বুধবার, অক্টোবর ১৬

জোট বাঁধার গান

অনিতা অগ্নিহোত্রী

প্রশাসনের অন্তরমহলের ভাষ্য নয়, মানুষের আঙিনায় বসে দেখা রাষ্ট্রের রূপ। প্রান্তিক জীবনের নিত্যকার লড়াই, জীবনে লিপ্ত হয়ে থাকার আখ্যান। ১৯৯৬-২০১৬ এই দু’দশক ব্যাপী সততসঞ্চরমান, সৃজনশীল শিল্পীর লেখা— চলন বিল। 

পূর্বপ্রকাশিত পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

চলনবিল

এসইজেড–এ যা মূলত হয়ে থাকে– সেই আমদানি ও রফতানি ব্যবসার পিছনে থাকে শিল্প অথবা তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা। আমার কাছে যাঁরা আসেন তাঁরা সকলেই বড় শিল্পপতি, অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, আইটি কোম্পানির মালিক। অথচ পুরো ব্যাপারটার একেবারে মূলে আছেন শ্রমিক কর্মীরা। হিরে–জহরত শিল্পে অথবা হার্ডওয়্যার–এ তাঁরা অবিরাম পরিশ্রম করেন, অনেকেই বংশানুক্রমে দক্ষ কারিগর। অথচ তাঁদের জন্য আমরা কী করি?

মুম্বাই এসইজেড–এ তৈরি করা হয়েছে স্বয়ংশাসিত ‘অথরিটি’– কাজের অনুমোদন এবং ব্যয় মঞ্জুরি তারাই করতে সক্ষম। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দৌড়বার দরকার নেই। অথরিটির হাতে টাকাও জমেছে বেশ। আমরা যেমন নতুন পরিকাঠামো তৈরি করি, কোম্পানিগুলির কাছ থেকে যথেষ্ট ভাড়াও পাই। সেই টাকা যথেষ্ট আছে। বলতে গেলে এসইজেডগুলির মধ্যে আমাদের মুম্বাই সবচেয়ে ধনী। আমাদের পরিসরে কাজ করেন একটি করে শিফটে অন্তত তিরিশ হাজার শ্রমিক। তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার কোনও বাধা নেই, মহারাষ্ট্র সরকারের সবকটি ধারা এখানে প্রযোজ্য।

শ্রমিকদের জন্য একটি ডিসপেনসারি চালু করার কথা ভাবছিলাম। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, এই কাজে বাধা পেলাম শিল্পপতিদের কাছ থেকে নয়, বরং আমারই অন্যতম এক সহকর্মীর কাছ থেকে। অফিসে কয়েকজন নিস্প্রভ গলায় বললেন, ওদের জন্য তো শ্রমিক হাসপাতালই আছে– ইএসআই স্কিমের সুবিধে পান ওঁরা। হাসপাতালটা আড়াই কিলোমিটার দূরে এবং কোনও অ্যাম্বুলেন্স আমাদের পরিসরে নেই। মুম্বাই শহরে যেমন ট্র্যাফিক জ্যাম, তাতে এক কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে কখনও পঁয়তাল্লিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে কোনও গাড়ির ব্যবস্থা হওয়ার জন্য, অথবা অ্যাম্বুলেন্স আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তাতে প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কয়েকবার কাটা আঙুল হাতে নিয়ে ট্যাক্সিতে ইএসআই হাসপাতালে যেতে হয়েছে এমন ঘটনাও ঘটেছে।

আমি আ্যাম্বুলেন্স কেনার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু এসইজেড–এর মধ্যেই একটি ক্লিনিক দরকার যেখানে রোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা করা সম্ভব। আমাদের একটি নতুন ‘ফেসিলিটি সেন্টার’ তৈরি হয়েছে বারো কোটি টাকা ব্যয়ে। তার সবচেয়ে ওপর মহলায় গেস্ট হাউস। কনফারেন্স হল, অ্যাসোসিয়েশনের অফিস ইত্যাদি তিন তলায়। এছাড়া আছে ব্যাঙ্ক শাখা, ক্যান্টিন।

ভাগ্যিস একেবারে নীচতলায় কী কী হবে তখনও ঠিক হয়নি। অথরিটির মিটিঙে চেয়ারপার্সন ও সদস্য হিসেবে নিজের মত পেশ করলাম– ওখানে তৈরি হোক ডিসপেনসারি, অর্ধেক ফ্লোর স্পেস নিয়ে। অথরিটির মিটিঙে শিল্প–বাণিজ্যের প্রতিনিধিরা থাকেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনও আপত্তি এল না। এল আমার এক সহকর্মীর কাছ থেকে, যিনি নিজে মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত এবং যথেষ্ট প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে প্রশাসনিক উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তিনি বললেন, ফেসিলিটেশন বিল্ডিঙের মতো পরিষ্কার ঝকঝকে বাড়িতে লেবার ঢুকতে দিলে তাদের পায়ের জুতো থেকে নোংরা হয়ে যাবে না? তাছাড়া ওরা তো বাথরুম ব্যবহার করতেই জানে না! আরও যুক্তি এল।

আমাদের গণতন্ত্র আছে ঠিকই। তবে সব জায়গা সবার জন্য নয়– না হলে অতখানি জায়গা, বাগান, কক্ষ নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন তৈরি হত না। তখন পদাধিকার বলে আলোচনায় ইতি টেনে আমি বললাম, এ বিষয়ে ভারতীয় সংবিধানের নির্দেশ মান্য। সরকারি অর্থে তৈরি যে জায়গা, তাতে শ্রমিক, শিল্পের মালিক সবার প্রবেশাধিকার সমান। যদি শ্রমিকরা সামান্য অনভ্যস্তও হয়, তবে পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন বিষয়ে তাদের বুঝিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে। স্বাস্থ্য ক্লিনিকের জন্য ডাক্তার, নার্স, অ্যাটেন্ডেন্ট ইত্যাদি পেতে অসুবিধে হল না। কিন্তু সামনে আরও একটি জটিল কাজ।

নীচতলার আধখানা অংশ তখনও খালি পড়ে, সেখানে তৈরি করতে হবে শিশুদের জন্য ক্রেশ। বেশ কয়েক হাজার নারীকর্মী কাজ করেন এসইজেড–এ। তাঁদের মধ্যে ছোট শিশু নিশ্চয়ই অনেকেরই আছে। আমার অফিসের স্টাফ ও শিল্প বাণিজ্য সংগঠন বোঝালেন– মুম্বাইয়ের শহরে যেখানে মেয়েদের আসতে হয় লোকাল ট্রেনে বা বাসে, তাঁরা শিশুদের বাড়িতে রেখে আসাই পছন্দ করেন মা, শাশুড়ি বা কোনও আত্মীয়দের কাছে। এর আগেও ক্রেশ খোলার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু কোনও শিশু না আসায় বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বন্ধ ক্রেশটি গিয়ে দেখে এলাম। ওপরে ফ্যাক্টারির শব্দ, নীচে একটি স্যাঁতস্যাঁতে জীর্ণ হলঘর, তাতে জং ধরা লোহার বেবি কট, ইঁদুরে খাওয়া নোংরা গদি– এখানে এত শব্দ আর গরমের মধ্যে শিশুরা কীভাবে থাকে ভেবে পেলাম না।

ফেসিলিটেশন সেন্টারের নীচতলায় সেন্ট্রাল এসি, সুন্দর পরিচ্ছন্ন জায়গা। তবু যদি বাচ্চাদের না আনেন মা–রা? ক্রেশ চালাবে কে? অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শ্রমিক মায়েদের জন্য এসব কাজ দায়সারা ভাবে করবেন আর সরকারি সংস্থার তো প্রশ্নই নেই। তারা আসবেই না। এসইজেড ডেভেলপার–এর আবশ্যিক কর্তব্যের মধ্যে আছে ‘ক্রেশ’–এর ব্যবস্থা করা। আমি ঘোষণা করলাম, যদি বছরে একদিনও, একজন মা তাঁর শিশুকে নিয়ে আসেন, ক্রেশ চালাতে হবে কারণ এটা বাধ্যতামূলক পরিষেবা। মুম্বাইয়ের এই বৃহৎ এসইজেড–এ আমরা অর্থাৎ সরকারই হচ্ছি ‘ডেভেলপার’। যেহেতু এটা কেন্দ্রীয় সরকারের জোন। এইরকম সময়ে আমার জীবনে এবং আমাদের জোনে জ্যোতির আবির্ভাব। জ্যোতি ম্হাপসেকর। পদবীর প্রথম অক্ষরটাই হল একটা যুক্তাক্ষর, যাতে ‘ম’–এর সঙ্গে ‘হ’ জোড়া। আমরা ‘হ’–এর সঙ্গে ‘ম’ যুক্ত দেখতেই বেশি অভ্যস্ত তবে সেটা সাধারণত শব্দের গোড়াতে আসে না। মহারাষ্ট্রের পদবি বৈচিত্র্যে আমি এতদিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। গ্রামের নামে, জায়গার নামে পদবি। কাজেই পদবির সীমাসংখ্যা নেই।

জ্যোতি খ্যাতনামা মরাঠি লেখিকা, নাট্যকার এবং সমাজকর্মী। কাঁচাপাকা চুল খোঁপা করা, সাধারণ শাড়ি পরা, ছোটখাটো চেহারার জ্যোতিকে দেখে বোঝা যাবে না মনে কী অশেষ শক্তি ধরেন তিনি। না, তিনি নিজে হঠাৎ এসে উপস্থিত হননি। পরিচিত সহকর্মী ও বন্ধুদের কাছে ওঁর কথা শুনি। ওঁর সংগঠনের কথা জেনে আমি অনুরোধ করে নিয়ে এসেছিলাম তাঁকে। বছর পঁচিশ আগে লিঙ্গ বৈষম্য বিরোধী তাঁর নাটক ‘মুলগী ঝালি হো’ (ওগো মেয়ে হয়েছে!) মঞ্চস্থ হয়েছিল সারা দেশে, এমনকী মুসৌরির জাতীয় আকাদেমিতেও তরুণ প্রশাসকদের সংবেদনা জাগানোর জন্য। জ্যোতির সংগঠন– ”স্ত্রী মুক্তি সংঘটনা” দলিত ও অনগ্রসর মেয়েদের নিয়ে কাজ করে মুম্বাই, পুণে, সাতারা এমন কয়েকটি শহরে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে ওঁরা কাজ করেন। সততায় সবার আগে। পরিচিতরা বললেন, যদি জোনের ভিতর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে কোনও কাজ দিতে হয়, জ্যোতিকে বলো। জ্যোতির মেয়েরা আমাদের ক্রেশ তৈরির ভার নিলেন। খেলনা, বই, ভালো খাবার, দুধ, শিশুদের যত্ন সব মিলিয়ে ক্রেশ জমে উঠল। একটি দুটি করে কুড়িটি শিশু এল। তাদের মায়েরা ভারী খুশি। বাচ্চারা এ ওকে দেখে ‘ক্রেশ’–এ যতটা ভালো করে খাচ্ছে বাড়িতে তো খায় না। বরং তাদের পেছনে খাবার নিয়ে ছুটতে হয়। অচিরেই শিশুর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হল। আমাদের জায়গা বাড়াতে হল ক্রেশের। পরীক্ষানিরীক্ষা সফল!

শ্রমিকদের অভিযোগ শোনার জন্য লেবার সেলটি ছিল, কিন্তু আধঘুমন্ত অবস্থায়। সেটিকে উজ্জীবিত করার পর দেখা গেল নূন্যতম মজুরি না পাওয়া, কম মজুরি ও বিনা কারণে ছাঁটাইয়ের বেশ কিছু কেস আসছে। গর্ভবতী মেয়েরা নিজেদের সন্তানসম্ভাবনা লুকিয়ে রাখত পাছে ছাঁটাই হতে হয়। এবার ডেভলেপার হিসেবে আমরা সেইসব কেস পর্যালোচনায় মন দিলাম। এছাড়া কোনও শিল্প ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবার আগে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার ব্যাপারটি খুব দায়সারা ভাবে চলছিল। আমাদের একজন লেবার অফিসার দায়িত্ব নেওয়ার পর মনে হল অনেকটা বদল আনা গেছে। এতে অবশ্য শিল্পপতিরা বিচলিত হননি কিন্তু জ্যোতির উদ্যোগে যখন মহিলা কর্মীদের ‘নিজেদের অধিকার জানুন’ শীর্ষক বই বড় অক্ষরে হিন্দি ও মরাঠিতে ছেপে বিতরণ করা হতে লাগল মূল গেটে– যেখান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক কাজে ঢোকেন– তখন এঁরা একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। এতে বিক্ষোভ বাড়বে কি? শান্তির পরিবেশ নষ্ট হবে কি কাজের? তাঁদের বোঝাতে হত, শ্রমিক যত বেশি অধিকার সচেতন হবেন্, ততই কাজের সুবিধে হবে। ইউনিয়ন থাকা দরকার কিন্তু ইউনিয়নগুলি রাজনৈতিক দলের হয়ে যেভাবে জোনের ভেতর চাপ দিয়ে টাকা আদায় করছিল, তাকেও ঠিক শ্রমিক স্বার্থ প্রতাড়িত বলা যায় না। ত্রিপাক্ষিক আলোচনার পরে আমাদের নজরে আসছিল, শ্রমিকের প্রাপ্য থেকে একটা বড় অংশ ইউনিয়নের কাছে চলে যাচ্ছে, এটা একেবারেই মধ্যস্বত্বভোগীর নজরানা, ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে উপস্থিত থাকার কমিশন। এসইজেডগুলিকে শ্রমের ‘ক্যাজুয়ালাইজেশন’ বা ইউনিয়নগুলিকে দুর্বল করে দেওয়ার একটা গরজ থাকে মালিক পক্ষের, কিন্তু বহিরাগত ইউনিয়ন নেতাদের দাপাদাপির বিপক্ষে নিজের ক্ষমতায়নও প্রয়োজন, এটা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল।

মুম্বাই শহরে একটি বিশাল মিউনিসিপাল কমিশন আছে। তাদের  বাজেটের বহর কোনও কোনও ছোটখাটো রাজ্যের সমতুল। মুম্বাই শহরের বর্জ্য একটি বিশাল ব্যবসার উৎস। বর্জ্য সংগ্রহ ও বিক্রিতে মেয়েদের সংগঠনগুলিকে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে মিউনিসিপাল আইনে। অথচ জ্যাোতি বলছিলেন। মেয়েরা ঘেঁষতেই পারেন না বর্জ্যের গাদায়। সেখানেও বড় বড় ঠিকেদারদের পোষা গুন্ডারা তাঁদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। একশো একরের বেশি জায়গায় ছড়ানো আমাদের জোনটি একটি ছোটখাটো শহর। দুশো আড়াইশো টন বর্জ্য এখানে প্রতিমাসে জড়ো হয়। সে সব বিক্রি হয় টেন্ডার ডেকে। টেন্ডারে দাখিল হয় দশ–পনেরো কোটি টাকার অফার। কারণ হিরে জহরতের গুঁড়ো মিশে থাকে বর্জ্যে। ঠিকাদারের লোকেরা সেইসব বর্জ্য দিনের পর দিন ছড়িয়ে পাতিয়ে বাছতে বসেন। তাতে দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে জোনের পরিবেশ। জ্যোতির মেয়েদের সাহায্য নিয়ে এবার আমরা জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা সংগ্রহ আরম্ভ করলাম। জৈব্ বর্জ্য চলে গেল একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে। তা থেকে ক্যান্টিনগুলিতে সরবরাহ হবে রান্নার গ্যাস। অজৈব বর্জ্য আমরা অল্প দামে নিয়ে যেতে অনুমতি দিলাম। এর বিক্রি থেকে যে লভ্যাংশ আসত তাতে সমবায় সমিতির সদস্যদের সন্তানদের পড়াশুনো, স্বাস্থ্যবীমা এগুলির খরচ উঠত। এই অপূর্ব সামাজিক উদ্যোগটি আমি মুম্বাই ছাড়ার কিছুদিন পরেই ভেঙে পড়ে।

মেয়েদের ওপর আমাদের সিকিউরিটি বাহিনীর আক্রোশ ছিল কারণ ঠিকেদারদের কাছ থেকে তারা প্রভূত পরিমাণে ‘তোলা’ পেত। মেয়েরা কাউকে ঘুষ দেবে না। এছাড়া সরকারি বাবুরা বলতে থাকলেন, মেয়েরা কেন বর্জ্য বিক্রির লভ্যাংশ পাবে– এতে সরকারেরই তো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সুখের বিষয় ক্রেশটি এখনও চলছে, শ্রমিকদের ডিসপেনসারিও। এবং জ্যোতির সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আমরা পরে একসঙ্গে কাগজকুড়ানি ও ক্যাজুয়াল স্ক্যাভেঞ্জারদের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে পেরেছিলাম। আমি তখন সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন বিভাগের সচিব দিল্লিতে। জ্যোতির বয়স এখন সত্তর ছাড়িয়েছে। এখনও তাঁকে দেখা যাবে মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে গোভাত্তির বর্জ্য পাহাড়ের নীচে মেয়েদের নিয়ে কাজ করছেন। ভারত সরকারের ”স্ত্রী শক্তি সম্মান” পেয়েছেন জ্যোতি ইতিমধ্যে, বিদেশে গেছেন বহুবার। এঁদের মতন মানুষের সংসর্গ আমাকে অনুপ্রাণিত রাখে।

অলঙ্করণ – সৌজন্য চক্রবর্তী

(ক্রমশ)

অনিতা অগ্নিহোত্রীর জন্ম কলকাতায়। প্রেসিডেন্সী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পডেছেন। সাহিত্যের সব ধারাতেই আনা গোনা। অতল স্পর্শ, মহুলডিহার দিন, আয়নায় মানুষ নাই, কবিতা সমগ্র, মহানদী ইত্যাদি চল্লিশটিরও বেশি বইয়ের লেখক। কর্মসূত্রে ছিলেন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা বা ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে। কাজে ও না কাজে ঘুরেছেন পূর্ব ও মধ্য ভারত। 

Comments are closed.