মোদী যেন হনুমানজির আনা সঞ্জীবনীর মতো ওষুধ পৌঁছে দিলেন আমেরিকায়! বললেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামায়ণে যেমন সঞ্জীবনী নিয়ে এসে লক্ষ্মণের প্রাণ বাঁচিয়েছিল হনুমান তেমনই এই মহামারীতে বিশেষ ওষুধ দিয়ে বিশ্বকে প্রাণে বাঁচাতে পারে ভারত। আমেরিকাকে ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্তর প্রশংসা করতে গিয়ে এমনটাই বললেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইরো বলসোনারো।

    গতকালই আমেরিকার হুমকির মুখে আমেরিকা-সহ অন্য বেশ কয়েকটি দেশে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধ রফতানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রুঢ় ভাষা সমালোচিত হলেও, ভারতের এই পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে। প্রশংসা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইরো বলসোনারো-ও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লিখে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি এবং একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ভারতের এই সাহায্য যেন রামায়ণে লেখা হনুমানের সঞ্জীবনী নিয়ে আসার সঙ্গে তুলনীয়। ওই চিঠিতে ভারত ও ব্রাজিলের বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে ব্রাজিলকেও ভারতের তরফ থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিঠিতে বলসোনারো লেখেন, “করোনাভাইরাসের মহামারীর সময়ে ভারত যেভাবে আমেরিকাকে সাহায্য করছে সেটা একদম পুরাণ কালের রামায়ণের ঘটনার মতো। তখন যেমন হনুমানজি হিমালয় থেকে প্রভু রামের ভাই লক্ষ্মণের জীবন বাঁচানোর জন্য সঞ্জীবনী ওষুধ নিয়ে এসেছিলেন এখন ভারত ঠিক তেমনই করল।”

    হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সাধারণত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কোভিড ১৯ রোগেও ওই ওষুধ ভাল কাজ করছে বলে চিকিৎসকদের দাবি। আমেরিকা এখন কোভিড ১৯ রোগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। এই অবস্থায় আমেরিকা চেয়েছিল, ভারত তাদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাঠাক। একটি সূত্রের খবর, ভারত সরকার স্থির করেছে, দেশে প্রয়োজন মিটিয়ে যদি বাড়তি থাকে তাহলে বিদেশে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং প্যারাসিটামল পাঠানো হবে।

    সারা বিশ্বে ভারতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন তৈরি হয়। ২৫ মার্চ সরকার সেই ওষুধ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ এপ্রিল ফের বলা হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকেও ওই ওষুধ বা তার কোনও উপাদান বিদেশে পাঠানো যাবে না। সাধারণত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপরে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় না।

    ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যদি ওই ওষুধ না পাঠান, তাহলে তিনি আশ্চর্য হবেন। কারণ ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক এখন খুবই ভাল। তাঁর কথায়, “মোদী যদি ওষুধ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, আমি অবাক হব। তাঁর আগেই আমাকে সেকথা বলা উচিত ছিল। আমি তাঁকে রবিবার সকালে ফোন করেছিলাম। তাঁকে প্রশংসা করে বললাম, আপনি যে আমাদের দেশে আপৎকালীন ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।” এর পরে ট্রাম্প বলেন, “এর পরে যদি মোদী বলেন, ওষুধ পাঠাবেন না, তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু তার প্রতিশোধ তো নেওয়া হবেই।”

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব মঙ্গলবার সকালে বলেন, মানবিকতার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ যেখানে ভয়াবহ আকার নিয়েছে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রতিবেশী দেশের কিছু সংস্থাকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামল উৎপাদনে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে এই ওষুধ কয়েকটি দেশে রফতানিতেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More