মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

পেশাদার অভিনেতার গুণই হল সকলের সাথে ‘কমফর্টেবল’ হওয়া, আমি নিজেও তাই : ঋত্বিক

২০০৭ সালে বড় পর্দায় প্রথম এসেছেন।  চেনা ছকের বাইরে তাঁর চেহারা।  নিজের মতো থাকেন, ফোন বা এসএমএসে সবসময় জবাবও পাওয়া যায় না।  এই অভিযোগ ইন্ডাস্ট্রির অনেকে করেন।  কিন্তু কোনও চরিত্রে যখন তাঁকে দেখা যায়, তাঁর অভিনয় দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়ে যান সিনেপ্রেমী থেকে ফিল্ম ক্রিটিক সকলেই।  তিনি ঋত্বিক চক্রবর্তী।

১২ বছর পেরিয়েছেন বড় পর্দায়, তবে তার আগে ছোট পর্দাতে নিজের দক্ষতাও দেখিয়েছেন সকলকে।  তাই তো নায়কোচিত চেহারা না নিয়েও সারা বছরে প্রায় দশ এগারোটা ছবি তাঁর পকেটে।  এক সময় মেডিক্যাল রিপ্রেসেন্টেটিভের চাকরি করেছেন।  গ্রামে গ্রামে গিয়ে ম্যাজিক দেখিয়েছেন।  পর্দায় যখন আসেন ম্যাজিশিয়ানের ভূমিকাই যেন তাঁর।  শুধু তখন মেকআপ নিয়ে ম্যাজিক, যে যাদুর রেশ থেকে যায় সিনেমাহল থেকে বেরোনোর পরও।  রেশ থেকে যায় পরের বেশ কিছু দিন।

পর্দায় এসেছে পরিণীতা, লে ছক্কার পরে রাজ চক্রবর্তীর সাথে কাজ করলেন।  তাঁর উল্টোদিকে শুভশ্রী।  ঋত্বিক চক্রবর্তী মানেই ভেঙেচুরে নিজের মতো করে পর্দায় আসেন।  বাবাই দার চরিত্র এক প্রাইভেট টিউটরের, ঋত্বিক নিজে কখনও এভাবে পড়িয়েছেন ছাত্রীদের, প্রেমে পড়েছেন কারও? এই উত্তরে বলছেন “হ্যাঁ, প্রাইভেট টিউশন তো করিয়েইছি।  আমার প্রেমে একজন পড়েছিল সে সময়, পাগলামি করতও।  কিন্তু তারপর আর জমাট বাধেনি। ” আর মুম্বই যাওয়ার ইচ্ছে আছে কি না, জানতে চাইলে বলেন, “কখনও তেমন কেউ ডাকলে নিশ্চয় যাব।  এখানেও তো আমায় অনেক পরে নজরে করেছেন পরিচালকরা।  ২০১৩ এ ‘শব্দ’ করার পর আমাকে ইন্ডাস্ট্রি সিরিয়াসলি নিয়েছে।  তার আগে কেউ নিত না।  তারপর থেকে রেগুলার আমি ছবি করেছি। ” বারবার নিজেকে এক একরকম চরিত্রে ভেঙে আনতে কতটা প্রস্তুতি নিতে হয়? যে কোনও কাজ করতে গেলেই যদি মনে করি কষ্ট করে করছি, তাহলেই সমস্যা।

আর পর্দার কেমিস্ট্রি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলছেন, “পর্দার কেমিস্ট্রি আসলে চারজনের পার্টনারশিপ।  অভিনেতা, অভিনেত্রী, স্ক্রিপ্ট রাইটার, পরিচালক এটাই আসলে কেমিস্ট্রি।  আর অবশ্যই ক্যামেরাপার্সনও কিছুটা।  কেমিস্ট্রি কখনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর নাক বোঁচা, না নাক টিকালো তা নিয়ে হয় না।”

১৫ বছর ক্যামেরার সামনে অভিনয় করার ক্ষেত্রে সিকুয়েল করতে গেলে সবসময় স্ক্রিপ্টকে গুরুত্ব দেন না তিনি।  পুরনো চরিত্র কখনও বহন করতে হয়নি তাঁকে।  যে কোনও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে তাঁর ডুবে যেতে ভালোলাগে।  তাই তো নগরকীর্তনের মধু দা হোক, বা ভিঞ্চি দার সাইকোকিলার, পরিণীতার বাবাই দা হোক, বা রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্তের শ্রীকান্ত, বুড়ো সাধুর চরিত্রে হেরে যাওয়া এক যুবক-সবেতেই তিনি ভীষণভাবে সাবলীল।  নিজেকে তিনি আলাদা করে নম্বরে মাপতে ভালোবাসেন না একেবারেই।  জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ থেকেই শিখে নেন পরের পা কোথায় ফেলবেন বা ফেলবেন না।  এখনও যদি তাঁকে টেলিভিশন ডাকে তিনি করতে রাজি।  সেখানে ভালো পেমেন্টও পাওয়া যায় তিনি জানেন, নিজেকে মনে করেন, ‘টেলিভিশনের সন্তান’।  ওয়েবে কাজ করতেও আগ্রহী ঋত্বিক।  স্বপ্নের চরিত্র আলাদা করে কিছু আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলছেন, “আলাদা করে কোনও চরিত্র তেমন নেই, যে চরিত্র আসবে সামনে, সেটাই স্বপ্নের চরিত্র। ” পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, কোনও ভনিতা না করে তিনি বলছেন, “পেশাদার অভিনেতার একটা গুণ থাকা দরকার।  সকলের সাথে কমফর্টেবল হওয়া।  আমার মনে হয় আমার সেই গুণ আছে, তাই আমার কারও সাথে কাজ করতে কোনও অসুবিধে নেই।  ”
ভিডিয়োয় জানুন আরও কী বললেন ঋত্বিক চক্রবর্তীওপেন টু ওয়াল-এ মধুরিমা রায়কে….

Comments are closed.