দিল্লিতে বড় ঘটনা ঘটেনি, জমায়েত নিষিদ্ধ করতে হবে, শিথিল হবে ১৪৪ ধারাও: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লির আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন অমিত শাহ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৮। ২০০ জনেরও বেশি জখম, অনেকের অবস্থা গুরুতর। এফআইআর দায়ের হয়েছে ১০৬ জনের বিরুদ্ধে। নর্দমা থেকে উদ্ধার হচ্ছে দেহ। একের পর এক বসতি ছারখার হয়ে গেছে। পরীক্ষা দিতে গিয়ে ঘরে ফেরেনি ১৩ বছরের কিশোরী। এমন অসংখ্য দুঃসংবাদ এবং উদ্বেহে যখন দিল্লি কার্যত বিধ্বস্ত, তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বৈঠকের পরে মন্ত্রক জানাল, “কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। জমায়েত নিষিদ্ধ করলেই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।”

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লির আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন অমিত শাহ। এর আগেও অবশ্য দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিনি। পথে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। রবিবার রাত থেকে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একাধিক প্রাণ চলে যাওয়ার পরে বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার্তা দিয়েছেন সৌভ্রাতৃত্ব রক্ষা করার।

    কিন্তু এসবের পরেও দিল্লির হিংসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৮। সংখ্যাটি আরও বাড়বে বলেই মত সকলের। কারণ উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হাঙ্গামা চলার সময়ে একটা বড় সময় ধরে সেখানে ঢুকতেই পারেনি পুলিশ। একের পর এক দেহ উদ্ধার হয়েছে সেখান থেকে। অনেককে মেরে খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বয়ং পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয়কুমার ভাল্লা, পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক ও বিশেষ কমিশনার (আইন শৃঙ্খলা) এসএন শ্রীবাস্তব। সেই মিটিংয়ের পরেই সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, গত ৩৬ ঘণ্টায় আক্রান্ত এলাকায় কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে শুক্রবার ১০ ঘণ্টার জন্য ১৪৪ ধারায় শিথিল করা হবে।

    দিল্লির এই পরিস্থিতির পিছনে গত কয়েক দিন ধরে লাগাতার বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তৃতাকে দায়ী করেছেন অনেকে। দিল্লি হাইকোর্টও সমালোচনা করেছে এই ঘটনার। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরও চেয়েছিলেন। কিন্তু এর পরেই বদলি হয়ে যান তিনি। এখনও পর্যন্ত বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করেনি দিল্লি পুলিশ।

    যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ১৩০ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ঘেঁটে পুলিশ একপ্রকার নিশ্চিত বড়সড় হিংসা ছড়িয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে। পুলিশ জানিয়েছে শুধু দিল্লির লোকজনই নয়। ওইসমস্ত গ্রুপগুলিতে যুক্ত রয়েছে দিল্লি লাগোয়া উত্তরপ্রদেশেরও অনেকে। বাইরে থেকে লোক ঢোকা, আক্রমণের জায়গা চূড়ান্ত করা, কোন মহল্লায় কতজনের দল কী ধরনের অস্ত্র নিয়ে হামলা করবে সব ঠিক হয়েছে ওই সমস্ত গ্রুপগুলোতে আলোচনা করেই।

    মুহূর্তের মধ্যে হিংসার ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়াতেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মত অনেকের। ফেসবুকে এমনও লাইভ ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দোকান বা ঘরবাড়ি লুঠের দৃশ্য। অর্থাৎ হিংসা ছড়াতে ছড়াতেই তা লাইভ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই– অনেকটা এলাকা জুড়ে এই হিংসাকে ছড়িয়ে দেওয়া।

    এই অবস্থায় রাজধানী শহরের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটি স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। প্রতিটি টিমের প্রধান দায়িত্বে থাকবেন ডিসিপি র‍্যাঙ্কের অফিসাররা।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই দুই টিমের ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ। একটি টিমের দায়িত্বে রয়েছে ডিসিপি জয় তিরকে। অন্য দলটির দায়িত্বে থাকছে ডিসিপি রাজেশ দেও। প্রতি টিমে থাকবেন চারজন এসিপি র‍্যাঙ্কের পুলিশ। এছাড়াও দিল্লি পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার (ক্রাইম) বিকে সিং সিটের এই দুই টিমের সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করবেন। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে ইতিমধ্যেই গত কয়েকদিনের অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪৮টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। বাড়ছে অশান্তির আঁচ। তাই সিটের এই দুটো টিমকে ইতিমধ্যেই সংঘর্ষের এলাকায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টিমের সঙ্গে থাকবেন তিনজন ইন্সপেক্টর, চারজন সাব-ইনস্পেক্টর এবং তিনজন কনস্টেবল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More