Latest News

জেল ট্যুরিজম, ৫০০ টাকা দিলেই গোটা দিন কারাবন্দির জীবন, বিশেষ প্যাকেজ উত্তরাখণ্ডে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন অফিসে মাথা গুঁজে কাজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু বেতন বাড়ছে না। অথবা ধরুন ছুটি চাইছেন অফিসে, কিন্তু বস একেবারে স্পিকটি নট। মনে হয় না, এবার একটা খুনোখুনিই করে বসি! কিংবা ধরুন এই পুজোর মরশুমে আপনার সঙ্গীটি আপনারই নাকের নীচ দিয়ে অন্য কারোো সঙ্গে ফুরুৎ হয়ে গেল। কী মনে হয়, উচিৎ শিক্ষা দেবেন! কিন্তু ‘সাধু সাবধান’। ধরা পড়লেই জেল, আর জেল মানেই ‘চাক্কি পিসিং এন্ড পিসিং’। কারাবাসের ইচ্ছে না থাকলেও, জেল বা সংশোধনাগারের ভেতরের জীবন কেমন তা নিয়ে কিন্তু কৌতুহল অনেকেরই। কারাবন্দিরা কীভাবে থাকে, কী খায়, কোথা থেকে আসে সেই খাবার, কয়েদির ডোরাকাটা পোশাক পরার অনুভূতিই বা কেমন— জিজ্ঞাসা অনেক। এইসব কৌতুহল মেটাতেই এবার উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। কুমায়ুনের হলদোয়ানি জেলে শুরু হতে চলেছে বিশেষ জেল ট্যুরিজম। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র বা নেদারল্যান্ডের মতো এবার উত্তরাখণ্ডেও মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে একটা গোটা দিন জেলজীবনের স্বাদ নিতে পারবেন যে কেউ। (Jail Tourism)

৫০০ টাকার এই প্যাকেজে রয়েছে হাজারো চমক। জেলের মধ্যে কড়া অনুশাসনে একজন কারাবন্দি আসামির দিন যেভাবে কাটে, সেভাবেই থাকতে হবে আগ্রহী টুরিস্টদের। সকালে জেলে ঢোকার সময় জেলের লকারে রেখে যেতে হবে পোশাকসহ নিজের যাবতীয় জিনিসপত্র। মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও গ্যাজেট নিজের কাছে রাখতে পারবেন না। জেল থেকেই সরবরাহ করা হবে কয়েদির পোশাক, থালা-বাসন, কম্বলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসা যাবে না। কারাবন্দিরা রোজ যা খায়, হাসিমুখে তাই খেতে হবে ট্যুরিস্টদেরও। ২৪ ঘণ্টার জন্য তাকে দেওয়া হবে ছোট্ট একটা কুঠুরি। প্রকৃতির ডাক এলে ওই কুঠুরি লাগোয়া খোলা বাথরুমেই সারতে হবে প্রয়োজনীয় কাজ।

হলদোয়ানি সংশোধনাগার তৈরি হয়েছিল ১৯০৩ সালে। এর একটি অংশে এত দিন পুরনো এক অস্ত্রাগার ছিল। সেই অস্ত্রাগারই এখন মেরামত করে খুলে দেওয়া হচ্ছে টুরিস্টদের জন্য। কারা অধিকর্তাদের দাবি, জেল চত্বরে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর আর্জি মাঝেমধ্যেই আসে। (Jail Tourism) আমদের দেশে জেল ট্যুরিজম নিয়ে কাজ হয়েছে এর আগেও। তবে হলদোয়ানিতে হিমালয়ের কোলে গোটা রাত জেলবন্দি থাকার ভাবনা সত্যিই অভিনব।

এই অভিনব ট্যুরিজমের পিছনে পর্যটক টানা ছাড়াও আরও একটা উদ্দেশ্য আছে জেল কর্তৃপক্ষের। কারও কোষ্ঠীতে যদি শনি, মঙ্গল-সহ তিন গ্রহের অবস্থান গোলমেলে হয়, তখন তাঁদের জেলের ঘানি টানার নিদান দিয়ে থাকেন জ্যোতিষবিদেরা। এক রাতের জন্য জেলের ভাত খেলে না কি গ্রহের দশা কেটে যায়। গ্রহের দশা কাটাতেও বেশ কিছু মানুষ একরাত এই বিশেষ জেল ট্যুরিজমে আগ্রহী হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ (Jail Tourism)। আর কেউ যদি কয়েক ঘণ্টা জেলে কাটিয়েই হাঁপিয়ে ওঠেন? ফিরতে চান পুরোনো পৃথিবীতে? তারও উপায় আছে। তবে সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে সেই ট্যুরিস্টকে।

You might also like