Latest News

মদ্যপ বাবা, স্বামীও অত্যাচারী! পরিচারিকার কাজ করে বেবি এখন ‘বেস্টসেলার’ লেখিকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটবেলা থেকেই সঙ্গী মদ্যপ বাবা এবং সৎ মায়ের অত্যাচার। মাত্র ১২ বছর বয়সেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাঁকে। তারপর স্বামীর অত্যাচারে জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে একসময় সংসার ফেলে পালিয়ে যান বেবি হালদার (Baby Halder)। দিল্লিতে গিয়ে পরিচারিকার (Maid Servant) কাজ করতেন তিনি। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সেই বেবিই এখন দেশের ‘বেস্টসেলার’ (Bestseller) লেখিকা! তাঁর লেখা বই স্কুলের পাঠ্যপুস্তকেও স্থান পেয়েছে।

দুর্দান্ত সাড়া জাগানো ৩টি বই প্রকাশ পাওয়ার পর আপাতত কলকাতার পতিতাদের জীবন নিয়ে চতুর্থ বই লেখার কাজ শুরু করেছেন বেবি। প্রকাশ পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে বেবির নতুন বই। লেখিকার বিশ্বাস, এই বইটিও যথেষ্ট আলোড়ন ফেলবে পাঠকমহলে।

মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে আদি বাড়ি বেবি হালদারের। জন্ম যদিও কাশ্মীরে, কারণ বেবির বাবা সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। বাবা ছিলেন মদ্যপ, তাঁর অত্যাচারে ৪ বছরের ছোট্ট বেবিকে ফেলে পালিয়ে যান তাঁর মা। সেই থেকেই বেবি একপ্রকার অনাথ। সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন বেবি। এরপর বেবির বাবা আবার বিয়ে করলেন। পড়াশোনা তো বন্ধ হলোই, সঙ্গে জুটল সৎ মায়ের নির্যাতন। বেবির বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। দ্বিগুনেরও বেশি বয়সের পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেললেন বেবির বাবা।

বাবা আর সৎ মায়ের অত্যাচার পিছু ছাড়ল ঠিকই। কিন্তু বিয়ের পর বেবির নিত্যসঙ্গী হলো স্বামীর নির্যাতন। কয়েক বছরের মধ্যেই তিন সন্তানের মা হন বেবি। এদিকে বেড়েই চলেছে স্বামীর অত্যাচার। নিরুপায় হয়ে একসময় ছেলেমেয়ের হাত ধরে সংসার ছাড়েন তিনি। পাড়ি দেন সুদূর দিল্লিতে। পেট চালানোর জন্য পরিচারিকার কাজ নেন সেখানে। মুন্সী প্রেমচাঁদের নাতি অধ্যাপক প্রবোধ কুমারের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েই ঘুরে যায় বেবির ভাগ্যের চাকা।

প্রবোধ কুমারের বাড়ির লাইব্রেরী থেকে বই নামিয়ে একটু একটু করে পড়তে শুরু করেন বেবি। তারপর শুরু লেখালেখি। বেবির আগ্রহ দেখে তাঁকে ডায়রি উপহার দিলেন প্রবোধ কুমার। সেই ডায়রির ছত্রে ছত্রে বেবি লিখলেন জীবন যন্ত্রণার কথা। বাবা আর সৎ মায়ের অত্যাচার থেকে শুরু করে অনিচ্ছার বিয়ে, সবই উঠে এল তাঁর কাহিনিতে। লিখলেন নাবালিকা অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে প্রথম সঙ্গমের ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা। ১৩ বছর বয়সে যেখানে মেয়েরা স্কুলে যায়, সেই বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতাও বাদ গেল না। হারিয়ে যাওয়ার শৈশব ও কৈশোরের অব্যক্ত যন্ত্রণার কাহিনিতে ভরে উঠল ডায়েরি।

ডায়রির সেই লেখা একসময় বই হয়ে ওঠে। প্রথম বইয়ের নাম দেন ‘আলো আঁধারি।’ প্রকাশের পরেই অভাবনীয় সাড়া পেলেন দেশের মানুষের থেকে। একে একে ৩টি বই প্রকাশিত হল। বেবির বই হয়ে উঠল বেস্টসেলার। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বেবির নাম ছড়িয়ে পড়ল দেশের বাইরেও। ১৪টি বিদেশি ভাষা সমেত মোট ২৭ টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে বেবির বই।

কিন্তু এক সময়ের পাঠকদের মন জিতে নেওয়া লেখিকা বর্তমানে পাঠকদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে গিয়েছেন বললেই চলে। প্রথম বই প্রকাশ পাওয়ার পর বেশ কিছু টাকা হাতে এসেছিল, কোভিড অতিমহামারীর পর থেকে প্রবল অর্থকষ্টে দিন কাটছে বেবির। স্বামীর সঙ্গে এখনও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। দুই সন্তানকে নিয়ে আপাতত গুরুগ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছেন তিনি। আসলে বইয়ের নামের মতোই বেবির জীবনও যে আলো আঁধারে ভরা!

৭৩ বছর বয়েসেও হার না মানা জেদ, ৪০ ফুট উঁচু থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ বৃদ্ধার! তারপর…

You might also like