বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

নথি জাল করে অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও প্রায় তিন লক্ষ! গুরগাঁও থেকে ধৃত প্রতারক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে বারেবারে উধাও হয়েছে টাকা। এ ভাবেই মোট ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা তিনি খুইয়েছেন বলে ওয়াটগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন হরিসভা স্ট্রিট-নিবাসী সতীশকুমার শ। ৩ জানুয়ারি দায়ের করা ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেছিলেন, তিন দিন ধরে কে বা কারা এই টাকা সরিয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি।

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার খিদিরপুর ব্রাঞ্চে তাঁর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বরটাও রহস্যজনক ভাবে অকেজো হয়ে গেছিল তিন দিন আগে থেকেই। শেষমেশ, মাসখানেক পরে গুরগাঁও থেকে ধরা পড়ল অভিযুক্ত প্রতারক। তার কাছ থেকে দু’টো স্মার্ট ফোন, একটি ভুয়ো ভোটার কার্ড ছাড়াও একটি করে আধার কার্ড ও ডেবিট কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারী অফিসারেরা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সতীশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্টে নেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু করা হয়েছিল বিহারের বৈশালী এলাকা থেকে। তার পরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক বার টাকা তুলে ফের পাঠানো হয় আলাদা আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। পাশাপাশি, পেটিএম, মোবিকুইকের মতো কয়েকটি ই-ওয়ালেটের অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয় টাকা। সেই সব অ্যাকাউন্ট ভাল করে খতিয়ে দেখে গৌরব রাজ নামের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারী অফিসারেরা।

গৌরব রাজের ছবি জোগাড় করে ফেলে পুলিশ। সেই ছবি দেখে তাকে চিনতে পারেন সতীশ। সতীশ জানান, মাস দুয়েক আগে পাটনায় ঘুরতে গিয়ে একটি গুরুদ্বারে তাঁর আলাপ হয়েছিল গৌরবের সঙ্গে। সতীশের দাবি, কী ভাবে নতুন স্মার্টফোন ব্যবহার করতে হয়, তা শেখানোর অজুহাকে নিজের ফোনে সতীশের ভোটার আইডি কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই-সহ তাঁর মুখের ছবিও তুলে নিয়েছিল গৌরব।

এই তথ্য জানতে পেরেই এই জালিয়াতি আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে যায় তদন্তকারী অফিসারদের কাছে। সতীশের ছবি ও ভোটার কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে গৌরব সতীশের নামে একটি ভুয়ো ভোটার কার্ড বানায়। সেই কার্ডের বিনিময়ে সতীশের মোবাইল নম্বরেই সে একটি ডুপ্লিকেট সিমও নেয়।

নতুন সিম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগের সিমটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করেছিল গৌরব। নতুন সিম থেকে সতীশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু করে সে ধাপে ধাপে বিপুল টাকা সরিয়ে নেয় অন্যত্র। পুরনো সিম কাজ না করায়, এর কিছুই শুরুতে জানতে পারেননি সতীশ। যখন জেনেছেন, তত ক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।

সতীশের অ্যাকাউন্ট থেকে কোথায় টাকা পাঠানো হচ্ছিল সেগুলি চিহ্নিত করে সেই সমস্ত ব্যাঙ্ক এবং ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টগুলিতে সমস্ত লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। গৌরবের খোঁজও চলতে থাকে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী অফিসাররা দেখতে পান, গুরগাঁওয়ের পঙ্কজ ছাব্বা নামের এক জন হোটেল মালিকের অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু টাকা পাঠানো হয়েছে সতীশের অ্যকাউন্ট থেকে।

ওয়াটগঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম সঙ্গে সঙ্গে রওনা দেয় গুরগাঁও। হোটেলের মালিক পঙ্কজ ছাব্বাকে খুঁজে বার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পঙ্কজ পুলিশকে জানান, গৌরব গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বান্ধবীর সঙ্গে কিছু দিন কাটিয়েছিল তাঁর হোটেলে। কিন্তু সেই সময়ে নানা কারণে সে হোটেলের ভাড়া মেটাতে পারেনি। পরে সেই টাকাই পঙ্কজের অ্যাকাউন্টে অনলাইন ট্রান্সফার করেছিল গৌরব।

গৌরবের ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর দিতে না পারলেও, পুলিশকে গৌরবের সেই বান্ধবীর খোঁজ দেন পঙ্কজ। সেই বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রেই গৌরবের সম্পর্কে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে পুলিশের। এর পরে পাঁচ দিন ধরে খোঁজার পরে গুরগাঁওয়েরই ধর্ম কলোনি থেকে গৌরবকে পাকড়াও করে পুলিশ।

গৌরবকে কলকাতায় নিয়ে এসে আদালতে তোলা হলে, ১৮ ফেব্রুয়ারি অবধি পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ হয় তার।

Shares

Comments are closed.