মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮
TheWall
TheWall

ঠিকানা নেই, গাছতলায় বসেই পড়াশোনা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর/ আপন প্রাঙ্গন-তলে দিবস শর্বরী/ বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি…

না, পরিবেশ মুক্ত বটে, তবে সেই মুক্তি নেই শিক্ষায়। কখনও ক্লাবঘরের চাল দিয়ে জল পড়ছে, কখনও কোনও মন্দিরের চাতালে, তখনও আবার কারও বারান্দায়। আপাতত উলুবেড়িয়া ২ ব্লকের উত্তর পিরপুর দলুইপাড়ায় ৬৬ নম্বর শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের ঠিকানা একটি গাছতলা। জায়গাটা কলকাতার ধর্মতলা থেকে মেরেকেটে ৪০ কিলোমিটার মতো হবে।

২০০৭ সালে স্থানীয় একটি ক্লাবে শুরু হয় এই শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। তার কিছুদিন পর থেকে এ ভাবেই চলছে। শিক্ষা অধিকার হয়েছে বটে, কিন্তু শিক্ষা কোন স্থানে দিতে হবে তার তো কোনও আইন নেই। তাই শিক্ষাশিক্ষা কেন্দ্র খোলা হয়েছে, ঠিকানা ঠিক হয়নি।

গরমে ছুটি, বর্ষাতেও ছুটি। কখনও মাথার উপরে রোদ, কখনও অঝোর বৃষ্টি। ঘর নেই, তাই পড়াশোনার নেই, পুষ্টিকর খাবারও নেই। তবে এটিকে ব্যতিক্রমী ভাববেন না। উলুবেড়িয়া ২ ব্লকে মোট ২৩৯টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ১২৪টির নিজস্ব ঘর আছে। ৪১টি কেন্দ্র চলে বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে, ৬৪টি কেন্দ্র চলে বিভিন্ন ক্লাব বা কোনও ব্যক্তির বাড়িতে। সমস্যা হলে শেষেরটির ক্ষেত্রেই হয়।

পিরপুর গ্রামের দলুইপাড়ার বাসিন্দা সুজাতা দলুই বলেন, “বছর খানেক ধরে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র অনিয়মিত ভাবে চলছে। এর ফলে শিশু ও প্রসূতিরা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল খাঁ বলেন, “ঘর সারানোর জন্য বারবার ব্লক ও শিশুবিকাশ কেন্দ্র জানিয়েছি, কিন্তু কিছুই লাভ হয়নি।” শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের কর্মী তনুশ্রী খাঁড়া বলেন, “ঘর নেই, রান্না করব কোথায়? রান্নার সামগ্রী রাখার জায়গা নেই। বারে বারে সিডিপিও অফিসে জানিয়েছি। আমি প্রতিদিন কেন্দ্রে যাই, শিশুদের ডেকে নিয়ে গাছতলায় বসে পড়াই। বৃষ্টি হলে বাধ্য হয়ে পড়ানো বন্ধ রাখতে হয়।”

খাতায় কলমে ৬৬ নম্বর শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে ৬৬জন শিশু ও ৪জন প্রসূতি আছেন। সোমবার উত্তর পিরপুর গ্রামে দলুইপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, একটি গাছের তলায় জনা পনেরো শিশু একটি প্লাস্টিকের চাদরের উপরে বসে পড়াশোনা করছে। কতদিন তাদের এই ভাবে পড়াশোনা করে যেতে হবে সে কথা কেউই বলতে পারবে না।

Share.

Comments are closed.