বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

দেশের মধ্যে বিদেশ

অনিতা অগ্নিহোত্রী

প্রশাসনের অন্তরমহলের ভাষ্য নয়, মানুষের আঙিনায় বসে দেখা রাষ্ট্রের রূপ। প্রান্তিক জীবনের নিত্যকার লড়াই, জীবনে লিপ্ত হয়ে থাকার আখ্যান। ১৯৯৬-২০১৬ এই দু’দশক ব্যাপী সততসঞ্চরমান, সৃজনশীল শিল্পীর লেখা— চলন বিল। 

পূর্বপ্রকাশিত পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

চলনবিল

দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করার প্রস্তুতি ছিল মনে, কর্মজীবনের এই পর্যায়ে কোনও মন্ত্রকে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করার, নীতি প্রণয়ন শেখার ভালো সুযোগ থাকে। আমি দিক বদল করে চলে গেলাম মুম্বাই। পদমর্যাদা একই, কিন্তু কাজের ধরন অন্য। আমাদের কন্যা তখন পুণেতে আইন পড়ছে। মুখ ফুটে না বললেও, তার কাছাকাছি থাকলে আমাদের সকলের জন্য ভালো হয় বুঝতে পারছিলাম। পুত্র হিউস্টনে, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছে। মেয়ের চেয়ে আরও দূরে দিল্লি চলে যাওয়া কেবল কেরিয়ারের জন্য– তাতে মনও সায় দিচ্ছিল না।

মুম্বাই শহরটা অতিকায়, ম্যাপে তাকে দেখায় মহারাষ্ট্র রাজ্যের সমুদ্র উপকূলে ঝুলন্ত কয়েকটি আঙুলের মতন। শহরের দক্ষিণপ্রান্ত আরব সাগরের কূলে, সেখানেই যত বিশাল হর্ম্যরাজি, হোটেল, অফিস–ব্যবসায় কেন্দ্র, যদিও জনবহুলতা ও গাড়ির চাপ এড়ানোর জন্য এখন নতুন অফিস চলে যাচ্ছে একেবারে উত্তরে নভি মুম্বাই এলাকায়, যার অন্য নাম ভাশী। শহরের সমুদ্র সন্নিহিত অঞ্চলগুলি পেরোবার সময়ে মনে আনন্দ জাগে, একই সঙ্গে চিত্ত ভরে ওঠে প্রকৃতির রহস্যের মুখোমুখি হওয়ার বিস্ময়ে। কিন্তু মুম্বাইয়ের বিপুলতা, তার মানুষের ভিড়ে থই থই রাস্তাঘাট, মানুষ উপচে পড়া লোকাল ট্রেনগুলি এবং সর্বোপরি দীর্ঘ দীর্ঘ বর্ষাকাল। যখন কংক্রিটের উপর ঝরে পড়া প্রবল বৃষ্টির শব্দ মনে আনন্দের চেয়ে বেশি বিপদ জাগায়–– সবকিছু মিলে কলকাতার আদি বাসিন্দা আমার মন ভারতের বাণিজ্য মহানগরের প্রতি বিরূপ হয়েই থাকে।

মেয়ের সান্নিধ্য দিয়ে শহরের খুঁতগুলিকে ভুলবো, এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে বর্ষার এক দুপুরে জল থই থই শহরে এসে পৌঁছলাম। কলকাতার মধ্যে একটা ঘরোয়া, কাছে টেনে নেওয়া আদরের ব্যাপার আছে। যারা এখানকার বাসিন্দা, আর যারা বহিরাগত, কারও মধ্যেই ভেদাভেদ করে না এ শহর। তার পাশ দিয়ে চলা সাগরগামিনী নদী, দুটি বড়সড় ব্রিজ, অতি জনসমাকুল অথচ নিশ্চিন্ত পথঘাট শৈশব থেকেই আমার মনে শহরের একটা ছবি তৈরি করে দিয়েছে। স্মৃতির অভ্যাস এমন অনিবার্য যে কলকাতার চেয়ে মাপে বহরে বড় কোনও শহরই আর মনে ধরে না।

কলকাতার মতো মুম্বাইও অবশ্য অতিমাত্রায় কসমোপলিটান। মানুষকে কাছে টানে না, দূরেও সরায় না এবং দূর দূরান্ত থেকে যে সব মানুষ তার পথের উপর ভাগ্যান্বেষণে এসে ভিড় জমায়, তাদের প্রতি এক উদাস নিস্পৃহতার জাল বুনে রাখে।

এয়ারপোর্টে আমাকে নিতে এসেছিলেন অফিসের প্রটোকল অফিসার, এক মরাঠী ভদ্রলোক এবং আমার ব্যক্তিগত সহায়ক, রাঁচির ছেলে, রবি। শুনেছিলাম মুম্বাইতে সবকিছুই মাপা এবং নিয়মমাফিক। এবং এ শহরে ধনী কোটিপতির সংখ্যা এত বেশি, যে অন্য কেউ কোনও খাতিরযত্ন পায় না। দুজনকে হাসিমুখে এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করতে দেখে কিছু ভরসা পেলাম। রবিকে কিছুদিন পরেই ভালো করে জেনেছিলাম, মুখে সর্বদাই সেই অকৃত্রিম হাসিটি, ঝাড়খণ্ডের মানুষজনের সঙ্গে আলাপে যা সর্বত্র পেতাম আমার কাজের জীবন আরম্ভের সময়। মুম্বাইয়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আগ্রাসী কর্মসংস্কৃতির মধ্যে রবি আনন্দে বেঁচে আছে এক আদিম গ্রামীণ মানুষের মতন। রাস্তায় বেরিয়ে মেঘলা আকাশ ও খানাখন্দে ভরা পূর্ব মুম্বাইয়ের পথঘাট দেখে মন খারাপ হয়ে গেল।

মুম্বাই অঞ্চলের উত্তর–পূর্বে আন্ধেরি অঞ্চলে একশো একরেরও বেশি জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যমন্ত্রকের স্পেশাল ইকনমিক জোন বা সংক্ষেপে এসইজেড। উনিশশো সত্তরের দশকে যখন পত্তন হয় তখন এর নাম ছিল এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন। এসইজেড অ্যাক্ট যখন ২০০৫ সালে কার্যকর হল তখন পুরোনো এক্সপোর্ট জোনগুলিও এসইজেড হিসেবে অধিসূচিত হল। আমি এসেছি এই জোনটির ডেভলমেন্ট কমিশনার হয়ে। তবে এটা আমার সদর দফতর মাত্র। মুম্বাইয়ের অন্যত্র এবং সারা মহারাষ্ট্র, গোয়া, দমন–দিউ তে যতগুলি এসইজেড আছে, সবই আমার তত্ত্বাবধানে।

তথ্যপ্রযুক্তি জোনগুলি গোড়ার দিকে একজন অন্য অধিকর্তার অধীনে ছিল। দিল্লিতে একজন আগ্রাসী ঊর্ধ্বতন অফিসার বাণিজ্যমন্ত্রকের সাম্রাজ্য বিস্তারের অভিপ্রায়ে আইটি জোনগুলিকে প্রায় অধিগ্রহণের কায়দায় ডিসি দের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এলেন সেগুলি দেখার জন্য উপযুক্ত মানবসম্পদ বা পরিকাঠামো আমাদের আছে কিনা তা না দেখেই। আন্ধেরিতে পা রেখেই বুঝলাম, পুরো অঞ্চলটাই আসলে এক শিল্পনগরী। মহারাষ্ট্র সরকারের নিজস্ব সংস্থা মহারাষ্ট্র শিল্পোন্নয়ন নিগম এইসব জমি নিয়ে, প্লট করে নানা শিল্পকে বিক্রি করেছে। পুরো অঞ্চলে নানা ধরনের অফিস, আইটি সেন্টার, ছোটখাটো কারখানা ছড়ানো। আমাদের এসইজেড–এর যাবতীয় পরিকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা তাদেরই হাতে। একদিকে সেটা সুবিধের। কারণ সরকারি সংস্থাকে কাজের বরাত দিতে গেলে টেন্ডার ডাকতে হয় না।

আমার অফিসটিও নিগমের আর্কিটেক্টের নকশায় তাদের হাতেই তৈরি। তার স্থান ও আরামের প্রাচুর্যে আশ্চর্য হয়েছিলাম। পরে দেখলাম মুম্বাইয়ের এটাই হল স্ট্যান্ডার্ড। মস্ত বড় এক আধুনিক স্পেসের এক কোণে আমার অর্ধবৃত্তাকার টেবিল। পাশের দেওয়ালটি আগাগোড়া কাচে মোড়া। তার বাইরে সযত্নে লালিত দেবদারু গাছের সারি। অফিস কক্ষের দেওয়ালেই একটি সুদৃশ্য দরজা। ভালো করে খুঁটিয়ে না দেখলে তার অস্তিত্ব বোঝা যাবে না। সে দরজা খুললে ভিতরে একটি প্রশস্ত ঘর, তার মধ্যে বসে খাওয়ার জন্য চারজনের মতো টেবিল–চেয়ারের ব্যবস্থা, আরাম সোফা, দেওয়ালের তাকে বইপত্র সাজানো এবং একটি বড়সড় ফ্ল্যাট টেলিভিশন। অফিসঘরের একদিকে কাচের গোল টেবিল ঘিরে বসার ব্যবস্থা এমনকী ওভারহেড প্রোজেকশন সিস্টেম থেকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রোজেকশনেরও। এটি হল ছোটখাটো অন্তরঙ্গ জরুরি মিটিঙের জন্য। কারণ ঘরের অপর প্রান্তে দেওয়ালে খচিত আরও একটি দরজা খুললে বড়সড় সুদৃশ্য, সুসজ্জিত কনফারেন্স হল। তাতে চল্লিশ–পঞ্চাশ জনের মিটিং হতে পারে। আরও বড় মিটিঙের জন্য একতলায় ছিল অডিটোরিয়াম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, শব্দপ্রবেশ নিষিদ্ধ। তাতে সাড়ে তিনশো মানুষ বসতে পারে।

দোতলায় ছিল এসইজেড–এর নিজস্ব কাস্টমস উইং। সেটির জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছিলাম আমি জয়েন করার কিছুদিন পরেই। আর পরের বছর পরিকল্পনা হয়েছিল তিনতলায় আমার ও অন্যান্য অফিসারদের কাছে পৌঁছবার জন্য লিফটের ব্যবস্থা। কারণ সিঁড়ি ভেঙে অতটা উঠতে বয়স্ক অনেকেরই অসুবিধে হত।

এমন প্রাচুর্যের অফিস দেখে রূপকলা কেন্দ্রের কথা মনে পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ওই সময় কলকাতার রূপকলা কেন্দ্রের মতন ঝকঝকে সুন্দর, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অফিস আর একটিও ছিল না। আমার মনে আছে, রাজ্য সরকার একবার বিধানসভার এক পরিষদীয় কমিটি, যার সদস্যরা সকলে এমএলএ, রূপকলা কেন্দ্র দেখতে পাঠিয়েছিল। তাঁরা ঢুকতে ঢুকতে বলছিলেন, এটা হাসপাতাল না অফিস! বিস্ময়টাকে প্রশংসা হিসেবেই নিয়েছিলাম। তবে রূপকলা কেন্দ্র আমাদের সবার কাছে অফিসের চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল। আমাদের সামাজিক ধ্যান জ্ঞান স্বপ্ন সবই একে কেন্দ্র করে আবর্তিত হত। তাই তার কেতার দিকটা কখনও আমার মনকে আচ্ছন্ন করেনি। বরং রাইটার্স বিল্ডিং–এ গিয়ে ঘুপচি আলোবাতাসহীন ঘরে আমার চেয়েও অনেক সিনিয়াররা বসে আছেন দেখে যথেষ্ট মনঃপীড়া অনুভব করতাম।

মুম্বাইয়ের অফিসের ব্যাপারটা ঠাট ঠমকের। দেশের অন্যতম প্রাচীন এই জোন থেকে বারো হাজার কোটি টাকার মতন বাৎসরিক রফতানি হত। তার দুই–তৃতীয়াংশ পরিমাণ আমদানি। তিনশোটি শিল্প কোম্পানি কাজ করত এর ভিতরে। দিনে তিরিশ হাজার গাড়ি ও এক লাখের মতন মানুষ যাওয়া আসা করত। এর গেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এতই আধুনিক ছিল, যে তা বুঝতে মুম্বাইয়ের বাইরে থেকে লোকজন আসতেন। তবে এই ঝকঝকে ব্যবস্থার মধ্যেও যে অনেক ফাঁক ছিল তা আমি শিগগিরই বুঝে গেলাম।

এসইজেড অ্যাক্ট তখন বলা যায় শৈশব পার করেনি। বছর তিনেকের মধ্যেই অ্যাক্টে নানারকম পরিবর্তন –– অর্থাৎ আইনি প্রয়োজন শিথিল করার জন্য বণিক সভাগুলির কাছ থেকে মতামত আসতে আরম্ভ করেছে। সারা দেশে কয়েক হাজার এসইজেড স্থাপনার প্রস্তাব ইতিমধ্যে ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রকের কাছে পৌঁছে গেছে অনুমোদনের জন্য। অনুমোদনের জন্য গঠিত স্থায়ী সমিতিটি কয়েকশো প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েও দিয়েছেন। এবার এইসব এসইজেড–এর পরিকাঠামো তৈরি ও বিনিয়োগ আনার কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য একটি কমিটি আছে যা একটি জোনের কমিশনারের অধীন। আমি একজন কমিশনার হিসেবে এসইজেড প্রস্তাব পরীক্ষা করে দেখি সরেজমিনে। ভারত সরকারের কাছে পৌঁছবার আগে এর পরিকাঠামো, বিনিয়োগ ইত্যাদির পশ্চাদ্ধাবন করি নিয়মিত।

আমি যে সময় মহারাষ্ট্রের এসইজেডগুলির দায়িত্বে ছিলাম তখন সারা দেশেই এবং স্বভাবতই বাংলাতেও এসইজেড নিয়ে অনেক আবেগপূর্ণ লেখালেখি হচ্ছিল। নন্দীগ্রামও ঘটে গেছে এর কাছাকাছি সময়। তবে বাংলায় লেখা অধিকাংশ নিবন্ধেই কেন্দ্রীয় এসইজেড আইনের ধারাগুলির বিশ্লেষণ থাকত না। ফলে আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই জোনগুলির অবস্থান কোথায় তা বোঝা যেত না। আইনের বিশ্লেষণের পাশাপাশি জমির উপর এসইজেড এর গোড়াপত্তন দেখতে দেখতে আমি খুবই বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম। অভিজ্ঞতা যদিও লেখার একমাত্র উপাদান নয়, তবু ‘ডেভলপার’ গোষ্ঠীর উদ্ভব এবং জমির জন্য আগ্রাসী অভিযানের পটভূমিতে একটি উপন্যাস লিখেছিলাম, ‘আয়নায় মানুষ নাই।’

বস্তুত বিশ্বায়নের যে উদগম ঘটেছিল উনিশশো নব্বই দশকের গোড়ায় , তারই পূর্ণ বিকশিত রূপ মূর্ত হল একবিংশ শতাব্দীর আরম্ভে। এসইজেড অ্যাক্ট এই সময়েরই ফসল। বিনিময় মূল্যের উপর অগাধ মুনাফা যাদের উপার্জনের মূল স্তম্ভ, শহর বাজারের সেই ‘প্রোমোটার’ শ্রেণী গায়ে নতুন পোশাক চাপিয়ে বনে গেলেন এসইজেড ডেভলপার। এদের কাছে ‘পাখির চোখ’ উচ্চফলনশীল কৃষিজমি অথবা আদিবাসীদের বসত টাঁড়–মালভূমি। যা পাওয়া যায় তা ছলে বলে কৌশলে কিনে তা এসইজেড এর সিলমোহর লাগিয়ে নেবেন–– এটাই ছিল এই ডেভলপারদের আসল কাজ। যেহেতু অন্য কোনও প্রস্তুতি তেমন মজবুত নয়, কাজেই কয়েকবছর পর ‘পরিকাঠামো তৈরির গতি শ্লথ’, ‘বিনিয়োগ আসছে না যেমন ভাবা গিয়েছিল’ ইত্যাদি কাঁদুনি গেয়ে এসইজেড–টির অধিসূচনা বাতিল করে নেওয়া সরকারে প্রভাব খাটিয়ে। অধিসূচনা বাতিল হল, অর্থাৎ প্রস্তাবিত জোন ডি নোটিফাই হল কিন্তু হাতে রয়ে গেল বাজারদরে কেনা জমি। সেখানে এবার হবে অন্য কিছু অর্থাৎ রিয়েল এস্টেট–– সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল, সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা।

এ তো হল শেষ পর্যন্ত না গড়ে ওঠা এসইজেড এর গল্প। যেখানে আমার অফিস, মুম্বাইয়ের সেই জোনটি বা অন্য সব চালু এসইজেড কিন্তু আসলে একটি করে দ্বীপ, দেশের মধ্যে একখানা করে বিদেশ। এসইজেড থেকে কোনও পণ্য বাইরে গেলে তা রফতানি বলে গণ্য হয়, পণ্য জোনের ভেতরে এলে তা হয় আমদানি। এর নানা নিয়মাবলীর ফাঁক দিয়ে শিল্প–বাণিজ্যপতিরা তাঁদের লাভের বৃক্ষে ফল ধরান। ঠিক যেমন বিমানবন্দর বা সীমান্তে এসইজেড–এর থাকে নিজস্ব স্বয়ংসম্পূর্ণ কাস্টমস ইউনিট। তাঁদের অফিসাররা কীভাবে আইনের তাৎপর্য অনুধাবন করবেন, তার ওপর নির্ভর করে পণ্যের অথবা তথ্যেরও (আইটি জোনের ক্ষেত্রে) যাতায়াতের কার্যকারিতা।

এই কারণেই জোনগুলি অনেকটাই সাধারণের প্রবেশ ও অনুধাবনের বাইরে এবং তাদের কাজকর্ম নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার অবকাশ আছে। শহরের মাঝখানে অথবা গ্রামের দুর্গমতার ভিতর টানা লম্বা একখানা কংক্রিটের পাঁচিল, তার রক্ষী সম্বলিত উঁচু মিনার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দুর্গের প্রবেশদ্বারের মতো দুর্ভেদ্য গেট–– এসইজেড এই গোপনীয়তা ও অবরুদ্ধ সত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই বাস্তবকে গেটের বাইরে ও ভিতর থেকে দেখার দুর্লভ এক সময়খণ্ডের সাক্ষী ছিলাম আমি।

অলঙ্করণ – সৌজন্য চক্রবর্তী

(ক্রমশ)

অনিতা অগ্নিহোত্রীর জন্ম কলকাতায়। প্রেসিডেন্সী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পডেছেন। সাহিত্যের সব ধারাতেই আনা গোনা। অতল স্পর্শ, মহুলডিহার দিন, আয়নায় মানুষ নাই, কবিতা সমগ্র, মহানদী ইত্যাদি চল্লিশটিরও বেশি বইয়ের লেখক। কর্মসূত্রে ছিলেন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা বা ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে। কাজে ও না কাজে ঘুরেছেন পূর্ব ও মধ্য ভারত। 

Comments are closed.