বুধবার, মার্চ ২০

নাগেশ্বর রাওয়ের বিরুদ্ধে আবেদন? হস্তক্ষেপে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১১ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তী প্রধান ছিলেন নাগেশ্বর রাও। কমন কজ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে বলেছিল, নাগেশ্বর রাওকে বেআইনিভাবে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষে বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয়।

সিবিআই প্রধান অলোক বর্মাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর পরে ১১ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের জন্য নাগেশ্বর রাওকে ওই সংস্থার অন্তর্বর্তী প্রধান করা হয়। কিন্তু কমন কজ অভিযোগ করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের অনুমতি ছাড়াই তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাঁর নিয়োগ অবৈধ।

বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও বিচারপতি বিনীত সরণের এক বেঞ্চ এদিন বলে, সিবিআইতে পুরো সময়ের ডিরেক্টর নিয়োগ করা হয়েছে। এখন আর নাগেশ্বর রাওয়ের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।

এর আগে ওই আবেদনের ওপরে শুনানি হয় গত ১ ফেব্রুয়ারি। তখন বিচারপতিরা বলেন, সিবিআইতে এখনও একজন অন্তর্বর্তী ডিরেক্টরকে বসিয়ে রাখা হয়েছে কেন? পূর্ণ সময়ের কোনও ডিরেক্টর নেই কেন? কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত, অবিলম্বে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষে পুরো সময়ের ডিরেক্টর নিয়োগ করা।

এর আগে সিবিআইয়ের দুই শীর্ষ কর্তা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের বক্তব্য ছিল, এই ঝগড়ার ফলে গোয়েন্দা সংস্থা ভালোভাবে কাজ করতে পারছে না।

এর আগে নাগেশ্বর রাওকে অন্য একটি কারণে তিরস্কার করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনি এক অফিসারকে বদলি করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি আদালতে ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু বিচারপতিরা তাতে সন্তুষ্ট হননি। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, একে ভুল বলা যায় না। এক্ষেত্রে ইচ্ছা করে আদালত অবমাননা করা হয়েছে। নাগেশ্বর রাওকে আদালত ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। বিচারপতি তাঁকে শুনানির দিন সারাক্ষণ আদালত কক্ষে বসে থাকতে নির্দেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন, নাগেশ্বর রাওয়ের প্রতি আদালত যেন নরম মনোভাব দেখায়। বিচারপতিরা বলেন, আমরা তাঁকে ৩০ দিনের জন্য জেলে পাঠাতে পারতাম।

গতবছর সিবিআইয়ের তৎকালীন প্রধান অলোক বর্মা ও ডেপুটি ডিরেক্টর পরস্পরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বর্মা অভিযোগ করেছিলেন, আস্থানা স্টার্লিং বায়োটেক নামে এক সংস্থার থেকে ঘুষ খেয়েছেন। অন্যদিকে আস্থানার অভিযোগ ছিল, বর্মা আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে একটি মামলায় তদন্তকে বিপথে চালিত করতে চাইছেন।

Shares

Comments are closed.