রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

ভাতের বদলে লুচি-বোঁদে পদযাত্রীদের পাতে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাল লুঠের অভিযোগ সিপিএমের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যবস্থা করা হয়েছিল সবই। চাল, ডাল, তেল, নুনের সঙ্গে কাঁচা সব্জি। কিন্তু ভাত পড়ল না পাতে। তারকেশ্বর থেকে কামারপুকুর পর্যন্ত লংমার্চের শেষ দিনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলল সিপিএম।

দলের হুগলি জেলা কমিটির ডাকে ৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের সমর্থনে রবিবার থেকে ৫০ কিলোমিটার পদযাত্রা শুরু করেছিল সিপিএম। গতকাল আরামবাগে রাতে থামে পদযাত্রা। সোমবার ফের আরামবাগ থেকে কামারপুকুরের উদ্দেশে মিছিল শুরু হয়। এ দিন মিছিলের নেতৃত্ব দেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। রবিবার দুপুরে পুড়শুরায় দলীয় কার্য্যালয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল সিপিএম। প্রায় আট হাজার পদযাত্রীকে খিচুড়ি খাইয়েছিল সিপিএম। পরিকল্পনা ছিল সোমবার কামারপুকুর পার্টি অফিসে ডাল, ভাত আর একটা তরকারি খাওয়ানোর। গোঘাটের সিপিএম নেতা অরুণ পাত্র বলেন, “পার্টি অফিসে ২৭৫কেজি চাল মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু তালা ভেঙে তৃণমূল সব লুঠ করে নিয়েছে।”

উপায় না দেখে লুচি আর শুকনো বোঁদের ব্যবস্থা করে সিপিএম। এ দিনও প্রায় হাজার সাতেক মানুষ তাঁদের পদযাত্রায় ছিল বলে দাবি করেছে সিপিএম। দলের এক নেতা বলেন, “পার্টি অফিসের ভিতর দিকে খাবারের অন্য সরঞ্জাম ছিল। সেগুলো যেমন ছিল, তেমনই আছে। শুধু চালই লুঠ করে নিয়ে গিয়েছে ওরা।”

সিপিএম নেতা অরুণ পাত্র আরও বলেন, “গত তিনদিন ধরে কামারপুকুরে ক্যাম্প চালিয়েছে তৃণমূল। সেখান থেকেই এই কাজ করেছে শাসক দলের কর্মীরা।” তাঁর অভিযোগ, ‘অপারেশন চাল লুঠ’-এ নেতৃত্ব দিয়েছেন গোঘাটের বিধায়ক মানস মজুমদার।

২০১১ সালের পর এই প্রথম শুধু আরামবাগ মহকুমার জন্য এত বড় কর্মসূচি নিয়েছিল। এক সময় এই এলাকাতেই সিপিএমের নামে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত। বাংলায় পালাবদলের পর সেসব চুকে যায়। সংগঠনও ক্ষয়িষ্ণু হতে শুরু করে। ফলে সেই জায়গায় বড় মিছিল করতে পেরে উচ্ছ্বসিত সিপিএম নেতৃত্ব।

সিপিএমের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিধায়ক মানস মজুমদার। দ্য ওয়াল-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কলকাতায় কোনও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হলে প্রতিবার কামারপুকুর চটীতে ক্যাম্প হয়। এ বারও ব্রিগেডের জন্য হয়েছিল। কারণ এই এলাকা দিয়ে বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের একটা অংশের কর্মীসমর্থকরা যান। আর কোনও দলের খাবার লুঠ করব, সেই প্রবৃত্তি আমাদের নেই। কারণ আমরা গণতন্ত্রকে মানি। দিদির আদর্শে চলি।” মানসবাবু আরও বলেন, “ওদের সঙ্গে মানুষ নেই। গোঘাটে সিপিএমকে খুঁজে পাওয়া যায় না। নিজেরা প্রচার পেতে এ সব গল্প ফেঁদেছে।”

 

আরও পড়ুন : বিজেপি-র ব্রিগেড পিছিয়ে যাচ্ছে, আপাতত চারটি জনসভা মোদীর

 

Comments are closed.