শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

এবার রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এল বৌদ্ধ শরণার্থীরাও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৬ সালে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য রাজ্যে। তারা ধর্মে মুসলমান। এবার জানা যাচ্ছে, রাখাইন প্রদেশ থেকে বৌদ্ধ ও আরও কয়েকটি সম্প্রদায়ের মানুষও পালিয়ে আসছেন বাংলাদেশে।

গত ডিসেম্বরে মায়ানমারের রাখাইন ও চিন রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে সেনাবাহিনীর। তার ফলেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দা খুমি, খেয়াং, বম ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনেকে দেশত্যাগী হয়েছেন। তাঁরা বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছেন বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মায়ানমারের ৩৫ টি পরিবারের ১৬০ হন শরণার্থী রুমা উপজেলার রেমাক্রি প্রাংনসা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছেন। তাঁরা সহায়তা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষের কাছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, তীব্র শীতের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরা চাইক্ষাং পাড়া নামে এক জায়গায় ত্রিপল খাটিয়ে বসবাস করছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের খাবার দিয়ে সাহায্য করছেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও বিজিবি ইতিমধ্যে ওই জায়গাটি ঘুরে দেখে এসেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন, আরও কয়েকজন শরণার্থী সীমান্তে অপেক্ষা করছেন। রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিনি শুনেছেন, শরণার্থীরা বান্দরবানে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

এর মধ্যে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দুর্দশা নিয়ে সরব হয়েছেন হলিউদের অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিফিউজি এজেন্সির দূত জোলি এখন বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের একটি শিবিরে গিয়েছেন। তাঁর মতে, উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য দায়িত্ব নিতে হবে মায়ানমার সরকারকেই। তাদের প্রমাণ করতে হবে, হিংসার অবসান ঘটানোর জন্য তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ সম্প্রতি জানিয়েছে, কক্সবাজারে ও তার আশপাশে যে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার চাঁদা তুলতে হবে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের সামনে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

 

জোলি বলেছেন, শরণার্থী পরিবারগুলি নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। তারা বলেছে, আমাদের সঙ্গে গরুছাগলের মতো ব্যবহার করা হয়। তাঁরা তখনই বাড়ি ফিরবেন যখন তাঁদের মনে হবে এখন রাখাইন প্রদেশ নিরাপদ। সেখানে গেলে তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

গতকালই এক ধর্ষিতা রোহিঙ্গা রমণীর সঙ্গে দেখা করেছেন জোলি। তিনি জানান, সেই মহিলা আমাকে বলেছেন, আপনি যদি আমায় গুলি করেন, তাহলেও দেশে ফিরব না। যখন নিজের অধিকার ফিরে পাব, তখনই রাখাইনে ফিরব।

Shares

Comments are closed.