গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ বিধান, জনতার রায়কেই অগ্রাহ্য করলেন কর্নাটকের রাজ্যপাল

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সুখেন্দু শেখর রায়

কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। সংবাদ মাধ্যমেও এই নিয়ে প্রচুর আলোচনা, বিতর্ক হচ্ছে প্রায় রোজই। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দোপাধ্যায়ও এই নিয়ে তাঁর মত ব্যক্ত করেছেন। ফোনও করেছেন জনতা দল (সেকুলার)-এর নেতা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়াকে।
সামনের বছরেই দেশের সাধারণ নির্বাচন। তার আগে কর্নাটকে কে সরকার গড়বে সেটা জানতে আগ্রহী আমরা সকলেই।
কিন্তু এই নির্বাচনে বিজেপির আচরণ দেখে আমার মনে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। দেশের আইন অনুযায়ী কমিশন এই নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। ফলাফলও প্রকাশ করেছেন।
এই নির্বাচনে সব থেকে বেশি আসন পেয়েছে বিজেপিই। কিন্তু তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাদের মোট আসন নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতার চেয়ে কম।
অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে থেকে কোনও জোট না গড়লেও, নির্বাচনে ফল প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস আর জনতা দল (সেকুলার)-এর মিলিত বিধায়কের সংখ্যা কর্নাটক বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট।
ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর জোট গড়ে, নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে এই দুই দলই। কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাঁরা জনতা দল (সেকুলার)-কে সমর্থন করবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এইচ ডি কুমারস্বামীকেই চায় তারা।
অবাক কাণ্ড, এরপরও দেখলাম কর্নাটকের রাজ্যপাল, কংগ্রেস-জনতা দল (সেকুলার) জোটকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার সুযোগই দিলেনই না। উলটে সরকার গড়তে ডাকলেন বিজেপির ইয়েদুরাপ্পাকেই। আজ তাঁর শপথ গ্রহণও হয়ে গেল।
প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করলেন না রাজ্যপাল? এই আচরণ করে তিনি তো আসলে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং কর্নাটকের সাধারণ মানুষের ইচ্ছেকেই সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিলেন।
ফলাফল দেখেই তো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, মানুষ চান না বিজেপি কর্নাটকে সরকার গড়ুক। বরং তাঁরা চান ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেস এবং জনতা দল (সেকুলার) মিলিত ভাবে ক্ষমতায় আসুক।
মানুষের সেই মতকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে কর্নাটকের রাজ্যপাল আসলে বিজেপিকেই ঘোড়া কেনাবেচার সুবিধা করে দিলেন। বোঝাই যাচ্ছে, এরপর কংগ্রেস এবং জনতা দল (সেকুলার)-এর কিছু বিধায়ককে টাকা দিয়ে কিনে নিতে চাইবে বিজেপি।
রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদে থেকেও আসলে সেই অন্যায়কেই প্রশ্রয় দিলেন। কর্নাটকের সাধারণ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করে, টাকা দিয়ে সরকার গড়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে, আসলে দুর্নীতির পথই প্রশস্থ করে দিলেন।
একটি সাংবিধানিক পদে থাকা মানুষ যদি এরকম আচরণ করেন, তাহলে ‘জনগনের গণতন্ত্র’ কথাটা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।
জনতার মতই গণতন্ত্রের ভিত্তি। গণতন্ত্রে জনতাই সর্বোচ্চ। এটাই গণতন্ত্রের সব থেকে পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় নীতি।
কেউ এই নীতিকে ভাঙতে পারেন না। তিনি যত উঁচু পদেই আসীন হোক না কেন।
অথচ কর্নাটকে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত সেই নীতিকেই লঙ্ঘন করল।
দেশের নাগরিক সমাজ এবং বুদ্ধিজীবীদের আমি সোজাসাপটা প্রশ্ন করতে চাই। আপনারা এরপরও চুপ করে কেন?
এই নীরব এমার্জেন্সির বিরুদ্ধে আপনারা কবে সরব হবেন?

(লেখক আইনজীবী ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ)

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More