সোমবার, ডিসেম্বর ১৬
TheWall
TheWall

সোহরাবুদ্দি, হরেন পাণ্ড্য, প্রজাপতিদের কেউ মারেনি, এমনিই মরে গিয়েছেন: তীক্ষ্ণ খোঁচা রাহুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোহরাবুদ্দিন শেখ এবং তাঁর স্ত্রী কওসর বাইকে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যার ঘটনায় গত শুক্রবার ২২ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে সিবিআই আদালত। তার পরদিন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করলেন, যাদের কেউ খুন করেনি, তাঁরা হলেন, হরেন পাণ্ড্য, তুলসীরাম প্রজাপতি, বিচারপতি লয়া, প্রকাশ থোমব্রে, শ্রীকান্ত খানডালকার, কওসর বাই এবং সোহরাবুদ্দিন শেখ। তারা এমনিই মারা গিয়েছে।

রাহুল যাদের নাম লিখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যু নিয়েই আছে রহস্য। প্রতিটি ক্ষেত্রে এই মৃত্যুগুলির সঙ্গে বিজেপি নেতাদের জড়িয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সোহরাবুদ্দিনের মামলায় রায় দেওয়ার সময় বিচারক ওয়াহাব খান বলেছেন, সোহরাবুদ্দিন এবং প্রজাপতির পরিবারের জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু আদালত কেবল প্রমাণকেই গ্রাহ্য করে। আমরা লক্ষ করেছি, বুলেটের আঘাতে সোহরাবুদ্দিনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু যে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কেউ ওই ঘটনায় জড়িত বলে প্রমাণ নেই।

সোহরাবুদ্দিন খুনের মামলায় যে পুলিশ অফিসার তদন্ত করেছিলেন, তাঁর নাম সন্দীপ তামগারে। তিনি সিবিআইকে বলেন, সোহরাবুদ্দিন হত্যায় খোদ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ জড়িত।

হরেন পাণ্ড্য ছিলেন একসময় গুজরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বরাবরই বিজেপিতে মোদীর বিরোধী শিবিরের লোক বলে পরিচিত। ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ সকালে আমেদাবাদে মর্নিং ওয়াক সেরে ফেরার পথে খুন হন। তাঁর স্ত্রী অভিযোগ করেন, গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খুনের ঘটনায় জড়িত।

বিচারপতি ব্রিজগোপাল হরকিষেন লোয়া সোহরাবুদিন মামলায় যুক্ত ছিলেন। শোনা যায়, সুবিধামতো রায় দেওয়ার জন্য কে বা কারা তাঁকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে চেয়েছিল। ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি নাগপুরে হৃদরোগে মারা যান। এক বন্ধুর মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে তিনি নাগপুরে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু ঘিরেও রহস্য দানা বাঁধে। এক্ষেত্রে অবধারিতভাবে অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে।

প্রকাশ থোমব্রে এবং শ্রীকান্ত খাণ্ডেলকরের মৃত্যুও রহস্যজনক। তাঁরা দুজন বিচারপতি লোয়ার বন্ধু ছিলেন। সতীশ উকে নামে নাগপুরের এক সমাজকর্মী অভিযোগ করেন, আইনজীবী শ্রীকান্ত খাণ্ডেলকর এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারক প্রকাশ থোমব্রে তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, লোয়াকে কে বা কারা প্রাণের হুমকি দিচ্ছে।

লোয়ার মৃত্যুর পরে শ্রীকান্তও জানিয়েছিলেন, তাঁকে কেউ খুন করবে বলে শাসাচ্ছে। নাগপুর জেলা আদালতের বাইরে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। কীভাবে মারা গেলেন এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েক মাস পরে প্রকাশ ট্রেনে চড়ে ভ্রমণের সময় ওপরের বার্থ থেকে পড়ে যান। তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট লাগে। সেই আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সতীশ উকেও একবার অল্পের জন্য মৃত্যুকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

মোদী জমানায় এতগুলি রহস্যময় মৃত্যু এবং বিজেপি নেতাদের সম্পর্কে অভিযোগ নিয়েই টুইটারে কটাক্ষ করেছেন রাহুল।

Comments are closed.