সোমবার, ডিসেম্বর ৯
TheWall
TheWall

আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান, কাতর আর্তিতে ভরছে এনআরএস! মুখ্যমন্ত্রী আসুন, দাবি সকলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরএসে জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের উপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে জোট বেঁধেছে সারা রাজ্যের চিকিৎসক মহল। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, প্রতিটা সরকারি হাসপাতালে বন্ধ করা হয়েছে আউটডোর। বিক্ষোভ ও ধর্নায় বসেছেন চিকিৎসকেরা। এই চরম আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে আশার সুতো বলতে ছিল, জরুরি পরিষেবা চালু রাখার আশ্বাস। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের তরফেই রাখা হয়েছিল এই শর্তটি। এবং বলাই বাহুল্য, রাজ্য জুড়ে মেডিক্যাল শাটডাউন পরিস্থিতিতে এটা কেবল একটা শর্ত বা আশ্বাস নয়, এটা রাজ্যের অসংখ্য অসুস্থ মানুষের জীবন এবং মরণের মাঝে জুড়ে থাকা সুতোটুকু।
আজ, বৃহস্পতিবার, আন্দোলনের তৃতীয় দিনে, সেই সুতোটুকুই ছিঁড়তে বসেছে। সকাল থেকে এনআরএসের সামনে ঘুরছেন রুশনারা লস্কর। আট মাসের ছোট্ট শিশু শহীদ শেখের দিদা তিনি। ক্যানিং থেকে কলকাতা ছুটে এসেছেন, নাতির চিকিৎসার জন্য। জানালেন, মেডিক্যাল কলেজ, বিসি রায়, এসএসকেএম, আরজিকর, এনআরএস– তিন দিন ধরে ঘুরছেন চড়া রোদ মাথায় নিয়ে। কোলে ক্রমেই নেতিয়ে পড়ছে একরত্তি শরীর। “কেউ ভর্তি নিচ্ছে না, আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান এখনই ভর্তি করতে হবে শহরে পাঠিয়েছিলেন ক্যানিংয়ের ডাক্তাররা। কোথায় ভর্তি করব! মরে যাবে তো ছেলেটা।”– আর্তি রুশনারার।

আট মাসের শিশুকে নিয়ে তিন দিন ধরে ঘুরছেন দিদা।

কিন্তু এই আর্তিতে কি আন্দোলনের ছবি বদলাচ্ছে এতটুকু? আদৌ নয়। সকাল থেকে এ দিন বন্ধ এনআরএস হাসপাতালের মেন গেট। বচসার পরে গোট খোলা হলেও, তালা পড়ে রয়েছে এমার্জেন্সিতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রোগীদের ভিড়। কিন্তু চিকিৎসকেরা অনড়ই। ফিরবেন না কাজে, খুলবেন না তালা। তাঁদের সাফ যুক্তি, এত দিন ধরে এত চিকিৎসক মার খেয়েছেন, তাতে যদি মানবিকতা না মেলে, তা হলে আজকেও তাঁদের পক্ষে মানবিক হওয়া সম্ভব নয়।

এই অসম্ভবের মুখে হুইলচেয়ারে বসে রয়েছেন বালুরঘাটের মিঠুন দাস। নারকেল গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন। গত মাসের ১৯ তারিখে মেরুদণ্ডের জটিল অস্ত্রোপচারের পরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরেন তিনি। প্রাণে বাঁচায় এই এনআরএসই। আজ সকালে গৌর এক্সপ্রেসে এসে পৌঁছেছেন কলকাতা। অসহ্য যন্ত্রণা। হুইলচেয়ার থেকে নামতেও পারছেন না।

বালুরঘাটের মিঠুন দাস।

এই অবস্থাতেই তাঁকে আটকে দিলেন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা। ঢুকতেই দিলেন না। আপাতত ফুটপাথে তিনি। ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে মিঠুন বলেন, “অসহ্য যন্ত্রনা। পারছি না আর। হতে পায়ে ধরে বললাম, ডাক্তারবাবুর কাছে যেতে দাও। যন্ত্রনা সহ্য করতে পারছি না। তবু খুলল না গেট।” 

এই অসহায় ও অস্থির পরিস্থিতিতে সকালে এক দফা রাস্তা অবরোধ হয় এনআরএসের সামনে। ব্যস্ত অফিসটাইমে আধ ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি হয় রোগী পরিবারের। অবরোধ ওঠে শেষমেশ। কিন্তু তালা খোলেনি এমার্জেন্সি ও আউটডোরের। একের পর এক কাতর রোগীর ভিড় বেড়েছে পোস্টার সাঁটা এনআরএসের কালো গেটের সামনে।

গেট বন্ধ এনআরএসের।

রোগী পরিবারগুলির বক্তব্য, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কেন হস্তক্ষেপ করছেন না। তার রাজ্যের কয়েক কোটি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা সমাধানের দায় তাঁরই। তিনি দায়িত্ব নিন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। আবার আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের বক্তব্য, তাঁরা নিরাপত্তা চান। তাঁরা এই কর্মবিরতি ইচ্ছা করে নেননি। তাঁরা চান না একটি রোগীরও অসুবিধা হোক। কিন্তু কাজ করার পরিবেশ আগে সুরক্ষিত করতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে মাননীয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই।

মার খাওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী চিকিৎসক মহল এবং চিকিৎসা না পেয়ে মরতে বসা রোগী– এই দু’তরফই এই মুহূর্তে একটিই দাবিতে এসে থেমেছে। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। কিন্তু মমতা এখনও এ বিষয়ে কিছুই জানাননি নিজে। আসতে পারেন কি তিনি ঘটনাস্থলে? তা-ও জানা যায়নি এখনও।

আরও পড়ুন:

মেডিক্যাল শাটডাউন জারি রাজ্য জুড়ে, এই নিয়ে তিন দিন! ডাক্তাররা আক্রান্ত নানা প্রান্তে

Comments are closed.