ফের টেলিপরিষেবা বিচ্ছিন্ন কাশ্মীরে! কোভিড লড়াইয়ে বড় ধাক্কা এই পরিস্থিতি, বলছেন চিকিৎসকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদ্দিনের কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু নিহত হয়েছে সেনার গুলিতে। তার পর থেকেই কাশ্মীর জুড়ে ঘনিয়ে উঠেছে হিংসার মেঘ। গোয়েন্দাদের অনুমান, আরও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে উপত্যকায়। এই আবহে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা। সাধারণ মানুষরা অভিযোগ তুলেছেন, এই করোনা মহামারীর সময়ে যোগাযোগের এই অভাব তাঁদের পক্ষে চরম অসুবিধাজনক। প্রয়োজনে ডাক্তার ডাকার মতো পরিস্থিতিও নেই সেখানে।

    ৬ ই মে এর পর থেকে কাশ্মীরে আবার বন্ধ সমস্ত রকম প্রিপেড ও পোস্টপেড মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। বন্ধ এসএমএস পরিষেবাও। একমাত্র চালু আছে বিএসএনএল ল্যান্ডলাইন ও ব্রডব্যান্ড। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নজরে আসার জন্য এবং রিয়াজ নাইকুর মৃত্যুর পরে বিক্ষোভ ঘনাতে পারে সেই আশঙ্কায় সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়েছে এই পরিষেবা। কিছুদিন পরেই আবার চালু করে দেওয়া হবে।

    ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ৮০০। মারা গেছেন ৯ জন। জম্মুর একটা বড় অংশ রেড জোনের অধীনে। এই পরিস্থিতিতে টেলি-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে সাধারণ মানুষের বিপদ আরও বেড়ে যাওয়া, এই অভিযোগ দেখিয়ে বহু মানুষই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে মানুষের ভোগান্তির অন্ত থাকবে না।

    উপত্যকার একজন চিকিৎসক সাজিয়া সাফি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মানুষকে তাঁরা পরিষেবা দিতে পারছেন না। মেডিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকছে না। এভাবে চলতে থাকলে সেখানে মহামারীর প্রকোপ কখনওই কমানো যাবে না।

    অন্যদিকে সাংবাদিক শাকির মীর লিখেছেন, তাঁর বাবা বুকের অসুখে আক্রান্ত। তিনি হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে শাকিব বিভিন্ন ভাবে বেশকিছু ডাক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনও ডাক্তারের সঙ্গেই যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

    প্রসঙ্গত, গতবছর সংসদ অধিবেশনে আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল হওয়ার পরে গোটা কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। কয়েক মাস সেখানে সমস্তরকম যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় পরে যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা হয় আংশিক। দীর্ঘ সময় সেখানকার মানুষ এক অলিখিত লকডাউনে কাটিয়েছে।

    কিন্তু এই মহামারীর সময়ে যখ সত্যিই লকডাউন গোটা দেশ, তখন টেলিযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষের প্রবল অসুবিধা হচ্ছে। শাকির, সাজিয়াদের পাশাপাশি সেখানকার প্রচুর সাধারণ মানুষও এই নিয়ে ক্ষুব্ধ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More