মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১
TheWall
TheWall

বাঙালিত্বের নানান খোপ এবং সাম্প্রতিক আসাম-পর্ব

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

অরূপকুমার দাস

আমার প্রথম যৌবন ও কৈশোর-সন্ধিকালের একটা ঘটনার কাহিনী স্মরণ করিয়ে বিষয়টায়  ঢোকা যাক। ঘটনাটা অন্তত তিরিশ বছর আগের ; ১৯৮৭-৮৮ সালের।অকুস্থল হাওড়া জেলার বহুপরিচিত বেলুড় -ঘুষুড়ি সীমান্তের ‘বজরংবলী‘ লোহা-আড়তের একটা রাস্তা বজরংবলী রোড। ওই রাস্তাটাই জি.টি. রোড থেকে লোহা-বাজারের প্রধান প্রবেশপথ। এই রাস্তার বাঁদিক দখল করে সারাবছর দিনরাত বড় লরি দাঁড়িয়ে থাকে। গাড়ি ও মানুষকে চলতে হয় ফাঁকা থাকা বাকি অর্ধেক রাস্তা দিয়ে। যাতায়াতকারীরা মুখ্যত ছাঁট লোহার আড়ত্দার, দালাল, কম মজুরির শ্রমিক, দারোয়ান এবং ওই জাতীয় ক্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের দল। অধিকাংশই অবাঙালি; মুখ্যত বিহার,উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর-মধ্য ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসা ও স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়া ভাগ্যান্বেষী মানুষ। তখন ওই এলাকার মাঝারি মাপের ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাগুলো (শ্রমিক সংখ্যা চার-পাঁচশো) পরের পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ‘ক্লোজার’, ‘লে-অফ’, ‘লক-আউট’-এর ফলে।

এ হেন পারিপার্শ্বিক পরিমণ্ডলে একদিন খুব সকালে শোনা গেল ওই বজরংবলী রোডে একটা চোরকে ধরে ওখানকার লোকেরা অমানুষিক পেটাচ্ছে; যারা মুখ্যত বিহারী ড্রাইভার, খালাসি, হেল্পার এবং ছোট লোহা গোডাউনের দারোয়ান। ঔৎসুক্যবশে সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ আমিও অনেকের সঙ্গে ছুটে গেছি। দেখি, হাত পিছমোড়া বাঁধা কোমরে দড়ি সেই চোরের শরীরের নানা অংশ ফুলে গেছে মারের চোটে । মুখ দিয়ে রক্তও বেরোচ্ছে । কিন্ত মার থেমে নেই। যারা নতুন আসছে;  তারাও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ঘটনার নির্যাস শুনে নিয়ে, ‘মারো শালেকো!’ বলে হাতের সুখ করে নিচ্ছে। প্রহারকারীরা অধিকাংশই অবাঙালী। দেখা গেল, চোর তখনো অনমনীয়। সে মার খাচ্ছে; কিন্তু চুরির কথা স্বীকার করছে না। বরং নিজেকে পাগল প্রতিপন্ন করার মতো আচরণ করছে। মারের চোটে ফর্দা ফাই হয়ে যাওয়া তার জামা-প্যাঁন্টের পকেট থেকে বেরোচ্ছে প্লাস্টিকের বাঁশি, খেলনা পুতুল, পোড়া বিড়ির টুকরো ইত্যাদি। তার এই ‘ছদ্ম’পরিচয়-সহায়ক মালপত্র দেখে ‘হাতের সুখ’ করে নেওয়া জনতা আরও ক্ষেপে গিয়ে চড়-থাপ্পড় দিতে দিতে হতোদ্যম হয়ে একজন একসময় বলে, ‘শালে বাঙ্গালী হ্যায়!’

‘গৌরচন্দ্রিকা’ এতটা করতে হলো এই ‘শালে বাঙ্গালী হ্যায়’ উচ্চারণটায় পৌঁছবার জন্য। কথাটা উচ্চারিত হওয়ামাত্র আমার এক পরিচিত নিকটজন দেখলাম চোরের ‘বাঙালি’ পরিচয় নস্যাৎ করে উচ্চারকদের ভুল ভাঙাতে বলল , “নেহি নেহি, এ বাঙাল হ্যায়! দেখতা নেহি, ক্যায়সা টান হ্যায় উসকা বাৎমে! অর্থাৎ পাশের পাড়া থেকে মারের মজা দেখতে যাওয়া সেই শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত বাঙালি যুবক বিহারী উত্তরপ্রদেশীয় হিন্দিভাষীদের কাছে পাকড়াও হওয়া চোরের থেকে নিজের ও নিজেদের ‘বাঙালি’সত্ত্বার “ইজ্জত” (!) রক্ষা ও পৃথকত্ব প্রতিপন্ন করতে জানাচ্ছে যে,  ধৃত ‘চোর’ ‘বাঙালি’ নয়, ‘বাঙাল’ ! তার এই আত্মবিযুক্তিকরণ প্রমাণ সিদ্ধ নয়, কেবলই ধৃত মানুষটার প্রহারে-কাতর বিলাপ উচ্চারণ থেকে অনুমিত সিদ্ধান্তে পৌঁছন! মূল কারণটা অবশ্যই অসহায়তা। নিজে বাঙালি হয়েও সে অতগুলো অবাঙালি মানুষকে বলতে পারছে না যে, এই রকম বর্বরোচিত প্রহার না করে লোকটাকে পুলিশে দাও; এমন মেরে রক্তাক্ত করার অধিকার তোমাদের নেই ; লোকটা চুরি করলেও !

সেদিন আমার সেই পরিচিত বাঙালি যুবক অসহায় ছিল নিজের রাজ্যে, কেননা সেই পরিমণ্ডলে ‘বাঙালি’ সংখ্যালঘু। ঘটনাস্থল বাঙালি-জনগরিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার মাত্র সাত-আট কিলোমিটার সীমার মধ্যে! হাওড়া শিল্পাঞ্চলের ওই এলাকার তখনকার জনবিন্যাসে বাঙালি ছিল বড়জোর তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ শতাংশ। বাকি ৬০-৬৫ শতাংশ অবাঙালি; যাদের বেশিরভাগ বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাত এবং ওড়িশা থেকে এক-দু’প্রজন্ম আগে আসা মানুষ। আজ সম্ভবত ওইসব অঞ্চলে অবাঙালি ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আজ সেখানে বাঙালি কতটা অসহায় তা আমার জানা নেই, কেননা ২৩ বছর আগে আমি ওই অঞ্চল ছেড়ে চলে এসেছি।

অসম রাজ্যে গত ৩০ জুলাই প্রায় ৪১ লক্ষ মানুষকে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার করার ফলে তাদের বিপন্নতায় এখানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আহত আবেগ পুনরায় প্রকাশ হওয়ার উৎসমুখে ফুটন্ত লাভা উদ্গীরনের মুখে উপনীত হয়েছে। ব্যাপারটা নতুন নয়। সেই ’৪৭ এর পর থেকেই চলছে। প্রথম কংগ্রেস দল জওহরলালের নেতৃত্বে ক্ষুদ্র-স্বার্থ চরিতার্থতায়  এতে হাওয়া দিয়েছিল। ‘৫৪ সালে গোয়ালপাড়া জেলায় প্রথম শুরু হয়েছিল ‘বঙাল খেদা’ আন্দোলন। হাজার হাজার বাঙালি-গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। নারীধর্ষণ, শিশুহত্যাও বাদ ছিল না সেই আন্দোলনে। আবার ’৬০ থেকে শুরু হয় তৈল শোধনাগারের বাঙালি অফিসার হত্যা করে। ১১মে ১৯৬১-শিলচর স্টেশনে ১১ জন ভাষা সত্যাগ্রহীকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে । ’৭০-’৭১এ বাঙালি-বিদ্বেষী দাঙ্গা হয়। ’৭৯-’৮০ তেও প্রচুর মানুষকে ভিটেছাড়া করা হয় সারা অসম জুড়ে। ১৪ আগস্ট ১৯৮৫’র রাজীব গান্ধী-প্রফুল্ল মহন্ত চুক্তিও বাঙালি-বিরোধী খণ্ড-জাতীয়তাবাদকে ধুনো দিয়েছে। প্রায় ৬৯ বছর যে সংকীর্ণতার ফয়দা নিয়েছে কংগ্রেস ; আজ সেটাই হাতিয়ার হয়েছে বিজেপির।

কথা হচ্ছে , চিরকাল শোষক শ্রেণী এই জাতিবিদ্বেষ ব্যবহার করে স্বার্থ চরিতার্থ করবে , আর আমরা জাতীয়তাবাদী বিলাপে চরাচর বিদীর্ণ করবো , এতেই কি সমাধান সুনিশ্চিত হবে ? এ তো ১৮৭৪ সাল থেকেই চলছে। সেবার সিলেট, কাছাড় ও করিমগঞ্জকে আসামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল  ওই জেলাগুলো বাঙালিপ্রধান হওয়া সত্ত্বেও। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ ও ১৯১১-এর পুনর্গঠনের সময়েও সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকার এই সমস্যা জিইয়ে রাখে ।

আজকের অসমের জাতি সমস্যার প্রকৃতি বদলে গিয়েছে। সেটাকে অধিক ক্ষেত্রে না বুঝে, কয়েকজন বুঝেও না বোঝার ভান করে যে আহত জাতীয়তাবাদের আবেগে এ রাজ্যের বাঙালিকে মাতাতে চাইছেন , তাঁদের প্রয়াসে কিছু বাঙালির (এখানকার) গা গরম হলেও অসমের প্রকৃত বাঙালির উপকার হবার কারণ নেই !  কেন একথা বলছি , তা ব্যাখা করা যাক ।

প্রথমত , যেভাবে এই নাগরিক- তালিকায় নাম ওঠা- না ওঠাকে কেন্দ্র করে ‘ বাঙালির’ অপমান ও বিপন্নতার আবেগ -দোলায় ঢেউ তোলার চেষ্টা হচ্ছে ; তা ভুবনীকৃত (globalized) পৃথিবীতে কতটা কলকে পাবে ? এই আবেগকে ঠেলে চাগানো ও জাগানোর প্রয়াসে বাস্তববোধেরও নিদারুণ  অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে , চিহ্নিত প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের অনেকেরই আগমন ঘটেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ‘ থেকে। শুধু স্বাধীনতা পরবর্তী ২৪ বছরেই নয়, পরের ৪৭ বছরেও জীবিকার সন্ধানে ওই দেশ থেকে শুধু অসমে নয়, প্রায় সব ভারতীয় প্রদেশেই এরা অবৈধ পথে ঢুকেছে এবং এখনও প্রতিদিন ঢুকছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, এই অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে ঢোকা থেকে শুরু করে তাদের থাকার জায়গা খুঁজে দেওয়া, অবৈধ নকল/ আসল ভোটার কার্ড, রেশনকার্ড ও আধার কার্ড বানিয়ে দেওয়ার কাজ করে বেঁচে  আছে কয়েক হাজার বা কয়েক লক্ষ ‘ভারতীয়’, যাদের নৈতিক কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও রাষ্ট্রীয়তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই !

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ঢুকে ‘ভারতীয়’ ধরাচুড়োয় আত্মপরিচয় ঢেকে ফেলা এই মানুষগুলো ‘বাংলা’ ভাষার বিভিন্ন আঞ্চলিক উচ্চারণে কথা বললেই তাদের জন্য আমাদের ‘বাঙালি’অর্কেস্ট্রায় সিম্ফনি ও জগঝম্প তুলতে হবে ; তবেই আমরা খাঁটি বাঙালি , নইলে ‘মেকি’–এ ধারাপাত বা বর্ণপরিচয় কোন ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছে; এবং তাতে আমরা মুচলেকা বা ‘বন্ড’ সই দিলামই বা কবে ? অথচ, ‘ফেসবুক’ নামক ‘একচেটিয়া বহুজাতিক গণমাধ্যম’ টির আপাত- মুক্ত পরিসরে তেমন কলমবাজি শুরু করেছেন একদল অতি বাঙালি!

তৃতীয়ত, এই গেল গেল রবে চোখ বুজে হাওয়া তুলে যারা বাজার মাত করতে চাইছেন , তারা নিজেদের নৈরাজ্যবাদী মানসিকতাকেই নতুন মোড়কে চেনাচ্ছেন। গত ৫০ বছরে এরাই কখনও’ ‘ঘটনা ঘটাও ফয়দা ওঠাও’ , কখনও ‘হোক কলরব’ , ‘চুম্বনও হোক পথেঘাটে’, কখনও ‘নিরপেক্ষ’ আন্দোলন-শেষে ‘ লাল’ আবিরের  জয়-উৎসব করে ‘কমরেড’দের ‘ব্যারিকেড‘ গড়ার  খোঁয়ারিতে পথে নামেন !

বস্তুত বর্তমান ভারতে এখন দক্ষিণপন্থার পূর্ণ বিকাশের পর্ব চলছে। তাঁরা (দক্ষিণপন্থীরা) নানান মায়াফাঁদ তৈরি করে ‘গণতন্ত্র’ , ‘সমানাধিকার’ , ‘ মানবতা’ , ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’,  ইত্যাদি আধুনিক জীবনোপযোগী সৎ জীবনদর্শনগুলোকে পাঁকে ও আঁস্তাকুড়ে ডুবিয়ে দেবার মতলব ফেরি করছে। তাদের কৌশলের সহজ শিকার হচ্ছে তথাকথিত ‘বুদ্ধি’ মান ও ‘বুদ্ধি’জীবীরা ; ভারতে তো বটেই , এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও! তাই চার বছরে নির্লজ্জ ও নির্দয় শোষণে গণমানসকে জর্জরিত করা শ্রেণির প্রতিভূ দলপতিরা। তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার অনুকূল বাতাসে ভর করে তারা কয়েকটি রাজ্যে ক্ষমতা হাতে পেয়েই নিজেদের প্রকৃত স্বরূপ খুলতে শুরু করেছে ‘জাতি’ , ‘ধর্ম’,‘ভাষা’ প্রভৃতি নির্বাপিত বা স্তিমিত অশান্তির উত্সগুলোকে খুঁচিযে তোলার কাজে। পূর্ব ভারতে হিন্দু-অভিবাসী বনাম মুসলমান অনুপ্রবেশকারী, বাঙালি-অবাঙালি, ভুমিসন্তান–বহিরাগত বিরোধের আগুন জ্বালানোর অভিসন্ধি সমাপতিত হল ৩০ জুলাই এর জাতিউত্স নিরীক্ষা-প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায়।

ইতালির দার্শনিক মেকিয়াভেলি  (১৪৬৯ – ১৫২৭) তাঁর ‘লেবেন স্রৌম‘ (Lebensraum) তত্ত্বে বলেছিলেন,  ‘কোন দেশকে দখল করতে হলে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়টি হচ্ছে সে দেশে দলে দলে মানুষ পাঠানো, কেননা, সৈন্য পাঠিয়ে দেশ দখল করার যা খরচ এবং ঝুঁকি, তার থেকে এই পদ্ধতি অনেক সুলভ।’ সাম্রাজ্যবাদী এই কৌশল পাঞ্জাব- কাশ্মীরে অনেকদিন থেকেই সক্রিয় পাকিস্তানের মাধমে। পূর্বদিকে কৌশলের মোড়কটা বদলে নিয়েছে তারা ; সঙ্গী বাংলাদেশ আর মায়নামার দুটি দেশের সরকার। এরা খণ্ড জাতিবাদীদের অস্ত্র – প্রশিক্ষণ যেমন দিচ্ছে; তেমনি ধারাবাহিকভাবে মানুষ ঢোকাচ্ছে বর্ডারগুলোকে ব্যবহার করে। এই ধরনের অশান্তি অবিরত বজায় থাকলে রাষ্ট্র শাসকদেরও জনতার দৃষ্টি বিভ্রান্ত করে রাখতে সুবিধা। সেই সত্যটা আমাদের প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবীরা শাসকদের ফাঁদে পা গলিয়ে ভাষা – জাতীয়তাবাদের আবেগের পালে হাওয়া দিতে লেগেছেন। তাঁরা বুঝছেন না যে ; এ যুগে এই ‘সেন্টিমেন্টালিজম’ পুরনো বস্তাপচা হয়ে গেছে ; এ দিয়ে বৃহত্তর মানুষকে আর মাতিয়ে তোলা যাবেনা !নেশার কারবারীরা যখন দেখে খদ্দের কমে গেছে; তখন নিজেরাই তীব্র নেশা করে হল্লা করে । ‘ফেসবুক’ জাতীয়তাবাদীদেরও  সেই দশা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

 আজকের ভারতে বাংলাদেশ থেকে আসা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী বাংলাভাষী মানুষদের বিপুল সংখ্যক ছাপোষা ও কিছু নাশকতাকারীকে নিয়ে রাষ্ট্রশাসকদের অসহায়তা দৃষ্টে  Lebensraum তত্ত্বের ফলিত প্রয়োগের সাফল্যই প্রমাণিত হয়। ১৯৭১ সালে দখলে পেয়েও ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় কোষাগারের বিপুল অর্থ অপচয়কর যুদ্ধজয়ের দ্বারা যে ভূখণ্ডের মানব যূথকে ‘স্বাধীন’ করে দিয়েছিলেন ; সেই ইসলামী রাষ্ট্র শুধুমাত্র মানুষ প্রজননের অনিয়ন্ত্রিত ‘অস্ত্র’(!) সম্বল করে ভারতের শ্রম শিল্পের আধিক্যপুর্ণ শহরগুলোর (মুম্বাই, দিল্লী , পুনে , নাসিক, কলকাতা প্রভৃতি) প্রান্তিক শ্রমক্ষেত্রই শুধু নয় , রাজনীতির কেন্দ্রীয় পরিসরেরও অনেকটা দখল করে নিয়েছে ! এর থেকে বেদনা এবং ট্রাজেডি আর কি হতে পারে ? জন-রাজনীতি আপাতদৃষ্টে দল আর গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বচালিত মনে হলেও এর প্রবাহ নদীর পথ পাল্টে পাল্টে চলার মতোই। সেই প্রবাহকে পাড় বাঁধিয়ে তো নয়ই ; বাঁধ দিয়েও অভীপ্সিত পথে নিয়ন্ত্রিত করা যায় না। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে স্বাধীন ভারতে ২০১৮ সালেও ‘বাঙালি’ত্বের সংকট তা আর একবার প্রমাণ করছে!

লেখক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘ ষাট ও সত্তর দশকের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলা কথাসাহিত্য ‘ 

Share.

Leave A Reply