শনিবার, মার্চ ২৩

খিস্তির স্লোগানই কি মুক্তির স্লোগান

দেবতোষ দাশ

বাংলাদেশের টিনএজাররা মারমুখী পুলিশকে ফালতু হিসেবে চিহ্নিত করতে গিয়ে স্লোগান দিয়েছে, ‘পুলিশ কোন *** **’। নকশালরাও এই বাংলায় লাঠি ও ট্রিগার-হ্যাপি পুলিশের বিরুদ্ধে তুলেছিল স্লোগান, ‘পুলিশ তুমি যতই মারো, মাইনে তোমার একশ বারো’। কিন্তু এইভাবে ‘অরাজনৈতিক ট্রোলিং’ পুলিশের বিরুদ্ধে এর আগে অন্যত্র হয়েছে কিনা জানা নেই। পুলিশ অনেক ‘উপাধি’ পেলেও ‘যৌনকেশের’ সঙ্গে সম্ভবত কখনও তুলনীয় হয়নি। এখানেই শেষ নয়, ছাত্রদের ভাষায় অভূতপূর্ব ব্যঞ্জনা ধরা পড়ছে, ‘পুলিশ আঙ্কেল আমাকে মানুষ মারার অস্ত্র দেখাবেন না, আমার কাছে মানুষ তৈরির অস্ত্র আছে’!

যথারীতি সুশীলসমাজ জ্যাঠামশাইয়ের ভূমিকায় নেমে পড়েছে। সুশীলবাবুরা টের পেয়েছেন আন্দোলন কেবল পথ-নিরাপত্তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ ছাত্ররা ইতোমধ্যেই স্লোগান তুলে ফেলেছে দীর্ঘসূত্রি বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও। ‘4G স্পিড নেটওয়ার্ক নয়, 4G স্পিড বিচার ব্যবস্থা চাই’। ক্রমশ আওয়াজ উঠবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। মৌলবাদের বিরুদ্ধেও। ফেসবুকে এইসব দেখে মনে পড়ে গেল কিছু পুরানা প্রসঙ্গ।

সে অনেকদিন আগের কথা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ক্লাসে তখনও ছেলে-মেয়েরা পরষ্পরকে তুমি বলে না। আমাকে কি এই বইটা একদিনের জন্য দেওয়া যেতে পারে? কথা বলে এইরকম ভাববাচ্যে। অ্যাংরি ইয়াং ম্যান বিগ বচ্চনের সিন-এ ঢুকতে তখনও ঢের দেরি। আমাদের মহানায়ক, আমাদের দুঃখদিনের রক্তকমল তখনও নায়িকার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদছেন আর ভাবছেন, অনেক কেঁদেছি, এইবার একটা হেস্তনেস্ত চাই! সালটা ১৯৬৬। মুক্তি পেল উত্তম-মাধবীর ‘শঙ্খবেলা’। নদী বক্ষে নায়ক-নায়িকা গাইলেন, ‘কে প্রথম কাছে এসেছি, কে প্রথম চেয়ে দেখেছি, কিছুতেই পাই না ভেবে, কে প্রথম ভালবেসেছি …’ । তারপরই সেই মোক্ষম লাইন ও মুহূর্ত, ‘তুমি না আমি’ আর উত্তম-মাধবীর নাকে-নাক ঘষা। করতলে আমলকির মতো স্মার্ট ফোন আর সুলভ-পানু-যুগে এইসব শুনলে ম্যাজিক রিয়্যালিজম মনে হয়, কিন্তু এটাই সত্যি, নায়ক-নায়িকার এই নাক-ঘষাঘষি দেখতেই দর্পণা হল-এ গেট ক্র্যাশ। অবদমনের এই ছিল চেহারা।

সঙ্কটময় অর্থনীতি তখন দেশজুড়ে। বেকারত্ব। শিল্পে মন্দা। কৃষি উৎপাদনে মার। মন্দা থেকে মুক্তি পেতে, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের পরামর্শে ইন্দিরা গান্ধী পটাং করে টাকার দাম কমিয়ে দিলেন। ডি-ভ্যালুয়েশন অফ মানি। বারুদ জমছে একটু একটু করে। তামাম ভারতের সঙ্গে বাংলাতেও। অবদমন সর্বস্তরে। ক্ষমতা থেকে যৌনতা। বস্তুত এই অবদমনই, ফ্রয়েডিয় তাড়নায়, ‘রিটার্ন অফ রিপ্রেশন’ হয়ে ঠিক পরের বছরেই ফেটে পড়েছিল নকশালবাড়ির অগ্নিবলাকায়। উৎপল দত্ত গলার শির ফুলিয়ে তর্জনী উঁচিয়ে চিহ্নিত করেছিলেন, ‘একদিকে নকশালবাড়ি, অন্যদিকে বেশ্যাবাড়ি!’

কেবল ভারতে নয়, চৈনিক অনুপ্রেরণায় গোটা বিশ্বেই তখন প্রতিষ্ঠান-বিরোধী সাইক্লোন। সমাজতত্ত্ববিদ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার বলেন, “৬৮-তে সূচিত ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবে’ যতই উলটোপালটা বেহিসেবি কারবার হয়ে থাক, ‘de-centering’ বা ‘কেন্দ্রচ্যুতি’র চৈনিক কায়দা তখন অনেককেই উদ্বুদ্ধ করেছিল।” তামাম দুনিয়াকে ঘেঁটি ধরে ঝাঁকিয়ে দিল মূলত নিও জেন, নূতন যৌবনের দূত। যাবতীয় বস্তাপচা ধ্যানধারণা আর রদ্দি ভাবনাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে হটিয়ে দিল তরুণ-ব্রিগেড। নড়ে গেল পলিত বুড়োর দল।

১৯৩৭-এ লেখা মাও-এর ‘অন কন্ট্রাডিকশন’ যেন হাজির হল নয়া রূপে। নতুন অর্থ নিয়ে। গর্জে উঠল বাংলা থেকে প্যারিসের রাজপথ। দীর্ঘ অবদমন একটা সময় আর অবরুদ্ধ থাকতে পারে না। ফেটে যায়। মায়ের পেটে যখন সে আর থাকতে পারে না, তখনই ভূমিষ্ট হয় শিশু।

রাষ্ট্র, পরিবার, ইশকুল কিংবা পার্টি, সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই বিশ্বজুড়ে তখন প্রতিস্পর্ধার দাপট। আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৬৮ সালের গ্রীষ্মে গর্জে ওঠেছিল ফ্রান্সের ছাত্রসমাজ। লক্ষ ছাত্র সেদিন দখল নিয়েছিল প্যারিসের রাজপথ আর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গলের মেরুদাঁড়ায় কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল সে আন্দোলন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্রদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করতেই শুরু হয়েছিল প্রতিবাদে প্রতিরোধে কমরেড, গড়ে তোলো ব্যারিকেড। সে দ্রোহকালে ছাত্ররা ঘোষণা করেছিল ঈশ্বরের মৃত্যুদণ্ড। চিৎকার করে বলেছিল, ‘অল পাওয়ার করাপ্টস্‌, অ্যাবসোল্যুট পাওয়ার করাপ্টস্‌ অ্যাবসোল্যুটলি’! ‘আমরা পুঁজিবাদের পাহারাদার কুকুর বা চাকর হতে চাই না’!

টকে যাওয়া তরকারির মতো সামাজিক ধ্যানধারণা, শিক্ষা-ব্যবস্থা আর যৌন ট্যাবুর বিরুদ্ধে ছিল তাদের জেহাদ। ছাত্রদের সমর্থনে সেদিন এগিয়ে এসেছিল ফ্রান্সের শ্রমিককুল। দেশের প্রায় কোটিখানেক শ্রমিক সেদিন ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল তাদের নিজস্ব দাবি-দাওয়াসহ। বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, চিন্তাবিদ জঁ পল সার্ত্র এবং আরও ১২১ জন ইন্টেলেকচ্যুয়াল সেই দ্রোহকালকে মান্যতা দিয়েছিলেন। ফরাসী ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। স্বীকার করেছিলেন তাদের ‘অবাধ্যতার অধিকার’।

ফরাসি বিপ্লবের বহু বছর পর ফ্রান্সে আবার উঠেছিল অসম্ভবের দাবি। ‘Demanding the Impossible’। গ্রাফিতি আর নয়া স্লোগানে ভরে গিয়েছিল দেওয়াল। বাসি বেগুনির মতো প্রাচীন সিলেবাস আর পচা শিক্ষা-ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেওয়ালে লেখা হল, ‘রিড লেস, লিভ মোর’। নকশালদেরও ছিল প্রায় অনুরূপ স্লোগান, ‘যে যত পড়ে সে তত বেশি মুর্খ হয়’!

ফ্রান্স তথা গোটা বিশ্বে মুলত স্লোগানে স্লোগানেই চিহ্নিত হয়ে গেল সময়ের দাবি। পক্ষান্তরে আন্দোলনের গভীরতা ও মেধা চিহ্নিত হয়, সেই আন্দোলন থেকে উঠে আসা স্লোগানেই। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আন্দোলনরত শিশু-কিশোরদের স্লোগান শুনে মনে পড়বেই ১৯৬৮-এর সেইসব বারুদগন্ধী স্লোগান। ‘ব্যারিকেডে অবরোধ হয় রাস্তা, খুলে যায় পথ!’ ‘দ্য ব্যারিকেড ব্লকস দ্য স্ট্রিট বাট ওপেনস দ্য ওয়ে’। বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরা, সেই স্লোগানের পঞ্চাশ বছর পরে, রাস্তা ব্যারিকেড করে অবলীলায় লিখল, ‘রাস্তা বন্ধ আছে, রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে: সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত’।

মৌলবাদ, ফতোয়া, চাপাতি আর দুর্নীতির জালে অবরুদ্ধ সমাজ। বেপরোয়া বাস ড্রাইভিং-এ দুই টিনএজারের মৃত্যু খুলে দিল বহুদিনের অবরোধ। চিঙ্গারি ছিটকে এসে পড়ল বারুদস্তুপে। ঢাকার রাজপথের দখল নিল টিনএজার ছাত্রকুল। অবদমন ফাটিয়ে সে রাষ্ট্র মেরামতির দায়িত্ব নিয়ে নিল কাঁধে। কাঁধ ছোট হলেও স্বপ্ন বিরাট। ৬৮-এর ছাত্রদেরও তাই ছিল। তাদের স্লোগানেও ছিল অবরুদ্ধ গর্ভ থেকে মুক্তি।

‘আমাদের কোনও প্রশ্ন নেই, আমাদের কোনও দাবি নেই, আমরা কেবল দখল নেব’।

‘মৃত সময়কে ফেলে বাঁচো, শৃঙ্খলা ছুঁড়ে ফেলে উপভোগ কর জীবন’।

‘হে অধ্যাপককুল, আপনারা আমাদের বুড়োটে বানান’।

ছাত্ররা ঢাকার রাস্তায় নেমে সমস্ত গাড়ির এমনকী মন্ত্রী-সান্ত্রির বেপরোয়া চালককে পর্যন্ত শিখিয়ে দিচ্ছে সবক। আশ্চর্যের ব্যাপার ছাত্ররা সব সপ্তম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। পুলিশ যথারীতি পুলিশ, সব দেশের পুলিশই তাই হয়, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর। লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের ওপর। পুলিশকে যৌনকেশের সঙ্গে তুলনা করে স্লোগান দিতেই যথারীতি রে-রে করে উঠল সুশীলবাবুরা। অশ্লীল! অশ্লীল! মুহূর্তে পাল্টা-স্লোগান উঠে গেল, ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফুর্ত আন্দোলনকে, তার ভাষাকে অশ্লীল বলাটাই অশ্লীলতা! ধাঁ করে মনে পড়ে যাবে প্যারিসের ছাত্রদের ভাষা, ‘ইট ইজ ফরবিডন টু ফরবিড’! কোনও কিছুর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারিই নিষিদ্ধ।

ভাষা-প্রয়োগের সেন্সরশিপ ভারতীয় উপমহাদেশে অন্যতম সমস্যা। বাংলা ভাষায় এই অবদমন পশ্চিমবাংলা ও বাংলাদেশে পরিচিত। দীর্ঘদিন ভিক্টোরিয় শাসনে থাকার দরুণ ‘শিক্ষিত মধ্যবিত্ত’ সমাজ ভদ্রলোক ও ছোটলোক এই বাইনারিতে বিভক্ত। প্রাইভেট স্পেসে যা বলা যায়, পাবলিক স্পেসে তা বলা যায় না। ছাত্ররা এই সেন্সরশিপের চাদর ধরে টান মেরেছে। তৈরি করা সব স্পেস ও বাইনারি তারা গুঁড়িয়ে দিতে চায়। ফলত ভাষাপ্রয়োগে বাড়াবাড়িও ঘটে চলেছে। আর কে না জানে, বিপ্লবের সুসময়ে এমন বাড়াবাড়ি ঘটে থাকে। পঞ্চাশ বছর আগে ফরাসী ছাত্ররা বলেছিল, ‘বিপ্লব অবিশ্বাস্য, কেননা তা এখন সত্যি সত্যি ঘটছে’!

ফ্রান্সের ছাত্ররাও তাপ্পিমারা ভোগে-যাওয়া সমাজের পলেস্তারা নতুন করে লাগাতে যায়নি, পুরোটাই ভেঙে ফেলতে চেয়েছিল। ‘যত বার খুলবে প্যান্টের জিপার, তত বার তুমি খুলে ফেলবে তোমার মনের বোতামগুলো।’ জেষ্ঠ্যতাতদের মুখের ওপর তারা বলে উঠেছিল। আর মৃত ঈশ্বরের থুতনি নেড়ে তারা লিখে দিয়েছিল দেওয়ালে, ‘প্রার্থনা করার জায়গা লাগবে না, পেচ্ছাপ করার জায়গা দাও আমাদের’। থতোমতো পলিটব্যুরোকে তারা শুনিয়ে দিয়েছিল, ‘রান কমরেড, দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড ইজ বিহাইণ্ড ইয়ু’!

বাংলাদেশের শিশুপড়ুয়াদের এই আন্দোলন কোথায় পৌঁছোবে সময় বলবে, কারণ গত পঞ্চাশ বছরে রাষ্ট্র অনেক শক্তিশালী হয়েছে। প্রত্যেক রাষ্ট্রেরই এখন ৫৬ ইঞ্চি ছাতি। নাদান পোলাপানেরা এই হিংস্র থাবা থেকে কীভাবে রক্ষা পাবে কেউ জানে না। কিন্তু তারা ইতোমধ্যেই ফালাফালা করে দিয়েছে ভাষিক ট্যাবু। স্লোগানে স্রেফ ‘খিস্তি’ প্রয়োগ করেই তারা ঘরে-বাইরে মনোযোগ আকর্ষণ করে নিয়েছে। অথচ আমাদের এপার বাংলায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন কোনও সামাজিক ট্যাবুকেই চাঁদমারি করতে ব্যর্থ। দুদিন আগেই আমাদের শহর কলকাতা উত্তাল হল ছাত্র আন্দোলনে। ছাত্রদের নাছোড় অনশন-আন্দোলনে মাথা নোয়াল কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের তীব্রতাও টের পেল প্রতিষ্ঠান। পাওয়া গেল বৃহত্তর সমাজের সমর্থনও। কিন্তু উঠে এল না কোনও মেধাবী স্লোগান যা সময়টাকে চিহ্নিত করবে। নিতান্তই পাওনাগণ্ডার আপোষ-মীমাংসায় শেষ হল আন্দোলন। স্লোগানে স্লোগানে বৃহত্তর কোনও দ্রোহপথের দিক-নির্দেশও করতে পারল না তারা।

ফ্যাসিস্টদের বুটধ্বনি দোরগোড়ায়, মানুষে-মানুষে আড়াআড়ি ধর্মীয় বিভাজন করে সমাজে চরম অস্থিরতা আনতে মরিয়া গেরুয়া সন্ত্রাসবাদীরা, এখনও কি গর্ভযন্ত্রনা ওঠেনি এই অবরুদ্ধ সমাজের? গর্ভ ফাটিয়ে আমরা কবে বলতে পারব, ‘বি রিয়্যালিস্টিক, ডিমান্ড দ্য ইমপসিবল’! ‘বাস্তববাদী হও, ওঠাও অসম্ভবের দাবি’! ওপার বাংলার টিনএজারদের মতো আমাদের ছাত্ররাও কবে পলিতকেশ সুশীলদের থুতনি নেড়ে বলবে, ‘টনক তুমি নড়বে কবে?’

দেবতোষ দাশ এই সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক। কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর গবেষণার ওপর আধারিত তাঁর উপন্যাস ‘বিন্দুবিসর্গ’। লেখকের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস ‘বিয়োগপর্ব’ ও ‘হলুদ কোকাবুরা’। গল্পগ্রন্থ ‘ধর্ষণের ১৮ দিন পর’।

Shares

Leave A Reply