বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

‘ছেলেধরা’-র রাজনীতি

  • 44
  •  
  •  
    44
    Shares

দোলন গঙ্গোপাধ্যায়

দিনটা ছিল ঈদের দিন। ২৬ জুন, ২০১৭। উতেরা বিবি দত্তমারায় বাপের বাড়ি বেড়াতে এসেছেন। উতেরা মধ্যবয়সি এক নারী। ঘরে তার চার সন্তান, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে ভরা সংসার। বাপের বাড়ির গাঁ থেকে শ্বশুরবাড়ির গাঁয়ের দূরত্বও বেশি নয়। মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার গ্রাম সব।

দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই উতেরার মানসিক রোগ দেখা দেয়। বহু বছর সে চিকিৎসাধীন। উতেরা ঈদের দিন বাপের বাড়ি বেড়াতে এলেন। চার দিকে উৎসবের আমেজ। পরের দিন সকালে উতেরার মনে হল, অনেক দিন দিদির সঙ্গে দেখা হয়নি। উৎসবে আনন্দে মানুষের প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছে করে, আমোদ আহ্লাদ করতে সাধ জাগে। তাই-ই হয়তো ঈদের পরদিন সক্কাল সক্কাল উতেরা পাশের গ্রাম সেকেন্দ্রায় দিদি রেশমার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল। বাড়িতে বলেই বেরিয়েছিল। কিন্তু সেকেন্দ্রায় পৌঁছে সে দিদির বাড়িটি চিনতে পারেনি। হয়তো বা সে অনেকদিন পর দিদির বাড়ি এসেছে, কিংবা এমনিই হয়তো রাস্তাঘাট চিনতে তার একটু ভুল হয়ে যায়।

দিদির বাড়ি খুঁজতে খুঁজতে এক সময় উতেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সামনেই একটি খোলা বারান্দা পেয়ে সে একটু জিরোতে বসে। সেই বারান্দায় তারই পাশে একটি বাচ্চা মেয়ে খেলা করছিল। উতেরা হয়তো বাচ্চাটিকে খেয়ালও করেনি। সে আপনমনে বিশ্রাম নিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই সে দেখে তাকে ঘিরে ধরেছে বেশ কিছু মানুষ। তাদের সন্দেহ, উতেরা ঐ বাচ্চাটিকে চুরি করতে এসেছে। সেকেন্দ্রায় তার কয়েক দিন আগে ফুলটুসি নামে একটি বাচ্চা মেয়ে চুরি হয়েছে। গ্রামবাসীর দল উতেরা বাচ্চা-চোর সন্দেহে প্রশ্ন করতে শুরু করে, পরিচয় জিজ্ঞেস করে, সে কোথায় যাবে জিজ্ঞেস করে। উতেরা মাথা পাগল মানুষ। সে সেই সময়েই দিদির নামটা মনে করতে পারে না। গ্রামবাসীরা আর দেরি করে না। রড, লাঠি যে যা হাতের কাছে পায় তাই দিয়ে উতেরাকে মারতে থাকে।  ট্রাকটরের সঙ্গে বেঁধে মারে উতেরাকে। মার চলে যত ক্ষণ পর্যন্ত না উতেরা চিরতরে চুপ করে যায়।

ইতিমধ্যে উতেরার বাবা-মায়ের কাছে খবর পৌঁছয়। তাঁরা খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ কাছেই জঙ্গিপুর থানায় অভিযোগ জানাতে যায়। কিন্তু সেখানে দু’ঘন্টা তাঁদের বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাঁদের প্রমাণ দিতে হয় যে তাঁরা বাচ্চা-চোর অথবা পাচারকারী নন। অভিযোগকারীকে প্রমাণ দিতে হয় যে সে চোর নয়, কারণ সে গাঁ-গঞ্জের গরিব মানুষ, কারণ তাঁর সন্ততি মানসিক রোগী! যাই হোক, এর পরে নড়ে বসে পুলিশ। পৌঁছয় সেকেন্দ্রায়। কিন্তু তখন গ্রামবাসী উন্মত্ত। তাঁদের সামলানোর ক্ষমতা নেই সামান্য ক’জন পুলিশের। তখন তারা রঘুনাথগঞ্জ থেকে ফোর্স চেয়ে পাঠায়। যত ক্ষণে পুলিশ এসে পৌঁছয় তত ক্ষণে উতেরা এ সংসারের মায়া ত্যাগ করেছেন।

উতেরা একা নয়। সম্প্রতি সারা দেশে বাচ্চা-চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃতের সংখ্যা ১৯। প্রায় সব ক’টি ঘটনারই এক ধরনের প্যাটার্ন। কে বা কারা যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় রটাচ্ছে যে, এলাকায় বাচ্চাচোর ঘুরছে। ওমনি জনগণ ক্ষেপে উঠছে। হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই দিয়ে হাতের সুখ করে নিচ্ছে তারা। ভেবেও দেখছে না, যাকে অথবা যাদের  পেটাচ্ছি, তারা সত্যি বাচ্চাচোর কিনা, আর যদিও বা বাচ্চাচোর কিংবা পাচারকারী হয়, তা হলেও তাকে মারার আমার অধিকার আছে কি না। সন্দেহবশে মানুষকে পিটিয়ে খুন করার আগে সন্দেহ নিরসনের জন্য পুলিশে খবর দেওয়ার মত সাধারণ কথাটি কেন যে কারও মনে হচ্ছে না, সেটাই আশ্চর্যের বিষয়।

এর কারণ খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই মনে হল, মানুষ কি তাহলে স্বভাবতই হিংস্র? সুযোগ পেলেই নখ দাঁত বার করতে মানুষের এক মুহূর্ত দেরি হয় না? কিন্তু এই যদি মানুষের প্রাকৃতিক স্বভাব হবে, তা হলে তো সব মানুষের সব সময়েই এমন স্বভাব হবে। কিন্তু তা তো নয়। যে মানুষ বাচ্চা-চোর সন্দেহে অজানা মানুষকে পিটিয়ে খুন করছে, সেই মানুষই হয়তো সিনেমায় দুঃখের দৃশ্যে অচেনা নায়কের জন্য কেঁদে ভাসায়। যে মানুষ ‘অন্য রকম’ মানুষ দেখলে খুনি হয়ে উঠছে, সে-ই হয়তো অন্য কোন পরিবেশে শান্তির গান গায়।

তার মানে মানুষ প্রাকৃতিক ভাবে হিংস্র নয়। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সমাজবদ্ধ জীবন কাটাচ্ছে। সমাজে থাকতে গেলে শান্তিপ্রিয় ভাবেই বসবাস করতে হয়। হিংস্র মানুষের প্রতিবেশী হতে কেউ চাইবে না। তার মানে এই যে, ঘৃণা এবং হিংসার লক্ষণ মানুষের মধ্যে এত ব্যাপক ভাবে এমন যখন-তখন প্রকাশ পেত না, যদি না কেউ তার মধ্যে এই হিংসা পরিকল্পিত ভাবে ইনজেক্ট করত। হ্যাঁ, এটাই মোদ্দা কথা। আমাদের চার দিকের সামাজিক- রাজনৈতিক আবহ আমাদের মনে হিংসার, দ্বেষ ভাবের, অত্যাচারের বিষ প্রবেশ করাচ্ছে, আমাদের মনে আমাদের অজান্তেই ‘আমাদের মতো নয়’ এমন মানুষ দেখলেই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে, আর আমরা ক্রমশ খুনি হয়ে উঠছি।

কী ভাবে এই বিষ আমাদের মনে প্রবেশ করানো হচ্ছে? আমাদের শেখানো হচ্ছে, বিশ্বাস করানো হচ্ছে, খালি এক রকম মানুষই এই দেশে রাজ করবে। বৈচিত্র্যের কোন স্থান এ দেশে আর থাকছে না। আমরা ছোটো বেলা থেকে যে সব ধরনের মানুষকে নিয়ে চলার শিক্ষা পেয়েছি, “নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান/ বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান”-এর যে গান আমরা বুঝে-না বুঝে সেই কোন বালিকাবেলা থেকে আত্মস্থ করেছি, তা যেন হঠাৎ করে ভুলে গেছি আমরা, সবাই কেমন যেন সেনাবাহিনীর জওয়ান হয়ে যাচ্ছি। আমাদের জীবনে সহসা একটি সংস্কৃতিরই বান ডেকেছে। আর সে সংস্কৃতির নাম সংখ্যাগুরুর এবং ক্ষমতাবানের সংস্কৃতি। যে যেখানে সংখ্যাগুরু সে সেখানেই ক্ষমতাবান, আর তার ক্ষমতার বলয়ে কোন ক্ষমতাহীনের, সংখ্যালঘুর কিংবা প্রান্তবর্তী মানুষের জায়গা নেই।

‘আমাদের মতো নয়’ মানুষজন আমাদের ক্ষমতার রাজ্যপাটে প্রবেশ করলেই তাকে আমরা চোর অথবা গুপ্তচর সন্দেহে অত্যাচার করি, অতিথি ভেবে আদর করি না। কারও ভাষা না বুঝলে ধরেই নিই সে বদমাশ। সে আমাদের বাচ্চাদের ভুলিয়েভালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেবে। ভাবি না, পৃথিবীতে হাজার হাজার ভাষা আছে, আর আমরা কেউ হরিনাথ দে নই। এ-ও ভাবি না যে, পৃথিবীতে উতেরার মতন মানুষ আছেন, যারা অন্য রকম ভাষায় কথা বলেন। আমাদের দ্বিতীয় রিপুর তাড়না এমন মারাত্মক, যে আমরা বিবেচনা-যুক্তিবোধ সব হারিয়ে ফেলি।

ভিন্নতাকে অশ্রদ্ধা করার এই যে সংস্কৃতি, ভিন্নতাকে বাঁচতে না দেওয়ার যে সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতিকে সর্বব্যাপী করে তোলা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। যে রাজনৈতিক ভাবাবেগ থেকে জুনেইদকে গরুর মাংস নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে খুন করা হয়, জামাল মোমিনকে মালদাগামী ট্রেনে প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে না পারার জন্য মার খেতে হয়, সেই ন্যক্কারজনক ভাবাবেগের কারণেই পর্যটক থেকে শুরু করে ভিখারী পর্যন্ত সবাইকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারে মানুষ। আর এই খুনী, অত্যাচারী সংস্কৃতির উৎস হল মৌলবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা। মৌলবাদ যে শিক্ষা দেয় সেই শিক্ষার মূলমন্ত্র হল, রক্ষণশীলতা। রক্ষণশীলতা তথা মৌলবাদ খোলা হাওয়া, মুক্ত চিন্তা, নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতির বিরোধী।  নিজ সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষের প্রতি সন্দেহপ্রবণ, সংকীর্ণমনা করে তোলে, হিংসায় লিপ্ত হতে মানুষকে উৎসাহ দেয় সাম্প্রদায়িকতা। আজ আমাদের দেশে মৌলবাদ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির চরম দাপটের কারণেই মানুষ সন্দেহপ্রবণ, খুনী হয়ে উঠছে।

ফেরা যাক, বাচ্চা চুরির কথায়। প্রতিটি গণপিটুনির ঘটনায় কে বা কারা রটাচ্ছে যে, এলাকায় ছেলেধরা ঘুরছে। প্রশ্ন উঠছে, এই গুজব রটাচ্ছে কারা? অবশ্যই পুলিশকে খুঁজে বার করতে হবে, নির্দিষ্ট ভাবে এই গুজব কারা রটাচ্ছে। কিন্তু আমরা জানি, এ ধরনের গুজব যারা রটাচ্ছে, তারা আমাদের মন আসল সমস্যা থেকে ঘুরিয়ে দিতে চায়। তারা আমাদের স্নায়ুগুলোকে উত্তেজিত করে রাখতে চায়, যাতে আমরা ঠান্ডা মাথায় না ভাবতে পারি, কেন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, কেন গরিবের বাড়ি ধূলিসাৎ করে মল হচ্ছে, ডিমনিটাইজ়েশনের ফলে কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল, কেন আমাদের দেশের সব বাচ্চা স্কুলে যেতে পারবে না কিংবা স্কুলে গেলেও সমমানের শিক্ষার সুযোগ পাবে না, কেন কৃষককে ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করতে হবে। গুজব রটানো, সোশ্যাল মিডিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ব্যবহার করা এখন মৌলবাদী এবং সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম কর্মসূচি। তারা সংগঠিত ভাবেই এই উত্তেজনা ছড়ানোর কাজটি করছে। আর মানুষও তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে।

বাচ্চা চুরির ব্যাপারে আর একটি কথা বারবার উঠে আসছে। বাচ্চাকে এই ‘ছেলেধরা’র ভয় দেখানোর চল আগেও ছিল। বিভিন্ন সাহিত্যে, সিনেমায় আমরা সে সব পড়েছি বা দেখেছি। আমাদের ছোটবেলায় যারা বড় বড় থলে কাঁধে রাস্তায় ফেলে দেওয়া কাগজ কুড়োতে আসতেন, তাঁদের দেখিয়ে বাচ্চাদের ভয় দেখানো হতো যে, ওরা ‘ছেলেধরা’। এই ‘ছেলেধরা’ সব সময়েই প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষ হতেন। এই যে গরিব, নিম্ন বর্ণের মানুষদেরই ‘ছেলেধরা’ বলে ভয় দেখানো হতো, পাশের বাড়ির মধ্যবিত্ত কলেজে-পড়া কাকুটিকে ‘ছেলেধরা’ বলা হত না, তার মধ্যেও নিশ্চই সাম্প্রদায়িক মানসিকতা এবং বৈষম্যমূলক চিন্তা ছিল। কিন্তু সেই চিন্তা কখনও এত প্রকট হয়ে ওঠেনি যে সেই কারণে কাগজ-কুড়ানি মহিলাকে খুন হতে হবে। বড়রা জানতেন যে, এ শুধু দুষ্টু বাচ্চাটিকে বাগে আনার কৌশল।  কখনও কখনও কাগজ-কুড়ানি মাসিও জানতেন সেই কৌশল। এবং তিনিও ভূতে ঢেলা মারা দুপুরে সেই দুষ্টু বাচ্চার বাড়ির সামনে এসে হাঁক মারতেন, “বাবুসোনা ঘুমোয়নি?” মায়ের সঙ্গে তাঁর একটা যোগসাজসও চলত।

বাচ্চাকে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে কাগজ-কুড়ানি মাসিকে বেছে নেওয়া কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু সে আমলে বড়দের মধ্যে যুক্তিবোধের, শুভচিন্তার এত অভাব হয়নি যে, তাঁরা নিজেরাও বিশ্বাস করবেন কাগজ-কুড়ানি মাসি বাচ্চা-চোর। আজকের বড়দের সঙ্গে আমাদের ছোটবেলার বড়দের হয়তো সেটাই পার্থক্য। তাঁরা সচেতন ভাবে এই প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক ছিলেন না, তাঁদের যদি কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাত যে, নিম্ন বর্ণের মানুষদেরই ভয় দেখানো বিষয় হিসেবে তুলে ধরা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক আচরণ, তা হলে হয়তো তাঁরা লজ্জায় মাথা নিচু করতেন। সর্বোপরি, কয়েক দশক আগেও, এই সব ভয় দেখানো ছিল ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর ভয় পেত বাচ্চারা।  এমন সমষ্টিগত ভাবে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভয় অথবা সন্দেহের বশে মানুষ খুন করছেন, অথবা বলা ভাল, সংগঠিত গুজব রটনা-বাহিনী তাদের দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে, এ নিদর্শন আমাদের দেশে খুবই সাম্প্রতিক।

এর থেকে বেরোনোর পথ বোধ হয় একটাই। নিজেদের মধ্যের যুক্তিবোধ, মুক্তচিন্তাকে  বাঁচিয়ে রাখা, সহমর্মিতা, সহযোগিতার বোধ ছড়িয়ে দেওয়া। ব্যক্তিগত স্তরে কোনো রকম সাম্প্রদায়িকতার বোধকে প্রশ্রয় না দেওয়া, আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে গুজবগুলি প্রতিহত করা। এ ছাড়া আর কী-ই বা করতে পারি আমরা, সাধারণ মানুষরা!

মতামত লেখকের ব্যক্তিগত

গ্রাফিক্স : দিব্যেন্দু সরকার 

দোলন গঙ্গোপাধ্যায় একজন সমাজকর্মী।গত দু দশকেরও বেশী সময় পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে ও শহরে মেয়েদের ক্ষমতায়ন বিষয়ে কাজ করছেন।রাজ্যের নারী আন্দোলন এবং মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

Leave A Reply