Latest News

ব্রিটিশ গুপ্তচরকে জেলের মধ্যেই খুন, হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি পরেছিল ২০ বছরের তরুণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুড়ি বছরের এক ছটফটে ছেলের উপর দায়িত্ব পড়ল গোপন পুলিশ বিভাগের ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট ভূপেন চট্টোপাধ্যায়কে হত্যা করার। মাঝেমধ্যেই আলিপুর জেলে গিয়ে রাজবন্দিদের সঙ্গে খোশগল্প করতেন এই ভূপেন চট্টোপাধ্যায়। রাজবন্দিদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিপ্লবী দলের গোপন খবর সংগ্রহ করাই তাঁর আসল উদ্দেশ্য ছিল। তাঁকে বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করে দুর্বল মুহূর্তে সংগঠনের নানা কথা বলে ফেলতেন বিপ্লবীরা। ঠিক হল, ব্রিটিশের চর ভূপেনকে আর বাঁচতে দেওয়া যাবে না। অপারেশনের দায়িত্ব পড়ল ওই জেলেরই দুই বিপ্লবী তরুণের উপর।

জেলের মধ্যে ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্টকে খুন করার ফল কী হতে পারে জানতেন দুজনেই। কিন্তু ভয় পাওয়া দূর, আনন্দে নেচে উঠেছিল তাঁদের মন। ১৯২৬ সালের ২৮ মে পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে অপারেশন। বিশ্বাসঘাতক ভূপেন চট্টোপাধ্যায়কে জেলের মধ্যে লোহার ডাণ্ডা দিয়ে আক্রমণ করে খুন করেন সেই দুই অকুতোভয় তরুণ। একজনের বয়স তখন ২৩, অন্যজনের ২০। বিচারে মৃত্যুদণ্ড হয় দুজনেরই। সে বছরই ২৮ সেপ্টেম্বর ভোরবেলা সূর্যোদয় মুহূর্তে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়েন অগ্নিযুগের তরুণ বিপ্লবী অনন্তহরি মিত্র। (Rebel Anantahari Mitra)

Image - ব্রিটিশ গুপ্তচরকে জেলের মধ্যেই খুন, হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি পরেছিল ২০ বছরের তরুণ

১৯০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জন্মেছিলেন অনন্তহরি মিত্র। বাবার নাম রামলাল মিত্র৷ বর্তমান বাংলাদেশের চুয়াডাঙা জেলার বেগমপুরে মামাবাড়িতে জন্ম। ১৯২১ সাল, গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ অন্দোলন জ্বলন্ত চেহারা নিয়েছে দেশ জুড়ে। ব্রিটিশ বিরোধী সেই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লেন ১৫ বছরের কিশোর অনন্তহরি(Rebel Anantahari Mitra)। তবে বেশিদিন নয়, খুব দ্রুতই গান্ধিবাদের অহিংস পথ থেকে, যোগ দিলেন সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে। দেশ-মায়ের পরাধীনতার শিকল কাটতে হাতে তুলে নিলেন অস্ত্র।

কৃষ্ণনগরে গড়ে ওঠে ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী সংগঠন, এই দলে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন অনন্তহরি। কৃষ্ণনগরের ডাক বিভাগের গাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের খাতায় নাম ওঠে অনন্তহরির৷ সাদা চামড়ার সাহেবদের কাছে ততদিনে খতরনাক বিপ্লবী হয়ে উঠেছে এই তরুণ৷ পুলিশের প্রবল খানাতল্লাশের মুখে গা ঢাকা দিতে বাধ্য হন অনন্তহরি। কৃষ্ণনগর ছেড়ে চলে আসেন উত্তর কলকাতায়। (Rebel Anantahari Mitra)

কলকাতা শহরের বেশ কিছু গুপ্ত আখড়ায় সে সময় বোমা তৈরি করতেন বিপ্লবীরা। সেই বোমা ছড়িয়ে পড়ত বাংলা সহ দেশের নানা প্রান্তে। ১৯২৫ সালের ১০ নভেম্বর শোভাবাজার আর দক্ষিণেশ্বরে বিপ্লবীদের দুটো গোপন আস্তানার খবর পৌঁছয় পুলিশে। তল্লাশি চালিয়ে মেলে বেশ কিছু রিভলভার, বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় অনন্তহরি সহ মোট ১১ জন বিপ্লবীকে। দক্ষিণেশ্বর বোমা মামলায় সাজা হয় তাঁদের।

অনন্তহরিকে জেলে বেঁধে রাখার ক্ষমতা ছিল না ইংরেজ সরকারের। ফাঁসির দড়িকে পরোয়া করেননি অনন্তহরি মিত্রের মতো বিপ্লবীরা। তাঁদের বন্দেমাতরম ধ্বনিতে কেঁপে উঠেছে জল্লাদের হাত৷ মাত্র ২০ বছরেই হাসতে হাসতে দেশের জন্য শহিদ হয়েছিলেন এই তরুণ। বাংলার ইতিহাস কি ভুলে গেল তাঁকে?

You might also like