ছাত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় তোলপাড় বাংলাদেশ! ধৃত মূল অভিযুক্ত, স্বীকার করল অপরাধ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরত জাহান রাফির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ।অধ্যক্ষের কুপ্রস্তাব না-মেনে প্রতিবাদ করার ‘অপরাধে’ পুড়িয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে!

    পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশের ফেনির সোনাগাজিতে মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন তিনি। ২৭ মার্চ তাঁর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ জানান নুসরত। তার অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    এই ঘটনার পরেই ‘‌শাস্তি’‌ হিসেবে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নুসরতের হাত–পা বেঁধে, তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ৮০% পোড়া নিয়ে, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অগ্নিদগ্ধ নুসরতকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সে সম মেলেনি। ঘটনার পাঁচ দিন পরে বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।

    এর পরে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ, আন্দোলন।শনিবার এ নিয়ে পথে নেমে প্রতিবাদে সামিল হন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্টরা। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাসভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বাসভবন পর্যন্ত মানব মিছিলও করা হয়। কয়েক হাজার মানুষ সেই মানববন্ধনে যোগ দেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন, দোষীদের কোনও মতেই ছাড়া হবে না।

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে জবানবন্দি দিয়ে সব জানিয়েছেন নুসরাত। অধ্যক্ষকেই দায়ী করেছেন তিনি। তবে জানিয়েছন, ঘটনার সময়ে সকলের মুখ বোরখায় ঢাকা থাকায়, কাউকে তিনি চিনতে পারেননি।

    ঘটনার পরেই পুলিশ দ্রুত তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার ঘনিষ্ঠ তিন জন গ্রেফতারও হয়। তাদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, নুসরতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় শাহাদাত হোসেন শামিম। ঘটনার সময় ছাদে উপস্থিত ছিল মোট তিন জন। এক জন ছাত্রী নুসরতকে পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে আনে। নুসরত ছাদে যেতেই পেছন থেকে জাপটে ধরে হাত–পা বেঁধে ফেলা হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর নুসরত ওই অবস্থাতেই কোনওমতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকেন।‌

    পুলিশ জানিয়েছে, চার এপ্রিল কারাগারে অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার সঙ্গে দেখা করেছিল তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি। তখনই এই পোড়ানোর পরিকল্পনা হয় বলে অনুমান পুলিশের।

    রবিবার বিকেলে আদালতে অপরাধ স্বীকার করে নেয় এই মামলার প্রধান আসামি নুরউদ্দিন। রাত সাড়ে ন’টায় তার জবানবন্দি নেয়া শেষ হয়। সেখানেই সে স্বীকার করে, জেলে সিরাজদৌল্লার সঙ্গে দেখা করে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More