শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

নোটবন্দিতে সর্বনাশ হবে, সব্বার আগে বলেছি, মিলল তো!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক দু’বছর আগের ঘটনা। নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দূরদর্শনে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা সবে শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নবান্ন থেকে ফিরে তখন কালীঘাটের বাসভবনে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদীর কথা শেষ হতে না হতেই সাংবাদিকদের ডেকে বলেন, এই ভদ্রলোক করছেন কী! দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ করে দিল। সাধারণ মানুষের কী হবে!

ঘটনার আকস্মিকতায় তখনও স্তম্ভিত গোটা দেশ। পুরনো নোটগুলোর কী হবে, তা নিয়ে হাটে, বাজারে, ফোনে ফোন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আতঙ্ক, আশঙ্কার স্রোত বয়ে চলেছে। অন্য দিকে গোটা ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হবে, আঁচ করতে না পেরে জাতীয় স্তরে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তখনও ইতস্তত করে চলেছে। অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং আঞ্চলিক নেতা নেত্রীদেরও তথৈবচ অবস্থা। কিন্তু দেওয়াল লিখন যেন একমাত্র পড়ে ফেলেছিলেন দিদিই।

বৃহস্পতিবার নোটবন্দির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলেন। বললেন, “নোটবন্দি নামক বিপর্যয়ের আজ দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। বিপর্যয় যে হবে আমি তখনই বলেছিলাম, এখন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সব্বাই বলছেন।” তাঁর কথায়, “এটা হল কালা দিন। সরকার নোটবন্দি করে সাধারণ মানুষকে চিট করেছে। যারা এটা করেছে তাদের শাস্তি পেতেই হবে।”

প্রসঙ্গত, দু বছর আগে নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর টানা সাতদিন লাগাতার এই ‘তুঘলকি পদক্ষেপের’ সমালোচনা করেছিলেন দিদি। কখনও তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি কথা বলেন, কখনও আবার চলে যান বড় বাজারে, কখনও হাসপাতালে। মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তাঁর নির্দেশে তৃণমূল সাংসদরা সংসদের দুই কক্ষের মধ্যে তুমুল প্রতিবাদ জানান। কলকাতায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে সভা করে তিন দিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভ করে তৃণমূল।

মমতা সে সময় বলেছিলেন, “ভোটে প্রতিশ্রুতি মতো বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরাতে পারেনি মোদী সরকার। তাই ব্যর্থতা ঢাকতেই এই পদক্ষেপ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই, আমার যে সব মা বোন ভাইয়েরা সারাদিনে কষ্টেশিষ্টে ৫০০ টাকা রোজগার করে, টাকা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর কাল তারা কী খাবে? নোট চিবিয়ে খাবে কি!”

তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, নোটবন্দির ২ বছর কেটে যাওয়ার পর এখন পরিষ্কার যে গোটাটাই ছিল একটা চক্রান্ত। কালো টাকা সাদা করার। অমিত শাহের নেতৃত্বে আমদাবাদের সমবায় ব্যাঙ্কে নোটবন্দির পর যে ভাবে বহু কোটি টাকা জমা পড়েছে তাতেই সেটা স্পষ্ট। এর জবাব মোদী-শাহকে দেবে মানুষ। সময় ঘনিয়ে এসেছে।

 

Shares

Comments are closed.