। কারণ কাজও করব, আবার কাজের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে প্রতিবেদন লিখব দুটো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেই সময় সহকর্মী, বন্ধু, ছেলেমেয়ে ও পরিবারের সকলের যে বিপুল ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছিলাম তা মনে আছে। সবারই এক কথা, আমার মতন একজন যদি এই কারণে অবসর নেয়, তাতে প্রশাসনিক সেবার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। একবার এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন জানাতে হবে, তারপর আমি যেমন চাই সিদ্ধান্ত নেব।

একদশক আগে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কি কি করেছিলাম, ভালো মনে নেই। তথ্য সংকলন করতে হল। রূপকলা কেন্দ্রের শিক্ষক সহকর্মীরা তখন প্রায় সবাই ওখানে আছেন, আমাকে ভুলে যাননি। পঁচিশ পাতার একটি প্রতিবেদন লিখেছিলাম মনে পড়ে যুক্তি ও পরিসংখ্যান দিয়ে। এও উল্লেখ করেছিলাম, যে, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম ঘটনার আগে ও পরে সরকারি হিংসার বিষয়ে লেখক হিসেবে যে মত আমি প্রকাশ করেছি, তার সঙ্গে আমার নিবেদিত চিত্তে কাজ করে চলার কোনও বিরোধ নেই। মনে পড়ে, ছ’মাসের বেশি লেগেছিল, কিন্তু উচ্চতর কমিটির পর্যালোচনায় ওই চারবছরে আমার গোপনীয় রেকর্ড সংশোধন করে উচ্চতম স্তরে তোলা হলো। এবং আমি একটু বিলম্বে হলেও এমপ্যানেলড হলাম।

বাঙালি মাৎসর্যের ছুরি পিঠে বিঁধলেও, আমাকে এফোঁড় ওফোঁড় করতে পারেনি। কারণ ওই সময়ে লিখেছি আমার অনেকগুলি স্মরণীয় ছোটগল্প এবং উপন্যাস ‘আয়নায় মানুষ নাই’। সাহিত্যের মধ্যেই আছে অমৃত সিঞ্চনের সেই অসীম ক্ষমতা, যা লেখককেও নবজীবন দান করে। যাই হোক, উষ্ণীষের হৃত পালকটি পুনরুদ্ধার করে আমি তখন দিল্লি রওয়ানা দেওয়ার জন্য মনে প্রাণে তৈরি। কন্যার আইন পাঠ শেষ হয়নি, জীবনসঙ্গী মশাই ডায়রেক্টর জেনারেল অব শিপিং হয়ে নানাবিধ সমস্যা ও সংকটের মোকাবিলা করছেন। তার মধ্যে যেমন জলদস্যুদের জাহাজ অপহরণ আছে, তেমন দিনের আলোয় দুই জাহাজের মুখোমুখি ‘কলিশন’ও।

আমি দিল্লি চললাম। জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য সচিব হিসেবে। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ওই জায়গাটি আর এক জলন্ত অগ্নিকুণ্ড। কিন্তু আমার তখন মুম্বাই আর এক লহমার জন্যও ভালো লাগছে না। দিল্লির হাতছানি কর্ণকুহরে এসে ঢুকেছে, এবং বাংলার ভাবনা মনে অসহ্য বোধ হচ্ছে। মুম্বাইয়ের অতি সুদৃশ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল অফিস ছেড়ে আমি দিল্লির দিকে পা বাড়াবো। সকলের কাছ থেকেই পাচ্ছি অভিনন্দন। মলিন মুখ কেবল আমার ব্যক্তিগত সচিব রবি’র। প্রমোশন নিয়ে কী হবে, মুম্বাই থেকে গেলেই তো ভালো ছিল– তার এমনই মত। ছলছল চোখেই সে এয়ারপোর্ট এল আমাকে বিদায় জানাতে।

অলঙ্করণ – সৌজন্য চক্রবর্তী

(ক্রমশ)

অনিতা অগ্নিহোত্রীর জন্ম কলকাতায়। প্রেসিডেন্সী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পডেছেন। সাহিত্যের সব ধারাতেই আনা গোনা। অতল স্পর্শ, মহুলডিহার দিন, আয়নায় মানুষ নাই, কবিতা সমগ্র, মহানদী ইত্যাদি চল্লিশটিরও বেশি বইয়ের লেখক। কর্মসূত্রে ছিলেন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা বা ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে। কাজে ও না কাজে ঘুরেছেন পূর্ব ও মধ্য ভারত।  

  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   

Comments are closed.