মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

নোবেল জিতেই অভিজিৎ বললেন, ভারতের অর্থনীতির মন্দগতি উদ্বেগজনক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থনীতিতে তাঁর নোবেল প্রাপ্তির দিনেই ভারতের চলতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কয়েক প্রহর পরেই সংবাদমাধ্যমে প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ বলেন, সরকারের উচিত এমন নীতি নির্ধারণ করা, যা প্রকৃত অর্থে কার্যকরী হবে। আগু-পিছু না ভেবে দুমদাম কোনও পদক্ষেপ করা ঠিক হবে না। গত পাঁচ বছরে গ্রামীণ অর্থনীতির মন্দগতি নিয়েও এ দিন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন- দারিদ্র্য দূরীকরণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান দিয়েই অর্থনীতিতে নোবেল অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিশ্বজুড়ে দারিদ্র মোচনের লক্ষ্যে তাঁর গবেষণার জন্য অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ বছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে বলে সোমবার ঘোষণা করেছে দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি। অভিজিৎবাবুর সঙ্গেই ওই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলো এবং মাইকেল ক্রেমার।

সুইডিশ অ্যাকাডেমির ওই ঘোষণার পরে সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎবাবু বলেন, “ভারতের অর্থনীতির এখন কিছুটা নড়বড়ে অবস্থা। সরকার যেসব নীতি নির্ধারণ করছে তা খুবই সতর্কতার সঙ্গে আগে পাইলট করে দেখা উচিত।”

আরও পড়ুন- অভিজিতের গর্বিত মা, বললেন ‘ও যা করতে চেয়েছে, তাতেই আমার সায় ছিল’

অভিজিৎবাবু আরও বলেন, “আমার মনে হয় ভারতে কোনও নীতি প্রণয়নের সময় নেপথ্যে এই ভাবনা থাকে যে তা শুনতে বেশ ভাল লাগছে, কিংবা রাজনৈতিক ভাবে তা কার্যকরী হতে পারে।” তাঁর কথায়, “মোদ্দা ব্যাপার হল, কোনও নীতি বাস্তবায়নের আগে তা গভীর ভাবে হয়তো পর্যালোচনাই করা হয় না। প্রধানমন্ত্রী কিছু একটা বলে দেন। ব্যস, ওটাই বাস্তবায়িত করা হয়।”

অভিজিৎবাবু যখন এ কথা বলছেন, তখন শুনে হয়তো অনেকেরই মোদী সরকারের নোটবন্দির সিদ্ধান্তের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তাবড় অর্থনীতিকদের অনেকেই যে পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অর্থনীতির পণ্ডিত মনমোহন সিংহ বলেছিলেন, এ হল সংগঠিত লুঠ। এর জন্য আগামী কয়েক বছর ধরে অর্থনীতিকে ভুগতে হতে পারে।

আরও পড়ুন- নোবেলজয়ী এস্থার ডাফলো হতে চেয়েছিলেন ইতিহাসবিদ, প্রেমের হাত ধরে বদলে যায় লক্ষ্য

প্রসঙ্গত, এ দিনই আবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্বীকার করে নিয়েছেন যে পণ্য পরিষেবা কর তথা জিএসটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ছিল।

নোটবন্দি ও তার পর তাড়াহুড়ো করে জিএসটি ব্যবস্থার বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে তা নিয়ে অনেকেই একমত।

তবে মনমোহন সরকারের কিছু প্রকল্পের এ দিন প্রশংসাও করেছেন অভিজিৎবাবু। বিশেষ করে রোজগার গ্যারান্টি তথা একশো দিনের কাজের প্রকল্পের রূপায়ণ যে দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক হয়েছে, তা মেনে নেন। তিনি বলেন, “একশো দিনের প্রকল্পের ফলে মানুষের শুধু তা থেকে আয়ই বাড়েনি, ওই প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য ন্যূনতম মজুরিও বেড়েছে।”

আরও পড়ুন- বাঙালির গর্ব নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিনুন ১০ তথ্যে

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী যে ইস্তাহারে ন্যূনতম রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন তার নেপথ্যে অন্যতম কারিগর ছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন রাহুল। তা ছাড়া অভিজিতের স্ত্রী এস্থার ডাফলোর সঙ্গেও অতীতে কাজ করেছেন জয়রাম রমেশের মতো রাহুল-ঘনিষ্ঠরা।

এ দিন অভিজিৎবাবু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনাও দারিদ্র কমাতে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে। কারণ তার ফলে কাজের জায়গায় সহজে পৌঁছে যেতে পেরেছে গ্রামের মানুষ।” কেন্দ্রে অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানায় এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল। পরে মনমোহন জমানায় এই প্রকল্পে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন- বাঙালির হাতে ফের নোবেল! অর্থনীতিতে অমর্ত্যর পরে অভিজিৎ

মোদী জমানার পিএম-কিষাণ প্রকল্পের অবশ্য প্রশংসা করেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়ক মূল্য বাড়ানোর তুলনায় তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ডাইরেক্ট ট্রান্সফার অনেক বেশি কাজের। তবে যে টাকা কৃষকদের দেওয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়।

প্রসঙ্গত, পিএম কিষাণ প্রকল্পে চাষিদের অ্যাকাউন্টে বছরে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

গ্রামীণ অর্থনীতির মন্দগতি নিয়েও এ দিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে গ্রামীণ অর্থনীতির বৃদ্ধি বিশেষ হয়নি। প্রচুর অদক্ষ শ্রমিক রিয়েল এস্টেট শিল্পে কাজ করে। কিন্তু রিয়েল এস্টেট শিল্পে যেই মন্দা এসেছে অমনি প্রচুর শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। যা গ্রামের অর্থনীতির বৃদ্ধিকে থমকে দিয়েছে।

হয়তো সেই ছোট্ট গ্রামে দেখেছি বাঞ্ছারামকে: মনোজ মিত্র

Comments are closed.