বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

কেন কালো রং করা হয়েছিল ঘাতক ট্রাকের নাম্বার প্লেটে? উন্নাওকাণ্ডে নয়া মোড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ঘাতক ট্রাকের মালিক বলছেন একরকম। তিনি যাঁদের থেকে ঋণ নিয়ে ট্রাক কিনেছিলেন, তাঁরা বলছেন অন্যরকম। এর ফলে উন্নাওকাণ্ডে নতুন করে ঘনিয়ে উঠেছে রহস্য। গত রবিবার উন্নাওয়ের ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে নিয়ে একটি গাড়ি ফিরছিল রায় বরেলি থেকে। একটি ট্রাক সুইফট ডিজায়ার গাড়িটিকে ধাক্কা মারে। দু’জন নিহত হন। অভিযোগকারিণী মেয়েটি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছে। দেখা গিয়েছে, ঘাতক ট্রাকের নাম্বার প্লেটে কালো রং করা। অনেকের ধারণা, ট্রাক মালিকের পরিচয় গোপন করতেই তার নম্বর কালো রং-এ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিক নিজে বলেছেন অন্য কথা।

তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন, কানপুরের একটি সংস্থার থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ট্রাক কিনেছিলেন। তাঁকে মাসে মাসে ইএমআই দিতে হয়। তিনি কয়েক মাস ইএম আইয়ের টাকা দিতে পারেননি। যারা ঋণ দিয়েছিল, তারা যাতে ট্রাকটি আটক না করতে পারে, সেজন্য কালো রং দিয়ে নাম্বার প্লেট ঢেকে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে ঋণদাতা সংস্থা জানিয়েছে, কেউ ঠিক সময়ে ইনস্টলমেন্টের টাকা না দিতে পারলে আমরা চাপ সৃষ্টি করি না। ওই নির্দিষ্ট ট্রাকমালিক সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি মাঝে কয়েকটি কিস্তির টাকা দিতে পারেননি। তবে এখন সব টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন। তিনি আগেও আমাদের থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। তাঁর দু’টো গাড়িতে আমরা ফিনান্স করেছি। তাঁর গাড়ির নো অবজেকশন সার্টিফিকেটও আছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ট্রাকমালিক আর ঋণদাতা সংস্থার মালিকের মধ্যে কে সত্যি বলছেন?

ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ, বন্দি বিধায়ক কুলদীপ সেনগারই ষড়যন্ত্র করে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি নিজের কুকর্মের প্রমাণ লোপ করতে ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। ওই দুর্ঘটনার পরে সারা দেশেই হইচই শুরু হয়। বিজেপি কুলদীপকে বহিষ্কার করে। দুর্ঘটনার তদন্তের দাবি সিবিআইকে দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।

যেখানে দুর্ঘটনা হয়েছিল, তার কাছেই এক টোল প্লাজায় লাগানো ছিল সিসিটিভি। তাতে দেখা যায়, কালো নাম্বার প্লেট নিয়ে ট্রাকটি বেরিয়ে যাচ্ছে। টোল প্লাজায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারা কেউ কালো নম্বর প্লেট দেখেও ট্রাকটিকে থামায়নি কেন, জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Comments are closed.