রবিবার, এপ্রিল ২১

যে গ্রামে যত ভোট, সেখানে তত উন্নয়ন, ফের বিতর্কিত মন্তব্য মানেকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের পিলভিতের সাংসদ মানেকা গান্ধী। তার রেশ মেলাতে না মেলাতেই সোমবার ফের মানেকা বললেন, তিনি কোন গ্রাম থেকে কত ভোট পেয়েছেন, সেই অনুযায়ী গ্রামগুলিকে এ বি সি ডি, এই চারভাগে ভাগ করবেন। যে গ্রাম থেকে যত ভোট পাবেন, সেই অনুযায়ী উন্নয়ন করবেন।

পিলভিত কেন্দ্রে এবার প্রার্থী হয়েছেন মানেকার ছেলে বরুণ গান্ধী। অন্যদিকে বরুণের কেন্দ্র সুলতানপুরে প্রার্থী হয়েছেন মানেকা। কিন্তু এদিন তিনি পিলভিতে জনসভা করেন। সেখানে বলেন, আমরা প্রত্যেকবারেই পিলভিতে জিততে পারি। কিন্তু কীসের ভিত্তিতে আমরা বেছে নেব কোন গ্রামে বেশি উন্নয়ন হবে আর কোন গ্রামে হবে কম? আমরা গ্রামগুলিকে এ বি সি ডি, চার ভাগে ভাগ করব। যে গ্রাম থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পাব, তারা পড়বে এ ক্যাটেগরিতে। যে গ্রাম থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পাব, তারা পড়বে বি ক্যাটেগরিতে। ৫০ শতাংশ ভোট পেলে সে গ্রাম পড়বে সি ক্যাটেগরিতে। ৫০ শতাংশের কম পেলে সেই গ্রাম পড়বে ডি ক্যাটেগরিতে।

এরপরে মানেকা বলেন, উন্নয়নের কাজ প্রথমে হবে এ ক্যাটেগরির গ্রামে। তারপরে আসবে বি এর পালা। সেখানে কাজ শেষ হলে আসবে সি এর পালা। আপনারা চেষ্টা করুন এ বি অথবা সি ক্যাটেগরিতে থাকতে। কেউ ডি ক্যাটেগরিতে থাকবেন না। কারণ আমরা সকলেই এখানে নিজেদের লাভের জন্য এসেছি।

গত সপ্তাহে মানেকা সুলতানপুরে এক সভায় বলেছিলেন, মুসলিম ভোটাররা যদি তাঁকে ভোট না দেন, তাঁরা যেন তাঁর কাছে কোনও উপকার আশা না করেন।

তাঁর দাবি, মুসলমানরা সমর্থন করুক বা না করুক, আমরা জিতবই। কিন্তু তিনি যদি দেখেন, কোনও এলাকা থেকে ভোট পাননি, তাহলে তাঁর মনে আঘাত লাগবে। তারপর কোন মুসলিম যদি আমার কাছে কোনও কাজের জন্য আসে, আমি ভাবব, কী হবে কাজ করে।

এই মন্তব্যের জন্য নির্বাচন কমিশন মানেকাকে শো কজ নোটিশ পাঠিয়েছে। বিরোধীরাও তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন। এরপরে সোমবার তিনি যেভাবে গ্রামগুলিকে নানা ভাগে ভাগ করার কথা বলেছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য করতে চেয়েছেন, তাতেও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

পিলভিতে ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল।

Shares

Comments are closed.