Latest News

৮ বছরের ছোট্ট ছেলে, একের পর এক খুন করে উঠে এসেছিল খবরের শিরোনামে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুন করে না কি আনন্দ পেত সে। আর তাই নৃশংসভাবে গলা টিপে মারত বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের। মাত্র আট বছর বয়সেই তিন-তিনটে নৃশংস খুন করে বসে সে। আর এভাবেই ভারতবর্ষের প্রত্যন্ত গ্রামের এক গরিব ছেলে পাকেচক্রে হয়ে ওঠে পৃথিবীর কনিষ্ঠতম সিরিয়াল কিলার।

হলিউডি সিনেমা-সিরিজের দৌলতে সিরিয়াল কিলার বললেই যে চেনা ছবিগুলো আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই গল্প তার থেকে একেবারে আলাদা। যে বয়সটা বাচ্চাদের সবথেকে আনন্দের, ছুটোছুটি, হুটোপাটি আর খেলাধুলো করার সময়, ঠিক সেই বয়সেই হৃদয়হীন পাশবিক এক খুনি হয়ে উঠেছিল এই ছোট্ট ছেলেটা। বিহারের মুশাহার গ্রামের বাসিন্দা সেই ছেলের নাম অমরজিৎ শদা। (Amarjeet Sada)

Image - ৮ বছরের ছোট্ট ছেলে, একের পর এক খুন করে উঠে এসেছিল খবরের শিরোনামে

২০০৬ সালে অমরজিৎ প্রথম খুন করে তার ৬ বছরের খুড়তুতো বোনকে। তখন অমরজিতের বয়স মাত্র ৭ বছর। এই ঘটনার পর থেকেই খুন করা তার কাছে একটা নেশা হয়ে দাঁড়ায়।

অমরজিতের পরের শিকার তার নিজেরই ৮ মাসের সদ্যোজাত বোন। ফাঁকা বাড়িতে গলা টিপে ছোট্ট বোনকে নৃশংসভাবে খুন করে সে। এ বিষয়ে পরবর্তীকালে অমরজিতের কাকা একটি মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘পরিবারের সবাই ওর খুনের বিষয়গুলো জানলেও ধামাচাপা দিয়ে রাখত। পারিবারিক বিষয় বাইরে পাঁচকান করতে চাননি তাঁরা।’

২০০৭ সালে অমরজিৎ তৃতীয় খুনটি করে। খুশবু নামের ৬ মাস বয়সী এক শিশুকে। খুশবুর মা পড়াতেন স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাঁর সেই অনুপস্থিতির সুযোগে অমরজিৎ খুব ঠান্ডা মাথায় তাঁদের বাড়িতে ঢুকে সবার নজর এড়িয়ে গলা টিপে খুন করে খুশবুকে। কঁকিয়ে ওঠারও সুযোগ পায়নি গভীর ঘুমে মগ্ন শিশুটি। শ্বাসরোধ করেও নিশ্চিন্ত হতে পারছিল না অমরজিৎ, মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুশবুর কচি মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে দেয় সে। (Amarjeet Sada)

এদিকে স্কুল থেকে ফিরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে অস্থির হয়ে ওঠেন খুশবুর মা। যখন তন্নতন্ন করে খোঁজাখুঁজি চলছে, তখন অকুস্থলে হাজির হয়। অমরজিৎ নিজেরই। খুব শান্তভাবে সে খুশবুর মাকে জানায় কীভাবে ওই শিশুকে খুন করে তার কচি শরীর মাটির ভিতরে পুঁতে দিয়েছে সে। ঘটনার বিভৎসতায় সেদিন কেঁপে উঠেছিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

কবরের মাটি খুঁড়ে খুশবুর নিথর দেহ তুলে আনেন গ্রামবাসীরা। খবর যায় পুলিশে। অমরজিৎকে গ্রেফতার করে জেরা করার সময় পুলিশের কাছে নিজের যাবতীয় অপরাধ স্বীকার করে সে। জানায়, এর আগেও পরিবারের ভেতরে দু-দুটো খুন করেছে সে। থানায় নিয়ে গিয়ে অমরজিৎকে জেরা করার সময় খুব বেশি কথা বলেনি সে, শুধু পাগলের মতো হেসেছিল। (Amarjeet Sada)

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অমরজিৎ অন্যকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়। এ এক বিকৃত মানসিক বিকার। এই রোগে আক্রান্তরা অকারণে অন্যকে কষ্ট দিয়ে মজা পায়, আর সেই তাগিদ থেকেই করে ফেলে নানারকম অপরাধ। শিশু অপরাধী হিসেবে প্রথমে অমরজিৎকে চিলড্রেন্স হোমে রাখা হয়। টানা ৩ বছর মনরোগ-বিশেষজ্ঞদের কাছে কাউন্সিলিং নেয় সে। ২০১৬ সালে ১৮ বছর বয়সে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় স্বাভাবিক জীবনে। বর্তমানে সে কোথায় আছে জানে না কেউ।

You might also like