রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

হেলিকপ্টার চেয়েছি পাইনি, নবান্নের বিরুদ্ধে অসন্তোষ রাজ্যপালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের রাজভবন-নবান্ন সংঘাত। এবার হেলিকপ্টার নিয়ে।

রাজ্যপালের মুর্শিদাবাদ সফর রয়েছে শুক্রবার। ফারাক্কার এসএনএইচ মহাবিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে সেখানে যাওয়ার কথা রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের। যাওয়ার কথা তাঁর স্ত্রীরও। বৃহস্পতিবার রাজভবনের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হল, ফারাক্কা যাওয়ার জন্য রাজ্যপাল হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন সরকারের কাছে। কিন্তু সরকার দেয়নি। আর এনিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

রাজভবনের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফারাক্কা থেকে রাজ্যপালের যাওয়ার কথা বীরভূম সার্কিট হাউজে। সেখান থেকে বর্ধমান সার্কিট হাউজ হয়ে রাত দশটায় রাজভবনে ফেরার কথা। তাই ভোর পাঁচটার সময়ে হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সন্ধে পর্যন্ত নিরুত্তাপ বলে অভিযোগ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। সেখানে লেখা হয়েছে, এক দিনে ৩০০ কিলোমিটার যাতায়াত করাটা মুশকিল। তাই হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল। রাজ্যপালের প্রেস সচিব মানব বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার জানিয়েছে হেলিকপ্টার দেওয়ার মতো উপযুক্ত পরিস্থিতি নেই।

এনিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার নিয়ে বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। আমরা জানতে চাই রাজ্যপালের কেন হেলিকপ্টার লাগবে? এটা তো মানুষের টাকা!” এখানেই থামেননি রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজ্যপাল যতটা না রাজ্যপালের কাজ করছেন তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কাজ করছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তাঁর কথায়, “উনি যখন যেখানে ইচ্ছে চলে যাচ্ছেন। সিঙ্গুরে বিডিও অফিসে গিয়ে বসে পড়লেন। এটা তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে কিনা সেটাও রাজ্যের মানুষ জানতে চান।”

এদিন দুপুরেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক শেষে বাংলার রাজ্যপালকে নাম না করে ‘বিজেপির মাউথপিস’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মমতা বলেন, “আমি সাংবিধানিক পদ নিয়ে মন্তব্য করি না। কিন্তু কেউ কেউ ওই পদে থেকে বিজেপির মাউথপিস হিসেবে কাজ করছেন। আমার রাজ্যেও সেটা দেখতে পাচ্ছি।”

রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত তিন মাসে একাধিক ইস্যুতে সংঘাত হয়েছে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান ও নবান্নের। এমনকি দুর্গাপুজোর কার্নিভাল নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন ধনকড়। বলেছিলেন, “আলাদা মঞ্চে বসিয়ে আমায় কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।” আর এদিন নতুন সংঘাত হেলিকপ্টার ইস্যুতে।

চন্দ্রিমার বক্তব্যের পাল্টা জবাব রাজভবন আর দেয়নি। তবে বিজেপি মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, সরকারি কর্মসূচির নামে হেলিকপ্টার নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রীরা যখন এদিক ওদিক রাজনৈতিক কাজ করে বেড়ান তার বেলা? তাঁর কথায়, রাজভবনের সঙ্গে গোড়া থেকেই অসহযোগিতা করছে নবান্ন এবং তা স্রেফ রাজনৈতিক কারণে। রাজ্যপালের একমাত্র অপরাধ হল যে তিনি বলে ফেলেছেন, বাংলায় আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। সবকিছুই রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখছে সরকার।

Comments are closed.