কলেজ-পুলিশ

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    তুলকালাম চলছে রাজ্যে। শিক্ষামন্ত্রী রুষ্ট, মুখ্যমন্ত্রী তার চেয়েও বেশি। উর্দি-পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ— সবাই মিলে তাঁদের নির্দেশে ‘ডিউটি’ দিচ্ছেন কলেজের চার পাশে। চোর-ডাকাত-গুন্ডা-বদমাইশ নয়, তাঁদের কাজ ছাত্রনেতা ধরা। কলেজ চত্বরের আনাচ-কানাচে যাঁরা সপারিষদ সক্রিয় গুন্ডা-ট্যাক্স আদায়ে। পূর্বসূরিদের কাছে যে মন্ত্র তাঁরা শিখেছেন, তার মোদ্দা বার্তা, ‘ফেলো কড়ি, নাও অ্যাডমিশন’। আর না ফেলতে পারলে? ভাই, মানে মানে কেটে পড়ো।

    এমতাবস্থায় দু’টি বিনীত প্রশ্ন বোধ হয় উত্থাপন করাই যায়। এক নম্বর প্রশ্ন, কলেজে আসনের সংখ্যা এবং সেই আসনে আসীন হতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীর সংখ্যায় এতই তারতম্য, চাহিদা আর জোগানে এত ভয়ঙ্কর ফারাক— তাতে সামান্য কয়েক জন পুলিশকর্মী দিয়ে এই টাকা-আদায়-চক্রকে বাগে আনা সম্ভব?

    দু’নম্বর জিজ্ঞাসা, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে হররোজ কড়া কড়া বিবৃতি দিতে হচ্ছে, পুলিশের বড়কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ছাত্রনেতা ধরার ফাঁদ পাতার পরিকল্পনা রচনা করতে হচ্ছে, আর ছাত্রনেতাদের গুরু ও গুরু-মা স্তরীয় বড় নেতানেত্রীরা মুখে কুলুপ এঁটে শীতকালের সরীসৃপের মতো হাইবারনেশনে চলে যাচ্ছেন। এটা কি মা-মাটি-মানুষের সরকার-শাসিত বিশ্ববাংলার ভাবমূর্তির পক্ষে বড় বিজ্ঞাপন?

    এত কাণ্ড হয়তো করতে হতো না, যদি অনলাইন ভর্তিকে প্রকৃত অনলাইন ভর্তির চেহারাটাই দেওয়া যেত। কেন্দ্রীয় অনলাইনের মাধ্যমে স্বচ্ছতাকে সুনিশ্চিত করা যেত। করা যে যায়, সে তো রাজ্যবাসী দেখেছেন। প্রাক্তন এক শিক্ষামন্ত্রীর সেই উদ্যোগে ঠান্ডা জল ঢালা না হলে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে এত শব্দ খরচ বোধ হয় করতে হতো না। এত কাঠখড়ও পোড়াতে হতো না।

    তা হলে উঠছে সেই মোক্ষম প্রশ্ন। সহজ রাস্তা পরিহার করা হচ্ছে কেন? সেটা পরিষ্কার নয়। আর আমজনতার কাছে যত দিন না সেটা পরিষ্কার হচ্ছে, তত দিন এই দৈনন্দিন তর্জন-গর্জন বিশ্বাসযোগ্য হবে কি না, সে ব্যাপারে সংশয় থেকেই যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More