শনিবার, জুলাই ২০

পুলিশের সঙ্গে মারপিট, তলোয়ার বার করলেন টেম্পো ড্রাইভার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে মারধর করছিলেন এক টেম্পো ড্রাইভারকে। আচমকাই তলোয়ার বার করলেন ড্রাইভার। খোলা তলোয়ার হাতে তাড়া করলেন পুলিশকে। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির মুখার্জিনগর এলাকার ব্যস্ত রাস্তায় দেখা গেল এই দৃশ্য। পথেই একজন সেই ঘটনার ভিডিও ছবি তুলেছেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নেট দুনিয়ায়। জানা গিয়েছে, পুলিশের গাড়ির সঙ্গে টেম্পোর ধাক্কা লেগেছিল। তা থেকেই গোলমালের সূত্রপাত।

মোবাইল ফোনে ওই ঘটনার ভিডিও তোলা হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, পুলিশকর্মীরা অভিযোগ করছেন, তাঁদের এক সহকর্মীর পায়ের ওপর দিয়ে টেম্পো চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা ড্রাইভারকে ধরতেই সে তলোয়ার বার করে। পুলিশের দাবি, তলোয়ারের আঘাতে তাঁদের দু’জন জখম হয়েছেন। অভিযুক্ত টেম্পো চালক বলেন, পুলিশকর্মীরা আগে তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যাঁরা ওই টেম্পো চালককে মারধর করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আছেন দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর সঞ্জয় মালিক ও দেবেন্দ্র এবং কনস্টেবল পুষ্পেন্দ্র। তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পুলিশের নিন্দা করেছেন। তিনি টুইট করে বলেন, মুখার্জিনগরে দিল্লি পুলিশ যে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অন্যায্য। আমি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি। যাদের কাজ মানুষকে রক্ষা করা, তারা যেন গুন্ডার মতো আচরণ না করে।

অভিযোগ, পুলিশকর্মীরা ওই টেম্পোচালক ও তাঁর ছেলেকে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বার করেন। ভিডিওতেও দেখা গিয়েছে, এক পুলিশকর্মী গাড়ি থেকে চালকের ছেলেকে টেনে বার করছেন। আর এক পুলিশকর্মী লাঠি দিয়ে মারছেন তাকে।

পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, টেম্পোটি গ্রামীণ সেবা কেন্দ্রের সম্পত্তি। তার সঙ্গে পুলিশের গাড়ির ধাক্কা লাগে। পরে টেম্পো ড্রাইভার তলোয়ার দিয়ে এক পুলিশকর্মীর মাথায় আঘাত করে। পরে সে খুব জোরে টেম্পো চালিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। তখন এক পুলিশকর্মীর পায়ে আঘাত লাগে।

পরে টেম্পো ড্রাইভারকে মারধর করার প্রতিবাদে একদল লোক জড়ো হয়ে মুখার্জিনগর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায়। দিল্লি গুরুদোয়ারা প্রাবন্ধিক কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মনজিৎ সিং পুলিশের নিন্দা করে বলেন, তারা প্রথমে টেম্পো থামিয়ে চালককে রিভলভার দেখায়। পরে তাকে গাড়ি থেকে টেনে বার করে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হয়।

Comments are closed.