বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

মোদীর কঠোর সমালোচনা করেছেন গডকড়ি, দাবি কংগ্রেসের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার পুনেয় এক অনুষ্ঠানে জাতপাতের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি। কংগ্রেসের দাবি, নিজের দল বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই সরাসরি আক্রমণ করেছেন গডকড়ি। কারণ জাতপাত নিয়ে রাজনীতি করে বিজেপিই।

গডকড়ি বলেছিলেন, আমরা জাতপাতে বিশ্বাস করি না। আমি সবাইকে সাবধান করে দিয়েছি, যে জাতপাত নিয়ে কথা বলবে, তাকে মারব। সংবাদ মাধ্যমে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস টুইট করে, মন্ত্রী বিজেপি ও মোদীর বিরুদ্ধেই মন্তব্য করেছেন। কারণ ধর্ম নিয়ে বিজেপিই রাজনীতি করে। আর একটি টুইটে কংগ্রেস বলে, গডকড়িজি, যারা হনুমানের জাতপাতের দোহাই দিয়ে ভোট চায়, তাদের কবে মারবেন?

কিছুদিন আগে কয়েকজন বিজেপি নেতা হনুমানের জাতপাত নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করেছিলেন। বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সাবিত্রী বাই ফুলে বলেছিলেন, হনুমান ছিলেন দলিত। তিনি মনুবাদীদের দাস ছিলেন। উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী লক্ষ্মীনারায়ণ চৌধুরি দাবি করেন, হনুমান ছিলেন জাঠ। কারণ তাঁর এমন কিছু গুণ ছিল যা কেবল জাঠদের মধ্যেই দেখা যায়। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি কাউন্সিলার বুক্কুল নবাব দাবি করেন, হনুমান ছিলেন মুসলিম। সেজন্যই মুসলমানদের নাম হয় রহমান, রমজান, ফরমান। হনুমানের সঙ্গে এই সব নামের ধ্বনিগত মিল আছে।

এর আগেও কংগ্রেস দাবি করেছে, গডকড়ি নিজের দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। সপ্তাহখানেক আগে তিনি বলেন, যে নেতারা অপরকে স্বপ্ন দেখায় কিন্তু তা পূরণ করতে পারে না, জনগণ তাদের ছাড়বে না। কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে গডকড়ি ওই মন্তব্য করেছেন। বিজেপি পালটা দাবি করে, ওই মন্তব্য করা হয়েছে বিরোধীদের সম্পর্কে।

কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তিওয়ারি একটি হিন্দি প্রবাদ উদ্ধৃত করে বলেন, কহিঁ পে নিগাহেঁ কহিঁ পে নিশানা। অর্থাৎ নজর একদিকে, নিশানা অন্যদিকে। তাঁর দাবি, গডকড়ির প্রধানমন্ত্রীর কুর্সির দিকে নজর দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, গডকড়ির কথা শুনে আমি আশ্চর্য হইনি। তিনি আগেও বলেছিলেন, আমরা ভাবিনি ক্ষমতায় আসব। তাই যা মনে এসেছে, তাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।

গত সপ্তাহে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান শরদ পওয়ার মন্তব্য করেন, একটা কথা শোনা যাচ্ছে, গডকড়ি নাকি মোদীর বিকল্প হয়ে উঠতে চলেছেন। গডকড়ি আমার বন্ধু। তাঁর কথা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন।

Shares

Comments are closed.