রবিবার, মার্চ ২৪

ব্যক্তি নয়, আমাদের লড়াই মতাদর্শের বিরুদ্ধে, ব্রিগেডে যশবন্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডের জনসভায় এমন মন্তব্য করেই কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বাজপেয়ী আমলের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা। তাঁর কথায়, এদিনের ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‍্যালি’ কেবল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। সেই ব্যক্তি যে মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন, আমরা তারই বিরুদ্ধে লড়াই করছি।

তিনি সরাসরি বলেন, মোদীজি এখানে কোনও ইস্যুই নন। দেশে এমন কোনও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নেই যা মোদীর আমলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

কিছুদিন আগেই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন যশবন্ত। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার মানুষকে বোকা বানানোর জন্য উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কারচুপি করে। তাঁর কথায়, স্বাধীনতার পরে এই প্রথমবার কোনও সরকার মানুষকে বোকা বানানোর জন্য উন্নয়ন নিয়ে ফোলানো ফাঁপানো পরিসংখ্যান পেশ করছে। যশবন্ত নিজে একসময় বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী ছিলেন। সম্প্রতি নীতি আয়োগ ইউপিএ আমলের আর্থিক বৃদ্ধি কম করে দেখিয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই যশবন্ত ‘ভুল পরিসংখ্যান’ দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

গত ডিসেম্বরেই যশবন্ত তাঁর পুরানো দলের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বিজেপি মৃতদের পার্টিতে পরিণত হয়েছে। দু’জন নেতা দল চালাচ্ছেন। বাকিরা কেউ তাঁদের চ্যালেঞ্জ করতে পারছেন না। পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে বিজেপির খারাপ ফলের পরেও নেতৃত্বে কোনও বদল হবে বলে মনে হয় না। কারণ সকলেই বর্তমান নেতৃত্বকে ভয় পায়। একটি মহল থেকে শোনা যাচ্ছিল, বিজেপি নীতিন গাদকারিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরতে পারে। যশবন্ত বলেন, এমন কোনও সম্ভাবনা নেই।

এদিন ব্রিগেডে যশবন্ত যখন ভাষণ দিতে ওঠেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানান। মঞ্চে অন্যান্য সর্বভারতীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, ডিএমকে-র এম কে স্ট্যালিন, লোকতান্ত্রিক জনতা দলের প্রধান সরদ যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লা এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির শরদ পাওয়ার।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী নিজে এদিন ব্রিগেডে আসতে পারেননি। কিন্তু বৃহস্পতিবার এক চিঠি দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন। ব্রিগেডের সভায় কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি, রাষ্ট্রীয় লোক দলের জয়ন্ত চৌধুরি প্রমুখ বলেন, নরেন্দ্র মোদী শাসনকালে দেশে খারাপ সময় চলছে। তার প্রতিবাদেই ব্রিগেডের সভা।

Shares

Comments are closed.