Latest News

নগ্ন ছবি পরিচিতদের পাঠিয়েছিল হ্যাকার! কীভাবে তাকে ধরলেন মার্কিন যুবতী, জানুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যত দিন যাচ্ছে, বেড়েই চলেছে হ্যাকিং (Hacking) এর দৌরাত্ম্য। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মহিলাদের ছবি বিকৃত করে, কিংবা তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করার ঘটনা (Sextortion)। এমনটাই ঘটেছিল (Victim) আমেরিকার (US) জেনেসিওর স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক কলেজের ছাত্রী নাতালি ক্লজের (Natalie Claus) সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা করার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন নাতালি। বরং এক বন্ধুর সাহায্যে বিকৃতমনস্ক সেই অপরাধীর কাছে পৌঁছে গিয়ে তাকে শাস্তি দিয়ে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস। চারদিকে উৎসবের মেজাজ। আসন্ন ছুটি কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাতালি। সেই সময় আচমকাই আকাশ ভেঙে পড়ল তাঁর মাথায়, যখন তিনি জানতে পারলেন, প্রাক্তন প্রেমিক, তুতো ভাই, বন্ধু সহ শতাধিক মানুষের কাছে স্ন্যাপচ্যাট মেসেজের মাধ্যমে পৌঁছে গেছে তাঁর নগ্ন ছবি। ছুটি কাটানো তো মাথায় উঠল বটেই, ঘটনা জানতে পেরে অবশ হয়ে গিয়েছিল নাতালির হাত-পা, নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল তাঁর। ঘুমের ওষুধ হাতে নিয়ে বসে ছিলেন, আত্মহত্যা করাই এই লজ্জার হাত থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় বলে মনে হয়েছিল তাঁর।

দেশজুড়ে অর্থ-কেলেঙ্কারির যম ‘ইডি’! জন্ম ১৯৫৬ সালে, কী তার কাজ, কোন বলেই বা এত শক্তিশালী

কিন্তু তাঁকে বাঁচিয়ে দিলেন বান্ধবী কেটি ইয়েটস। একই কলেজের ছাত্রী তিনিও। স্ন্যাপচ্যাটে নাতালির নগ্ন ছবি পেয়েই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, ব্যাপারটা আসলে কী। তিনিও যে ভুক্তভোগী! মাস কয়েক আগেই অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনিও। অবস্থা বুঝেই সঙ্গে সঙ্গে তিনি পৌঁছে যান নাতালির কাছে। বন্ধুকে বাড়ি পৌঁছে দেন কেটি। কোনও ভাবেই যাতে নাতালি আত্মহত্যা করতে না পারেন, সেই জন্য ঘর থেকে সমস্ত ছুরি, কাঁচি, ক্ষুর সরিয়ে ফেলেন তিনি। তারপর বিধ্বস্ত নাতালির কাছে একটাই প্রশ্ন রাখেন তিনি, ‘তুমি কি অপরাধীকে ধরতে চাও?’

পজিটিভ উত্তর পেয়েই আর দেরি করেননি কেটি এবং নাতালি। দুই বন্ধু মিলে লেগে পড়েন কাজে। প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পাস পুলিশ, এমনকি জেনেসিও শহরের পুলিশের থেকেও তেমন কোনও সাহায্য পাননি নাতালি। বরং তাদের হাবভাব দেখে মনে হয়েছিল, ইচ্ছে করে নিজেই এসব করছেন নাতালি।

পুলিশের থেকে সহায়তা না পেয়ে নিজেরাই অপরাধীকে খুঁজে বের করতে নামেন দুই বন্ধু। একটা অন্যরকম ফাঁদ পাতেন তাঁরা। কেটির স্ন্যাপচ্যাট প্রোফাইল থেকে হ্যাকারের দখলে থাকা নাতালির প্রোফাইলে একটি মেসেজ পাঠান কেটি। সেই মেসেজে প্রলোভন দেখানো হয়, কেটির কাছে অনেক নগ্ন ছবি রয়েছে। হ্যাকারকে একটি লিংকও পাঠান তাঁরা, যে লিংকটি দেখলে আপাতভাবে মনে হবে সেটি কোনও পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটের লিংক। কিন্তু আদতে সেটি একটি অতি সাধারণ উইকিপিডিয়া পেজের লিংক। এই লিংকটিই ছিল তাঁদের আসল অস্ত্র। ‘গ্র্যাবিফাই আইপি লগার’ নামক একটি ওয়েবসাইট দিয়ে এই ধরণের বিশেষ লিংক তৈরি করা যায়, যাতে ক্লিক করা মাত্রই ইউজারের আইপি অ্যাড্রেস নিজেদের নাগালে চলে আসবে।

কেটির পাঠানো লিংকটিও ছিল তেমনই একটি লিংক। কেটি এবং নাতালি জানতেন, এই ফাঁদে পা দেবেই অপরাধী। হলও তাই। হ্যাকারের আইপি অ্যাড্রেস পাওয়া মাত্রই নাতালির প্রোফাইল ব্লক করে দেন কেটি। তারপর সেই আইপি অ্যাড্রেস নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। জানা যায়, অপরাধী ম্যানহাটনে বসে একটি আইফোন ব্যবহার করে এই ধরনের কুকীর্তি ঘটিয়ে চলেছে। এরপরেই এফবিআইয়ের সাহায্যে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হয় অপরাধীকে। জানা যায়, হ্যাকারের নাম ডেভিড মন্ডোর। হার্লেমের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সি ওই যুবক পেশায় একজন শেফ (Chef)। জেরায় সে স্বীকার করে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩০০ জনের স্ন্যাপচ্যাট প্রোফাইল হ্যাক করে এই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছে সে। বিচারে সে অপরাধী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।

কিন্তু কীভাবে এই ধরনের হ্যাকিংয়ের শিকার হলেন নাতালি? জানা গেছে, নিজেকে একজন নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে নাতালির প্রোফাইল যথেষ্ট নিরাপদে নেই জানিয়ে ডেভিড একটি ‘কোড’ পাঠায় নাতালিকে। সেই কোড নাতালি তাকে দেওয়া মাত্রই নাতালির স্ন্যাপচ্যাট প্রোফাইল তার দখলে এসে যায়। তারপর সেই হ্যাকড প্রোফাইল থেকে নাতালিকেই বের করে দেয় সে।

নাতালির প্রোফাইলে তাঁর নিজের কিছু ব্যক্তিগত নগ্ন ছবি রাখা ছিল। সর্বসাধারণের দেখার জন্য নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগতভাবে নাতালির নিজের কাছেই রাখা ছিল সেসব ছবি। কিন্তু প্রোফাইলে ঢুকে পড়া মাত্রই ছবিগুলির দখল পেয়ে যায় ডেভিড। তারপর সেই ছবিগুলি নাতালির পরিচিত ও বন্ধুদের পাঠাতে শুরু করে সে।

You might also like