শনিবার, অক্টোবর ১৯

ঝাড়খণ্ডে বিপন্ন বাংলা ভাষা, আমরা উদাসীন

বেবী সাউ

একটা সভ্যতা, সমাজ গড়ে ওঠে এক একটি ভাষাকে কেন্দ্র করে। তৈরি করে একটি নিজস্ব সংস্কৃতি। চিহ্নিত করে একটা জাতিকে। তার ভাবনা-চিন্তাকে প্রসারিত করে, আবার এর থেকেই জন্ম নেয় জাতির ঐতিহ্য ও পরম্পরা।

সুতরাং, বলা যেতে পারে, ভাষা হচ্ছে একটা সমাজের ধারক এবং বাহক। সৃষ্টি, সংস্কৃতি, কৃষ্টির ঐতিহ্য। একটা যোগসূত্রের মাধ্যম। সুতরাং, ভাষা যদি হয়, মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যম, কথার আদান প্রদান ও নিবিষ্ট ভাবে নিজেকে অনুধাবনের একটা সোপান—তখনই বোধ হয় তাকে কোণঠাসা করার জন্য এগিয়ে আসে, লকলক করে ওঠে অপেক্ষাকৃত অধিক বলশালী ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর আগ্রাসী মনোভাব। তখন আবার আগ্রাসন করে রাজনীতির হিংস্র থাবা! একটা রাজ্য তার  প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে আত্মবিস্মৃত হয়! তাই বারবার ভাষা শহীদের রক্ত চিহ্ন মুছে জেগে ওঠে বাস্তুঘুঘুদের নির্মম ষড়যন্ত্র!

ঠিক এমনটাই ঘটছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। চলছে বাংলা ভাষাকে দমন করার বিপুল আয়োজন। প্রচেষ্টা। একটা ভাষাকে নিঃশেষ করে দেওয়ার গূঢ় চক্রান্ত।

বর্তমানে ভারতবর্ষের যে অংশটিকে আমরা ঝাড়খণ্ড রাজ্য নামে চিনি, তা আগে ছিল গৌড়বঙ্গ বা বৃহৎ বঙ্গের অংশ। বাংলার সংস্কৃতি, বাংলা ভাষাও ছিল এদের নিজস্ব মাতৃভাষা ( এখনও অবশ্য তাই আছে)। বাংলায় কথা বলেছে, কবিতা লিখেছে, ভাবতে শিখেছে। সাহিত্য রচিত হচ্ছে। নিজেকে বাঙালি ভেবে মানভূম বিদ্রোহে লিখিয়েছে নিজেদের নাম। শহীদ হয়েছে। রক্তস্রোতে ভাসিয়েছে নিজেদের বাংলা ভাষার জন্য দুঃখ-ক্ষোভ-ভালোবাসা।

কিন্তু রাজার খেলা যে বড্ড নির্মম, নিস্পৃহ। আবেগ নেই তার। ভালোবাসা নেই তার। রক্ত মানে সেখানে শুধু গ্রুপ। সংঘ। যে অঞ্চলের মানুষ বাংলা ভাষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে বিদ্রোহে নেমেছিল, বাংলা ভাষাকে তাদের নিজের ভাষা করে রাখতে চাইছিল—আর সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে চাইছিল এই স্বতন্ত্র রাজ্য, তা আজ দুঃস্বপ্নে পর্যবসিত। রাজনীতির করাল ছায়া তাকে বারবার খণ্ডিত করেছে। প্রথমে পুরুলিয়া প্রদেশ থেকে ভাগ করে এই বিরাট বাংলাভাষী অঞ্চলটিকে ঢোকানো হয়েছে বিহার প্রদেশে। তার পরে ক্রমাগত আন্দোলনের ফলে বিহার প্রদেশ থেকে খণ্ডিত হয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যে। স্থানীয় জনজাতি ফের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে নিজস্ব আবেগ, ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে।

কিন্তু ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সব স্বপ্ন দিবাস্বপ্নে পরিণত হতে সময় নিয়েছে মাত্র দশটি বছর। তত দিনে কার্যকর করা হয়ে গেছে গোপন বিষের চারণ। এখানকার মূল অধিবাসীরা যারা বাংলা লিখতে, পড়তে, বলতে ভালোবাসতেন তাদের ভেতর চারিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলা ভাষার স্বপ্ন অথচ না থাকার, না পাওয়ার বিষ। স্কুলে স্কুলে তখন বাংলা বইয়ের জায়গা দখল করেছে হিন্দি সাহিত্য। হিন্দি ভাষা। ভাষা শেখা অবশ্যই দরকার। সমাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিংবা বিশ্বায়নের যুগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি, হিন্দি ভাষা শেখাটিও অবশ্যই জরুরি। তা বলে, নিজস্ব ভাষাকে ধ্বংস করে নয়! কারণ একটি ভাষার সাহায্যেই তো তৈরি হয় একটা জনজাতির মূল ঐতিহ্য। পরম্পরাগত সংস্কার, সংস্কৃতি। পরম্পরাগত ভাবে চলে আসা এই বাংলা  ভাষাতেই ঝাড়খণ্ডের মূল লোকসাহিত্য “টুসু গান” রচিত। যেটি আমাদের ঝাড়খণ্ডকে চিনতে সাহায্য করে।   নতুন গঠিত এই ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মূল ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিটাই গড়ে উঠেছে বাংলা ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে। এখানকার মূল পরব করম, টুসু পূজা, ভাদু ইত্যাদি। লোকসঙ্গীতের গানগুলি রচিত বাংলার আঞ্চলিক ভাষায়। এই আঞ্চলিক বাংলার হরফ হচ্ছে বাংলা লিপি। এখানকার বিরাট জনজাতি নিজেদের মধ্যে মানভূম  বাংলা ভাষাতে কথা বলেন এবং নিজেদের বাঙালি বলে ভাবেন।

বিহার সরকারের অধীনে থাকাকালীনও বিহার সরকার এই সমস্ত অঞ্চলে বাংলা ভাষাটিকে জিইয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল। মান্যতা দিয়েছিল। পাটনা বাংলা একাডেমীর বিভিন্ন রকম উন্নত মানের বাংলা রিসার্চ এবং সাহিত্যের বই প্রকাশিত হতো।। রাঁচি বিশ্বাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ নিজ দায়িত্বে বিভিন্ন রকম গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করেছে। এক সময় রাঁচি, কোলহান বিশ্বাবিদ্যালয়গুলিতে ছিল জমজমাট বাংলার ক্লাস। তখন দক্ষিণ  বিহারের সমস্ত  অংশটির শিক্ষা ব্যবস্থা, জমি সংক্রান্ত দলিল-দস্তাবেজ সব বাংলাতেই লেখা হত। ধলভূমগড়, বহড়াগোড়া, ঘাটশিলা, রাঁচি সহ বিরাট একটা অংশে দেখা যেত বাংলা হরফে লেখা ফলক, দোকানের নাম ইত্যাদি। কালচারে ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। এখানকার আদিবাসী, সাঁওতাল, হো, মুন্ডা প্রভৃতি জনজাতির নিজস্ব ভাষা থাকলেও তারা স্কুলে পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বেছে নিতেন বাংলা ভাষাকেই। এমনকী বাইরের সমাজের সঙ্গে নিজেদের পরিচয় দিতেন বাঙালি বলে। এখনও দেখা যায়,  এই অঞ্চলে বসবাসকারী কুর্মি সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দেন। বাংলাতে কথা বলেন এবং পুজো-পার্বণ ইত্যাদি শুভ অনুষ্ঠান বাংলা রীতি মেনেই করেন।

ইতিহাস ঘেঁটেও দেখা যায় ১৯০৮ সালে যখন জামশেদজি টাটা, টাটা কোম্পানির গোড়াপত্তন করেন সাকচী গ্রামে, তখন এই সমস্ত পরগনা ছিল বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীন। প্রাক স্বাধীনতা কালে বিভিন্ন রকম ভাষা নিয়ে প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয় বটে, কিন্তু রাজনৈতিক কূটকচালিতে সে সব সাকার রূপ পরিগ্রহণ করেনি। ফলস্বরূপ যা হয়,  দক্ষিণ বিহারের বাংলাভাষী সমস্ত অঞ্চলগুলোকে বিহার প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে জাতীয় কংগ্রেসের ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের নীতির বাস্তব রূপায়নের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিকতা বেড়ে উঠতে শুরু করে। আন্দোলন শুরু হয়। তৎকালীন বিহার সরকার ঐ রাজ্যের মানুষদের ওপর হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাথমিক স্তরে ও সরকারি অনুদান যুক্ত বিদ্যালয়ে হিন্দি মাধ্যমে পড়ানোর নির্দেশ আসে। জেলা স্কুলগুলিতে বাংলা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয় ও হিন্দিকে বিহারের আনুষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিহার সরকার বাংলাভাষীদের প্রতিবাদসভা ও মিছিল নিষিদ্ধ করলে মানভূম জেলায় আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। লোকসেবক সংঘ ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সত্যাগ্রহ আন্দোলন এবং ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই জানুয়ারি থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারি টুসু সত্যাগ্রহ আন্দোলন করে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এ আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে যোগদান করে। হাজার হাজার বাংলাভাষী মানুষ কারাবরণ করে। এই অঞ্চলের লোককবিরা বাংলাতে কবিতা রচনা করেন, গান বাঁধেন। ঝুমুর গান ও নাচের মাধ্যমে আন্দোলনকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।

১৯৫৫ সালে লোকসেবক সংঘের তীব্র প্রতিবাদকে প্রতিবাদকে সরকার উপেক্ষা করে। পেশ করা হয় ভুল মানচিত্র, ভুল তথ্য। কিন্তু সরকারি নীতি অনুযায়ী ধলভূম অঞ্চলকে বিহারের অন্তর্গত করা হলেও শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি দস্তাবেজ, দলিল পত্র সব বাংলা ভাষাতেই লেখা হত। দক্ষিণ বিহারের শাসন ব্যবস্থা বাংলাতে রাখার সিদ্ধান্ত বিহার সরকার মেনে নিয়েছিল । এমনকী বিহার বিধানসভায় বাংলা ভাষায় সওয়াল জবাব চালু ছিল। যদিও ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত এই প্রথা চলে। কিন্তু এর পরেও বিহার সরকার বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দিয়ে চলত।

বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলিকে সরকার সুচারু রূপে পরিচালনা করেছে। বাংলা বইপত্রের জোগান দেওয়া হয়েছে নিয়মিত। আবার শিক্ষক নিয়োগ, চাকরি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলা জানা ব্যক্তিদের কোনও অসুবিধা সৃষ্টি হতে দেয়নি। ঝাড়খণ্ড অঞ্চল যখন বিহারে ছিল, বাংলা ভাষার অবস্থা খুব ভাল ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু দক্ষিণ বিহারের এই বিরাট অংশ, ১৪ নভেম্বর ২০০০ সালে  বিহার প্রদেশ থেকে ঝাড়খণ্ড একটি আলাদা রাজ্য বলে ঘোষিত হল, তখন থেকেই বাংলা ভাষা হল কোণঠাসা। সুইট পয়জ়ন নীতি গ্রহণ করল সরকার। বন্ধ করা হল বাংলা মিডিয়াম স্কুল। বাড়ল বাংলা পাঠ্যপুস্তকের অভাব। আর এই অভাব কিছুতেই সরকার চাইল না মেটাতে। ইচ্ছাকৃত ভুলকে কি আর কেউ সংশোধন করে?

যদিও তখন সংখ্যালঘু বাঙালিদের সংখ্যা বেড়ে গেল সংখ্যাগরিষ্ঠতায়। ৪২ শতাংশ। যেটা বিহার রাজ্যে ছিল দশ শতাংশ। আবার পূর্ব সিংভূম, সরাইকেল্লা,  ধানবাদ, পাকুড়, জামতাড়া, দুমকা, সাহেবগঞ্জ প্রভৃতি জেলাগুলোতে ৮৫ শতাংশেরও বেশি। এই অঞ্চলের বিরাট জনজাতি বাংলা ভাষাতেই কথা বলেন এবং সমস্ত রকম সামাজিক, ধর্মীয়, লৌকিক, পারলৌকিক, বিবাহ ইত্যাদি কাজকর্ম বাংলা পঞ্জিকা মেনেই পালন করেন। এমনকী এ সব এলাকার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও বাংলা সংস্কৃতিতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে বাংলা নীতি নিয়ম মেনে চলেন। এই অঞ্চলের এমএলএ এবং এমপি এবং নেতারা ভালই বাংলা জানেন। সাধারণ মানুষ থেকে উপর মহলের আমলা প্রায় সকলেই বাংলা জানেন। বিভিন্ন উঁচু উঁচু পদে বাঙালিরা চাকরি করছেন। অথচ, সবাই কেমন নিশ্চুপ। নিস্পৃহ।

যদিও বলাই বাহুল্য, ঝাড়খণ্ডের মূল সংস্কৃতিই বাংলা কেন্দ্রিক। বাংলা ভাষাকেই কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির প্রচার এবং প্রসার। এই অঞ্চলের ঝুমুর, ভাদু, টুসুগান,  মনসা মঙ্গল, বাউল, ছৌ নাচ, ষষ্ঠী গান, ঝাঁপান গান জাতি ধর্ম নির্বিশেষে জাতীয় সম্পদ। কিন্তু এগুলি আজ বাংলা ভাষা ও লিপির অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের  মুখ্য উদ্দেশ্য। পৃথক রাজ্য গঠনের জন্য এখানকার জনজাতি যে ভাষার জন্য স্বপ্ন দেখেছিল, রাজনৈতিক কোনো কূটচালে আজ সেটি দুঃস্বপ্নের রূপান্তরিত। নতুন রাজ্য গঠনের পরে দেখা গেল, ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নতির পরিবর্তে বাংলা ভাষায় প্রয়োগ করা হচ্ছে সুইট পয়জ়ন।

ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হল বাংলা পাঠ্যপুস্তক ছাপানো। বাংলা পড়তে উৎসাহী ছাত্র-ছাত্রীদের কোনও বাংলা বই দিচ্ছে না সরকার। প্রয়োজন মত শিক্ষক নেই, পাঠ্যপুস্তক নেই। স্কুল নেই। বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলিতে হিন্দি মাধ্যমে রূপান্তরিত করার পন্থা চালু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এমন একটা পরিস্থিতির শিকারে পরিণত করা হয়েছে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে যাতে পাঠ্যপুস্তকের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বাংলা মাধ্যমের স্কুল।

কিছু দিন আগে ২০১৭ সালের পিজিটি পরীক্ষার ফর্ম বেরোলে দেখা গেল, বাংলা ভাষার কোনও অপশন নেই ফর্ম ভরার ক্ষেত্রে। কলেজগুলি থেকে বাংলা তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিএড ক্লাসের মেথড সেকশনে কোনও বাংলা অপশন নেই। কিন্তু পূর্ব সিংভূমের অধিকাংশ কলেজে বহু ছাত্র-ছাত্রী বাঙালি। পার্শ্ববতী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বহু ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে আসেন। বাংলা নিয়ে পড়তে চান। বিএড কোর্সে ভর্তি হন। তাঁদের ইচ্ছা বাংলা মেথড নিয়ে কোর্স কমপ্লিট করার। যাতে তাঁরা পরবর্তী কালে বাংলা শিক্ষক রূপে চাকরির আবেদন করতে পারেন। শুধু জামশেদপুর উওমেন্স কলেজ ছাড়া  পূর্ব সিংভূম জেলার কোনও কলেজ বাংলা মেথড অপশন রাখেনি। এমনকী বহু কলেজ থেকে বাংলা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিগত দু-চার বছরের মধ্যে।

সমস্ত রাজ্য জুড়ে বাংলা ভাষা আন্দোলনকারীদের আন্দোলনের ফলে, সরকারের তরফ থেকে বাংলা ভাষাকে দ্বিতীয় রাজ্য ভাষা রূপে স্বীকৃত দিলেও, তা ওই স্বীকৃতিতেই থেকে গেছে। বাস্তবে তার কোনো সমাধান নেই। কোনো পদক্ষেপও করছে না সরকার। এই অঞ্চলের বসবাসকারী বাঙালিরাও কেমন যেন চুপ হয়ে আছেন।

বিভিন্ন সমিতি, সমন্বয় কমিটি, সংস্থা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।  পাবলিক স্কুলগুলিতে থার্ড ল্যাংগুয়েজের অপশন হিসাবে বাংলাকে রাখাই যায়, তাতে বাঙালি কালচারের ছাত্র-ছাত্রীরা উপকৃত হয়। ভাষাটা অন্তত শিখতে পারে। পারিবারিক ধারাটিকে বজায় রাখতে পারে। তা হলে ঝাড়খণ্ডের মূল সংস্কৃতিও বেঁচে যায়। কিন্তু সমস্ত সমাজ যেন গভীর ঘুমে পর্যবসিত। আর কে না জানে, ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে জাগানো যদিও বা সম্ভব, জেগে জেগে ঘুমানো সমাজকে কখনোই নয়!

শুধু এটুকু বলা যেতে পারে, ঝাড়খণ্ড সরকার যেন নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারছে। কারণ ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলা ভাষাকে অবলুপ্ত করে দেওয়া মানে ঝাড়খণ্ডের লোকসাহিত্য, লোকসংস্কৃতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা!

মতামত লেখকের ব্যক্তিগত 

ফাইল ছবি

বেবী সাউ কবিতা লেখন। তাঁর সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘গান লেখে লালনদুহিতা’।

Leave A Reply