মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯

৭১-এর পরে বাংলাদেশ থেকে কেউ যাননি ভারতে! এনআরসি নিয়ে জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজই আসামের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মিত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব রাখবেন, এ রাজ্যের এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকায় নাম না ওঠা নাগরিকদের সে দেশে থাকতে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশ এফএম চ্যানেলে ঘোষণা করা হল, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দাবি করেছেন, তিনি যত দূর জানেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে কোনও বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে যাননি।

এ দেশের একটি সংবাদমাধ্যমের তরফে আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি শুনেছি যে আসামের এনআরসি তালিকা ঘোষণা শুরু হয়েছে। এটা একেবারেই ভারত সরকারের নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কোনও কিছুই করার নেই।”

শনিবারই হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছিলেন, “বাংলাদেশ ভারতের মিত্ররাষ্ট্র। তারা আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। অবৈধ অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তারা প্রত্যেক বারই তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন সে রকমই কত জন বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ নাগরিক আছেন, সেটা চিহ্নিত করার সময় হয়েছে।”

হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, “ভারতের এই এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। আমি আবারও বলছি, এটা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার। আমি জানি না, এ বিষয়ে কে কী বলেছেন। আগে ভারত সরকার আমাদের সরকারি ভাবে জানাক, তার পরে আমরা উত্তর দেব এ বিষয়ে। আপাতত আমি যেটুকু বলতে পারি, সেটা হল ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে অনুপ্রবেশ করেনি। এটা হতে পারে, আশামে অনেক বাঙালি আস্তানা গেড়েছেন ভারতের নানা প্রান্ত থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কেউ যায়নি।”

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, “যে দিন থেকে বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে, ভারত আমাদের সঙ্গে আছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দুর্দান্ত। ভারত আমাদের বন্ধু। কিন্তু এনআরসি নিয়ে যখন কথা হচ্ছে, তখন আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, ১৯৭১-এর পরে কোনও বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে যাননি। আমার মনে হয় না, ভারতও বাংলেদেশের দিকে কাউকে ঠেলে দেবে।”

শনিবার এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে আসামে। ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম ওঠেনি সেই তালিকায়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও যে সব মানুষের নাম এনআরসি-তে ওঠেনি, তাঁরা ১২০ দিনের মধ্যে ফরেন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা অবশ্য পরে জানান, “এনআরসি তালিকা আপডেট করা অনেকটা সময়সাধ্য ও শ্রমসাধ্য কাজ। ১৯৭১ সালের পরে যে সব মানুষ বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন, তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। কিন্তু আমরা তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু অনেকেরই বৈধ নথি নেই, সে সব আমরা খতিয়ে দেখছি।”

Comments are closed.